05/05/2025
আউশকান্দি হাইস্কুল প্রতিষ্ঠায় যেভাবে জমি আর টাকার ব্যবস্থা হয়েছিল
________________________________
১৯৪১ সালের জানুয়ারি মাসে আউশকান্দি হাইস্কুল প্রতিষ্ঠার বীজ বপন হয়েছিল। অত্র এলাকায় আরা কোন বিদ্যালয় না থাকায় ছাত্র-ছাত্রীরা অনেক দূর মৌলভীবাজার, সিলেট, হবিগঞ্জ গিয়ে লেখা পড়া করতে হত।
এ চিন্তা নিয়ে আউশকান্দি এলাকার দুই কীর্তি পুরুষ মাওলানা রেদওয়ান উদ্দিন চৌধুরী ও দেওতৈল গ্রামের বাবু নগেন্দ্র চন্দ্র দেব চৌধুরী আউশকান্দি হাইস্কুল প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। তারা তখন দেবপাড়া হাইস্কুলে শিক্ষকতা করতেন। পরে উভয়ই গোপলার বাজার এম.ই মাদ্রাসায় চলে আসেন এবং আউশকান্দি এলাকায় লেখা পড়ার মান নিয়ে চিন্তা শুরু করেন। এ ধারাবাহিকতায় বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষে মিঠাপুর গ্রামের বাবু মহেন্দ্র চক্রবর্তীর বাড়ির উত্তর-পশ্চিম কোণে একটি বটবৃক্ষের নিচে প্রথম বৈঠকে বসেন এবং স্কুল প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে জনগণ ঐক্যমত পোষণ করেন। বৈঠকে দেওতৈল, মিঠাপুর, দৌলতপুর, আউশকান্দি, উলুকান্দি, বেতাপুর, আমুকোনা, দক্ষিণ দৌলতপুর, ফরিদপুর, মিনাজপুর, উমরপুর, আজলপুর, মংলাপুর, চৈতন্যপুর, জালালপুর, কারখানা, বোয়ালজুর, দাউদপুর, কেশবচর, দরবেশপুর, রায়পুর ও কুর্শি গ্রামের সাধারণ মানুষ সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।
ভূমি দান: পরামর্শ সভায় স্কুল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সাহায্যের জন্য আহ্বান করা হলে মিঠাপুর গ্রামের বাবু রঘুনাথ এক পোয়া ভূমি দানের অঙ্গীকার করেন। পরে একই গ্রামের জনৈক ব্যক্তি জনাব ছৈদ উল্লাহ ও এক পোয়া ভূমি দান করার অঙ্গীকার করেন। এরপর দেওতৈল গ্রামের বাবু যামিনী নাথ ধর চৌধুরী উল্লেখিত অঙ্গীকারকৃত ভূমির অতিরিক্ত যতটুকু প্রয়োজন তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে দান করার অঙ্গীকার করেন।
গৃহ নির্মাণ: নবীগঞ্জ-শেরপুর রাস্তার (বর্তমান ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক) এর উত্তরে দেওতৈল মৌজার সীমান্তে আড়াই কেদার ভূমির উপর বাঁশ-কাঠ দিয়ে স্কুল গৃহের ভিত্তিপ্রস্থ স্থাপন করা করে বাবু নগেন্দ্র চন্দ্র দেব প্রধান শিক্ষকের পদ অলংকৃত করেন।
টাকা সংগ্রহ: স্কুলের গৃহ নির্মাণের লক্ষে ফান্ড প্রতিষ্ঠার করা হলে উক্ত ফান্ডে দৌলতপুর গ্রামের মরহুম আব্দুর রশিদ সাহেবের স্ত্রী জনাব সুরজান বানু বিভিন্ন কিস্তিতে মোট পাঁচ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেন। তার পর মরহুম আব্দুর রশিদ সাহেবে স্ত্রী জনাব সুরজান বানুর আর্থিক দানের পাশাপাশি জনসাধারণের বিভিন্ন ধরণের দানের স্বীকৃতিস্বরূপ স্কুলটির নাম আউশকান্দি রশিদিয়া পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় রাখা হয়। পরবর্তীতের উল্লেখিত স্কুলের নির্মিত প্রারম্ভিক ভবনটি ভেঙ্গে পড়লে দেওতৈল মৌজার স্বর্গীয় যামিনী নাথ ধর চৌধুরীর এক খন্ড ভূমির (স্কুলটি বর্তমান অবস্থানে) উপর দু'চালা দুটো টিনের ঘর তৈরি করে স্কুলটি স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয়।
সরকারের পরিকল্পনাধীন উন্নয়ন স্কীমে আউশকান্দি রশিদিয়া পাবলিক হাই স্কুলটিকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রয়োজনয়ি শর্ত মোতাবেক বিস্তৃত পরিসরে প্রয়োজন দেখা দেয়।
১৯৫৯ সাল থেকে মিঠাপুর গ্রামের গোচরণ ভূমি স্কুলের অন্তর্ভূক্ত করে বিস্তৃত পরিসরের শর্ত পূরণের চিন্তাভাবনা শুরু হয়। মিঠাপুর গ্রামের মরহুম আলহাজ্ব সোনাওর চৌধুরীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ও মিঠাপুরের জনগণ ১৯৬১ সালে রেজিস্ট্রারী কাবালা করে প্রয়োজনীয় ভূমি স্কুলটিকে দান করেন। বর্তমানে স্কুলটির যে বিরাট পরিসর দেখা যায় তার প্রায় সবটুকু ভূমিই মিঠাপুর গ্রামের বাবু মহেন্দ্র চক্রবর্তী, বাবু দেবেন্দ্র চক্রবর্তী, হাজী মখলিছুর রহমান, আলহাজ্ব সোনাওর চৌধুরী, হাজী মোহাম্মদ বরকত, মো. রহমান আলী, মো. সাজিদ উল্লাহ, হাজী মো. আফরোজ, মো. ইস্কান্দার মিয়া এবং উলুকান্দি গ্রামের বাবু যামিনী পুরকায়স্থ-এর রেজিস্ট্রারীকৃত দলিলমূলে প্রদত্ত। এছাড়া প্রধান শিক্ষকের বাসভবন যে ভূমির উপর প্রতিষ্ঠিত তা মিঠাপুর গ্রামের মরহুম হাজী ছমরু মিয়া দান করেন।
তথ্য সূত্র: ❝হীরক দ্যুতি❞
゚