22/07/2025
২০ জুলাই, ১৯৬৯—মানব ইতিহাসে আজকের এই দিনে অ্যাপোলো ১১ মিশনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো মানুষ চাঁদের মাটিতে পা রাখে। নিল আর্মস্ট্রং ছিলেন চাঁদের বুকে পা রাখা প্রথম ব্যক্তি। চাঁদের বুকে পা রেখেই তিনি বলেন, "That's one small step for man, one giant leap for mankind.” আর তার কিছুক্ষণ পর বাজ অলড্রিন দ্বিতীয় মানুষ হিসেবে সেখানে নামেন। এ সময় মাইকেল কলিন্স চাঁদের কক্ষপথে থাকা কমান্ড মডিউল ‘Columbia’ তে অবস্থান করছিলেন। তিনি চাঁদের মাটিতে নামেননি। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে একা চাঁদের কক্ষপথে ঘুরতে থাকেন। এই সময় মাইকেল কলিন্সকে ‘মানব ইতিহাসের সবচেয়ে নিঃসঙ্গ মানুষ’ আখ্যা দেওয়া হয়।
কিছু ফ্যাক্ট—
১. যখন ল্যান্ডার 'Eagle' চাঁদের মাটিতে নামছিল, তখন তার ডিসেন্ট ইঞ্জিন বন্ধ করার মুহূর্তে ট্যাঙ্কে মাত্র ২০-৩০ সেকেন্ডের জ্বালানি অবশিষ্ট ছিল। স্বয়ংক্রিয় অবতরণ সম্ভব ছিল না কারণ নির্ধারিত জায়গাটি ছিল পাথরে ভর্তি। নিল আর্মস্ট্রং তখন নিজ হাতে ল্যান্ডার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ম্যানুয়ালি অবতরণ সম্পন্ন করেন। এই নাটকীয় মুহূর্তে উত্তেজনা এতটাই তুঙ্গে ছিল যে সেই সময় তাঁর হৃদস্পন্দন বেড়ে গিয়েছিল ৭৫ থেকে ১৫০ বিট প্রতি মিনিটে!
২. অবতরণের ঠিক আগে Apollo Guidance Computer এর স্ক্রিনে ভেসে ওঠে ‘1201’ ও ‘1202’ এরর কোড। যা ছিল কম্পিউটারের ওভারলোডের সংকেত। তবে MIT এর প্রোগ্রামার মার্গারেট হ্যামিল্টনের নেতৃত্বে তৈরি সফটওয়্যার ছিল এতটাই দক্ষ যে, সিস্টেম সেসময় অপ্রয়োজনীয় কাজ বাদ রেখে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো প্রাধান্য দিয়ে ল্যান্ডিং চালিয়ে যায়। ফলে অ্যাপোলো ১১ সফল হয়। (বিজ্ঞান্বেষী)
৩. অবতরণের পর অলড্রিন ও আর্মস্ট্রংকে কিছু সময় ক্যাবিনে অপেক্ষা করতে বলা হয়। সেই ফাঁকে অলড্রিন একাই পালন করেন খ্রিস্টীয় ধর্মীয় রীতি কমিউনিয়ন। গ্লাস ও ওয়াইন নিয়ে এক নিঃশব্দ প্রার্থনা করেন তিনি। এটি চাঁদের বুকে হওয়া প্রথম ধর্মীয় অনুষ্ঠান। নাসা এটিকে রেডিওতে সরাসরি প্রচার করেনি, কারণ তখন ধর্মীয় পক্ষপাত নিয়ে মামলা চলছিল।
৪. চাঁদের মাটি সম্পর্কে নীল আর্মস্ট্রং ও অলড্রিন জানান, এর গন্ধ অনেকটা পোড়া আতশবাজি বা গানপাউডারের মতো। তবে সেই গন্ধ পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা মাটিতে আর পাওয়া যায়নি। বিজ্ঞানীদের ধারণা চাঁদের মাটি লুনার মডিউলে থাকা অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে ধীরে ধীরে গন্ধটি হারিয়ে যায়।
৫. পৃথিবীতে ফেরার সময় প্রায় ২১.৬ কেজি চাঁদের পাথর ও মাটি সঙ্গে করে আনেন নভোচারীরা। গবেষণায় বেরিয়ে আসে তিনটি সম্পূর্ণ নতুন খনিজ:
Armalcolite (Armstrong, Aldrin, Collins নাম থেকে)
Tranquillityite
Pyroxferroite
৬. চাঁদ থেকে ফেরার সময় লুনার মডিউলের একটি সুইচ ভেঙে যায়, যার মাধ্যমে ইঞ্জিন চালু করার কথা ছিল। তখন বাজ অলড্রিন তার নিজের ফেল্ট-টিপ কলম দিয়ে বোতামটি চাপেন এবং ইঞ্জিন চালু হয়। টেকনিক্যালি একটি সাধারণ কলম পুরো মিশনকে সফল করে তোলে।
৭. অ্যাপোলো ১১ মিশনে চাঁদের মাটিতে বসানো হয় একটি লেজার রেট্রোরিফ্লেক্টর। এখনো বিজ্ঞানীরা পৃথিবী থেকে লেজার পাঠিয়ে চাঁদের দূরত্ব নির্ণয় করতে পারেন মিলিমিটার স্কেলে! এটি পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যকার গতি ও কক্ষপথ বোঝার গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
৮. যদি চাঁদের বুকে আটকে পড়তেন আর্মস্ট্রং ও অলড্রিন, তাহলে হোয়াইট হাউস থেকে একটি শোকবার্তা প্রচার করা হতো:
> “Fate has ordained that the men who went to the moon to explore in peace will stay on the moon to rest in peace…”
These brave men… পুরোটা কমেন্ট বক্স থেকে পড়ে নিবেন।
এমনকি ঠিক করা ছিল এক যাজক, যিনি সমুদ্র সমাধির মতো একটি রীতিতে তাঁদের আত্মাকে চাঁদের বুকে সমর্পণ করতেন।