22/09/2025
আমি কীভাবে আমার আরবী ভাষা ও শৈলীকে উন্নত করতে পারি?
এটা এমন এক প্রশ্ন যা অনেকেই করে থাকেন। আর আমার পক্ষ থেকে এক্ষেত্রে যে উত্তর দেওয়া সম্ভব, তা হলো- পড়া, তারপর পড়া, তারপর পড়া।
কিন্তু সাবধান! এমন কোনো পড়াশোনা নয়, যা সাহিত্যিক রুচিকে নষ্ট করে ফেলে এবং ভাষাগত ক্ষমতাকে বিকৃত করে দেয়। যেমন-
নিম্নমানের অনুবাদ (আর আমাদের মাঝে তা কতই না বেশি প্রচলিত)।
দুর্বল সাংবাদিকতামূলক শৈলীতে লেখা প্রবন্ধ। আর এটা সংবাদপত্র, সাময়িকী ও অনলাইন সাইটে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
আর বিশেষভাবে এড়িয়ে চলতে হবে হালকা ও অসার লেখালেখি, যা ভেসে বেড়ায় ভার্চুয়াল জগতে। যেমন ফেসবুক ও অনুরূপ প্ল্যাটফর্মে। কারণ যে ব্যক্তি নিয়মিত এ ধরনের লেখা পড়ে, সে তার স্বাভাবিক ভাষাগত ক্ষমতাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায় এবং একে এমন এক ক্ষতির শিকার করে, যার আর কোনো প্রতিকার নেই।
এখন তাহলে প্রশ্ন হলো- যে ব্যক্তি তার ভাষা শুদ্ধ করতে ও শৈলীকে পরিশীলিত করতে চায়, সে কী পড়বে?
সেক্ষেত্রে পরামর্শ হলো- তাকে পড়তে হবে প্রাচীন সাহিত্যিকদের গ্রন্থ এবং বিশাল সাহিত্যসংকলন। যেমন-
ইমাম জাহেয এর লেখা البيان والتبيين (আল-বায়ান ওয়া আত-তাবইন)।
ইবনু আব্দি রব্বিহী লিখিত العقد الفريد (আল-ঈকদুল ফরীদ)।
আহমাদ আলী লিখিত صبح الأعشى (সুবহুল আ'শা)।
আবু হায়্যান লিখিত البصائر والذخائر (আল-বাসায়ির ওয়ায-যাখায়ির)। ইত্যাদি প্রাচীন আরবী সাহিত্যের উৎস।
এছাড়াও তিনি পড়বেন পরবর্তীকালের সেই সাহিত্যিকদের রচনাসমূহ, যাঁদের ভাষা উচ্চমানের এবং শৈলী মার্জিত। যেমন মনফালুতি, রাফেঈ, মাযিনি, যায়্যাত, আহমদ আমীন, মাহমুদ শাকের এবং আলি তানতাউই, নদভী সহ প্রমুখ।
অনুরূপভাবে কুরআন পড়ার প্রতি বিশেষ দিকনির্দেশনা থাকবে। আমি আরও জোর দিয়ে বলব যে কুরআন মাজীদ প্রচুর পড়া, তাদাব্বুর করা এবং মুখস্থ করার জন্য। কারণ কুরআন পড়ার মধ্যে শুধু সওয়াবই নেই, বরং এটা আরবী ভাষার সর্বোচ্চ ও সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ। এমনকি বহু ভাষাবিদ ও সাহিত্যিক, যারা মুসলিম নন, তারাও কুরআন মুখস্থ করেছেন (সম্পূর্ণ বা আংশিক), কেবল ভাষাগত মহিমার কারণে। যেমন আব-অনাস্তাস আল-কারমলি, প্রসিদ্ধ উস্তায বুতরুস আল-বুস্তানি, শেখ নাসিফ আল-ইয়াযিজি, আমিন আর-রায়হানী এবং আরও অনেকে।
পাশাপাশি হাদীস পড়ার দিকেও সুপারিশ করছি। আমি হাদীস পড়ার কথাও বলব। কেননা আল্লাহর রাসূল ﷺ ছিলেন আরবী ভাষায় সর্বাধিক ফাসীহ তথা বিশুদ্ধ ও প্রাঞ্জল বক্তা। তাঁর সহীহ হাদীস পাঠ করলে ভাষাগত ক্ষমতা দৃঢ় হয় এবং শৈলী মসৃণ হয়।
আমি নিজেই মূল হাদীসের গ্রন্থগুলো পড়েছি। সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম, সুনান আন-নাসায়ী, তিরমিযী, আবু দাউদ, ইবনু মাজাহ এবং মুয়াত্তা। এ থেকে আমি প্রচুর উপকৃত হয়েছি (যদিও ভাষাবিদরা হাদীসকে ভাষাগত দৃষ্টান্ত হিসেবে গ্রহণ করেন না, কারণ মুহাদ্দিসগণ অর্থ দিয়ে বর্ণনা করাকেও বৈধ করেছেন)।
এক্ষেত্রে পাঠের ধরন কেমন হবে?
যে ব্যক্তি তার ভাষা ও শৈলী উন্নত করতে চায়, তার উচিত হলো-
সাহিত্যগ্রন্থগুলো সম্পূর্ণ পড়া। কেবল শুধু কিছু টুকরো অংশ বা কয়েক পৃষ্ঠা নয়। এগুলোর মধ্যে থাকা কবিতা বাদ না দিয়ে পড়া, যদিও অনেকেই তা এড়িয়ে যান। নিত্যকালে বারবার পড়া বা উল্টেপাল্টে দেখা। এভাবে পড়তে থাকলে ইনশাআল্লাহ এর প্রভাব ধীরে ধীরে তার ভাষা ও শৈলীতে গভীরভাবে দৃশ্যমান হবে।
আরবী থেকে অনূদিত।