16/06/2025
ইউনিভার্সিটি লাইফ মানেই স্বাধীনতা, স্বপ্ন, সংগ্রাম আর আত্ম-অন্বেষণের এক নতুন অধ্যায়। কিন্তু এই পথচলায় একটা ব্যাপার প্রায়ই মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে—"মাইনষে কি কইবো?"
যতই ভাবো "মাইনষে কি কইবো," ততই নিজের স্বাধীনতা সীমিত হয়ে যাবে।রাগ করলা তো হাইরা গেলা,নিন্দুকের কথা এক কানে সিমহালে আরেক কানে বাহইর কইরা দিবা। তাই মানুষের কথা শোনো, কিন্তু নিজের লক্ষ্য ঠিক রাখো। দিনশেষে তোমার জীবন, তোমার সিদ্ধান্ত—এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ!
কোন সাবজেক্ট পড়বে? কোনটা ভবিষ্যতে ভালো হবে? এখানে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, এমনকি পাশের বাড়ির চাচাও এসে উপদেশ দিতে শুরু করবে। কেউ বলবে, "ইঞ্জিনিয়ারিং নাও, টাকা আছে!" কেউ বলবে, "ডাক্তার হও, সম্মান আছে!" কিন্তু দিনশেষে সিদ্ধান্তটা তোমারই নেওয়া উচিত।
ইউনিভার্সিটিতে এসে অনেকে স্বাধীনভাবে চলতে শুরু করে—নতুন স্টাইল, নতুন চিন্তাভাবনা, নতুন বন্ধুত্ব। কিন্তু তখনই কেউ না কেউ বলবে, "অমুক তো বদলে গেছে!" কেউ বলবে, "ও এখন অনেক ফাঁকি দেয়!" অথচ মানুষ প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল, এটা অনেকেই মানতে চায় না।
কোনো বিষয়ে একটু খারাপ করলে, মানুষ বলবে, "এই ছেলেটা/মেয়েটা তো ভালো ছিল, কী হলো?" ভালো করলেও বলবে, "আরও ভালো করতে পারতো!" আসলে মানুষ কখনোই পুরোপুরি সন্তুষ্ট না, তাই নিজের উন্নতির দিকেই ফোকাস করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
কাউকে বেশি সময় দিলে মানুষ বলবে, "তারা প্রেম করছে!" কারও সঙ্গে বেশি মিশছ না? "ও তো অহংকারী হয়ে গেছে!" অথচ প্রতিটি বন্ধুত্ব ও সম্পর্কের পেছনে থাকে ব্যক্তিগত গল্প, যা সবাই বোঝে না।
ইউনিভার্সিটির শেষের দিকে সবাই জানতে চাইবে, "চাকরি পাবে তো?" "উচ্চশিক্ষা নেবে?" "বিয়ে কবে করবে?"—একেকজন একেক কথা বলবে, কিন্তু বাস্তবতা হলো, সময় ও পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে তৈরি করাটাই আসল কাজ।
তোমার আর্থিক সমস্যা থাকতেই পারে,টিউশনি প্রয়োজন হতেই পারে,নিজ বাড়ি থেকে শত শত কিলোমিটার দূরে আপন বলতে তোমার বন্ধুবান্ধব, রুমমেট বা সিনিয়র ভাই-আপুরা,তাদেরকে বলতে সংকোচ কিসের?মাইনষে কি বলবো এই ভেবে নিজের কিছু শেয়ার না করে নিজে নিজে হীনমন্যতায় ভোগা নেহাত বোকামি ছাড়া আর কিছু না।
তোমার পড়াশোনায় সমস্যা হতেই পারে,সবাই সব পারে না,এটাই বাস্তব, ব্যাচের যেই ছেলে/মেয়ে বিষয়টা ভালো বুঝে তার কাছ থেকে বুঝে নেও,রুমমেট ভাই যদি তোমার ডিপার্টমেন্টের হয় তাহলে উনার থেকে বুঝে নেও।মাইনষে কি কইবো এই ভেবে পড়া না বুঝে ডিপ্রেশনে থাকার মানেই হয় না।
হয়তো তোমার আর্থিক সমস্যা,এক শার্ট বা জামা টানা একাধিক দিন পড়া লাগে, হয়তো কমদামি খাতা ব্যবহার করা লাগে,হয়তো তোমার কিলোরোডে হেটে আসা লাগে।তোমার আশেপাশে ভালো মানুষের সাথে নিন্দুকেরাও বাস করে,, মাইনষে তো কত কিইই বলবে,তাই বলে কি তুমি থেমে যাবে?মনে রাখবে,"আগুনে পুড়েই ইস্পাত খাটি হয়"