08/04/2026
হাম প্রাদুর্ভাব বা Measles outbreak সম্পর্কে কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য:
কিভাবে হয় (causative agent)?
-হাম Measles virus দিয়ে সংঘটিত এবং অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ।
কিভাবে ছড়ায়?
-আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়। এই রোগটি খুবই সংক্রামক (Highly contagious)।
*এ রোগ যা অতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে, তাই আক্রান্ত অবস্থায় শিশুকে স্কুলে বা জনসমাগমে পাঠানো যাবে না।
বর্তমান বাংলাদেশে হামের পরিস্থিতি কি?
-বাংলাদেশে ২০২৩ সালে প্রাদুর্ভাব এর পর ২০২৬ সালে আবার ব্যাপকভাবে প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যা বিভিন্ন মাধ্যম থেকে জানা যায় ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর সন্দেহজনক হামে মৃত্যু হয়েছে ১২৮ জনের ।
হামের (Measles outbreak) প্রাদুর্ভাব বিশেষ করে রাজশাহী, ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, পাবনা, যশোর ও নাটোর জেলায় এই রোগের সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তত্ত্বাবধানে পরিচালিত পরীক্ষায় আক্রান্ত শিশুদের শরীরে এই ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
হামের লক্ষণসমূহ কি কি ?
শিশুর মধ্যে হামের সংক্রমণ ঘটেছে কি না, তা বোঝার জন্য নিচের লক্ষণগুলো খেয়াল করুন:
১. প্রাথমিক লক্ষণ: প্রচণ্ড জ্বর (High fever), অনবরত কাশি (Persistent cough) এবং নাক দিয়ে পানি পড়া (Runny nose)।
২. চোখের সমস্যা: চোখ লাল হয়ে যাওয়া (Red eyes) এবং আলোর দিকে তাকালে অস্বস্তি বোধ করা।
৩. র্যাশ বা ফুসকুড়ি: কয়েক দিন পর মুখমণ্ডল থেকে শুরু করে সারা শরীরে লালচে ছোট ছোট ফুসকুড়ি (Reddish skin rash) ছড়িয়ে পড়া।
হাম প্রাদুর্ভাব কালীন কি কি করণীয়?
১) টিকা নিশ্চিতকরণ (Vaccination):
-শিশুকে এমআর (MR) বা এমএমআর (MMR - Measles, Mumps, Rubella) টিকা দেওয়া নিশ্চিত করুন। এটিই হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার। হাম প্রতিরোধে ২ ডোজ টিকা (৯ মাস এবং ১৫ মাসে) সবচেয়ে কার্যকর।
*যদি কোনো শিশু ইপিআই এ টিকা দেওয়া থেকে বাদ পড়ে থাকে, তবে দ্রুত নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে বা বেসরকারি সংস্থা যেখানে এমএমআর টিকা পাওয়া যায় সেখানে নিয়ে টিকা দেওয়া।
২) রোগী আইসোলেশন (isolation):
হামে আক্রান্ত শিশুকে অন্যান্য শিশু ও পরিবারের সদস্যদের থেকে অন্তত ৪-৫ দিন আলাদা রাখতে হবে ।
৩) ভিটামিন 'এ' সেবন:
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শিশুকে ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে, যা জটিলতা কমায়।
৪) পুষ্টি ও তরল খাবার:
হামে আক্রান্ত শিশুকে পর্যাপ্ত পানি, ডাবের পানি, এবং পুষ্টিকর তরল খাবার খাওয়াতে হবে।
৫) পরিচ্ছন্নতা:
আক্রান্ত রোগীর ব্যবহৃত কাপড়, বিছানা নিয়মিত গরম পানি ও সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
** ৬) দ্রুত চিকিৎসা (Early Treatment):
জ্বরের সঙ্গে শরীরে র্যাশ দেখা দিলে দেরি না করে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতাল বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের (Pediatrician) পরামর্শ নিন।
হাম কেন বিপজ্জনক?
- হামকে কেবল সাধারণ সর্দি-জ্বর ভেবে ভুল করা জীবনঘাতী হতে পারে। অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের জন্য এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। হামের ফলে শিশুদের শরীরে নিম্নলিখিত জটিলতা দেখা দিতে পারে:
-তীব্র নিউমোনিয়া (Severe Pneumonia): ফুসফুসের সংক্রমণ যা শ্বাসকষ্ট তৈরি করে।
-মস্তিষ্কের প্রদাহ (Encephalitis): যা শিশুর স্নায়বিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
-ডায়রিয়া ও পুষ্টিহীনতা (Diarrhea and Malnutrition): শরীর দ্রুত পানিশূন্য ও দুর্বল হয়ে পড়ে।
কেন এই রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যাচ্ছে?
- ইপিআই টিকা দান কর্মসূচির অংশ হিসেবে এম আর ভ্যাকসিন বাদ পরে যাওয়া।
ইপিআই ছাড়া টিকা দেওয়া যায় কি?
-বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে হামের টিকা পাওয়া যায়। সাধারণত এমএমআর (মিজেলস, মাম্পস, রুবেলা) টিকা দেওয়া হয়, যা হামের পাশাপাশি মাম্পস ও রুবেলা থেকেও সুরক্ষা দেয়।
বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ:
-সরকার জরুরি ভিত্তিতে ৬০৪ কোটি টাকার টিকা ও এ সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যকলাপের উদ্যোগ নিয়েছে।
অতি সংক্রমণ ব্যাধি হিসাবে আলাদা আইসিইউ এর ব্যবস্থাও নেয়া হয়।
নিজে সতর্ক হোন, অন্যকে সচেতন করুন!