21/04/2019
(Collected)
শবে_বরাত_কিছু_কথা
কোন আমলটা করণীয় এবং কোন আমলটা বর্জনীয় বা কোনটা সুন্নাহ ও অনুমোদিত এবং কোনটা বিদআহ আমরা সেটাই জানি না। উত্তরাধিকার হিসাবে যেমন মুসলমান হয়ে এসেছি তেমনি আমলের বিষয়েও আমাদের মনোভাব উত্তরাধিকারের মতো। দেখে আসছি ছোট বেলা থেকে তাই করছি। কখনো গোড়ায় হাত দিয়ে দেখছি না, আসলে কি !
এক হাদিসে বর্ণিত আছে, তোমার দ্বীনকে খাঁটি করো, অল্প আমলেই নাজাতের জন্য যথেষ্ট হবে। (তারগীব) যে আমলটাই করবো, তা যেন আল্লাহর রাসূল (সা:) পন্থানুযায়ী হয়। দুর্ভাগ্য, আজ শবে বরাত নিয়েও কতো প্রপাগান্ডা প্রচার হচ্ছে। শবে বরাত আছে, এ সম্পর্কে ক'য়েকটি হাদিস-
হযরত আলী বিন আবু তালীব (রা:) থেকে বর্ণিত। হযরত মুহাম্মদ (সা:) ইরশাদ করেছেন,
- যখন শাবান মাসের অর্ধেকের রজনী আসে (শবে বরাত) তখন তোমরা রাতে নামায পড়, আর দিনের বেলা রোযা রাখ। নিশ্চয় আল্লাহ এ রাতে সূর্য ডুবার সাথে সাথে পৃথিবীর আসমানে এসে বলেন,
- কোন গোনাহ ক্ষমাপ্রার্থী আছে কি আমার কাছে ? আমি তাকে ক্ষমা করে দিব।
- কোন রিজিকপ্রার্থী আছে কি ? আমি তাকে রিজিক দিব।
- কোন বিপদগ্রস্থ মুক্তি পেতে চায় কি ? আমি তাকে বিপদমুক্ত করে দিব।
- আছে কি এমন, আছে কি তেমন ? এমন বলতে থাকেন ফযর পর্যন্ত। (ইবনে মাজাহ 1388)
অন্য একটি হাদিস, যা আম্মাজান হযরত আয়শা (রা:) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
এক রাতে রাসূল (সা:) কে না পেয়ে খুঁজতে বের হলাম। খুঁজতে খুঁজতে জান্নাতুল বাকীতে (মদীনারত কবরস্থান) গিয়ে আমি তাঁকে দেখতে পেলাম। তিনি বললেন,
- কি ব্যাপার আয়শা ? (তুমি যে তালাশে বের হলে ?) তোমার কি মনে হয় আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল তোমার উপর কোন অবিচার করবেন ? (তোমার পাওনা রাতে অন্য কোন বিবির ঘরে গিয়ে রাত্রিযাপন করবেন ?)
হযরত আয়শা (রা:) বললেন,
- আমার ধারণা হয়েছিল আপনি অন্য কোন বিবির ঘরে গিয়েছেন।
রাসূল (সা:) তখন বললেন-
- যখন শাবান মাসের ১৫ ই রাত আসে অর্থাৎ যখন শবে বরাত হয়, তখন আল্লাহ পাক এ রাতে প্রথম আসমানে নেমে আসেন। তারপর বনু কালব গোত্রের বকরীর পশমের চেয়ে বেশী সংখ্যক বান্দাদেরকে ক্ষমা করে দেন। (তিরমিযী শরীফ 739)
এখানে ক্ষমা বা মাফ দ্বারা সাধারণ মাফ উদ্দেশ্য। কবিরা গুহানের জন্য তাওবা করা জরুরি।
শবে বরাতের নির্দিষ্ট কোন আমল নাই। তাই উক্তরাতে আমরা নফল নামাজ, কুরআন শরীফ তেলাওয়াত, কবর যেয়ারত, দান-সদকা, দুরুদ শরীফ পাঠ, যিকির ইত্যাদি আদায় করতে পারি এবং বেশি বেশি মাফ চাইবো এবং অন্যান্য আমল করবো।
শবে বরাতে গোসল করার কথা কোথাও নেই। এটাকে সুন্নাহ বা কোন আমল হিসাবে করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন। রোযা রাখার বিষয়ে একটি হাদিসে এসেছে। তবে উত্তম হলো তার সাথে আরো দুটি তথা, ১৩, ১৪, ১৫ তারিখেও রোযা রাখা- যা নবীজি মুহাম্মদ (সা:) প্রতি মাসে রাখতেন।
এই রজনী উপলক্ষে হালুয়া রুটি বানানো- যা আমাদের সমাজে চালু আছে, তা থেকে বিরত থাকুন এবং আতশবাজি, ফোটকা ইত্যাদিও বর্জন করুন।
এই রজনীতে অহেতুক কাজ থেকে মুক্ত থেকে ইবাদতে মশগুল থাকুন। অতীতের ভুল শোধরানোর জন্য এই রাতকে কাজে লাগান। আল্লাহ আমাদের সহীহ বুঝা এবং আমল করার তাওফীক দান করুন। অামীন অামীন
“ ইবনে খায়ের