30/04/2026
বেত দিয়ে নয়; শিক্ষাঙ্গনে শাসন হোক মানবিকতায়
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় শৃঙ্খলা রক্ষার নামে বেত্রাঘাত বা শারীরিক ও মানসিক শাস্তির চর্চা একটি পুরোনো কিন্তু গভীরভাবে প্রোথিত সমস্যা। সময়ের সাথে সাথে শিক্ষার ধরন, মনস্তত্ত্ব এবং মানবাধিকারের ধারণা বদলালেও এই সংস্কৃতি পুরোপুরি নির্মূল হয়নি। বরং অনেক ক্ষেত্রে এটি এক ধরনের ‘ভয়ের সংস্কৃতি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে, যা শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য—জ্ঞানার্জন, মানবিকতা ও সৃজনশীলতা—কে বাধাগ্রস্ত করছে।
সরকারিভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সব ধরনের শারীরিক শাস্তি নিষিদ্ধ থাকলেও বাস্তবে এর ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। বিশেষ করে কিছু মাদরাসা ও বিদ্যালয়ে এখনও শাসনের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বেত্রাঘাত ব্যবহৃত হচ্ছে। পড়া না পারা, দেরি করে আসা, বা সামান্য শৃঙ্খলাভঙ্গের মতো কারণে শিক্ষার্থীদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়। কখনো কখনো এই শাস্তি এমন মাত্রা ছাড়িয়ে যায়, যা মানবিকতার সীমাকেও লঙ্ঘন করে। অনেক শিশুর আত্মহত্যা বা নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
বেত্রাঘাতের সবচেয়ে দৃশ্যমান দিক হলো শারীরিক আঘাত। কিন্তু এর চেয়েও গভীর ক্ষতি ঘটে শিক্ষার্থীদের মনে। অপমান, ভয়, লজ্জা—এই অনুভূতিগুলো শিশুর আত্মমর্যাদাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ধীরে ধীরে তারা আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে, শিক্ষার প্রতি আগ্রহ কমে যায়, এবং অনেক ক্ষেত্রে তারা নিজেদের অযোগ্য মনে করতে শুরু করে।
মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, বারবার শাস্তির মুখোমুখি হওয়া শিশুরা দীর্ঘমেয়াদে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এমনকি সামাজিক বিচ্ছিন্নতার শিকার হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এই চাপ এতটাই তীব্র হয় যে, তারা চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার দিকেও ধাবিত হতে পারে—যা সমাজের জন্য ভয়াবহ সংকেত।
যেখানে শিক্ষা হওয়া উচিত অনুপ্রেরণার উৎস, সেখানে ভয় যদি প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে ওঠে, তখন পুরো শিক্ষাব্যবস্থাই বিকৃত হয়ে যায়। ভয়ের পরিবেশে শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন করতে ভয় পায়, ভুল স্বীকার করতে লজ্জা পায়, এবং সৃজনশীল চিন্তাকে দমন করে রাখে। ফলে তারা কেবল মুখস্থনির্ভর হয়ে পড়ে, প্রকৃত জ্ঞানার্জন থেকে বঞ্চিত হয়।
এই সংস্কৃতি শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। শিক্ষক তখন আর পথপ্রদর্শক নন, বরং ভয়ের প্রতীক হয়ে দাঁড়ান। এর ফলে শ্রদ্ধা নয়, বরং এক ধরনের দূরত্ব ও অবিশ্বাস তৈরি হয়। সমস্যাটির একটি বড় কারণ হলো সমাজের একটি অংশের দৃষ্টিভঙ্গি। অনেক অভিভাবক ও শিক্ষক এখনও মনে করেন, ‘মার না খেলে শিখবে না’। কিন্তু বাস্তবতা হলো, শাসন ও সহিংসতা এক নয়। শাসনের নামে সহিংসতা প্রয়োগ করলে তা সংশোধনের বদলে ক্ষতিরই কারণ হয়।
কেন শিক্ষক প্রশিক্ষণ অপরিহার্য
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বেত্রাঘাত ও ভয়ভিত্তিক শাসনের সংস্কৃতি দূর করার আলোচনায় একটি বিষয় বারবার সামনে আসে—তা হলো শিক্ষক প্রশিক্ষণের অপরিহার্যতা। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখনও শৃঙ্খলা রক্ষার প্রধান উপায় হিসেবে শারীরিক বা মানসিক শাস্তিকে ব্যবহার করা হয়। এর পেছনে মূলত দুটি কারণ কাজ করে—একটি হলো প্রচলিত সামাজিক ধারণা, অন্যটি শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের অভাব। অনেক শিক্ষকই বিশ্বাস করেন, কঠোর শাসন ছাড়া শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। কিন্তু আধুনিক শিক্ষাবিজ্ঞান বলছে, ভয় নয়; বরং সহমর্মিতা, অনুপ্রেরণা ও ইতিবাচক যোগাযোগই শিক্ষার প্রকৃত ভিত্তি।
এই জায়গাতেই শিক্ষক প্রশিক্ষণের গুরুত্ব অনস্বীকার্য হয়ে ওঠে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকরা নতুন শিক্ষাদর্শন, আধুনিক শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং ইতিবাচক শৃঙ্খলার কৌশল সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন। তারা শিখতে পারেন কীভাবে শাস্তির পরিবর্তে উৎসাহ ও পরামর্শের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আচরণ সংশোধন করা যায়। শিশুমনস্তত্ত্ব বোঝাও শিক্ষক প্রশিক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একটি শিশুর আচরণ অনেক সময় তার পারিবারিক অবস্থা, মানসিক চাপ বা ব্যক্তিগত সমস্যার প্রতিফলন হতে পারে। প্রশিক্ষিত শিক্ষক এসব দিক বিবেচনায় রেখে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এতে করে শিক্ষার্থীর প্রতি সহানুভূতি বাড়ে এবং শাস্তিমূলক মনোভাব কমে আসে। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক আরও আন্তরিক ও বিশ্বাসভিত্তিক হয়ে ওঠে।
একই সঙ্গে শিক্ষক প্রশিক্ষণ শিক্ষকদের ব্যক্তিগত দক্ষতাও উন্নত করে। প্রশিক্ষণ তাদেরকে আত্মনিয়ন্ত্রণ, ধৈর্য ও পেশাগত আচরণ বজায় রাখার কৌশল শেখায়। এতে করে তারা কঠিন পরিস্থিতিতেও সংযত থাকতে পারেন এবং কোনো ধরনের সহিংস আচরণ থেকে বিরত থাকতে সক্ষম হন।
দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষক প্রশিক্ষণের সুফল আরও বিস্তৃত। প্রশিক্ষিত শিক্ষক একটি নিরাপদ, আনন্দময় ও অংশগ্রহণমূলক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে পারেন, যেখানে শিক্ষার্থীরা নির্ভয়ে প্রশ্ন করতে পারে, ভুল করতে পারে এবং সেখান থেকে শিখতে পারে। এর ফলে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ে, সৃজনশীলতা বিকশিত হয় এবং শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে সহিংসতা ও ভয়ের সংস্কৃতি ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হতে থাকে।
সুতরাং, বেত্রাঘাতমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাইলে কেবল আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন তার কার্যকর বাস্তবায়ন এবং শিক্ষকদের মানসিক ও পেশাগত উন্নয়ন। আর এই উন্নয়নের প্রধান হাতিয়ার হলো সুসংগঠিত ও যুগোপযোগী শিক্ষক প্রশিক্ষণ। একটি মানবিক, নিরাপদ ও প্রগতিশীল সমাজ নির্মাণের জন্য তাই শিক্ষক প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ করা সময়ের সবচেয়ে জরুরি দাবি।
অতীতে বেত্রাঘাত ছিল স্বীকৃত ব্যবস্থা
অতীত কালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বেত্রাঘাত ছিল একটি স্বীকৃত ও প্রাতিষ্ঠানিক শাসনব্যবস্থার অংশ। তখনকার সমাজব্যবস্থা, শিক্ষাদর্শন এবং অভিভাবক-শিক্ষক মানসিকতা—সবকিছু মিলিয়ে শারীরিক শাস্তিকে শিক্ষার একটি ‘স্বাভাবিক’ উপাদান হিসেবে দেখা হতো।
প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় শিক্ষাব্যবস্থায়, বিশেষ করে উপমহাদেশের টোল, পাঠশালা ও মাদরাসাগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রধান উপায় ছিল বেত্রাঘাত। শিক্ষকের প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্যকে গুরুত্ব দেওয়া হতো, এবং শাস্তিকে সেই আনুগত্য নিশ্চিত করার কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ধরা হতো।
ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলেও বিদ্যালয়গুলোতে বেত্রাঘাতের ব্যবহার বহাল ছিল। এমনকি অনেক স্কুলে বেত্রাঘাতের জন্য নির্দিষ্ট নিয়মও ছিল—যেমন কতবার আঘাত করা যাবে, কোন অংশে আঘাত করা যাবে ইত্যাদি। এটি একধরনের শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা হিসেবে স্বীকৃত ছিল এবং অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকরাও এটিকে সমর্থন করতেন।
সে সময়ের একটি প্রচলিত ধারণা ছিল—“Spare the rod, spoil the child” অর্থাৎ ‘বেত্রাঘাত না করলে শিশু নষ্ট হয়ে যায়।’ এই ধারণা থেকে বিশ্বাস করা হতো, শারীরিক শাস্তি শিশুদের শৃঙ্খলাবোধ, ভদ্রতা ও অধ্যবসায় শেখায়। ফলে শিক্ষকরা নিজেদের দায়িত্বের অংশ হিসেবেই শাস্তি প্রয়োগ করতেন।
তবে লক্ষণীয় যে, অতীতের এই ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীর মানসিক স্বাস্থ্য বা মানবাধিকারের বিষয়টি তেমন গুরুত্ব পায়নি। শিক্ষা ছিল বেশি কর্তৃত্বনির্ভর, যেখানে প্রশ্ন বা ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ সীমিত ছিল। শাস্তির ভয় শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণে রাখলেও তা তাদের সৃজনশীলতা ও স্বাধীন চিন্তাকে বাধাগ্রস্ত করত।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষাবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান এবং মানবাধিকার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই ধারণা বদলাতে শুরু করে। গবেষণায় প্রমাণিত হয় যে, বেত্রাঘাত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয়, হীনমন্যতা ও মানসিক সমস্যার জন্ম দেয়, যা তাদের শেখার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। ফলে আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা ধীরে ধীরে শারীরিক শাস্তিকে পরিত্যাগ করে ইতিবাচক ও মানবিক পদ্ধতির দিকে অগ্রসর হয়েছে।
সুইডেন ১৯৭৯ সালে প্রথম দেশ হিসেবে শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই নয়, পরিবারেও শিশুদের ওপর শারীরিক শাস্তি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। এর পরপরই নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, জার্মানী, ফ্রান্স, স্পেন ও ইতালি, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা প্রায় সব দেশই আইনগতভাবে বেত্রাঘাত নিষিদ্ধ করে। এসব দেশে শিশুদের অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে মানবিক ও অংশগ্রহণমূলক করে তোলা হয়েছে।
এই বৈশ্বিক পরিবর্তনের পেছনে জাতিসংঘ-এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৮৯ সালে গৃহীত Convention on the Rights of the Child শিশুদের অধিকার রক্ষায় একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। এই সনদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, শিশুদের শারীরিক বা মানসিক কোনো ধরনের সহিংসতা, নির্যাতন বা অপমানজনক আচরণ থেকে সুরক্ষা দেওয়া প্রতিটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ফলে এই সনদে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো বাধ্য হয় তাদের জাতীয় আইন ও নীতিমালায় পরিবর্তন আনতে।
এছাড়া জাতিসংঘের শিশু অধিকার কমিটি “General Comment No. 8”-এর মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করে যে, বেত্রাঘাতসহ সব ধরনের শারীরিক শাস্তি শিশুদের মর্যাদার পরিপন্থী এবং তা সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করা উচিত। এই অবস্থান বিশ্বজুড়ে নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি শক্তিশালী নৈতিক ও আইনি নির্দেশনা হিসেবে কাজ করেছে।
জাতিসংঘের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো এর বিভিন্ন সংস্থা—বিশেষ করে UNICEF—এর মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি, গবেষণা পরিচালনা এবং সরকারগুলোকে কারিগরি সহায়তা প্রদান। এসব উদ্যোগের ফলে বিশ্বজুড়ে শিশুদের প্রতি সহিংসতার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিকল্প ইতিবাচক শৃঙ্খলা পদ্ধতির প্রসার ঘটেছে।
একই সঙ্গে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs)-এর আওতায়ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধ করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এর লক্ষ্য অনুযায়ী, শিশুদের নিরাপদ ও সহিংসতামুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা বৈশ্বিক উন্নয়নের অন্যতম শর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
করণীয় ও পথনির্দেশ
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি—
১. শারীরিক ও মানসিক শাস্তির বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।
২. অভিভাবক, শিক্ষক ও সমাজের বিভিন্ন স্তরে সচেতনতা তৈরি করতে হবে যে, বেত্রাঘাত কোনোভাবেই শিক্ষার অংশ হতে পারে না।
৩. শাস্তির পরিবর্তে ইতিবাচক পদ্ধতি যেমন—কাউন্সেলিং, প্রণোদনা, সহানুভূতিশীল আচরণ—ব্যবহার করতে হবে। এতে শিক্ষার্থীরা নিজের ভুল বুঝতে শেখে, ভয় পায় না।
৪. শিক্ষকদের আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতি ও শিশুমনস্তত্ত্ব বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হবে, যাতে তারা চাপের মধ্যেও কার্যকর ও মানবিক উপায়ে শ্রেণিকক্ষ পরিচালনা করতে পারেন।
৫. প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও আনন্দময় স্থান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যেখানে তারা স্বাধীনভাবে শেখার সুযোগ পায়।
শিক্ষা কেবল জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম নয়; এটি মানুষের মানসিক, নৈতিক ও সামাজিক বিকাশের ভিত্তি। সেখানে ভয়, সহিংসতা ও অপমানের কোনো স্থান নেই। বেত্রাঘাতের সংস্কৃতি বন্ধ করে সহমর্মিতা, শ্রদ্ধা ও ইতিবাচক শৃঙ্খলার ভিত্তিতে শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। একটি নিরাপদ, মানবিক ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলেই আমরা সত্যিকার অর্থে একটি সুস্থ ও প্রগতিশীল সমাজ নির্মাণ করতে পারব।
সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়, বেত্রাঘাত নিষিদ্ধ করার আন্দোলন এখন একটি বৈশ্বিক মানবাধিকার আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শিশুর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতা। জাতিসংঘের নীতিমালা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দেখিয়ে দিচ্ছে—শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য অর্জন করতে হলে ভয় নয়, বরং ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও সম্মানই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পথ। বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা, যেখানে একটি মানবিক ও নিরাপদ শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে এই বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো অপরিহার্য। অতীত কালে বেত্রাঘাত একটি প্রতিষ্ঠিত নিয়ম ও সংস্কৃতি হলেও, বর্তমান সময়ে তা অগ্রহণযোগ্য ও অমানবিক হিসেবে বিবেচিত। ইতিহাস আমাদের এই শিক্ষা দেয় যে, শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য ভয় নয়, বরং সহমর্মিতা ও মানবিকতাই সবচেয়ে কার্যকর পথ।
লেখক: সাবেক উপদেষ্টা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, অন্তর্বর্তী সরকার
[email protected]