09/08/2026
হিন্দু মেয়েদের সম্পত্তির অধিকার: যা অনেকেই জানেন না
বাংলাদেশে প্রচলিত হিন্দু ব্যক্তিগত উত্তরাধিকার আইনে নারীদের সম্পত্তির অধিকার পুরুষদের তুলনায় সীমিত। তবে আইন যতটুকু অধিকার দিয়েছে, বাস্তবে সচেতনতার অভাবে অনেক ক্ষেত্রেই নারীরা সেই অধিকারটুকুও ভোগ করতে পারেন না।
অনেকের ধারণা, কোনো হিন্দু ব্যক্তি মারা গেলে তাঁর সব সম্পত্তি শুধু ছেলেরাই ভাগ করে নেয়। কিন্তু এই ধারণা সম্পূর্ণ সঠিক নয়। কারণ, মৃত ব্যক্তির বিধবা স্ত্রী বা স্ত্রীগণও একজন পুত্রের সমান অংশের উত্তরাধিকারী।
প্রথম শ্রেণির (১–৪ নং) সপিণ্ড উত্তরাধিকারী (মোট সপিণ্ড ৫৩ জন)
হিন্দু উত্তরাধিকার আইনে নিম্নোক্ত ব্যক্তিরা একই স্তরের উত্তরাধিকারী হিসেবে বিবেচিত হন—
১. পুত্র (ছেলে)
২. মৃত পুত্রের পুত্র (নাতি)
৩. মৃত পুত্রের মৃত পুত্রের পুত্র (প্রপৌত্র)
৪. বিধবা স্ত্রী বা স্ত্রীগণ
প্রথম তিন ক্রমিকের উত্তরাধিকারীদের মধ্যে Doctrine of Representation (প্রতিনিধিত্বের নীতি) প্রযোজ্য হয় এবং অংশপিছু উত্তরাধিকার পায়। অর্থাৎ, কোনো পুত্র তার পিতার পূর্বেই মারা গেলে, সেই পুত্রের সন্তান তার পিতার স্থলাভিষিক্ত হয়ে উত্তরাধিকার লাভ করে এবং পিতার অংশটুকু পায়। পুত্রের সংখ্যা একাধিক হলে পিতার অংশটুকু তারা সকলে মাথাপিছু পাবে।
১–৪ নং সপিণ্ডদের কেউ থাকলে তারা প্রত্যেকে উত্তরাধিকার পাবে; একজন অন্যজনকে বঞ্চিত করতে পারবে না।
উদাহরণ
ধরা যাক, কমলাকান্ত রায় মারা গেছেন। তিনি রেখে গেছেন—
• ১ জন জীবিত পুত্র — বিমলাকান্ত;
• ১ জন পূর্বমৃত পুত্র — সুবলাকান্ত, যার ২ জন পুত্র (হারাধন কান্ত ও বিজন কান্ত);
• ২ জন বিধবা স্ত্রী — বিজয়া ও সুজয়া।
এক্ষেত্রে সম্পত্তি প্রথমে তিনটি শাখায় বিভক্ত হবে—
• জীবিত পুত্রের শাখা = ১/৩ অংশ
• পূর্বমৃত পুত্রের শাখা = ১/৩ অংশ
• বিধবা স্ত্রীদের শাখা = ১/৩ অংশ
এরপর—
• পূর্বমৃত পুত্রের ১/৩ অংশ তার দুই পুত্র সমানভাবে ভাগ করে নেবে। অর্থাৎ, প্রত্যেকে ১/৬ অংশ পাবে।
• বিধবা স্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত ১/৩ অংশ দুই স্ত্রী সমানভাবে ভাগ করে নেবেন। অর্থাৎ, প্রত্যেকে ১/৬ অংশ পাবেন।
স্ত্রী জীবনস্বত্ব অংশ পায়। অর্থাৎ স্ত্রী যে অংশটুকু পাবে তাঁর মৃত্যুর পর সেগুলো (স্ত্রীর স্বামীর) মৃতের উত্তরাধিকারীগণ পাবেন। স্ত্রী তার legal necessity র কারণে উক্ত সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারবেন।
[পরবর্তী পোস্টে বাকি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবো।]
[বিঃদ্রঃ আমার মূল উদ্দেশ্য আইন শেখানো নয়; অধিকার বিষয়ে সচেতন করা। সেজন্য আইনের বিধান উল্লেখ না করে সহজ-সরল ভাষায় উপস্থাপন করলাম। (সপিন্ড, সকুল্য ও সমানোদোক বিষয়গুলো দিয়ে বুঝালে জটিল হয়ে যেত)
আইনের বিষয়ে নতুন নতুন তথ্য পেতে সর্বদা এই পেজের সাথে যুক্ত থাকুন। ধন্যবাদ
Subash Pal brother.