16/09/2017
মাওলানা আব্দুর রহিম সাহেবের প্রথম
স্মৃতিতে অমলিনবিশ্ববিখ্যাত ইসলামী স্কলার,শায়খুল হাদীস আল্লামা ড.মাওঃআবদুর রাহীম (র)১৯৪৩ সালের অক্টোবর মাসে নোয়াখালীর কোম্পানীগন্জের মুছাপুরে এক বিখ্যাত পীর বংশে জন্মগ্রহণ গ্রহণ করেন।তার পিতা হাফেজ আহমদ কবীর ইবনে মৌলভী শরাফত উল্লাহ ইবনে আমজাদ শাহ ইবনে মনোয়ার শাহ(র)যিনি আবর দেশ হতে হিজরত করে নদীপথে মুছাপুর এসে বসতি স্হাপন করেন।শিক্ষা জীবনে ড.রহীম অসাধারন কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন।১৯৫৮ সালে দাখিল ১৯৬২ সালে আলিম ১৯৬৪ সালে ফাযিল ১৯৬৬ সালে কামিল শেষ করেন সব গুলোতে তিনি অবিভক্ত পৃর্বপাকিস্তানে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন।পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে অনার্স ও মাস্টার্স করে উচ্চ শিক্ষাগ্রহনের জন্য যুক্তরাজ্যে গিয়ে গ্লাসকো ইউনিভার্সিটি থেকে ডক্টরেট করেন।তিনি দেশে বিদেশে বহু প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও পৃষ্ঠপোষক। বার্মিংহাম দারুল উলুম ইসলামীক কলেজের অধ্যক্ষ,যুক্তরাজ্য ওলামা পরিষদের চেয়ারম্যান, যুক্তরাজ্য শরীয়া বোর্ড এর চেয়ারম্যান, মুছাপুর জামেয়া শরাফতিয়া ফাযিল মাদরাসা,মহিলা মাদরাসা,ইয়াতিম খানার প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাষ্টি বোর্ডের আমৃত্যু চেয়ারম্যান ছিলেন।তাহার আরেক পরিচয় না দিলে নয়,যে পরিচয়ে তিনি বাংলাদেশেকে আরেক ধাপ এগিয়ে দিলেন তাহলো মালদ্বীপের বত্রিশ বছরের রাষ্ট্র নায়ক ড.মামুন আবদুল গাইয়ুমের বেয়াই এবং মালদ্বীপের বর্তমান পররাষ্ট্র মন্ত্রী ধনিয়া গাইয়ুমের শশুর।ড.আল্লামা রহীম বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে অনেক পরিচিতি ছিল এবং আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে অনেক অবদান রেখেছেন।সৌদির সাবেক ডিপুটি স্পীকার ড.আবদুল্লাহ ওমর নাফিস,ড.শায়খ আস-সুদাইস,ড.শায়খ সালেহ আল উসাইমিন, তিউনিশিয়ার ক্ষমতাশীল ড.রশীদ ঘানুচি,কাতারে অবস্থানরত ইখওয়ানে আধ্যাত্নীক নেতা আল্লামা ড.ইউছুফ আল কারজাবী,কুয়েতের আল্লামা ড.ইউছুফ হাশেমী রেফায়ীসহ বিশ্ব বিখ্যাত স্কলারা ড.আল্লামা রহীমকে খুব সম্মান করতেন ও মর্যাদা দিতেন তারা তাকে হিবরুল উম্মাহ,আল্লামাতুল উম্মাহ, শায়খুশ শরীয়া বলে সম্মোধণ করতেন।দানশীলতা তিনি এত বেশি এগিয়ে ছিলেন যা আলেমদের মধ্যে কমই পাওয়া যায়।তার স্মৃতির কথা গুলো আমাকে বার বার নাড়া দেয়,দেহকে অবশ করে মনকে গহীন আরণ্যে নিয়ে যায়, নিজেকে হজম করতে কষ্ট হয়ে পড়ে, ২০০৪ সালে আমার মা'কে হারিয়ে যে কষ্টে মজনুন হয়ে গেলাম ঠিক ২০১৬ সালে আগষ্টের এ দিনে আমার প্রিয় মরুব্বী ড.আল্লামা রহীমকে হারিয়ে একই কষ্টে হৃদপিন্ডে কম্পন শুরু হল তা যেন আজ ও শেষ হচ্ছেনা।আমার সাথে সর্ব প্রথম পরিচয় ২০০৭ সালের নভেম্বর মাসে সেদিন থেকে আমৃত্যু একদিনের জন্য ও সম্পর্কের কোন অবনতি হয়নি।আমার হৃদয়ের স্পন্দন জামেয়া শরাফতিয়ার সুবাধে আসলে উনার সাথে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে উঠে।জামেয়া শরাফতিয়াকে নিয়ে বহু কিছু হয়ে গেছে অথবা এখন হচ্ছে যা আমি বলতে গেলে নিজেকে কন্টোল করা কষ্টকর হয়ে যাবে।আমি চাই ড.রহীম সাহব যে নিয়ত নিয়ে জামেয়া প্রতিষ্ঠা করেছেন তা যেন পুরন হয়,একটু না বললে নয় ২০০৭ সালের নভেম্বর থেকে বহু বাধা বিপত্তি পেরিয়ে ২০১৪ সালের ১০ই মার্চ পযর্ন্ত ড.আল্লামা আবদুর রহীম সাহেবের একক প্রচেষ্টায় জামেয়ার জন্য কিছু করার চেষ্টা করেছি আলিম প্রথম একাডেমীর স্বীকৃতি,ফাযিল খোলা, ফাযিলকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত করা,নুরানী চালু করণ এলাকার গরীবদের জন্য দুস্হ প্রকল্প চালু করন,মাদরাসার মুল ভবনকে দ্বীতলা করা,মাসজিদ করা,মাটি বরাট করা,পায়েল খায়ের বিশাল প্রজেক্ট অনুমোদন করা যার ভবন নির্মাণ কাজ এখন অব্যহত আছে। ইয়াতিম খানাতে সরকারী অনুদান বৃদ্ধি করন সহ আমার খসড়া হিসাব মতে ২০০৭ হতে ২০১৪ এর ১০ ই মার্চ পযর্ন্ত একাডেমিক,প্রশাসনিক,গরীব- অসহায়,রমজান প্রকল্প, কোরবানী প্রকল্প সহ প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন মূলুক কাজে উনার একক ফান্ড হতে প্রায় ২ কুঠি ২৫ লাখ টাকার কার্যক্রম সম্পন্ন করেছি।আজকে শরাফিয়ার রেজাল্ট দেখলে হৃদয়টা পেটে যায়, প্রতিষ্ঠানিক কাজ কর্ম করতে গেলে কিছু মনিমানিল্য থাকেই অনেক মায়ের সন্তান একমত হয়ে কাজ করা কষ্টকর,তারপর আমরা সকল শিক্ষক ছেলে মেয়েদের পড়ালেখার বিষয়ে ছিলাম আপোষহীন। যার কারনে জেডিসি,দাখিল,আলিম,ফাযিল সহ প্রায় সকল বছরই শরাফতিয়া জেলার মধ্যে ১ম,২য়,৩য় অবস্হানে থাকত।স্বয়ং মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী শরাফতিয়ার রেজাল্ট সফলতার নোয়াখালীতে এক কন্ফারেন্সে রেপারেন্স টেনেছেন,যাক তাহা অতীত।আমি ব্যাক্তি হিসাবে ভুলের উদ্দে নয়।আমি যে বিষয়টি মনে করতাম হয়ত এটা আমার ভুল ও হতে পারে।আমি চাইতাম সকলের কথা শুনবো কিন্তু ড.রহীমকে কনমিস করে তার বিশাল ব্যাক্তিত্বকে কাজে লাগিয়ে জামেয়াকে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে রৃপ দেওয়া,কারন নোয়াখালীতে আমার জানামতে কোন প্রতিষ্ঠানে অখন্ড প্রায় ৪ একর জায়গা ও এত বেশি সংখ্যক ছাত্র ছাত্রী নেয়,কোন অভাব ছিল না জামেয়ার ভূখন্ড,আর্থিক, ছাত্রছাত্রী,বিজ্ঞ মানুষদের পৃষ্ঠপোষকতা সবই আছে।কিন্তু আমি বলবো আমিই সবচেয়ে নিকৃষ্ট যা আমি ছাত্র ছাত্রী,এলাকার গুণীজনকে বুজাতে পাররিনি যে আমরা মাদরাসার জন্য কি চাইলাম। মাওঃ রহীম সাহেবের অনেক সিন্ধান্ত মেনে নিতে চরম কষ্টহত তারপর ও আমি উনাকে তা বুজতে দিতাম না,আমি মনে করতাম তিনি আমাদের কাজ কর্মে রাগ করে বিমুখ হলে প্রতিষ্ঠানের অপুরনীয় ক্ষতি হয়ে যাবে।যা মনে হয় এখন একটু হলে ও উনার অনুমান করছেন,যাই হোক আজ এদিনে শরাফতিয়ার দ্বি প্রহরের সূর্যটা স্তমিত হয়ে গেল।আর আসবেনা শরাফতিয়ায় মাওঃ রহীম আর কাওকে বকা শুনতে হবেনা,কাওকে এত বিশাল অনুদান ও কেও দিবেনা ছাত্র ছাত্রীর জামা, কাপড়,এতিমদের প্রতি নিয়ত খোজ নেওয়ার জন্য শিক্ষকদের বেতন ভাতা ও আর্থিক সহয়তা ওদরিদ্রদের খোজ খবর নেওয়ার জন্য সুদুর লন্ডন থেকে কেও আর ফোন করবেনা,আমি আমার ছাত্র ছাত্রী,এলাকার সম্মানিত মুরুব্বী গন,প্রিয় শিক্ষক বৃন্দ ও পরিচালনা পরিষদ সহ সকলের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি ড.মাওঃ আবদুর রাহীম সাহেবের সিন্ধান্ত,ওনার মনে অভিপ্রায় বাস্তবয়ন করতে গিয়ে আপনাদের মনে অনেক কষ্ট দিয়াছি।আপনার সবাই বিষয়টি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।আর প্রতিষ্ঠান কে তার সঠিক মানজিলে নিয়ে যাওয়ার জন্য আন্তরিক গঠন মুলুক ভূমিকা রাখবেন,পরিশেষে দ্বীনের এ মহান খাদেম উম্মতের ঈমান ও দ্বীন রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী আল্লামা ড.মাওঃ আবদুর রাহীম সাহেবের সকল নেক কাজকে উত্তম প্রতিদান দিয়ে আরশের মালিক যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদাউসের মেহমান হিসেবে কবুল করে নেয়,আমাকে যেন জান্নাতের সিঁড়িতে হলে ও উনার সাথে স্বাক্ষাতের ব্যাবস্হা করে দেয়।আমিন ছুম্মা আমিন।।