20/05/2026
জবি মডার্ন ল্যাঙ্গুয়েজ ইনস্টিটিউটে নবীনবরণ ও বিদায় অনুষ্ঠান
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইনস্টিটিউট অব মডার্ন ল্যাঙ্গুয়েজের (আইএমএল) ২০তম ও ২১তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ এবং ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার (২০ মে ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন। সভাপতিত্ব করেন ইনস্টিটিউট অব মডার্ন ল্যাঙ্গুয়েজের পরিচালক দেবাশিস বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে ইনস্টিটিউটের শিক্ষকবৃন্দ, নবীন শিক্ষার্থী এবং বিদায়ী ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই নবীন শিক্ষার্থীদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও শুভকামনার মাধ্যমে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন অতিথিরা। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, স্মৃতিচারণ, শুভেচ্ছা বক্তব্য এবং শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন বলেন, ইনস্টিটিউট অব মডার্ন ল্যাঙ্গুয়েজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে এখনও নানা সীমাবদ্ধতা বিদ্যমান। তবে সীমাবদ্ধতাকে অজুহাত না বানিয়ে শিক্ষার্থীদের নিজেদের দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমাদের চোখেমুখে আমরা যে প্রতিভা, সম্ভাবনা ও স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাচ্ছি, তা আমাদের আশাবাদী করে তোলে। আমরা এমন একটি প্রজন্ম চাই, যারা আমাদের চেয়েও বেশি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, উদ্ভাবনী ও পরিবর্তনের নেতৃত্বদানে সক্ষম হবে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের এমনভাবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে, যাতে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ বৈষম্য, কুসংস্কার ও বিভাজনমুক্ত একটি মানবিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়। তরুণরাই সেই পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উপাচার্য বলেন, তোমাদের বাবা-মা অনেক স্বপ্ন ও প্রত্যাশা নিয়ে তোমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়েছেন। সেই স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ব এখন তোমাদের। নিজেদের যোগ্যতা, সততা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে পরিবার, সমাজ এবং দেশের জন্য অবদান রাখতে হবে।
বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জিত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও মূল্যবোধকে কাজে লাগিয়ে তারা ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবে এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখবে। তিনি বলেন, “তোমরা যেখানেই থাকবে, জবির প্রতিনিধি হিসেবেই পরিচিত হবে। তাই নিজেদের কাজের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা আরও বাড়িয়ে তুলতে হবে।”
বক্তব্যে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে “কৃতজ্ঞতার সংস্কৃতি” গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, স্বীকৃতি ও শুভকামনার চর্চা না থাকলে কাজের আগ্রহ ও ইতিবাচক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শিক্ষকদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যেও এ মূল্যবোধ চর্চার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় উপাচার্য ‘যমুনা আন্দোলন’-এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির বিষয়ে আমরা সব সময় আন্তরিক। আন্দোলনের পর বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং খুব শিগগিরই শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিবাচক অগ্রগতি দৃশ্যমান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ঐক্যবদ্ধভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, যমুনা আন্দোলনেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে ন্যায্য দাবির পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং বর্তমান উপাচার্যের আন্তরিক প্রচেষ্টায় শিক্ষার্থীদের প্রাপ্য অধিকার দ্রুত নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই সংগ্রাম ও আত্মপ্রতিষ্ঠার শিক্ষা লাভ করে। এই সংগ্রামী মনোভাব ভবিষ্যতে তাদের জীবনের সব ক্ষেত্রে সফল হতে সহায়তা করবে। বিদায়ী শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সফল অ্যালামনাই হিসেবে ভূমিকা রাখার আহ্বানও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. খন্দকার মোন্তাসির হাসান।