Intern Nurses Association

Call

Intern Nurses Association মুমূর্ষু রোগীর মুখে হাসি ফুটলে আমরা তৃপ্ত।

12/10/2026

Celebrating my 13th year on Facebook. Thank you for your continuing support. I could never have made it without you. 🙏🤗🎉

07/08/2026

পেকুয়া প্রতিনিধি; সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ব্যতিক্.....

05/08/2026

সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ও কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল। জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে শহীদ ওয়াসিমের স্মৃতিবিজড়িত পেকুয়ায় আয়োজিত দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে প্রায় ১,২০০ রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০টি পরিবারের মাঝে গৃহনির্মাণ সামগ্রী হিসেবে ১০০ বান (৮০০ পিস) ঢেউটিন বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় পেকুয়া শহীদ জিয়া ক্রীড়া কমপ্লেক্সে আয়োজিত আলোচনা সভা, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও ঢেউটিন বিতরণ অনুষ্ঠানে স্থানীয় মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুজিবুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (উপ-পরিচালক) ডা. মং টিং ঞো। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নার্স ও পুষ্টিবিদ ছৈয়দ আহমদ তানশীর উদ্দিন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মুজিবুর রহমান, পেকুয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. সফওয়ানুল করিম এবং কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের ব্রেইন অ্যান্ড মাইন্ড বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ কফিল উদ্দিন।

দিনব্যাপী পরিচালিত মেডিকেল ক্যাম্পে মেডিসিন, নিউরো মেডিসিন, শিশু রোগ, গাইনি অ্যান্ড অবস, সার্জারি, ডায়াবেটিস ও হরমোন, কার্ডিওলজি, চর্ম ও যৌনরোগ, অর্থোপেডিক্স ও ট্রমা, নাক-কান-গলা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং দন্ত বিভাগসহ ১২টি বিভাগের ৩৪ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ৮ জন অভিজ্ঞ নার্স এবং ১০ জন স্বাস্থ্যকর্মী চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন। রোগীদের বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধও সরবরাহ করা হয়।

একই অনুষ্ঠানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০টি পরিবারের প্রত্যেককে ১৬ পিস করে মোট ৮০০ পিস (১০০ বান) ঢেউটিন দেওয়া হয়। আয়োজকদের মতে, এসব উপকরণ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বসতঘর পুনর্নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুজিবুল হক বলেন, “দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো চিকিৎসকদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। চিকিৎসাসেবা ও পুনর্বাসন সহায়তা একসঙ্গে নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

প্রধান অতিথি ডা. মং টিং ঞো বলেন, “বন্যার পর স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। তাই চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে জেলা সদর হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকরা সম্মিলিতভাবে এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।”

পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মুজিবুর রহমান বলেন, দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখতে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগও সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

পেকুয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. সফওয়ানুল করিম বলেন, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের এই মানবিক উদ্যোগ বন্যাদুর্গত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে মানবিক কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

অনুষ্ঠানে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবক এবং বিপুলসংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন।

08/07/2026

সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে (২০১৯-২০ সাল) বাংলাদেশে মোট সরকারি হাসপাতালের সংখ্যা ৬০০টি। এর মধ্যে ৪৮২টি প্রাথমিক সেবা হাসপাতাল রয়েছে উপজেলাকেন্দ্রিক। প্রায় ৬৫টি সেকেন্ডারি হাসপাতাল রয়েছে জেলাকেন্দ্রিক এবং ১৫টি বিশেষায়িত হাসপাতাল রয়েছে যেখানে বিশেষ চিকিৎসা সেবা (যেমন হূদরোগ, বক্ষব্যাধি, সংক্রমক রোগ ইত্যাদি) দেয়া হয়। এছাড়া সরকারিভাবে প্রাইমারি এবং শিশু ও মাতৃকালীন স্বাস্থ্যসেবার জন্য ১৫ হাজারের বেশি কমিউনিটি ক্লিনিক এবং স্যাটেলাইট ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো এত সংখ্যক স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র, কমিউনিটি ক্লিনিক এবং স্যাটেলাইট ক্লিনিক থাকা সত্ত্বেও গ্রামাঞ্চলের মানুষ ঢাকা বা চট্টগ্রামের মতো বড় শহরগুলোতে চিকিৎসা সেবা নেয়ার জন্য ছুটে আসছে কেন? ডিজি হেলথের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল বেডের সংখ্যা প্রায় দেড় লাখ এবং বেসরকারি হাসপাতলের সংখ্যা সরকারি হাসপাতালের প্রায় দ্বিগুণ। এ হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি ১০০০ রোগীর জন্য বরাদ্দকৃত বেডের সংখ্যা একটিরও কম (মাত্র ০.৮৭টি)। যেখানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মাপকাঠি অনুযায়ী প্রতি ১ হাজার রোগীর জন্য ন্যূনতম বেড বরাদ্দ হলো অন্তত তিনটি। অর্থাৎ বাংলাদেশে বর্তমানে দুই-তৃতীয়াংশ রোগীর জন্য কোনো হাসপাতাল বেড বরাদ্দ নেই। ফলে এই দুই-তৃতীয়াংশ রোগী বেড ও ডাক্তারের অভাবে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত।

07/07/2026

স্বাস্থ্য সেবার মান বৃদ্ধির পেছনে নার্সদের গুরুত্ব
পর্যালোচনা করে দেখা যায় সিঙ্গাপুর,ভারত, ইংলান্ড আমেরিকাসহ যেসব দেশের স্বাস্থ্য সেবসর মান উন্নত ওইসব দেশের স্বাস্থ্য সেবার মান বৃদ্ধির পেছনে নার্সদের সেবা প্রদানটা দায়ী। পাশের দেশ ভারত, মায়ানমার, সিঙ্গাপুর সহ যেসব দেশগুলোতে আমরা দেখি স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নত তারা তাদের নার্সিং পেশাকে উন্নতি করে সম্ভব করেছে। নার্সদের উন্নতিকল্পে প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ নেওয়া জন্য গুরুত্বারোপ করেছি।
জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেওয়া। দেশের স্বাস্থ্য সেবাকে গ্রামের মানুষের জন্য সহজলভ্য করতে জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে স্বাস্থ্য সেবার মান ও সুবিধা বৃদ্ধি করেছে স্বাস্থ্য সেবার ৮০ শতাংশ কাজ করেন নার্সরা রোগীর পথ্যসেবন থেকে শুরু করে বেডসাইড নার্সিং কেয়ারসহ রোগীর স্বাস্থ্য সেবার প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ করেন নার্সরা। রোগীকে নার্সিং সেবা প্রদানের নিমিত্তে নার্সদের অন্যন্য স্বাস্থ্য কর্মীদের চেয়ে বেশি সময় রোগীর কাছে থাকতে হয়।

03/07/2026

নার্সিং পেশার মান্নোয়ন প্রয়োজন
২০২০ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশে দুই লাখ ৫০ হাজার নার্সের প্রয়োজন হবে। কারণ তখন আমাদের ষাটোর্ধ মানুষের সংখ্যা প্রায় তিন কোটি ছাড়িয়ে যাবে। এ বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য জেরিয়াট্রিক সেবা কেন্দ্র দরকার। সেবার মান বেড়েছে যেভাবে সে অনুপাতে বেড়েছে জনবল নার্সিং খাতে। তাই এ বিশাল জনবলকে সুষ্ঠুভাবে মনিটরিং দরকার।
জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেয়ার যে প্রয়াস তা সঠিকভাবে পালন করতে হলে অপার সম্ভাবনাময়ী এ নার্সিং পেশায় পদ বিন্যাস প্রয়োজন। জনগণের সেবা প্রাপ্তি সহজীকরণ ও নার্সদের চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের (অটোমেশন) সময়োপযোগী দক্ষ ও আধুনিক জ্ঞান সমৃদ্ধ করতে, এ পেশায় প্রশাসনিক সক্ষমতা ও পদবিন্যাস বা উচ্চতর গ্রেডের নতুন পদ সৃজন অনেকটা সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সুতরাং বলা চলে স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়ন করতে হলে, নার্সিং পেশার মান্নোয়নে প্রয়োজন। নার্সদের সুষ্ঠু জনবল কাঠামো বা পদসোপান তৈরির মাধ্যমে নার্সিং পেশার মান্নোয়ন সর্বোপরি স্বাস্থ্য সেবার মান বৃদ্ধি পাবে।
বর্তমান একটি উদ্যোগ হচ্ছে বিশেষায়িত নার্স তৈরি করা। বিশ্বের অন্যন্য দেশের ন্যায় বিশেষায়িত নার্স তৈরি হলে, এ দেশের স্বাস্থ্য সেবা অভুতপুর্ব পরিবর্তন আসবে। এজন্য নার্স কনসালটেন্ট পদ সৃজন করা প্রয়োজন।
সেবা সহজীকরণ অবাধ তথ্য প্রবাহ বর্তমান সরকারের একটি যুগপৎ সিদ্ধান্ত। নার্সিং পেশায় ও এ ধারাবাহিকতা প্রয়োজন এজন্য জেলার সেবাগুলো যেন জেলা সদর হাসপাতালে সম্পন্ন হতে একটা সুবিন্যস্ত প্রশাসনিক কাঠামো প্রয়োজন। অনেক সময় দেখা যায়, আলাদাভাবে বণ্টিত পদ সৃজন না হওয়ার কারণে সেবা সহজলভ্যতা থাকে না এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
নার্সিং খাতের আরেকটি সহযোগী খাত হচ্ছে মিডওয়াইফারি খাত। নার্সিং বিদ্যমান প্রশাসনিক জনবল কাঠামো দিয়ে মিডওয়াইফারিকে দেখভাল করা হচ্ছে। বর্তমানে মিডওয়াইফ ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বহুগুণ বেড়েছে। ফলে এটিও বর্তমান নার্সিং প্রশাসনিক কাঠামোর উপর নতুন করে চাপ তৈরি করছে। এজন্য নতুন প্রস্তাবিত পদ বিন্যাস বহুলাংশে জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কক্সবাজার জেলার স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ প্রয়োজনলেখক : ছৈয়দ আহমেদ তানশীর উদ্দিনগণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছে...
01/07/2026

কক্সবাজার জেলার স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ প্রয়োজন
লেখক : ছৈয়দ আহমেদ তানশীর উদ্দিন

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫ (ক) অনুসারে চিকিৎসাসহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। স্বাধীনতার পর থেকে, বিশেষ করে ২০০২-২০০৬ সালে জেলার স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। জেলা সদর হাসপাতালের শয্যা বৃদ্ধি ও সম্প্রসারণ সরকারী স্বাস্থ্য সেবার ব্যাপ্তি ও পরিধি সম্প্রসারিত হয়েছে বিশেষ উদ্যোগে মাধ্যমে গ্রামীণ জনগনের দোড়গোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে স্বাস্থ্য খাতে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক লক্ষ্যমাত্রাগুলির বেশীরভাগ ক্ষেত্রে ইপ্সিত সাফল্য অর্জিত হয়েছে। কিন্তু বহুলাংশে উপেক্ষিত রয়েছে সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবে গড়ে উঠেনি সার্বজনীন স্বাস্থ্যব্যবস্থা। এটি সত্য যে ,শেষ পর্যন্ত একটি দেশের জনগণকে তার চিকিৎসা সেবার জন্য তার নিজ দেশের চিকিৎসকের কাছেই ফিরতে হয়। সাম্প্রতিক করোনাকালে নিজ দেশের চিকিৎসক, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতি এত অনাস্থা, ঘৃণার পরেও ব্যবসায়ী, বিত্তবান, সরকারি কর্মকর্তা বা রাজনীতিবিদ নিজ দেশের হাসপাতালের দ্বারস্থ হয়েছেন। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে আমাদের সংকটের গভীরে যেতে হবে।

জেলায় বিদ্যমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থা :
দেশের প্রধান পর্যটন জেলা কক্সবাজার। পর্যটকদের আকর্ষণ করতে এখানে নিত্যনতুন আধুনিক ও বিলাসবহুল অবকাঠামো নির্মাণ হচ্ছে, বাড়ছে শিল্পায়নও। এসব কারণে বাড়ছে জেলায় বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা। এখানে অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যাও নেহাত কম নয়। কয়েক বছর ধরে এ জেলায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় ১৩-১৪ লাখ মানুষ বাস করছে। পর্যটনে চকচকে অবকাঠামোর বিপরীতে জেলার চিকিৎসা পরিষেবা পড়ে আছে সেই মান্ধাতা আমলে, রুগ্ন দশায়। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এ জেলার সাধারণ মানুষসহ দেশী-বিদেশী পর্যটক।
সরকারি হিসাবে কক্সবাজার জেলায় মোট জনসংখ্যা ২৭ লাখ ৯০ হাজার। প্রতিদিন গড়ে ১ লাখ পর্যটক, কয়েক লাখ অস্থায়ী বাসিন্দার পাশাপাশি ১৩-১৪ লাখ রোহিঙ্গাসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার কর্মী মিলিয়ে কক্সবাজারে বসবাসকারীর সংখ্যা ৪৫ লাখের বেশি। কিন্তু এ বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারি হিসাবে হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা মাত্র ৫৮৬। এর মধ্যে শুধু কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ২৫০ শয্যাই মূল শহরের বাসিন্দাদের চিকিৎসাপ্রাপ্তির প্রধান ভরসা। তাছাড়া দক্ষিণ চট্টগ্রামে এটি একমাত্র চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র তাই কক্সবাজার জেলা বাদে ও বান্দরবান জেলার রোগীরা এখানে সেবা গ্রহন করে। এই সেবাকেন্দ্রে শুধু জরুরি বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৫শতাধিক রোগী সেবা নিতে আসে। মাত্র তিনজন চিকিৎসক তাদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
এমন পরিস্থিতিতে জটিল কিংবা সাধারণ রোগেও কক্সবাজারবাসীকে চিকিৎসা নিতে ছুটতে হয় চট্টগ্রামে শহরে, কক্সবাজার মূল শহর থেকে যার দূরত্ব প্রায় ১৬০ কিলোমিটার।
কক্সবাজার মেডিক্যাল ট্যুরিজমের নতুন খাত:
বিশেষজ্ঞরা বলছেন কক্সবাজার স্বাস্থ্য পর্যটনের নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে।‘কক্সবাজারের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে নতুনভাবে ঢেলে সাজিয়ে এখানে বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা বা স্পেশালাইজড হেলথ কেয়ার গড়ে তোলার পরিকল্পনা দরকার প্রয়োজনে এমন একটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে, যেখানে শুধু স্থানীয় মানুষই নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও মানুষ চিকিৎসার জন্য কক্সবাজারে আসবেন।
পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা হাসপাতালের মাধ্যমে সেকেন্ডারি (বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা হাসপাতালের সেবা)
ও টার্শিয়ারি (উচ্চতর ও বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা) স্বাস্থ্যসেবাও উন্নত করা তবে চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো কক্সবাজারকে একটি বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা। আগামী দশ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে কক্সবাজারে পর্যটনের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা নির্ভর পর্যটনও গড়ে তোলা সম্ভব। চোখ, কিডনি ও হার্টসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য আধুনিক কেন্দ্র ও যোগ (ইয়োগা) সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে।
এতে স্বাস্থ্যসেবা ও পর্যটন একে অপরকে শক্তিশালী করবে ফলে, পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে, অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন স্থানীয় মানুষ।এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কক্সবাজারে একটি বিশেষায়িত স্বাস্থ্য অঞ্চল গড়ে তোলার আধুনিক পরিকল্পনা জরুরি ; সঠিক পরিকল্পনা ও সরকারি সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে কক্সবাজার শুধু পর্যটন নয়, স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত হবে। আশার কথা হল:
চলতি বছরের মার্চ মাসে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন হলরুমে অনুষ্ঠিত কক্সবাজারে স্বাস্থ্য পর্যটন উন্নয়নকল্পের মতবিনিময় সভায় বিনপির বৃহৎ পরিকল্পনা আছে বলে জানিয়েছেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার।
মেডিক্যাল ট্যুরিজম হলে চিকিৎসায় বিদেশমূখীতা কমবে :

বিশ্বব্যাংক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই) ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্রস বর্ডার ডেটা ফ্লো গবেষণা বলছে , বাংলাদেশিরা বিদেশে চিকিৎসার জন্য বছরে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ করে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি।বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন তথ্যমতে ২০২৩ সালে চার লাখ ৪৯ হাজার ৫৭০ জন বাংলাদেশি স্বাস্থ্যসেবার জন্য বিদেশ ভ্রমণ করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪৮ শতাংশ বেশি।
এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বের যেসব দেশ থেকে বেশি রোগী চিকিৎসার জন্য অন্য দেশে যায়, এমন ১০টি দেশের মধ্যে শীর্ষ ইন্দোনেশিয়া। এই তালিকার ১০ নম্বরে বাংলাদেশ। অন্য দেশগুলো হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইতালি, জার্মানি, লেসোথো, দুবাই ও লিবিয়া।
বাংলাদেশ থেকে বিদেশমুখী রোগীদের ৫১ শতাংশ যায় ভারতে। থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরে যায় ২০ শতাংশ করে। যুক্তরাজ্যে রোগী যাওয়ার হার ৩ শতাংশ। ২ শতাংশ করে যায় জাপান ও মালয়েশিয়ায়। ১ শতাংশ করে যায় চীন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে। এই তথ্য অনুযায়ী সহজে অনুমেয় চিকিৎসায় বিদেশ নির্ভরতা আমাদের দেশথেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ চলে যাচ্ছে। তাই সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে আমরা এই অর্থনৈতিক শক্তিকে কাজে লাগাতে পারি।

মেডিক্যাল ট্যুরিজম কক্সবাজার করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপসমূহ:
• বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো: কক্সবাজারে উন্নত চিকিৎসার জন্য আধুনিক হাসপাতাল এবং বিশেষায়িত ইউনিট (যেমন: বার্ন ইউনিট, কার্ডিওলজি ও ক্যাথল্যাব )স্থাপন করা
• দক্ষ জনবল ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক: দেশী-বিদেশী অভিজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স এবং টেকনিশিয়ান নিশ্চিত করা।
• সহায়ক অবকাঠামো ও হোটেল: রোগীদের জন্য হুইলচেয়ার ফ্রেন্ডলি হোটেল এবং হাসপাতালের পাশে বিশেষ আবাসন ব্যবস্থা করা।
• যাতায়াত ও নিরাপত্তা: পর্যটকদের জন্য সহজ যাতায়াত (বিমান ও উন্নত সড়ক পথ) এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
• ডিপ্লোম্যাটিক ও আইনি সহায়তা: বিদেশী রোগীদের ভিসার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং আন্তর্জাতিক বীমা সুবিধা নিশ্চিত করা।
• মার্কেটিং ও ব্র্যান্ডিং: 'চিকিৎসা ও ভ্রমণ' একসাথে এই ধারণাটি প্রচার করা এবং ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে তুলে ধরা।
এছাড়াও, স্থানীয় পর্যায়ে পর্যটকদের সেবার মানোন্নয়নে হোটেল মালিক, পর্যটন পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনকে নিয়ে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে এইক্ষেত্রে নিম্নোক্ত কাজ করা যেতে পারে।

(ক) দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য হাসপাতাল ভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন:
(খ) দরিদ্র জনসাধারণের পকেট থেকে স্বাস্থ্য সেবায় ব্যয় হ্রাস এবং সেবা গ্রহণে আর্থিক প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ;
(গ) স্বাস্থ্য খাতে দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির জন্য রোগী ও চিকিৎসার ভিত্তিতে অর্থ বরাদ্দের নিয়ম চালু করা;
(ঘ) সেবা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি; এবং
(ঙ) স্থানীয় পর্যায়ে পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব/ক্ষমতা বৃদ্ধি।

পরিশেষে বলি, একটা দেশের একটা দেশের স্বাস্থ্য পদ্ধতি কেমন হবে, কীভাবে কাজ করবে তা সম্পূর্ণ নির্ভর করে সেই দেশটির নেতৃবৃন্দের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কীভাবে নির্মিত হচ্ছে তার ওপর নির্ভর করে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং পুরো সিস্টেমের আচরণ। অতএব, নীতিনির্ধারক ও জনগণের অগ্রগামী অংশকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। পারস্পরিক দোষারোপ বা আত্মপক্ষ সমর্থনে সমাধান নাই। আমাদের দুর্বলতার জায়গাগুলো চিহ্নিত করতে হবে। সঠিক নীতিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে গড়ে তুলতে হবে শক্তিশালী স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা। প্রয়োজন দক্ষ জনশক্তি ও প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য যথাযথ বিনিয়োগ।
লেখক : নার্স ও পুষ্টিবীদ,কক্সবাজার
[email protected]

16/05/2026

নামসর্বস্ব কোর্স চালু করার প্রবণতা দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার জন্য দীর্ঘ মেয়াদে একটি নেতিবাচক পরিণতি ডেকে আনছে। অনেক ক্ষেত্রে বাস্তব চাহিদা, দক্ষতা উন্নয়ন কিংবা কর্মবাজারের উপযোগিতা বিবেচনা না করেই শুধু আকর্ষণীয় নাম ব্যবহার করে নতুন কোর্স চালু করা হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীরা কোর্সে ভর্তি হলেও পড়াশোনা শেষে প্রত্যাশিত চাকরি বা পেশাগত সুযোগ পাচ্ছে না। এতে একদিকে যেমন শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে উচ্চশিক্ষার প্রতি শিক্ষার্থীদের আস্থা কমে যাচ্ছে। অনেক কলেজে পর্যাপ্ত শিক্ষক, আধুনিক ল্যাব, গবেষণার সুযোগ কিংবা প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ছাড়াই এসব কোর্স পরিচালিত হচ্ছে, যা শিক্ষার মান আরও দুর্বল করে তুলছে। শুধু সনদ অর্জনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত এই ধরনের কোর্স শিক্ষার্থীদের প্রকৃত জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনে বাধা সৃষ্টি করছে। এর ফলে জাতীয় পর্যায়ে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্য ব্যাহত হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশ পিছিয়ে পড়ছে। পাশাপাশি অভিভাবকদের অর্থ ও সময় অপচয় হচ্ছে। কারণ বহু শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা পাচ্ছে না। নামসর্বস্ব কোর্সের বিস্তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ব্যবসায়িক মানসিকতা বাড়িয়ে তুলছে, যেখানে শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য জ্ঞানচর্চার পরিবর্তে আর্থিক লাভে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে। তাই সময়োপযোগী কারিকুলাম, দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ, বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী কোর্স চালুর মাধ্যমে উচ্চশিক্ষাকে কার্যকর ও অর্থবহ করে তোলা জরুরি।

11/05/2026

Address

Chittagong Nursing College
Chittagong
4212

Telephone

01676304196

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Intern Nurses Association posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share