30/01/2026
সিন্ডিকেট রুখতে নানুপুর মাদ্রাসার অনন্য দৃষ্টান্ত: জনসেবায় আলেম সমাজের জাগরণ:
জনদুর্ভোগ যখন চরমে, অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটে যখন সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস, ঠিক তখনই আশার আলো হয়ে জ্বলে উঠল চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামিয়া ইসলামিয়া ওবাইদিয়া নানুপুর মাদ্রাসা। গতকাল সারা চট্টগ্রাম যখন তীব্র গ্যাস সংকটে স্থবির, পরিবহন চালকরা যখন হন্যে হয়ে ঘুরছেন একটু জ্বালানির আশায়, তখন নানুপুর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এগিয়ে এল ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ হয়ে।
সিন্ডিকেটের মুখে চপেটাঘাত ও ১৭ টন গ্যাসের ব্যবস্থা
গ্যাস ও জ্বালানি সংকটকে পুঁজি করে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মানুষকে জিম্মি করে রেখেছিল। কিন্তু নানুপুর মাদ্রাসা প্রমাণ করে দিল, সদিচ্ছা থাকলে এই সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব। তারা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রায় ১৭ টন এলপিজি গ্যাস আমদানি করে এবং কোনো লভ্যাংশ ছাড়া সম্পূর্ণ ন্যায্যমূল্যে হাজার হাজার সিএনজি ও গাড়ি চালকের হাতে তুলে দেয়।
যেখানে সিন্ডিকেটের কারণে চালকদের দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে গ্যাস কিনতে বাধ্য করা হচ্ছিল, সেখানে মাদ্রাসার এই উদ্যোগে হাজারো চালক স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। এটি কেবল গ্যাস সরবরাহ নয়, এটি ছিল শোষক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এক নীরব বিপ্লব।
কওমি মাদ্রাসা ও আলেম সমাজের প্রতি বার্তা
নানুপুর মাদ্রাসার এই উদ্যোগ চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে, আলেম সমাজ ও কওমি মাদ্রাসাগুলো কেবল মসজিদ-মাদ্রাসার চার দেয়ালের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিপদে-আপদে তারা জাতির অতন্দ্র প্রহরী।
দেশের প্রতিটি কওমি মাদ্রাসা এবং আলেম সমাজের প্রতি আমাদের উদাত্ত আহ্বান—আপনারাও এই মহৎ কাজে উদ্বুদ্ধ হোন। আপনাদের সততা, জনবল এবং সাংগঠনিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সমাজের অসাধু সিন্ডিকেটগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। চাল, ডাল, তেল বা গ্যাসের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য যখন সিন্ডিকেটের কবলে চলে যায়, তখন আপনারা যদি ‘ফেয়ার প্রাইস শপ’ বা ন্যায্যমূল্যের বিপণন ব্যবস্থা চালু করতে পারেন, তবে অসাধু ব্যবসায়ীরা পিছু হটতে বাধ্য হবে।
সমাজ পরিবর্তনে আলেমদের ভূমিকা
ইসলাম মানবতার ধর্ম। রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনার বাজারে অসাধুতা ও মজুদদারির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। আজ সেই নববী আদর্শের মশাল বাহক হিসেবে আলেমদেরই এগিয়ে আসতে হবে। নানুপুর মাদ্রাসার মতো যদি প্রতিটি জেলার বড় মাদ্রাসাগুলো জনকল্যাণমুখী এমন প্রজেক্ট হাতে নেয়, তবে:
১. সাধারণ মানুষের সাথে আলেমদের হৃদ্যতা ও ভালোবাসা আরও গভীর হবে।
২. কালোবাজারি ও মজুদদাররা তাদের অবৈধ ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হবে।
৩. সমাজ থেকে শোষণ দূর হবে এবং ইনসাফ কায়েম হবে।
পরিশেষ
জামিয়া ইসলামিয়া ওবাইদিয়া নানুপুর মাদ্রাসার এই উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। তাদের এই ১৭ টন গ্যাস বিতরণ কেবল জ্বালানি সহায়তা নয়, এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের একটি শক্তিশালী ভাষা।
আসুন, দেশের ক্রান্তিলগ্নে আলেম সমাজ ঐক্যবদ্ধ হয়ে এমন সিন্ডিকেটমুক্ত সমাজ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করি। জনসেবাও যে ইবাদত, নানুপুর মাদ্রাসা তা পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিল। আল্লাহ তাদের এই খেদমত কবুল করুন এবং অন্যদেরও এমন কাজে এগিয়ে আসার তৌফিক দান করুন।
~ আবু আবদুল্লাহ আল আদি ✍️