15/12/2024
অচেনা চিঠি
নন্দিতা প্রতিদিন সকালে গ্রামের ছোট্ট ডাকঘরে যায়। তার কাজ সেখান থেকে চিঠি আনা। আজও, যেমন সবসময় করে, সে চিঠি নিতে গিয়ে একটি অদ্ভুত জিনিস খেয়াল করল। চিঠির ভেতর একটি ছোট্ট খাম, যার ওপরে লেখা: "অচেনা থেকে প্রিয় হওয়া যায়?"
নন্দিতা চমকে উঠল। চিঠির প্রেরকের কোনো নাম নেই। তবুও কৌতূহল তাকে শান্ত থাকতে দিল না। চিঠিটা খুলে পড়তে শুরু করল।
চিঠিতে লেখা ছিল,
"তোমাকে কখনো সামনে থেকে দেখিনি, কিন্তু প্রতিদিন তোমার হাসি দেখে মনে হয়, এই পৃথিবীতে আলো এখনো আছে। তুমি জানো না, কিন্তু তোমার হাসিটাই আমার দিন শুরু করে। যদি কখনো জানতে চাও কে আমি, শুধু একটা উত্তর দিও—হ্যাঁ।"
নন্দিতা অবাক হয়ে চিঠিটা পড়ল। কেউ তার দিকে এভাবে তাকায়, এটা তার ধারণার বাইরের কিছু ছিল। সে ভাবল, কে হতে পারে এই মানুষ? কিন্তু পরের দিন আরেকটা চিঠি এসে হাজির।
চিঠির গল্প
এভাবে প্রতিদিনই একটি করে চিঠি আসতে থাকে। চিঠিগুলোতে কখনো গ্রামের ছোট জিনিসের কথা লেখা থাকে, কখনো নন্দিতার প্রিয় ফুলের কথা। ধীরে ধীরে নন্দিতার মনও চিঠির প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ে।
একদিন সে সাহস করে চিঠির ভেতরে একটা ছোট্ট জবাব পাঠাল:
"তুমি কি সত্যিই আমাকে চেন?"
পরের দিন চিঠির উত্তর এলো:
"চিনি না, তবে তোমাকে দেখলে মনে হয়, পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর গল্পটা এখনো লেখা হয়নি।"
প্রথম দেখা
একদিন নন্দিতা সিদ্ধান্ত নিল, এই চিঠির মানুষটিকে সে সামনে থেকে দেখবে। তার ইঙ্গিত অনুযায়ী গ্রামের পুরনো বটগাছের নিচে সে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে লাগল। বেশ কিছুক্ষণ পর, একটা ছেলেকে আসতে দেখল। সে দেখতে সাধারণ, কিন্তু তার চোখে ছিল একটা মায়া।
ছেলেটি এগিয়ে এসে বলল,
"তুমি এসেছ, মানে তুমি বুঝেছ। আমি জানতাম, তোমার হৃদয় এতটা বিশাল হবে। আমি তোমার কাছে কিছু চাই না, শুধু চেয়েছি তোমাকে জানাতে যে তুমি কতটা সুন্দর একজন মানুষ।"
নন্দিতা কিছু বলল না। শুধু হাসল। আর সেই হাসি থেকেই শুরু হলো তাদের গল্প।