11/08/2023
▪️ইসলামে দেবর আর ভাবির সম্পর্কঃ
আমাদের সমাজে একটা প্রচলিত প্রবাদ আছে -
"দেবর হলো ভাইয়ের মতো। "ভাবি তাই দেবরের সামনে পর্দা করার কোনো প্রয়োজনীয়তাই মনে করে না!!
দেশে বহুল প্রচলিত আরেকটা প্রবাদ -
"স্বামী আমার যেমন -তেমন /দেবর আমার মনের মতন"(আস্তাগফিরুল্লাহ)। এসব অশ্লীল ও নোংরা কথা আমরা প্রায়ই শুনতে পাই।
শুধু তাই নয়,
দেবর-ভাবীর মধ্যে যত ধরনের ইয়ার্কি-মস্কারা, অশ্লীল ফাজলামি-এগুলো তো খুব সাধারণ ব্যাপার!!
কিন্তু আল্লাহর নবী সাঃবলেছেন,
"দেবরের কথা বলছো?দেবর হচ্ছে একেবারেই মৃত্যু সমতুল্য।'
(সহীহ বুখারীঃ ৫২৩২, মুসলিম ৩৯/৮,হাঃ২১৭২,ইসলামিক ফাউন্ডেশন -৪৮৫২)
দেবর/ভাসুর মৃত্যুর মতো ভয়ংকর, তাই একজন স্বামী তার স্ত্রীকে দেবর থেকে ততটাই দূরে রাখবে যতটা সে তার স্ত্রীকে মৃত্যু থেকে দূরে রাখতে পছন্দ করে।
দেবর -ভাবীর মতো আরেকটি খোলামেলা সম্পর্ক হলো দুলাভাই আর শ্যালিকা।দেখা যায়, যত ইচ্ছা খুনশুটি আর শয়তানি চলতে থাকে দুলাভাই আর শ্যালিকার মধ্যে। সেইসাথে শালীর বড় বড় আবদার পূরণ করতে হয় দুলাভাইকে। শপিং থেকে শুরু করে প্রতিমাসে একবার করে রেস্টুরেন্টে খাওয়ানোর দায়িত্ব দুলাভাইয়ের।অন্যদিকে বউয়ের অবর্তমানে ঘরের কাজগুলো করে দেয়ার দায়িত্ব শালীর।এগুলো দেখে এমন প্রতীয়মান হয় যে, শালী যেনো দুলাভাইয়ের কাছে নিজের বউয়ের মতো। আস্তাগফিরুল্লাহ!!!
অথচ দেবর এবং ভাবী,কিংবা দুলাভাই এবং শালী ইসলামী শারীয়াহতে এরা একে অপরের জন্য গায়ের-মাহরাম।অর্থাৎ আর ৫জন গায়ের মাহরামের মতো এদের জন্যও একে অপরের সামনে পর্দা করা ফরজ।
পর্দা বলতে শুধু আপনি বাইরে গেলেন আর গায়ের ওপর দিয়ে একটা বোরখা পরে নিলেন একটা পর্দা নয়।আপনাকে নিজ ঘরেও পর্দা করে চলতে হবে। বরং অন্য গায়ের-মাহরামের তুলনায় এই সম্পর্কগুলোর ক্ষেত্রে আরো বেশি দূরত্ব এবং সাবধানতা বজায় রাখা উচিত। কেননা এই সম্পর্কগুলো অন্যগুলোর চেয়ে আরো বেশি বিপজ্জনক।
যৌথ পরিবারের অজুহাতে কারণে -অকারণে দেবর-ভাবী কিংবা দুলাভাই -শালীর মেলামেশা করা, অহেতুক মস্কারা-ফাজলামি পুরোপুরি হারাম। সেইসাথে একে অপরের গায়ে গায়ে স্পর্শ করা, পাশাপাশি বসা ,কিংবা হ্যান্ড সেইক করাও পুরোপুরি হারাম। অন্যথায় এগুলো সবই জিনার মধ্যে সামিল হবে। তাই, সবাই সাবধান হই!!
👉কিছু হাদিস তুলে ধরা হলো, 👇
⛔ দেবর মৃত্যু সমতুল্য। (মৃত্যু থেকে মানুষ যেভাবে পলায়ন বা সতর্কতা অবলম্বন করে এক্ষেত্রে তাই করতে হবে) (বুখারী শরীফ ৫২৩২