05/09/2024
"ইঞ্চি ইঞ্চি মাটি বনাম আমার সোনার বাংলা "
আমি কেন আমার সোনার বাংলা গানকে জাতীয় সংগীত হিসেবে চাইনা ?
আমার দেশের নাম বাংলাদেশ যেই বাংলাদেশ শব্দটি এই গানের মধ্যে নাই। এই গানে ১৯৫২ সালের ভাষা শহীদ ভাইয়ের রক্তের কথা বলা নাই এই গানে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের নাম নাই। যেই যুদ্ধে জীবন বাজি রেখে ৩০ লক্ষ শহীদ হয়েছেন ৩ লাখ মা ইজ্জত হারিয়েছেন কতো ভাইবোন মৃত্যু পর্যন্ত বার্ধক্য থেকেছেন সেই মহান মুক্তিযুদ্ধের নাম নাই, নাম নাই স্বাধীনতার ইতিকথার। এই গানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহা নায়ক বঙ্গবন্ধুর নাম নাই নাম নাই বাংলাদেশ সৃষ্টির পিছনে যে বীরদের অবদান ভাষানী, শেরে বাংলা, জিয়া, সোহরাওয়ার্দীদের। এই গানের মধ্যে কোথাও নেই আমার প্রিয় লাল সবুজ পতাকা। এই গানে হিন্দু মুসলিম বোদ্ধা খ্রিস্টান অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের কথা বলা নাই। আমার সোনার বাংলা গানে কি আছে? আছে সুন্দর একটা সুর যেটা হৃদয় ছুঁয়ে যায় শুধু এটা না রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমার প্রিয় গীতিকার সুরকার। আমি আমি ছোটোবেলা থেকে রবীন্দ্রসংগীত শুনি তার এরকম বহু গান আছে যাতে হৃদয় ছুয়ে যায়। তবে বড় কথা এই গানের সুরটা কূম্ভিলকতায় ভরপুর কারন সুরটা গগন হরকরার "আমি কোথায় পাবো তারে" গান থেকে প্যারডি করা। অর্থাৎ এই গানের সুর মৌলিক না। তবে অন্যের গানের সুর কপি করা আমার জাতীয় সংগীত কেন হবে?? ১৯৭১ সালে যারা পাকিস্তান বিভক্ত চায়নি তারা নিশ্চিত হানাদার রাজাকার আলবদর আল সামস ইত্যাদি ইত্যাদি। তারা দেশদ্রোহী জাতী তাদের ঘৃণা করে। তবে সেই হিসেবে ১৯০৫ সালে যারা দুই বাংলা আলাদা চায়নি তারাও বাংলাদেশের চোখে দেশদ্রোহী হবার কথা। আর এই গানটা তবে সেই দেশদ্রোহীতার পক্ষে লেখা। কলকাতার দাদার চাইতোনা দুই বাংলা আলাদা হোক। তারা একত্রে থাকতে চাইতো ভালোবেসে কিন্তু রাজধানী হবে কলকাতা বড় তালগাছ তাদের। তারা আম খাবে আঁটি খাবে পূর্ব বাংলা। পূর্ব বাংলা যদি আলাদা প্রদেশ হয় রাজধানী হবে ঢাকা অর্থাৎ মানুষের কলকাতাগামীতা কমে যাবে ঢাকা উন্নত হবে তাদের দাদাত্ব কমে যাবে।
আমি কেন ইঞ্চি ইঞ্চি গানকে জাতীয় সংগীত হিসেবে চাই?
ইঞ্চি ইঞ্চি গানে আমি পুরো বাংলাদেশকে একত্রে দেখতে পাই। এই গানে আছে এদেশের প্রতিটি ইঞ্চি মাটি সোনার চেয়ে খাটি যা ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে কেনা। যা সরকারি মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদের রক্তের কথা বলে হয়েছে সৃষ্টিকর্তার কসম খেয়ে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এই ভূমি আমাদের থেকে কেউ কেরে নিতে পারবেনা। এখানে সবুজে ঘেরা সুজলা সুফলা সুন্দর দেশ বাংলাদেশের কথা বলা হয়েছে যা বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতিনিধিত্ব করে।
এখানে বাংলাদেশের নাম দেয়া আছে যেটা আমাদের জাতীয় সংগীতে থাকা উচিৎ। জাতীয় সংগীতের মধ্যে দেশের নাম থাকবেনা তবে কীভাবে বুঝবো আমার দেশ কোনটা? এখানে বলা হয়েছে বাংলাদেশ আমাদের প্রান আমরা ধন্য আমরা গর্বিত কারন আমরা বাংলাদেশের সন্তান। ঠিক পরের লাইনে আমার মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের জীবন দানের কথা আবার বলা হয়েছে যেটা স্বাধীনতার চেতনা কে উজ্জীবিত করে।
এই গানে রাজাকার, দালাল, দেশদ্রোহীদের কড়া হুংকার দিয়েছে যেটা স্বাধীনদেশ বিনির্মানে জরুরি যা আমাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে। দেশে বিদেশি কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে দেয়া হবেনা তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চারের কথা বলে হয়েছে।
এই লাইন গুলোতে স্বাধীনতার স্থপতি সহ বিখ্যাত ব্যাক্তিদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ করা হয়েছে আমাদের প্রিয় লাল সবুজ পতাকা। বাংলাদেশ যখন বিশ্ব দরবারে কোনো প্রতিযোগিতায় যায় এই লাল সবুজ পতাকা দেশকে প্রতিনিধিত্ব করে যা সরকারি এই গানে বলা হয়েছে৷
মায়ের ভাষা রক্ষ করতে গিয়ে যারা শহীদ হয়েছেন সেসকল শহীদদের নাম বলা হয়েছে। আমরা যেই ভাষায় কথা বলি যেই ভাষায় কবিতা লিখি যেই ভাষায় গান গেই সেই ভাষা শহীদের নাম কি জাতীয় সংগীতে থাকা উচিৎ। এই কবিতায় এই দেশ এই পর্যন্ত এম্নে এম্নে আসেনি শহীদদের রক্ত আর খেটে খাওয়া মানুষের গামের বিনিময়ে আজ এখানে এসেছে যা দেশের আপম মানুষদের মায়ার বাধন উল্লেখ করা হয়েছে। আমরা চাই বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ হোক যেখেন হিন্দু মুসলিম বোদ্ধা খ্রিস্টান সবাই ভাই ভাই হাতে হাত কাধে কাধ রেখে বাস করবো।
এই গান দুইটার বিশ্লেষণে আমি এদেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে ইঞ্চি ইঞ্চি মাটিকে জাতীয় সংগীত হিসেবে বেশি প্রাধান্য দিবো।