22/05/2026
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া সত্তেও সব দিক থেকেই বঞ্চিত খুকৃবির শিক্ষার্থীরা।
খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এ নিয়মের বোঝা কি শুধুই শিক্ষার্থীদের জন্য?
উচ্চশিক্ষা অর্জনের স্বপ্ন নিয়ে কঠোর পরিশ্রমের পর মধ্যবিত্ত বা নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানরা ভর্তি হয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে। লক্ষ্য থাকে—কম খরচে মানসম্মত শিক্ষা। কিন্তু খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুকৃবি) চিত্রটা যেন ঠিক উল্টো। একের পর এক কঠোর ও "অহেতুক" নিয়মের বোঝায় পিষ্ট হচ্ছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসবিহীন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেখানে ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ, সেখানে শিক্ষার্থীদের ওপর একের পর এক আর্থিক ও একাডেমিক খড়্গ নেমে আসছে
একের পর এক অহেতুক নিয়ম। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনো শিক্ষার্থীর ক্লাসে উপস্থিতি ৬০% না হলে তাকে পরীক্ষায় বসতেই দেওয়া হয় না। আর উপস্থিতি ৭৫% এর নিচে হলে প্রতি কোর্সের জন্য গুনতে হয় ৫০০ টাকা করে জরিমানা।
এখানেই শেষ নয়, গড়ে ৭৫% উপস্থিতি না থাকলে স্টাইপেন্ড বা বৃত্তির ১,৮০০ টাকা থেকেও বঞ্চিত করা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
রি-এড হওয়া শিক্ষার্থীদের তো আরো চরম ভোগান্তি ।একজন ছাত্র যখন ভর্তি হয় তখন তাকে কেন্দীয়ভাবে ১০০০০ সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০৫৮০ টাকা দিয়ে ভর্তি হতে হয় যার মধ্যে ৫০০০ টাকা ফেরতযোগ্য। এই একই ছাত্র যখন রি-এডমিশন নিতে যায় তখন তাকে আবারও ঐ একই ১০৫৮০ টাকা দিয়ে ভর্তি হতে হয় । এখানেই শেষ নয় সেই ছাত্র যখন ৩১০০০+ টাকা দিয়ে ভর্তি হলো তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী সেমিস্টারের সকল কোর্স এ উত্তীর্ণ হওয়ার পরও সে তার স্টাইপেন্ড এর ১৮০০ টাকা পাবে না। এসব নিয়ম আগে কখনো শোনা যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ২-১ এর ছাত্র যারা ফেব্রুয়ারী মাসের ১-৫ তারিখের মধ্যে ১-২ এর পরীক্ষা শেষ করেছে আজ ৪ মাস পরও তারা তাদের সেমিস্টার এর রেজাল্ট পাইনি, যেখানে ২ সপ্তাহের মধ্যে ফলাফল দেওয়ার কথা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি সেমিস্টারের সেমিস্টার ফি ৪৫০০-৬০০০ টাকা। একজন শিক্ষার্থী যার পিছনে সরকার প্রতিবছর ৩ লাখ টাকারও অধিক খরচ করে,( রিপোর্ট অনুযায়ী যা বাংলাদেশ ৩য় সর্বোচ্চ), সেখানে মধ্যেবিত্ত অথবা নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের একজন সন্তান, কম খরছে উচ্চশিক্ষা লাভ করবে জন্য যে কঠোর পরিশ্রম করে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে, যার বাব/ মা এর প্রতি মাসে নিজের ছেলে-মেয়ের জন্য টাকা পাঠাতে নূন আনতে পান্তা ফুরোয়, অথবা একজন দিনমজুর বাবার ছেলে,সে কিভাবে এই টাকা জোগাড় করবে, কোন মুখে বলবে যে তার এতো এতো টাকা সেমিস্টার ফি?? আরও নতুন প্রতিষ্ঠিত কুড়িকৃবি এর সেমিস্টার ফি ও এর থেকে অনেকগুনে কম।
শিক্ষার্থীদের ওপর নিয়মের পাহাড় চাপালেও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে নিয়ম যেন কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস টাইম সকাল ৯টা হলেও, মাঠপর্যায়ে দেখা যায় অধিকাংশ স্টাফ ১০টার পরও কর্মস্থলে হাজির হন না।এতে করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জরুরি একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজ স্থবির হয়ে পড়ে, চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় সাধারণ শিক্ষার্থীদের। এর ওপর যোগ হয়েছে কর্মচারীদের অধিকাংশের অপেশাদারিত্ব ও কাজের অদক্ষতা, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশকে প্রতিনিয়ত ব্যাহত করছে।
খুলনার মতো এমন গরম এক অঞ্চলে যেখানে ঘরের মধ্যে ফ্যান এর নিচে থাকা মুশকিল সেখানে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে হয় টিন শেড এর রুমে লক্কর ঝক্কর ফ্যান এর নিচে যা থাকা না থাকা একই কথা, সেখানে কর্মকর্তারা থাকেন ক্যাম্পাস থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে গোয়ালখালিতে আলিসান ভবনে এসি এর নিচে । শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন " শিক্ষার্থীদের জন্য প্রসাশন, নাকি প্রসাশন এর জন্যই শিক্ষার্থী? "
ক্যাম্পাসবিহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, নূন্যতম ফেসিলিটিস নিয়ে যেখানে প্রসাশনের হওয়ার কথা ছিল শিক্ষার্থীবান্ধব, প্রশাসন সেখানে একের পর এক কঠোর নিয়ম শিক্ষার্থীদের ঘাড়ের ওপর চাপিয়ে দিয়ে অতিরিক্ত ও অপারদর্শী এসব স্টাফদের আরাম আয়েশের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে।