18/05/2026
একজন মহিলা। বয়স পঁয়তাল্লিশের কাছাকাছি। কয়েক মাস আগে গোসল করতে গিয়ে হঠাৎ বাম স্তনে একটি চাকা অনুভব করেছিলেন। কোনো ব্যথা নেই, শক্ত, কিন্তু জায়গা থেকে নড়াচড়া করে না, মনে হয় যেন পাথরের মতো আটকে আছে।
মনে মনে ভাবলেন, "ব্যথা নেই যখন, হয়তো তেমন কিছু না। চর্বি জমেছে বোধহয়।"
লজ্জা, ভয় আর "দেখা যাক" মানসিকতায় কয়েক মাস পার করে দিলেন। চাকাটা একটু একটু করে বড় হলো। হঠাৎ ই একদিন বগলে আরেকটি চাকা দেখা দিল।
তখন না পারতে ডাক্তারের কাছে গেলেন। রিপোর্ট এলো: Invasive Ductal Carcinoma — Stage III। ক্যান্সার ততক্ষণে স্তন ছাড়িয়ে বগলের লিম্ফ নোড (লসিকা গ্রন্থি) পর্যন্ত ছড়িয়ে গেছে।
কিন্তু এই ক্যান্সারব ব্যথা ছিলো না কেন?
আসলে এটাই ব্রেস্ট ক্যান্সারের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক। স্তনের ভেতরে যে নালীগুলো থাকে (Ductal system) সেগুলোতে ব্যথার স্নায়ু বা নার্ভ তুলনামূলক কম থাকে। টিউমার যখন ছোট থাকে, তা আশেপাশের স্নায়ু তে চাপ দেওয়ার মতো বড় হয় না। ফলে কোনো ব্যথা ছাড়াই ক্যান্সার কোষগুলো ভেতরে বাড়তে থাকে।
মনে রাখবেন: ব্রেস্ট ক্যান্সারের প্রাথমিক পর্যায়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনো ব্যথা থাকে না। তাই "ব্যথা নেই মানে বিপদ নেই" — এই ধারণাটাই সবচেয়ে বড় ভুল।
🚨 কোন লক্ষণগুলো দেখলে দেরি না করে ডাক্তার দেখাবেন?
• স্তনে বা বগলে চাকা: যেকোনো নতুন চাকা, ব্যথা থাকুক বা না থাকুক - অবহেলা করবেন না।
• আকার বা আকৃতির পরিবর্তন: এক দিকের স্তন হঠাৎ বড় বা ছোট হওয়া অথবা অস্বাভাবিকভাবে ঝুলে পড়া।
• চামড়ার পরিবর্তন: ত্বক কমলালেবুর খোসার মতো খসখসে বা ছিদ্রযুক্ত হয়ে যাওয়া (Peau d'orange), লালচে হওয়া বা চামড়া কুঁচকে যাওয়া।
• বোঁটার পরিবর্তন: স্তনের বোঁটা হঠাৎ ভেতরে ঢুকে যাওয়া (Ni**le retraction), অথবা বোঁটা থেকে রক্ত বা অস্বাভাবিক তরল বের হওয়া।
• বগলে ফোলা ভাব: স্তনে কিছু বোঝা না গেলেও বগলে ছোট চাকা বা ফোলা ভাব দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করান।
কারা বেশি ঝুঁকিতে আছেন?
১. পরিবারে (মা, বোন বা খালা) ব্রেস্ট ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে।
২. ৪০ বছরের বেশি বয়স হলে।
৩. যাদের মাসিক খুব অল্প বয়সে শুরু হয়েছে অথবা অনেক দেরিতে বন্ধ হয়েছে।
৪. প্রথম সন্তান দেরিতে হওয়া অথবা সন্তানকে নিয়মিত স্তন্যদান না করানো।
তবে মনে রাখবেন, কোনো ঝুঁকি না থাকলেও ব্রেস্ট ক্যান্সার হতে পারে। তাই প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ ও দ্রুত শনাক্তকরণ জরুরি।
তাহলে করণীয় কী?
• Self-Examination: প্রতি মাসে একবার আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের স্তন নিজে পরীক্ষা করুন। কোনো পরিবর্তন চোখে পড়ছে কিনা খেয়াল করুন।
• ম্যামোগ্রাফি: ৪০ বছরের বেশি বয়সী নারীদের চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়মিত ম্যামোগ্রাফি করানো উচিত।
তবে স্তনে চাকা মানেই ক্যান্সার নয়। এটি সাধারণ সিস্ট বা ফাইব্রোঅ্যাডেনোমাও হতে পারে। কিন্তু সেটি ক্যান্সার কি না, তা নিশ্চিত করার একমাত্র উপায় হলো একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।
প্রাথমিক পর্যায়ে (Stage I) ধরা পড়লে ব্রেস্ট ক্যান্সারে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশের বেশি। কিন্তু দেরি হলে এই সম্ভাবনা দ্রুত কমতে থাকে।
লজ্জা বা ভয়কে জয় করে সচেতন হোন। সুস্থ থাকুন। 💙
কপি পোস্ট
#সামাহার