17/05/2026
চিকিৎসক কোনো ঈশ্বর নন, তারা সেবক মাত্র। হাসপাতালে সহিংসতা বন্ধ হোক! 🛑
সম্প্রতি বাংলাদেশে রোগী মৃত্যুর অযুহাতে একজন বিসিএস ক্যাডার চিকিৎসককে শারীরিকভাবে মারাত্মকভাবে আঘাত ও লাঞ্ছিত করা হয়েছে। এই ঘটনা শুধু একজন চিকিৎসকের ওপর হামলা নয়, এটি পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর এক বিরাট আঘাত।
যেকোনো প্রাণহানিই অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং প্রতিটি পরিবারের জন্য তা অপূরণীয় ক্ষতি। আমরা মৃতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। কিন্তু এর বিপরীতে একজন চিকিৎসকের ওপর এভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে চড়াও হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আমাদের কিছু বিষয় গভীরভাবে ভাবা উচিত:
চিকিৎসকেরা জীবন বাঁচানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন, কিন্তু জীবন-মৃত্যুর মালিক তারা নন। জটিল রোগে আক্রান্ত বা মুমূর্ষু রোগীকে বাঁচানোর সাধ্যমতো চেষ্টা করার পরও অনেক সময় নিয়তির কাছে হার মানতে হয়।
সহিংসতা কোনো সমাধান নয়। কোনো চিকিৎসকের অবহেলা বা গাফিলতির অভিযোগ থাকলে দেশের প্রচলিত আইন, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC) কিংবা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অভিযোগ করার বৈধ রাস্তা রয়েছে।
কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা চিকিৎসকদের মৌলিক অধিকার। জীবন রক্ষাকারী একজন মানুষ যদি নিজেই হাসপাতালে প্রাণভয়ে ডিউটি করেন, তবে তিনি শান্ত মাথায় কীভাবে রোগীর সেবা দেবেন? এই ধরণের হামলার কারণে দেশের মেধাবী চিকিৎসকেরা আজ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
আসুন, হাসপাতালে ভাঙচুর এবং চিকিৎসকদের ওপর বর্বরোচিত হামলা বন্ধে আমরা সোচ্চার হই। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক এবং দেশের প্রতিটি হাসপাতালে চিকিৎসকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি করা হোক।
চিকিৎসক বাঁচলে, বাঁচবে সেবা। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক! 🇧🇩