12/04/2015
বাংলা নববর্ষের ইতিহাসঃ .........জেনে রাখা
ভালো
বাংলাদেশে বাংলা একাডেমী কর্তৃক নির্ধারিত
আধুনিক পঞ্জিকা অনুসারে প্রতিবছর ১৪ এপ্রিল তথা
১ বৈশাখ বাংলা নববর্ষ ঘটা করে পালন করা হয়।
বাংলা সাল প্রবর্তন নিয়ে বিভিন্ন মতবাদ রয়েছে
তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেঃ
১। প্রাচীন বঙ্গদেশের (গৌড়) রাজা শশাঙ্ক
(রাজত্বকাল আনুমানিক ৫৯০-৬২৫ খ্রিস্টাব্দ)
বঙ্গাব্দ চালু করেছিলেন। সপ্তম শতাব্দীর
প্রারম্ভে শশাঙ্ক বঙ্গদেশের রাজচক্রবর্তী রাজা
ছিলেন। আধুনিক বঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যার
অধিকাংশ এলাকা তাঁর সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত
ছিল৷ অনুমান করা হয় যে, জুলীয় বর্ষপঞ্জীর
বৃহস্পতিবার ১৮ মার্চ ৫৯৪ এবং গ্রেগরীয়
বর্ষপঞ্জীর শনিবার ২০ মার্চ ৫৯৪ বঙ্গাব্দের
সূচনা হয়েছিল।
২। ভারতে ইসলামী শাসনামলে হিজরী পঞ্জিকা
অনুসারেই সকল কাজকর্ম পরিচালিত হত। মূল হিজরী
পঞ্জিকা চান্দ্র মাসের উপর নির্ভরশীল। চান্দ্র
বৎসর সৌর বৎসরের চেয়ে ১১/১২ দিন কম হয়।
কারণ সৌর বৎসর ৩৬৫ দিন, আর চান্দ্র বৎসর ৩৫৪
দিন। একারণে চান্দ্র বৎসরে ঋতুগুলি ঠিক থাকে
না। আর চাষাবাদ ও এজাতীয় অনেক কাজ
ঋতুনির্ভর। এজন্য ভারতের মোগল সম্রাট আকবরের
সময়ে প্রচলিত হিজরী চান্দ্র পঞ্জিকাকে সৌর
পঞ্জিকায় রূপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সম্রাট আকবর ইরান থেকে আগত বিশিষ্ট বিজ্ঞানী
ও জ্যোতির্বিদ আমির ফতুল্লাহ শিরাজীকে হিজরী
চান্দ্র বর্ষপঞ্জীকে সৌর বর্ষপঞ্জীতে রূপান্তরিত
করার দায়িত্ব প্রদান করেন। ফতুল্লাহ শিরাজীর
সুপারিশে পারস্যে প্রচলিত সৌর বর্ষপঞ্জীর
অনুকরণে ৯৯২ হিজরী মোতাবেক ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে
সম্রাট আকবর হিজরী সৌর বর্ষপঞ্জীর প্রচলন
করেন। তবে তিনি ঊনত্রিশ বছর পূর্বে তার
সিংহাসন আরোহনের বছর থেকে এ পঞ্জিকা
প্রচলনের নির্দেশ দেন। এজন্য ৯৬৩ হিজরী সাল
থেকে বঙ্গাব্দ গণনা শুরু হয়। ৯৬৩ হিজরী সালের
মুহররম মাস ছিল বাংলা বৈশাখ মাস, এজন্য বৈশাখ
মাসকেই বঙ্গাব্দ বা বাংলা বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস
এবং ১লা বৈশাখকে নববর্ষ ধরা হয়। প্রথমে এই
সনের নাম ছিল ফসলি সন এবং পরে বঙ্গাব্দ বা
বাংলা বর্ষ নামে পরিচিত হয়। [সুত্রঃ
উইকিপিডিয়া ও ইন্টারনেট]
৩। পুঁথি গবেষক ও বিশিষ্ট পণ্ডিত যতীন্দ্রমোহন
ভট্টাচার্য বাংলা ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের সন-
তারিখ সম্পর্কে নানা অনুসন্ধান করেছিলেন। সে
জন্য তাকে এ অঞ্চলের সন-তারিখ সম্পর্কে একজন
বিশেষজ্ঞ বলে অভিহিত করা হয়। তিনি তাঁর
বিশিষ্ট গবেষণাকর্ম ‘বাংলা পুঁথির তালিকা
সমন্বয়’ (প্রথম খণ্ড পৃ. ৩৭৮)-এ বলেছেন : ‘‘সুলতান
হোসেন শাহের সময়ে বঙ্গাব্দ বা বাংলা সন চালু
হয়। বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও বাঙালিত্বের
বিকাশেও শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ ও সুলতান
হোসেন শাহের অবদান বিরাট। সুলতান হোসেন শাহ
নিজেকে বাঙালি বলে পরিচয় দিতে গর্ব অনুভব
করতেন। ‘শাহ-এ-বাঙালিয়ান’ বলে নিজের পরিচয়
লিপিবদ্ধ করেছেন তিনি। তাদের একজন, অর্থাৎ
হোসেন শাহের পক্ষে বাংলা সন চালু করা অসম্ভব
নয়।’’
তবে সুলতানি আমল বিশেষজ্ঞ শ্রী সুখময়
মুখোপাধ্যায় এ মত মেনে নিতে পারেননি। তিনি
লিখেছেন : ‘‘কোন বিষয় থেকে যতীন্দ্রবাবু এ
সিদ্ধান্তে উপনীত হযেছেন তা তিনি উল্লেখ
করেননি। সেজন্য একে গ্রহণ করতে আমাদের
অসুবিধা আছে।’’ এটা ঠিক যে, কোনো কোনো পুঁথিতে
‘যবন নৃপতে শকাব্দ’ বলা হয়েছে, রামগোপাল
দাসের রসকল্পাবলীর পুঁথিতেও বঙ্গাব্দকে ‘যাবনী
বৎসর’ বলা হযেছে। কিন্তু এ থেকেই এটা অনুমান
করা ঠিক নয় যে, কোনো মুসলমান রাজা বঙ্গাব্দ
প্রবর্তন করেছিলেন, এবং তিনি হোসেন শাহ।
হোমেন শাহ (রাজত্বকাল ১৪৯৩-১৫১৯) বঙ্গাব্দ
চালু করেছিলেন এ মতের বিপক্ষে একটি যুক্তি
দেখানো হয়। হোসেন শাহের পুত্র নসরৎ শাহ একটি
সংবৎ প্রবর্তন করেছিলেন যা ‘নসরৎশাহী সন’
নামে পরিচিত। বঙ্গাব্দের সঙ্গে এর তফাত
দু’বছরের। ১০৮৩ নসরৎশাহ সন এবং ১০৮১
বঙ্গাব্দে লেখা একটি পুঁথি পাওয়া গেছে
(যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য, বাংলা পুঁথির তালিকা
সমন্বয়, পৃ. ৩৭৭)। বঙ্গাব্দ যদি হোসেন শাহের
দ্বারা প্রবর্তিত হত, তাহলে তাহলে তার পুত্র
একটি নতুন সংবৎ প্রবর্তন করতেন কি? (সুধাময়
মুখোপাধ্যায়, ১৪০০ সাল, শারদীয় সংখ্যা এক্ষণ,
কোলকাতা)।
[সুত্রঃ ড.সামসুজ্জামান খান এর একটি কলাম
থেকে।]