Religion School One to One

Religion School One to One A Dawah institute , free, online , family and group based , Basic.

আলহামদুলিল্লাহ! রিলিজিয়ন স্কুল ওয়ান টু ওয়ান এর অন্যতম একটি প্রজেক্ট “ সহজ হাদীসে পাঠ সিরিজ”র মসজিদ ভিত্তিক তালিম তথা সাম...
19/04/2020

আলহামদুলিল্লাহ! রিলিজিয়ন স্কুল ওয়ান টু ওয়ান এর অন্যতম একটি প্রজেক্ট “ সহজ হাদীসে পাঠ সিরিজ”র মসজিদ ভিত্তিক তালিম তথা সামষ্ঠিক হাদীস পাঠ শুরু হয়েছে। এই পর্যন্ত আমরা পাঁচটি মসজিদে শুরু করতে সক্ষম হয়েছি। দেশের চলমান পরিস্থিতির কারণে ব্যাপকভাবে হাদীসের বইটি পাঠানো সম্ভব হচ্ছেনা। তবে কেউ কেউ সফট কপি সংগ্রহ করার আগ্রহ প্রকাশ করছে, তাদেরকে আমরা সফট কপিই পাঠিয়ে দিচ্ছি। ইনশাল্লাহ পুরো বাংলাদেশের সব মসজিদে উক্ত কার্যক্রম ছড়িয়ে যাবে।

আলহামদুলিল্লাহ! আমাদের উদ্যোগটি সম্পন্ন হয়েছে।সংকলকের কথাসমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ তায়ালার যার অশেষ মেহেরবানিতে আমরা রিল...
21/03/2020

আলহামদুলিল্লাহ! আমাদের উদ্যোগটি সম্পন্ন হয়েছে।

সংকলকের কথা
সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ তায়ালার যার অশেষ মেহেরবানিতে আমরা রিলিজিয়ন স্কুল ওয়ান টু ওয়ান এর প্রকাশনা বিভাগ কর্তৃক অত্যন্ত মহৎ একটি উদ্যোগ হাতে নিতে সক্ষম হয়েছি। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা) এর প্রতি দরুদ ও সালাম পেশ করছি; যার অমূল্য বাণী গোটা মানবজাতিকে যুগ যুগ ধরে সঠিক পথের দিশা দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা) এর অমূল্য বানীসমূহকে মানুষের নিকট আরো বেশি সহজবোধ্য ও সহজলভ্য করার উদ্দেশ্যে রিলিজিয়ন স্কুল ওয়ান টু ওয়ান এর প্রকাশনা বিভাগ কর্তৃক হাদীস সংকলনের উক্ত উদ্যোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। উক্ত উদ্যোগের অধীনে হাদীসের মৌলিক ও প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ থেকে ধারাবাহিকভাবে ইসলামের বিধিবিধান সংবলিত হাদীসসমূহ সংকলন করা হবে। সহজ হাদীস পাঠ সিরিজ: ঈমান বইটি তারই প্রথম রূপ। বইটিতে ঈমান সম্পর্কিত যাবতীয় হাদীস পুনরাবৃত্তি (তাকরার) ব্যতিত হাদীসের প্রসিদ্ধগ্রন্থসমূহ থেকে সরাসরি সংকলন করা হয়েছে। সংকলকের কোন নিজস্ব মতামত বা ব্যাখ্যা যুক্ত করা হয়নি। কিন্তু হাদীসমূহকে সহজে উপস্থাপন করার জন্য পুরো বইটিকে বারটি পরিচ্ছেদে ভাগ করা হয়েছে এবং সর্বশেষ একটি পরিশিষ্ট যোগ করা হয়েছে। বিশ্বনবীর বাণী সংবলিত বইয়ের শুরুতে সংকলক হিসেবে আরো বেশি কিছু বলার ধৃষ্টতা দেখানো অনুচিত। তবে একজন ব্যক্তির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে কথা শেষ করতে চাই; তিনি হলেন আমাদের রিলিজিয়ন স্কুল এর পরিচালনা পরিষদের সদস্য মাওলানা ইসমাঈল হোসাইন। তাঁর সার্বিক সহযোগিতার ফলে আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে উক্ত কাজটি সহজ করে দিয়েছেন আলহামদুলিল্লাহ।

সংকলক
কাঁটাবন, ঢাকা।

14/01/2020

শুধুমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য------
রিলিজিয়ন স্কুল ওয়ান টু ওয়ান (religionschool121) ”২০২০” সেশনের জন্য নিচের বিভাগসমূহে সীমিত সংখ্যক শিক্ষার্থী নেওয়া হবে।
• সহজ কুর’আনিক আরবী ভাষাও ব্যাকরণ -৩ জন
• কুর’আন তিলাওয়াত- ২ জন
• অর্থসহ কুর’আন- ২জন
• সহজ উসূলুল কুর’আন ও তাফসিরুল কুর’আন- - ২ জন
• সহজ উসূলুল হাদীস ও দারসুল হাদীস- ২ জন
• তাজকিয়া ও তাজকির (আত্মশুদ্ধি ও স্মরণ) - ২ জন
• সহজ ফিকহ ও ইসলামী আইন- ২ জন
• ইসলামী অর্থনীতি- ২ জন
• ইসলামী দর্শন- ২ জন
• ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি - ২ জন
শর্তসমূহ:
• শিক্ষার্থীকে অবশ্যই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোন ডিপার্টমেন্টের ছাত্র হতে হবে ( ফিমেল স্টুডেন্টদের আসন পর্যাপ্ত থাকায় আপাতত ফিমেল স্টুডেন্ট নেওয়া যাচ্ছেনা) ।
• যোগাযোগ/ক্লাস সম্পাদন ও কোর্স ম্যাটেরিয়ালস সরবরাহের জন্য অনলাইন মাধ্যম থাকতে হবে।
• আগ্রহী প্রার্থীদের সাথে স্কুলের পক্ষ থেকে অনলাইন মাধ্যমে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ পূর্বক বাছাইপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
• কোর্স শেষ করার পর সংশ্লিষ্ট কোর্স এর উপর অন্য একজন শিক্ষার্থীর কোর্স ইন্সট্রাক্টর হিসেবে কাজ করতে হবে।

#ধাপসমূহ:
 প্রথম ধাপ
শিক্ষার্থী আমাদের স্কুলের মেইলে বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করবেন।
যে তথ্যসমূহ শিক্ষর্থী সরবরাহ করবেন:
১. নাম, ডিপার্টমেন্ট, হল?
২.বর্তমান ঠিকানা? স্থায়ী ঠিকানা?
৩. যে বিভাগে পড়তে ইচ্ছুক?
৫. মোবাইল নং ও ইমেইল?
৬. পড়ার স্থান- শিক্ষকের বাসা/শিক্ষার্থীর বাসা/অনলাইন?
 দ্বিতীয় ধাপ
সকল তথ্য স্কুল কর্তৃক যাচাইপূর্বক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মাঝে সংযোগ স্থাপন করে দেওয়া হবে।
 তৃতীয় ধাপ
উভয় পক্ষ স্থান (কোথায় পড়ানো হবে), সময়কাল (কতদিন ও কোনদিন পড়ানো হবে), বিষয়বস্তু (কোন বিষয়ে পড়বে) ইত্যাদি সবকিছু নির্ধারণ করবেন এবং স্কুলকে অবহিত করবেন।
 চতুর্থ ধাপ:
তৃতীয় ধাপ অনুযায়ী উভয়পক্ষ তাদের পড়ার কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন এবং স্কুলকে তাদের প্রতিক্রিয়া জানাবেন।
#যোগাযোগ:
• আগ্রহী প্রার্থীগণকে নিচের মেইলে উপরে উল্লেখিত তথ্যসংবলিত সংক্ষিপ্ত সিভি পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হলো।
[email protected]
Religion school one to one
Person to person project
Hotline: 01521256504

#কোর্স কার্যক্রম:
• ১.শিক্ষক ও ছাত্রের মাঝে স্কুল কর্তৃক সংযোগ স্থাপন হওয়ার পর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মাঝে সরাসরি অথবা অনলাইনে যোগাযোগ শুরু হবে।
• ২. সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্ট এর উপর স্কুল কর্তৃক নির্ধারিত সিলেবাস অনুযায়ী প্রতি মাসে একটি কোর্স শিক্ষার্থী শিক্ষকের নির্দেশনা অনুসারে সম্পন্ন করবে।
• ৩. মাস শেষে একটি এসাইনমেন্ট ও একটি এমসিকিউ এক্সামের মাধ্যমে শিক্ষার্থীকে যাচাই করা হবে। এসাইনমেন্ট ও এমসিকিউ পরীক্ষায় ৬০শতাংশ নম্বর পেয়ে শিক্ষার্থী পরবর্তী কোর্সে পদার্পন করবে। এভাবে প্রতিটি ডিপার্টমেন্ট এর জন্য ৬ মাসে ৬টি কোর্স সম্পন্ন করতে হবে।
• ৪.ছয়টি কোর্স সম্পন্ন করার পর শিক্ষক তার শিক্ষার্থীর পূর্ণ নম্বর স্কুল কর্তৃপক্ষকে পাঠাবেন। স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীর নম্বরকে বিবেচনা করে সার্টিফিকেট প্রদান করবে।
• ৫. কোর্সের ধরণ: এক. অনলাইন দুই. সরাসরি।
#স্কুল সম্পর্কে ও সংশ্লিষ্ট কোর্স-সিলেবাস সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পিডিএফ ফাইলটি ডাওনলোড দিয়ে পড়ার অনুরোধ রইল।
#অথবা স্কুলের ফেসবুক পেজে সরাসরি প্রশ্ন করে যে কোন বিষয় জেনে নিন। - https://www.facebook.com/religionschool1to1/

 #ছোট্ট শিশু আহনাফের কোরানের ছবক অনুষ্ঠান ছিল আজ। রিলিজিয়ন স্কুল ওয়ান টু ওয়ান এর ” ব্যক্তি টু ফ্যামিলি” প্রজেক্টের ছাত্র...
02/11/2019

#ছোট্ট শিশু আহনাফের কোরানের ছবক অনুষ্ঠান ছিল আজ। রিলিজিয়ন স্কুল ওয়ান টু ওয়ান এর ” ব্যক্তি টু ফ্যামিলি” প্রজেক্টের ছাত্র আহনাফ। ছবক অনুষ্ঠানের শেষে রিলিজিয়ন স্কুলের পক্ষ থেকে শিশু আহনাফের হাতে তুলে দেওয়া হয় ক্রেস্ট ও ফুলের তোড়া।

#আপনার সন্তানকে ধর্মীয় মৌলিক বিষয়গুলো শিক্ষা দিন। এ ক্ষেত্রে যে কোন সহযোগিতায় আপনার পাশে আছে রিলিজিয়ন স্কুল ওয়ান টু ওয়ান।

26/10/2019

#ফজর নামাজের সুন্নাত নিয়ে আলেমগণের মাঝে মতভেদ রয়েছে। প্রায়ই দেখি বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্তির মধ্যে পতিত হোন, নিচের প্রবন্ধটি পড়লে ইনশাল্লাহ এ ব্যাপারে শতভাগ স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব। দ্বীনকে সহজ করার স্বার্থে নিজে পড়ুন অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দিন।

#ফজর নামাজের দুই রাকাত সুন্নাত
তাহকিক: ইমরান মাহমুদ

বিসমিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, ওয়াস-সালাতু ওয়াস-সালামু ’আলা রসুলিল্লাহ- অতপর
ফরয সালাতের পর ফজরের দুই রাকাত সুন্নত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
عَنْ عَائِشَةَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: رَكْعَتَا الْفَجْرِ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا . رَوَاهُ مُسْلِمٌ
‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে এ হাদীসটিও বর্ণিত। তিনি বলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ ফাজ্‌রের ফজরের দু’ রাক্‘আত সুন্নাত সালাত দুনিয়া ও দুনিয়ার সকল জিনিসের চেয়ে বেশী উত্তম। (মুসলিম ও মিশকাত: কিতাবুস সালাত- ১১৬৪)
عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ لَمْ يَكُنِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى شَىْءٍ مِنَ النَّوَافِلِ أَشَدَّ مِنْهُ تَعَاهُدًا عَلَى رَكْعَتَىِ الْفَجْرِ‏.‏
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন নফল সালাত (নামায/নামাজ)-কে ফজরের দু’ রাকা’আত সুন্নাতের ন্যায় অধিক হিফাযত ও গুরুত্ব প্রদানকারী ছিলেন না। (বুখারি: ১১০০)
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
لا تدعوهما، وإن طردتكم الخيل
তোমরা এই দুই রাকাত কখনো ত্যাগ করো না, শত্রুবাহিনী তোমাদের তাড়া করলেও।(সুনানে আবু দাউদ, হাদীস: ১২৫৮)
যদিও উক্ত সুন্নাত সালাতের গুরুত্ব ও ফজিলত নিয়ে কারোর মধ্যে কোন ভিন্নমত দেখা যায়না। কিন্তু হাদীসের বর্ণনা ও সাহাবীদের প্র্যাক্টিসের আলোকে উক্ত গুরুত্বপূর্ণ বিধানটির ব্যাপারে বর্তমান সময়ের শরিয়ত বিশেষজ্ঞগণ ভিন্ন মতামত পেশ করে থাকেন। উক্ত প্রবন্ধে নিম্নে উল্লেখিত কিছু প্রশ্নের আলোকে ফজরের সুন্নত এর সাথে সংশ্লিষ্ট মতবিরোধপূর্ণ বিষয়সহ সকল মৌলিক আলোচনাসমূহ সংক্ষিপ্ত পরিসরে তুলে ধরা হবে।
ক. ফজরের সুন্নত পড়ার উত্তম স্থান কোনটি?
খ. কোন সময়ে ফজরের সুন্নাত পড়তে হয়?
গ. ফজরের সুন্নাতে কি ধরণের কিরাআত উত্তম?
ঘ. যদি কোন কারণে কখনো ফজরের সুন্নাত ছুটে যায়, তা কখন আদায় করতে হবে?
ঙ. ফজরের ফরয সালাতের ইকামত হয়ে গেলে ফজরের সুন্নাত পড়া যাবে কি না? নাকি জামায়াতে অংশগ্রহণ করা আবশ্যক?
মুয়াজ ইবনে জাবালের সেই প্রখ্যাত হাদীসের মাধ্যমে প্রবন্ধের মূল আলোচনা শুরু করতে চাই। কেননা উক্ত হাদীসটি বিশেষজ্ঞদের নিকট ইসলামী শরিয়তের মৌলিক নীতিমালা নির্ধারণে সবচেয়ে স্পষ্ট বক্তব্য হিসেবে গৃহীত।
عن الحارث بن عمرو ابن أخي المغيرة بن شعبة عن أناس من أهل حمص من أصحاب معاذ بن جبل: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لما أراد أن يبعث معاذا إلى اليمن قال: كيف تقضي إذا عرض لك قضاء؟ قال: أقضى بكتاب الله، قال فإن لم تجد في كتاب الله؟ قال فبسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال فإن لم تجد في سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا في كتاب الله؟ قال أجتهد رأيي ولا آلو؟ فضرب رسول الله صلّى الله عليه وسلّم صدره وقال: الحمد لله الذي وفّق رسول رسول الله لما يُرضي رسول الله.
রাসূল (সা.) মুয়াজ ইবনে জাবালকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি ইয়েমেনে গভর্নর হিসেবে কীভাবে শাসন কার্য পরিচালনা করবে এবং কীভাবে ফয়সালা করবে? মুয়াজ জবাব দিলেন, কোরআন অনুযায়ী। রাসূল (সা.) আবার জিজ্ঞেস করলেন, তুমি যদি কোনো বিষয়ের সমাধান পরিষ্কারভাবে কোরআনে না পাও, তাহলে কী করবে? মুয়াজ জবাব দিলেন তখন রাসূলের সুন্নত অনুযায়ী ফয়সালা করব। এরপর রাসূল (সা.) আবার জিজ্ঞেস করলেন, কোনো ইস্যুর পরিষ্কার সমাধান যদি কোরআন বা সুন্নতে না পাও, তাহলে কী করবে? তখন মুয়াজ বললেন, আমি নিজেই ইজতেহাদ করে ফয়সালা করব। তখন রাসূল (সা.) অত্যন্ত খুশি হয়ে বললেন, সে আল্লাহর প্রশংসা যিনি তার রাসূলের রাসূলকে এমন যোগ্যতা দিয়েছেন যে, যাতে তার রাসূল সন্তুষ্ট। (মুসনাদের আহমদ)
উক্ত হাদীসের মাধ্যমে শরীয়ত বিশেষজ্ঞগণের ঐক্যমত (ইজমা: যা শরীয়তের তৃতীয় উৎস) পোষণ করেছেন, যদি কোন বিষয়ে কোরান ও হাদীসের স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায় তাহলে উক্ত বক্তব্যের আলোকেই শরীয়তের বিধান প্রণীত হবে। যদি কোন বিষয়ে কোরান ও হাদীসের স্পষ্ট বক্তব্য না পাওয়া যায় তাহলে সাহাবীদের প্র্যাক্টিস অনুসরণ করতে হবে। যদি তাও না পাওয়া যায় তখন সমসাময়িক বিশেষজ্ঞদের ফতোয়া গ্রহণযোগ্য হবে। এই ব্যাপারে ইমাম ’আজম আবু হানিফার মূলনীতিকে আমরা প্রমাণ হিসেবে পেশ করতে পারি। তিনি বলেন,কোন মাসআলার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কিতাবের বর্ণনা পেলে আমি গ্রহণ করেছি। তা না পেলে বিশ্বস্ত রাবির সূত্রে রাসূলের সুন্নাহকে গ্রহণ করেছি। কোরান ও সুন্নাহর কোথাও না পেলে আমি সাহাবাদের উক্তিকে গ্রহণ করেছি। এক্ষেত্রে সাহাবাদের একাধিক মতামত থাকলে আমার বিবেচনামতে তাদের কারোর উক্তি গ্রহণ করেছি আর কারোর উক্তি পরিত্যাগ করেছি। তাদের ব্যতিত অন্য কারোর উক্তি আমি গ্রহণ করিনি। তবে মাসআলার বিষয়টি যদি শেষ পর্যন্ত ইব্রাহিম নাখঈ,শা’বি, হাসান আল বসরি,সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যাব প্রমুখ তাবেঈদের উক্তির দিকে ধাবিত করতে হয় তাহলে সেক্ষেত্রে আমার নিজের ইজতিহাদ করার অধিকার রয়েছে যেভাবে তারা ইজতিহাদ করেছেন। (মুহাম্মদ রুহুল আমীন, ইসলামী আইনের উৎস,মাসালিহ মুরসালাহ, পৃ.১৫১)
উপরোক্ত হাদীস ও ইমাম আজমের বক্তব্যকে মানদন্ড ধরে আমরা আমাদের আলোচনা পুরোপুরি শুরু করব। তাই উপরে উল্লেখিত প্রশ্নসমূহের কোন উত্তর যদি সরাসরি কোরানে পাওয়া যায় তাহলে আমরা প্রথমে কোরানের বক্তব্যকে তুলে ধরব। কোরআনের বক্তব্য না পাওয়া গেলে আমরা হাদীস পেশ করব। এভাবে প্রয়োজনের আলোকে শরীয়তের প্রমাণিত সূত্র অনুযায়ী কোরান,সুন্নাহ,সাহাবাদের বক্তব্য ও তৎপরবর্তী বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য ধারাবাহিকভাবে আমরা তুলে ধরব।
ক. ফজরের সুন্নত পড়ার উত্তম স্থান কোনটি?
এই প্রশ্নের সহজ উত্তর - রাসূল (সা) যেখানে উক্ত সুন্নাত আদায় করতেন সেই জায়গাই হলো সবচেয়ে উত্তম জায়গা।
وَعَنْ عائشة قَالَتْ: كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا صَلّى رَكْعَتَيِ الْفَجْرِ اضْطَجَعَ عَلى شِقَّهِ الْأَيْمَنِ. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাজ্‌রের দু’ রাক্‘আত (সুন্নাত) সলাত আদায় করে নিজের ডান পাঁজরের উপর শুয়ে যেতেন। (বুখারী, মুসলিম ও মিশকাত: ১১৯০)
وَعَنْهَا قَالَتْ: كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا صَلّى رَكْعَتَيِ الْفَجْرِ فَإِنْ كُنْتُ مُسْتَيْقِظَةً حَدَّثَنِىْ وَإِلَّا اضْطَجَعَ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকেই এ হাদীসটিও বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজ্‌রের সুন্নাত সলাত আদায়ের পর যদি আমি সজাগ হয়ে উঠতাম তাহলে আমার সঙ্গে কথাবার্তা বলতেন। আর আমি ঘুমে থাকলে তিনি শয়ন করতেন। (মুসলিম ও মিশকাত : ১১৮৯)
উপরের দুইটি হাদীসের ভিত্তিতে বলা যায় রাসূল (সা) ফজরের দুই রাকাত সুন্নাত তার নিজ ঘরে আদায় করতেন। কেননা উপরের দুইটি হাদীসের সারমর্ম হলো রাসূল সুন্নাত আদায় করে ডান পাঁজরে শুয়ে পড়তেন। তবে নামাজ শেষ করার সাথে সাথে যদি রাসূলের স্ত্রী আয়েশা জেগে উঠতেন তাহলে তার সাথে কথাবার্তা বলতেন নতুবা ডান কাত হয়ে শুয়ে যেতেন। তাছাড়া, অন্যান্য হাদীসের আরো বক্তব্য হলো- মুয়াজ্জিন বেলাল (রা) জামাতের পূর্বে রাসূল (সা) ডেকে দিতেন তিনি ঘুম থেকে উঠে মসজিদে এসে নামাজে দাঁড়াতেন।
খ. কোন সময়ে ফজরের সুন্নাত পড়তে হয়?
এই ব্যাপারে হযরত ইবনে উমর বলেন,
قَالَ حَدَّثَنِي نَافِعٌ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ، حَدَّثَهُ أَنَّ حَفْصَةَ حَدَّثَتْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ بَيْنَ النِّدَاءِ وَالإِقَامَةِ مِنْ صَلاَةِ الصُّبْحِ ‏.‏
নাফে (র) ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, হাফসা (রাঃ) তাঁকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের আযান এবং ইকামাতের মধ্যবর্তী সময়ে সংক্ষিপ্তভাবে দু’রাকআত ফজরের সুন্নাত আদায় করতেন। (ইফাবা থেকে প্রকাশিত নাসাঈ:১৭৭২)
গ. ফজরের সুন্নাতে কি ধরণের কিরাআত উত্তম?
عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُخَفِّفُ الرَّكْعَتَيْنِ اللَّتَيْنِ قَبْلَ صَلاَةِ الصُّبْحِ حَتَّى إِنِّي لأَقُولُ هَلْ قَرَأَ بِأُمِّ الْكِتَابِ.
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের (ফরয) সালাতের আগের দু’ রাকা’আত (সুন্নাত) এত সংক্ষিপ্ত করতেন এমনকি আমি (মনে মনে) বলতাম, তিনি কি (শুধু) উম্মুল কিতাব (সূরা ফাতিহা) তিলাওয়াত করলেন? (ইফাবা থেকে প্রকাশিত বুখারি: ১১০২)
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ مَا أُحْصِي مَا سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقْرَأُ فِي الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْمَغْرِبِ وَفِي الرَّكْعَتَيْنِ قَبْلَ صَلَاةِ الْفَجْرِ بِـ ﴿قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُوْنَ﴾ وَ ﴿قُلْ هُوَ اللّهُ أَحَدٌ﴾. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ
‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস্‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি গুণে শেষ করতে পারব না যে, আমি কত বার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মাগরিবের সলাতের পরের ও ফাজরের সলাতের আগের দু’ (রাক্‘আত) সুন্নাতে ‘‘কুল ইয়া- আইয়্যুহাল কা-ফিরূন’’ (সূরাহ্ আল কা-ফিরূন) ও ‘‘কুল হুওয়াল্ল-হু আহাদ’’ (সূরাহ্ ইখলাস) তিলাওয়াত করতে শুনেছি। (তিরমিযী ও মিশকাত: ৮৫১)
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ كَثِيرًا، مِمَّا كَانَ يَقْرَأُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي رَكْعَتَىِ الْفَجْرِ بِـ ‏(‏ آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْنَا ‏)‏ هَذِهِ الآيَةَ قَالَ هَذِهِ فِي الرَّكْعَةِ الأُولَى وَفِي الرَّكْعَةِ الآخِرَةِ بِـ ‏(‏ آمَنَّا بِاللَّهِ وَاشْهَدْ بِأَنَّا مُسْلِمُونَ ‏)‏ ‏.‏
আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিকাংশ সময় ফজরের দুই রাকাত নামাযের (সুন্নাত) প্রথম রাকাতে “আমান্না বিল্লাহি ওয়ামা উনযিলা ইলাইনা” এবং দ্বিতীয় রাকাতে “আমান্না বিল্লাহি ওয়াশহাদ বিয়ান্না মুসলিমুন” এই আয়াতদ্বয় পাঠ করতেন। (মুসলিম, নাসাই ও আবু দাউদ: ১২৫৯)
ঘ. যদি কোন কারণে কখনো ফজরের সুন্নাত ছুটে যায়, তা কখন আদায় করতে হবে?
عَنْ قَيْسِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ رَأَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلاً يُصَلِّي بَعْدَ صَلاَةِ الصُّبْحِ رَكْعَتَيْنِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ صَلاَةُ الصُّبْحِ رَكْعَتَانِ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ الرَّجُلُ إِنِّي لَمْ أَكُنْ صَلَّيْتُ الرَّكْعَتَيْنِ اللَّتَيْنِ قَبْلَهُمَا فَصَلَّيْتُهُمَا الآنَ ‏.‏ فَسَكَتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏
কায়েস ইবন আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখতে পান যে, এক ব্যাক্তি ফজরের ফরয নামায আদায়ের পর দুই রাকাত নামায আদায় করছে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ফজরের নামায দুই রাকাত। তখন ঐ ব্যাক্তি বলেন, আমি ইতিপূর্বে ফজরের দুই রাকাত সুন্নাত আদায় করতে পারিনি, তা এখন আদায় করছি। তাঁর কথায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিরব থাকেন। (তিরমিযি,ইবন মাজাহ ও আবু দাউদ: ১২৬৭)
রসূলের এমন নিরব থাকা অনুমোদন এর সমপর্যায়; যা সবার কাছেই স্পষ্ট। উক্ত হাদীসকে নিচের হাদীসটি আরো বেশি জোরপ্রদান করে
عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ جَدِّهِ، قَيْسٍ قَالَ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَصَلَّيْتُ مَعَهُ الصُّبْحَ ثُمَّ انْصَرَفَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَوَجَدَنِي أُصَلِّي فَقَالَ ‏"‏ مَهْلاً يَا قَيْسُ أَصَلاَتَانِ مَعًا ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي لَمْ أَكُنْ رَكَعْتُ رَكْعَتَىِ الْفَجْرِ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَلاَ إِذًا ‏"‏ ‏.‏
মুহাম্মাদ ইবনু ইবরাহীম হতে তার দাদা কাইস (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (কাইস) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (নিজের ঘর হতে) বেরিয়ে আসলেন, অতঃপর নামাযের ইকামাত দেওয়া হল। আমি তার সাথে নামায আদায় করলাম। নামায হতে অবসর হয়ে তিনি আমাকে নামাযরত অবস্থায় দেখলেন। তিনি বললেনঃ হে কাইস, থামো! তুমি কি দুই নামায একত্রে আদায় করছ? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি ফজরের দুই রাকাআত সুন্নাত আদায় করতে পারিনি। তিনি বললেনঃ তাহলে কোন দোষ নেই (পড়ে নাও)। ( ইবনু মাজাহ :১১৫১, তিরমিযি: ৪২২)
কিন্তু প্রশ্ন হলো, উপরের দুইটি স্পষ্ট হাদীস থাকার পরও কেন শরিয়তের অনেক বিশেষজ্ঞগণ ফজরের সুন্নাত কোনভাবে যদি ছুটে যায় তাহলে সূর্য উদয়ের পর আদায় করার জন্য ফতোয়া প্রদান করেন? তারা রাসূলের একটি হাদীসকে প্রমাণ হিসেবে পেশ করেন- ফজরের ফরয সালাতের পর সূর্য উদয়ের পূর্বে কোন সালাত নেই।
حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ الْحَسَنِ الْبَزَّازُ ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْحَسَّانِيُّ ، ثَنَا وَكِيعٌ ، ثَنَا سُفْيَانُ ، ثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زِيَادِ بْنِ أَنْعُمَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - " لَا صَلَاةَ بَعْدَ صَلَاةِ الْفَجْرِ إلَّا رَكْعَتَيْنِ
ইয়াযীদ ইবনুল হুসাইন আল-বায্‌যায (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ফজরের ‍সুন্নাত নামাযের পর দুই রাকআত (ফরয) নামায ব্যতীত অন্য কোন নামায নেই। (দারে কুতনি: ১৫২১)
উক্ত হাদীসটির উপর ভিত্তি করে তারা ফাওত/ছুটে যাওয়া সুন্নাতকে সূর্যউদয়ের পর আদায় করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। তবে উল্লেখিত হাদীসসমূহের দুই ধরণের বক্তব্যকে খুব সহজেই সমন্বয় করা সম্ভব। যেমন, রাসূল (সা) সাধারণভাবে নিষেধ করেছেন যে ফজরের ফরযের পর সূর্যউদয়ের পূর্বে কোন সালাত নেই। তবে বিশেষ প্রয়োজন তথা কারোর যদি ফজরের সুন্নাত ছুটে যায় তাহলে তা পড়তে পারবে; যা রাসূল নিজেই অনুমোদন দিয়েছেন। তাহলে হাদীসের দুইটি বক্তব্যকে একসাথে করে বলা যায়, ফজরের সুন্নাত ব্যতিত সূর্য উদয়ের পূর্বে অন্য কোন সালাত নেই।
ঙ. ফজরের ফরয সালাতের ইকামত হয়ে গেলে ফজরের সুন্নাত পড়া যাবে কি না? নাকি জামায়াতে অংশগ্রহণ করা আবশ্যক?
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُتَوَكِّلِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا زَكَرِيَّا بْنُ إِسْحَاقَ، كُلُّهُمْ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَلاَ صَلاَةَ إِلاَّ الْمَكْتُوبَةُ ‏"‏ ‏‏
মুহাম্মাদ ইবনুল মুতাওাক্কিল প্রমুখ সূত্রে আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ ফরজ নামাযের ইকামত হয়ে যাওয়ার পর ফরয ব্যতিত আর কোন নামায পড়া দুরস্ত নয়। (মুসলিম, তিরমিযি, নাসাই, ইবন মাজাহ, আবু দাউদ: ১২৬৬)।
উক্ত হাদীসের বক্তব্য থেকে কেউ কেউ ফজরের সুন্নাতের হুকুমকে পৃথক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তারা বলতে চেয়েছেন, ফরজ নামাজের ইকামত হলে অন্য কোন নামাজ দুরস্ত নয় তবে ফজর নামাজের সুন্নাত ব্যতিত যেহেতু এই সুন্নাতের ফজিলত রাসূল (সা) পৃথকভাবে বর্ণনা করেছেন এবং ফজরের সুন্নাতকে রাসূল (সা) সফরের মধ্যেও আদায় করতেন। কিন্তু নিচের স্পষ্ট হাদীসসমূহ দ্বারা তাদের বক্তব্য কোনভাবেই আমলে নেওয়া সম্ভব নয়।
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ شَرِيكِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي نَمِرٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّهُ قَالَ سَمِعَ قَوْمٌ الْإِقَامَةَ فَقَامُوا يُصَلُّونَ فَخَرَجَ عَلَيْهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَصَلَاتَانِ مَعًا أَصَلَاتَانِ مَعًا وَذَلِكَ فِي صَلَاةِ الصُّبْحِ فِي الرَّكْعَتَيْنِ اللَّتَيْنِ قَبْلَ الصُّبْحِ
আবূ সালমা ইবন আবদুর রহমান ইবন আউফ (রহঃ) বলিয়াছেনঃ এক সম্প্রদায় ইকামত শুনিলেন, (শোনার পর) তাহারা (ফজরের সুন্নত) নামায পড়িতে দাঁড়াইয়া গেলেন। এমন সময়ে তাহাদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করিলেন। তিনি (ইহা দেখিয়া) বলিলেনঃ দুই নামায এক সঙ্গে! দুই নামায এক সঙ্গে! ইহা ফজরের নামাযের ঘটনা,ফজরের পূর্বের দুই রাকাআত সম্পর্কে ইহা বলা হইয়াছে। (মুয়াত্তা: ২৭৮)
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَالِكٍ ابْنِ بُحَيْنَةَ، قَالَ مَرَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِرَجُلٍ‏.‏ قَالَ وَحَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ، قَالَ حَدَّثَنَا بَهْزُ بْنُ أَسَدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ أَخْبَرَنِي سَعْدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ سَمِعْتُ حَفْصَ بْنَ عَاصِمٍ، قَالَ سَمِعْتُ رَجُلاً، مِنَ الأَزْدِ يُقَالُ لَهُ مَالِكٌ ابْنُ بُحَيْنَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَأَى رَجُلاً وَقَدْ أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ، فَلَمَّا انْصَرَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لاَثَ بِهِ النَّاسُ، وَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ الصُّبْحَ أَرْبَعًا، الصُّبْحَ أَرْبَعًا ‏"‏‏.‏ تَابَعَهُ غُنْدَرٌ وَمُعَاذٌ عَنْ شُعْبَةَ فِي مَالِكٍ‏.‏ وَقَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ عَنْ سَعْدٍ عَنْ حَفْصٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ابْنِ بُحَيْنَةَ‏.‏ وَقَالَ حَمَّادٌ أَخْبَرَنَا سَعْدٌ عَنْ حَفْصٍ عَنْ مَالِكٍ‏.‏
‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু মালিক ইব্‌নু বুহাইনাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে গেলেন। অন্য সূত্রে ইমাম বুখারী (রহ.) বলেন, ‘আবদুর রহমান (রহ.)....হাফ্‌স ইব্‌নু আসিম (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মালিক ইব্‌নু বুহাইনাহ নামক আয্‌দ গোত্রীয় এক ব্যক্তিকে বলতে শুনেছি যে, রাসুলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করতে দেখলেন। তখন ইক্বামাত হয়ে গেছে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত শেষ করলেন, লোকেরা সে লোকটিকে ঘিরে ফেলল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ ফজর কি চার রাক‘আত? ফাজ্‌র কি চার রাক‘আত?* (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬২৩)
গুনদার ও মু‘আয (রহ.) শু‘বা (রহ.) সূত্রে হাদীসটি বর্ণিত বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু ইবনু ইসহাক (রহ.) সাদ (রহ.)-এর মাধ্যমে সে হাফ্স (রহ.) হতে হাদীসটি বর্ণনা করতে গিয়ে ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু বুহাইনাহ (রহ.) হতে বর্ণিত বলে উল্লেখ করেছেন। (এ বর্ণনাটিই সঠিক) তবে হাম্মাদ (রহ.) সাদ (রহ.)-এর মাধ্যমে তিনি হাফ্স (রহ.) হতে হাদীসটি বর্ণনা করতে গিয়ে মালিক ইবনু বুহাইনাহ (রহ.) হতে বর্ণিত বলে উল্লেখ করেছেন। (মুসলিম ৬/৯, হাঃ ৭১১, আহমাদ ২১৩০) ( ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৩০)
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَرْجِسَ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي الصُّبْحَ فَصَلَّى الرَّكْعَتَيْنِ ثُمَّ دَخَلَ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الصَّلاَةِ فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ ‏ "‏ يَا فُلاَنُ أَيَّتُهُمَا صَلاَتُكَ الَّتِي صَلَّيْتَ وَحْدَكَ أَوِ الَّتِي صَلَّيْتَ مَعَنَا ‏"‏ ‏.‏
আবদুল্লাহ ইবন সারজিস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যাক্তি মসজিদে এসে দেখতে পায় যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামায়াত শুরু করে দিয়েছেন। লোকটি একাকী দুই রাকাত নামায পড়ার পর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে জামায়াতে শরীক হয়। নামায শেষে তিনি বলেনঃ তুমি কোন নামায আদায় করলে? যে নামায একাকী পড়েছ না যা আমাদের সাথে আদায় করেছ? (মুসলিম, নাসাই, ইবন মাজাহ ও আবু দাউদ: ১২৬৫)।
উপরোক্ত হাদীস সমূহ প্রমাণ করে, অন্যান্য ফরয নামাজ চলাকালীন যেমন সুন্নাত নামাজ নিষিদ্ধ ঠিক ফজর নামাজের ফরযের ক্ষেত্রেও রাসূল একই মনোভাব প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য, শরিয়ত বিশেষজ্ঞগণ এই ব্যাপারে একমত যে, রাসূল (সা) এর উপরোক্ত নিষেধাজ্ঞার প্রধান কারণ হলো ফরজ ও সুন্নাত যেন কোনদিক দিয়ে এবং কোনভাবেই এক না হয়ে যায়। তাই ফরজ সালাতকে সর্বদাই সতন্ত্র রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। রাসূলের উক্ত উদ্দেশ্য ও ফজরের সুন্নতের বিশেষ মর্যাদা-গুরুত্বের কারণ সামনে রেখে কতক সাহাবা ফরয সালাত চলাকালীন সময়ে মসজিদের খুঁটির আড়ালে, মসজিদের কর্ণারে তথা জামাত থেকে আড়াল হয়ে সুন্নত আদায় করেছেন। ঐসব সাহাবাদের মধ্যে ছিলেন , ইবনে আব্বাস, ইবনে মাসউদ প্রমুখ সাহাবাগণ। আবার কতক সাহাবাগণ রাসূল (সা) এর সময়কার নির্দেশকে পুরোপুরি অগ্রগন্য মনে করে ফজরের সুন্নাতকে জামাত চলাকালীন সময়ে আদায় করেননি। তাদের মধ্যে ছিলেন- হযরত উমর, ইবনে উমর, আবু মূসা-আশআরি প্রমুখ সাহাবাগণ। এক্ষেত্রে সাহাবাগণ উভয় পক্ষ পরস্পরের সম্মুখেই তাদের নিজস্ব প্র্যাক্টিস করছেন, কেউ কাউকে বাধা প্রদান করেননি। তদ্রুপ তাবেয়ীদের মধ্যেও এমন দুইরকম প্র্যাক্টিস বিদ্যমান ছিল। উক্ত বক্তব্যটি নিচের গ্রন্থসমূহ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।
(শরহু মাআনিল আসার ১/৬১৯, মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, বর্ণনা ৪০২১; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ৬৪৭৬, নুখাবুল আফকার ৩/৬৮২, শরহু মাআনিল আসার ১/৬২১, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা: বর্ণনা ৬৪৭২, শরহু মুশকিলিল আসার ১০/৩৯৬)
সাহাবা ও তাবেয়ীদের মধ্যে উপরোক্ত মতপার্থক্যের আলোকে প্রখ্যাত চার ইমামগণ বিভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন।
ক. ইমাম আবূ হানীফাহ্ (রহঃ) বলেনঃ যদি উভয় রাক্‘আত ছুটে যাওয়ার আশংকা করে এবং ইমাম ২য় রাক্‘আতের রুকূ' থেকে মাথা উঠানোর পূর্বে তার সাথে শামিল না হতে পারে তাহলে ইমামের সাথে শরীক হবে। এক্ষেত্রে ইমাম আবু হানিফা যেহেতু ফজরের নামাজ শেষ সময়ে আদায় করার হাদীসকে গুরুত্ব দিয়েছেন তাই তাঁর নিকট বিবেচ্য বিষয় ছিল- কেউ যদি ফজরের সুন্নাতকে ফরযের পূর্বে আদায় না করে তাহলে সে আর সূর্য উদয়ের পূর্বে আদায় করতে পারবেনা, বরং সূর্য উদয়ের পর ফওত/ছুটে যাওয়া সুন্নতকে আদায় করতে হবে। কিন্তু উম্মতের দুর্বলতা/অলসতার কারণে সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ এই সুন্নতটি পুরোপুরি ছুটে/ফওত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই ইমাম আবু হানিফা গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাতটি যেন কোনভাবেই ফওত না হয় সেজন্য ফরয সালাত ধরার সম্ভাবনা থাকলে ফরজ চলাকালীন সময়ে ফজরের সুন্নাত পড়ার বৈধতা দিয়েছেন।
খ. ইমাম শাফি‘ঈ ও ইমাম আহমাদ-এর মতে এ সময়ে ঐ দু’ রাক্‘আত সলাত বা কোন নফল সলাত আদায় করা মাকরূহ। তবে ইবনু কুদামাহ্ আল মুগনী গ্রন্থে বলেনঃ যখন সলাতের ইক্বামাত বলা হবে তখন নফল সলাত নিয়ে ব্যস্ত থাকবে না রাক্‘আত ছুটে যাবার আশংকা থাক বা না থাক। ইমাম শাফি‘ঈর অভিমতও এটাই। এতে বুঝা যায় যে, ইমাম শাফি‘ঈ ও ইমাম আহমাদ আহলুয্ যাহিরদের মতের সাথে ঐকমত্য পোষণ করেন।
গ.ইমাম মালিক-এর মতে যদি কোন ব্যক্তি সলাত আদায় করার জন্য মাসজিদে প্রবেশ করার পর যদি ইক্বামাত বলা হয় তাহলে ইমামের সাথে সলাতে শরীক হবে এবং তখন আর ফাজরের ফজরের সুন্নাত আদায় করবে না। আর যদি মাসজিদে প্রবেশ না করে থাকে এবং রাক্‘আত ছুটে যাওয়ার আশংকা না থাকে তাহলে মাসজিদের বাইরে সুন্নাত আদায় করে নিবে। আর যদি প্রথম রাক্‘আত ছুটে যাওয়ার আশংকা থাকে তাহলে ইমামের সাথে সলাতে শরীক হবে।
সুতরাং সাহাবা ও তাবেঈদের মাঝে যেহেতু বিষয়টি মতভেদপূর্ণ ছিল। তাই এই বিষয়ে কোন ইজমা (বিশেষজ্ঞদের ঐক্য: শরিয়তের উৎস) সংঘঠিত হয়নি। কেননা, কোন বিষয়ে সমসাময়িক প্রায় সকল মুজতাহিদ/বিশেষজ্ঞদের ঐক্যমত না হলে উক্ত বিষয়টিকে ইজমা বলা যাবেনা। (ড.মুহাম্মদ আয-যুহাইলি, আল ওয়াজিয ফি উসুলিল ফিকহিল ইসলামী,পৃ.২৩৪/ আস-সারাখসি, উসুলুস সারাখসি, খ. ১, পৃ.৩০১/ আল-গাজালি, আল-মুসতাসফা, পৃ. ২৪৪)
সিদ্ধান্ত: সংক্ষিপ্ত আলোচনার পর ফজরের সুন্নাতের মতবিরোধপূর্ণ বিষয়গুলোর ব্যাপারে আমাদের সামনে দুইটি রাস্তা উন্মোক্ত হয়েছে।
এক. সাহাবা বা তাবেঈদের কোন একপক্ষের প্র্যাক্টিসকে মেনে নেওয়া। যেহেতু দুই পক্ষের সাহাবাগণই রাসূল (সা) এর হাদীস শতভাগ অনুধাবন করার ব্যাপারে উলামা তথা বিশেষজ্ঞদের নিকট স্বীকৃত ও প্রসিদ্ধ।
দুই. সরাসরি রাসূল (সা) এর হাদীসের সমাধানকে মেনে নেওয়া। সরাসরি রাসূল (সা) এর হাদীসের নির্দেশনাকে মেনে নেওয়ার ব্যাপারে দুইটি যৌক্তিকতা রয়েছে।
ক. কোন বিষয়ে যদি মতবিরোধ দেখা দেয় তাহলে পবিত্র কোরানের স্পষ্ট নির্দেশনা হলো-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنكُمْ ۖ فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ۚ ذَٰلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا.
তথা হে ঈমানদারগণ তোমরা আল্লাহ ও তার রাসূলের আনুগত্য কর এবং তোমাদের ওলিল আমরগণের (ইমামগণের)। তবে কোন বিষয়ে যদি মতবিরোধ তৈরি হয় তাহলে তোমরা সোজা আল্লাহ ও তার রাসূলের দিকে ফিরে যাও। (নিসা: ৫৯) আর আমরা যদি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরাসরি রাসূলের হাদীসের দিকে ফিরে যাই তাহলে আর কোন মতবিরোধ ও সন্দেহ থাকেনা। কোরানের বাণী অনুযায়ী নিশ্চিতভাবেই সুন্নাতের সঠিক প্র্যাক্টিস হবে।
খ. সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রাসূল (সা) এর যেসব নির্দেশনা রয়েছে সেগুলো অনেক সরল ও স্পষ্ট। কোন ধরণের ব্যাখ্যা ছাড়াই সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব।
আল্লাহ ই সবচেয়ে বেশি জানেন। হে আল্লাহ আপনি আমাদেরকে সঠিক ও সুন্দর সিদ্ধান্তে পৌঁছার তৌফিক দান করুন। আমীন।

প্রতিটি মানুষের মধ্যে একটি ”ধারক” থাকে যেখানে তার ”জ্ঞান” মজুদ হয় । এই ধারকটিকে একটি ”কুয়া”র সাথে তুলনা করা যেতে পারে। ক...
04/10/2019

প্রতিটি মানুষের মধ্যে একটি ”ধারক” থাকে যেখানে তার ”জ্ঞান” মজুদ হয় । এই ধারকটিকে একটি ”কুয়া”র সাথে তুলনা করা যেতে পারে। কুয়োটি প্রথমে পানিবিহীন অবস্থায় থাকে। ব্যক্তি যদি তার কুয়োতে স্বচ্ছ পানি দ্বারা পরিপূর্ণ রাখে তাহলে সে নিজে সুপেয় পানি পান করে তৃপ্ত হয় এবং তৃষ্ণার্ত পথিক প্রয়োজনের সময় স্বচ্ছ পানি পান করে উপকৃত হয়। আর কুয়োটিকে যদি কুয়োর মালিক নর্দমাযুক্ত পানি দিয়ে ভরে রাখে তাহলে উক্ত কুয়ো থেকে জীবাণুযুক্ত পানি পান করার ফলে তার নিজের পাকস্থলিতেও অসুখ হয় এবং তৃষ্ণার্ত পথিকও পানি পান করে রোগাক্রান্ত হয়।
সেজন্য মানুষ তার জ্ঞান দ্বারা নিজেকে ও অন্যজনকে উপকার করতে চাইলে সর্বদা তার কুয়োসদৃশ ধারকটিকে স্বচ্ছ জ্ঞান দিয়ে পরিপূর্ণ রাখতে হয়। পৃথিবীতে মানবমস্তিষ্ক যত জ্ঞান আছে সবকিছুই নর্দমামিশ্রিত- এগুলো সামান্য হলেও জীবাণুযুক্ত। কোনটাই শতভাগ স্বচ্ছ নয়। শতভাগ জীবাণুমুক্ত জ্ঞান হলো ওহির জ্ঞান তথা সৃষ্টিকর্তার সরাসরি কথা যা আল-কুরআন হিসেবে পরিচিত। শত শত বছর ধরে যে জ্ঞান অপরিবর্তিত ও সন্দেহমুক্ত হিসেবে প্রমাণিত। সাথে আরো আছে কুরানের ব্যাখ্যাগ্রন্থ শুদ্ধ বর্ণনার হাদীসসমূহ। পৃথিবীতে এই ওহির জ্ঞানই কেবল স্বচ্ছ জ্ঞান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছে।
কিন্তু জীবনে চলার পথে কারোরই সাধ্য নেই নিজের ধারকটিকে কেবল শতভাগ স্বচ্ছ জ্ঞান দ্বারা পরিপূর্ণ করে রাখা। সময়ে সময়ে ইহাতে ময়লা-আবর্জনার মিশ্রণ ঘটবেই। তবে ব্যক্তি তার জ্ঞানের ধারককে অপেক্ষাকৃত স্বচ্ছ রাখার জন্য একটি কাজ করতে পারে। তা হলো- ওহির জ্ঞানের স্রোতধারাকে এমনভাবে নিজের ধারকের সাথে সংযুক্ত রাখা, যেন প্রতিনিয়ত ইচ্ছায় অনিচ্ছায় তার ধারকে জমা হওয়া ময়লা, আবর্জনা ও জীবাণু সমূহকে ধুয়ে মুছে পরিস্কার করে দিতে পারে।
#তাই চলুন ওহির জ্ঞানের সাথে নিজেকে সংযুক্ত করি।
- ইমরান মাহমুদ

15/09/2019

কেউ ফ্রি কোরান শিখতে চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন নিচের আইডিতে

11/09/2019

#তেত্রিশ বছর পড়াশোনা করে যে ছাত্র মাত্র ৮টি মাসআলা শিখেছে।কিন্তু কি ছিল সেই মাসআলা?

একদিন শায়খ শাকিক বালখি (র) তার ছাত্র হাতেম আসাম্মকে জিজ্ঞাস করল, তুমি আমার কাছে কত বছর অবস্থান করছ? ছাত্র হাতেম বলল, “ আমি আপনার কাছে তেত্রিশ বছর ধরে অবস্থান করছি। শায়খ বলল, এই তেত্রেশ বছরে আমার কাছ কতটি মাসআলা শিখলে? হাতেম বলল, ৮টি মাসআলা শিখেছি। শায়খ রীতিমত অবাক হয়ে বললেন, ইন্নালিল্লাহ অইন্না ইলাইহি রাজিউন! মাত্র ৮টি মাসআলা শিখেছ! হাতেম বলল, শায়েখ এটাই সত্য। শায়খ শাকিক বালখি কিছুটা হতাশ মনে জিজ্ঞাস করল, আচ্ছা কি কি শিখেছ বল।হাতেম বলল,
#প্রথমত শিখেছি- আমি একটি বিষয় লক্ষ করলাম মানুষের সাথে তার সম্পদ কবরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত থাকে, কিন্তু কবরে যাওয়ার পরই তার সমস্ত সম্পদ তার থেকে পৃথক হয়ে যায়্। কিন্ত এমন একটি সম্পদ রয়েছে যা কবরে যাওয়ার পরও তার থেকে পৃথক হয়না, আর তা হলো- নেক আমল। তাই আমি সকল কিছু বাদ দিয়ে আমার সম্পদ হিসেবে কেবল নেক আমলকেই গ্রহণ করেছি।
#দ্বিতীয় মাসআলাটি আমি আল্লাহ তায়ালার ঐ আয়াতটি থেকে শিখেছি, যেখানে আল্লাহ তায়ালা বলেনে,
وَأَمَّا مَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ وَنَهَى النَّفْسَ عَنِ الْهَوَىٰ (40) فَإِنَّ الْجَنَّةَ هِيَ الْمَأْوَىٰ (41)سورة النازعات
অর্থাৎ যে বিচারদিবসের দিন আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোকে ভয় করে এবং নিজের আত্মাকে খেয়াল-খুশি থেকে বিরত রাখে, সে ব্যক্তির আশ্রয়স্থল হবে জান্নাত। আমি লক্ষ করে দেখলাম সর্বোত্তম স্থান হলো জান্নাত যেখান যা চাওয়া হবে তাই দেওয়া হবে। তাই আমি নিজেকে খেয়াল-খুশি থেকে বিরত রাখলাম।
#তৃতীয় মাসআলাটি হলো- আমি মানুষকে দেখেছি , কারোর কাছে কোন উৎকৃষ্ট-মূল্যবান সম্পদ থাকলে সে ইহাকে সযত্নে সংরক্ষণ করে। তারপর আমি মহান আল্লাহ একটি আয়াতের প্রতি লক্ষ করলাম যেখানে বলা হয়েছে- مَا عِندَكُمْ يَنفَدُ ۖ وَمَا عِندَ اللَّهِ بَاقٍ- 96- سورة نحل
অর্থাৎ তোমাদের কাছে যা কিছু আছে তা একদিন নিঃশেষ হয়ে যাবে কিন্তু আল্লাহ কাছে যা কিছু আছে তা চিরকাল থাকবে।(সূরা-নাহল- ৯৬) অতপর আমার কাছে যত উৎকৃষ্ট ও মূল্যবান সম্পদ ছিল আমি সবকিছু আল্লাহর কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। এবং যখন কোন উত্তম সম্পদ আসে সাথে সাথে আল্লাহ কাছে পাঠিয়ে দেই। যেন আল্লাহর কাছে চিরকাল মজুদ থাকে।
#চতুর্থ মাসআলাটি হলো- আমি লোকদেরকে দেখলাম, তারা ধনসম্পদ, বংশমর্যাদা ও আভিজাত্যের প্রতি আকৃষ্ট। কিন্তু আমি আল্লাহর ঐ বাণীর প্রতি দৃষ্টি দিলাম, যেখানে বলা হয়েছে-
إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ
অর্থাৎ তোমাদের মধ্যে সেই সবচেয়ে বেশি সম্মানিত যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়াবান (সূরা হুজরাত- ১৩) তারপর থেকে আমি সম্মানিত হওয়ার অবলম্বন হিসেবে তাকওয়াকেই গ্রহণ করেছি।
#পঞ্চম মাসআলাটি হলো- আমি মানুষকে দেখেছি মানুষ একে অপরকে মন্দ বলে, পরস্পরের প্রতি কুধারণা করে। আর এর মূল কারণ হলো- পারস্পরিক হিংসা। তারপর আমি আল্লাহ একটি বাণী খুঁজে পেলাম যেখানে বলা হয়েছে-
نَحْنُ قَسَمْنَا بَيْنَهُم مَّعِيشَتَهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا
অর্থাৎ আমি মানুষের মাঝে তাদের পার্থিব জীবনের জীবিকা ভাগ করে দিয়েছি। তারপর আমি হিংসা বিদ্বেষ বাদ দিয়ে মানুষ থেকে আলাদা হয়ে গেছি। যেহেতু আমি জেনেছি রিজিকে বন্টন মানুষের হাতে নয়, তাই মানুষের সাথে শত্রুতা পরিত্যাগ করেছি।
#ষষ্ঠ মাসআলাটি হলো- আমি মানুষকে দেখেছি তারা পরস্পর হানাহানী ও শত্রুতায় লিপ্ত কিন্তু মহান আল্লাহর তায়ালা বলেছেন- إِنَّ الشَّيْطَانَ لَكُمْ عَدُوٌّ فَاتَّخِذُوهُ عَدُوًّا
তথা নিশ্চয় শয়তাল মানুষের শত্রু সুতরাং তোমরা শয়তানকে শত্রু হিসেবে গ্রহণ করো। (সূরা ফাতির- ৬) এই আয়াত দেখার পর আমি মানুষের সাথে সকল প্রকার শত্রুতা ত্যাগ করেছি কেবল শয়তানের সাথে শত্রুতা বজায় রেখেছি।
#সপ্তম মাসআলাটি হলো- আমি মানুষকে দেখেছি প্রত্যেকে এক টুকরো রুটির আকাঙ্খা করে দিনাপাত করছে। ইহার জন্য সে নিজেকে অপমানিত করছে। অবৈধ কাজ কর্মের দিকে পা বাড়ায়। কিন্তু আল্লাহ তায়ালার ঐ বাণীটি আমাকে সবকিছু থেকে বিরত রেখেছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَمَا مِن دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ إِلَّا عَلَى اللَّهِ رِزْقُهَا
তথা এই পৃথিবীতে যত প্রাণী আছে সবার রিজিকে দায়িত্বে মহান আল্লাহর উপর। (সূরা হুদ- ৬) এই আয়াত অনুধাবন করার পর চিন্তা করে দেখলাম আমিও তো আল্লাহর জমিনে একজন প্রাণী ; যার রিজিকের দায়িত্ব স্বয়ং আল্লাহর উপর। তাই আমি আমার এমনসব কাজে ব্যস্ত হয়েছি, যে দায়িত্ব আল্লাহ আমার উপর ন্যস্ত করেছেন। আর সে কাজ থেকে নিজেকে বিরত রেখেছি যে কাজের দায়িত্ব আল্লাহ নিজের উপর নিয়েছেন।
#অষ্টম মাসআলাটি হলো- আমি প্রত্যেক মানুষকে দেখলাম সে বিশেষ কিছুর উপর ভরসা করে। কেউ তার চাকুরির উপর ভরসার করে, কেউ কোন প্রভাবশালী ব্যক্তির উপর ভরসা করে। কেউ আবার ব্যবসার উপর ভরসা করে , কেউ নিজের স্বাস্থ্যের উপর ভরসা করে। এভাবে প্রত্যেকটি সৃষ্টি তারমত অপর আরেকটি সৃষ্টির উপর নির্ভর করে। কিন্তু আমি আল্লাহর একটি বাণীর উপর লক্ষ করলাম। যেখানে বলা হয়েছে, وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ
যে আল্লাহ উপর ভরসা করে আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট। (সূরা-ত্বলাক: ৩) এই আয়াত অনুধাবন করার পর আমি কেবল আল্লাহকেই আমার ভরসাস্থল হিসেবে গ্রহণ করেছি; যিনি আমার মত অন্য আরেকটি সৃষ্টি নয় বরং পুরো সৃষ্টিজগতের স্রষ্টা।
ছাত্র হাতেম আসাম্মের মুখে এই ৮টি মাসআলা শুনে শায়খ শাকিক বালখি (র) বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি তাওরাত, যাবুর , ইঞ্জিল ও কোরআনের মূলবক্তব্যকে গভীরভাবে চিন্তা করে এই ৮টি মাসআলাই পেয়েছি। ( ইয়াহইয়িউ উলুম আদ- দ্বীন)
সুবহানাল্লাহি অবিহামদিহি

Address

New Paltan Road
Dhaka
1205

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Religion School One to One posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The University

Send a message to Religion School One to One:

Share