24/03/2020
আসল জিনিসটা জানার চেষ্টা করুন।
Covid-19 ভাইরাস, চাইনিজদের কালচার আর মানুষের অনন্ত লোভঃ
____________________________________
বাংলাদেশ যদি চায়না হতো হবে গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি আর উত্তরাতে
মানুষ ভাল্লুকের থাবা, বানরের মগজ, বাঘের অন্ডকোষ, সাপ, পিপিলিকাভূক, ময়ূর খেতে দেখতেন।
চায়নার অদ্ভুত খাদ্যভাসের পিছনের বেশ কয়েকটা কারন দায়ী।
১। প্রাচীন টেক্সট গুলোতে লেখা আছে বুনো জন্তু খেলে যৌনক্ষমতা বাড়ে, ত্বক মসৃন হয়, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। আরো জানা যায়
চায়নার প্রাচীন টেক্সট গুলোতে লেখা আছে যেই শেইপের খাবার খাবে তুমি সেই শেইপেরই হবে।
এগুলো চাইনিজদের ঐতিহ্যের সাথে দুই তিন হাজার বছর ধরে আছে।
চায়না আমেরিকার মতো দুইতিনশ বছর আগের গজিয়ে উঠা দেশ না। ৫০০০ বছর আগের সভ্যতা। এই প্রাচীন টেক্সট গুলোকেই মানুষ বিভিন্ন ভাবে অনুবাদ করেছে। এই জন্য সাপ খাওয়া, ঘোড়া, ষাড়ের যৌনাঙ্গ খাওয়া চায়নার ফুড কালচারের সাথে মিশে আছে।
এছাড়াও চাইনিজরা বিশ্বাস করে খাবারের মাধ্যমেই রোগ প্রতিরোধ করা যায়।
বাঘের শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে অষুধ তৈরি করা হয়, গন্ডারের শিং খাওয়া হয় যৌনক্ষমতা বাড়ানোর জন্য, সেই একই কারনে কারন বাঘের গায়ের জোর আর গন্ডারের শিং এর মতো পুরুষাঙ্গ যেনো হয়।
এগুলো চায়নিজ মিথ আর কালচারের অংশ।
২। ৭০ এর দশকে চায়নাতে ভয়ংকর রকম দুর্ভিক্ষ দেখা যায়। এর আগে চায়না ফুড সোর্স নিয়ন্ত্রিত হতো সরকার দ্বারা সরকার গরু, শুয়র, মুরগীর উৎপাদন নিয়ন্ত্রন করতে। দুর্ভিক্ষের সময় মানুষে বুনো জীবজন্তু শিকার করে খাওয়ার শুরু করলো। চায়নিজ কম্যুনিষ্ট পার্টি এই ব্যাপারে বাধা দেয় নাই কারন দুর্ভিক্ষের সময় যে যেভাবে বাচতে পারে।
১৯৭৮ সালে চায়না ফুড সোর্স গুলো প্রাইভেট করে দেয় যেখানে বড়ো বড়ো ফার্ম গুলো অনুমতি পায় গরু, মুরগী আরো অন্যান্য খাদ্য উৎপাদন করায়। সাথে ছোট ছোট ফার্মারদের বাড়ীর পিছনে কাছিম, সাপ, ব্যাং ইত্যাদি পালনের অনুমতি দেয়া হয়।
১৯৮৮ সালে নতুন আইন করা হয় যেকোন জন্তু সরকারী সম্পত্তি বলে বিবেচিত হবে আর সেটা গবেষনা বা যেকোন রির্সোসের কাজে লাগানো যাবে। তখন থেকেই বুনো জন্তু ফার্মি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে যায়।
৩। বিভিন্ন ধরনের অর্গানিক অষুধ তৈরীর জন্য বুনো জন্তু ব্যবহার করা হয়। এটাও চাইনিজ চিকিৎসাসেবার সাথে হাজার বছর ধরে জড়িত।
৪। নতুন ধরনের খাবার খাওয়া যেটা এক্সোটিক ফুড বলে যেমন আমরা যেমন ইথোপিয়ান খাবার, ইরানের খাবার ইত্যাদি খাই, সেই উৎসাহে বুনো প্রাণীর মাংসের তৈরি খাবার খাওয়া হয়। আরো ভালো হয় যদি সেটা তাজা মাংসের হয়। এখান থেকেই ওয়েট মার্কেট গুলো তৈরি হয়েছে চায়নার বিভিন্ন অংশে।
আগের পর্বে লিখেছিলাম কিভাবে কভিড-১৯ বাদুর আর পিপিলিকাভূকের শরীর হয়ে মানুষের শরীরের পৌছেছে।
ভাইরাসের ব্যাপারে আরো কিছু তথ্য যোগ করা করছি। ভাইরাস অতিক্ষুদ্র অনুজীব, এগুলো পূর্ন কোষ না। শুধু মাত্র প্রোটিন আর ডিএনএ/আরএনএ দিয়ে তৈরি। ভাইরাসকে আসলে কোষের রাজত্বের জম্বি/ড্রাকুলা বলা যায়।
যে কোন এ্যাটাক করে ভাইরাস সেই কোষকে নিজের মতো তৈরি করে।
এইদিকে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধক কোষ গুলো ভাইরাস হওয়া কোষকে আক্রমন করে, তখন সে আবার নিজেকে পরিবর্তিত করে বাচার জন্য। এই ভাবেই ভাইরাস ছড়ায়। কভিড-১৯ একটা আর এন এ ভাইরাস।
গুরুত্বপূর্ন তথ্য হচ্ছে, করোনা ভাইরাসের ব্যাপারে বহু আগেই থেকে মানুষ জানতো। নানা ধরনের করোনা ভাইরাস থাকে জন্তুদের শরীরের।
এই করোনা ভাইরাস যেটা কভিড-১৯ নামে পরিচিত এটা সম্পূর্ন নতুন ভাইরাস যার কোন তথ্য নাই ভাইরোলজিস্টেদের কাছে।
চাইনিজ খাদ্যভ্যাসের কথা বলছিলাম, এই এসব বাঘ ভাল্লুক ময়ুর পিপীলিকাভূক ইত্যাদি খাওয়ার কথা আসছে এইসব কিন্তু শুধু অভিজাত ধনীরা এফোর্ড করতে পারে। যাদের কিছু টাকা পয়সা হয় তারাই শুধু এফোর্ড করতে পারে। বাংলাদেশের গুলশান বনানীর বড়ো বড়ো রেস্টুরেন্ট যেমন যাদের অনেক পয়সা তারা এফোর্ড করতে পারে।
দরিদ্র যারা তারা এসব খাবার খায় না, তারা কুকুরের মাংশ, ইদূর ইত্যাদি খায় যেগুলো সহজেই পাওয়া যায়।
চায়নার কম্যুনিষ্ট পার্টির ইতিহাস মাত্র ৭০-৮০ বছর আগের। কিন্তু চাইনিজ সিক্রেসির ইতিহাস ২০০০ বছর ধরেই। এই কারনে কভিড-১৯ আক্রান্ত মানুষের কথা চায়নিজ অথোরিটি এ্যালাও করেনি। সার্স আউটব্রেকের সময় চায়নিজ অথোরিটি প্রথমে খবর বের হতে দিতে এ্যালাও করেনি। যদি ডিসেম্বরেই চায়নিজ অথোরিটি এ্যালাও করতো হয়তো সহযেই এর ছড়িয়ে পড়া রোধ করা যেতো।
তবে বাংলাদেশের মতোই চায়নিজ গর্ভমেন্ট সব কন্ট্রোল করতে পারে না। কভিড-১৯ এর আউটব্রেক ছড়ায় দেয়ার পিছনে চায়নিজ সোস্যাল মিডিয়া আর ইন্ডিপেন্ডেন্ট মিডিয়া অনেক ভূমিকা পালন করেছে।
তারা নিজেদের দেশের ডাক্তারদের ভূমিকাও বিশ্বব্যাপি ছড়িয়েছে।
এবার আসি এই তথ্য গুলো বিশ্লেষনে।
১। প্রথমেই বলা যায় কালচারাল ভুল প্রথা ভুল আচরন যতোই ঐতিহ্যবাহী হৌক সেটা বর্জনীয়। ভারতে হিন্দুদের মাঝে ছিলো সতীদাহ প্রথা রদ হয়েছে, বাঙ্গালী মুসলমানদের ওপেনলি গরু কোরবানী দেয়ার প্রথা, ভারতের বর্ণবৈষম্য প্রথা। এইসব প্রথা দেশে দেশে আছেই।
কালচারাল প্রথা যে একটা মহামারী তৈরি করতে পারে এটা প্রথম উদাহরন নয় আর শেষ উদাহরনও হবে না।
সবচে অদ্ভুত হচ্ছে বাদুরের মাংসের স্যুপ খাওয়া যেটা কিনা চোখের ক্ষমতা বাড়ায়। সত্যি ব্যাপার হচ্ছে বাদুর নিজেই চোখে দেখে না ঠিক মতো, বাদূর কানের উপর ভরসা করে উড়ে বেড়ায়।
এইরকম বাঘের মাংস খেলে বাঘের মতো হওয়া গেলে পৃথিবী ভর্তি শুয়র, গরু, মুরগী আর ভেড়াতে ভড়ে যেতো পৃথিবী।
কালচার ঐতিহ্য নিজেদের ইতিহাস লোকজ প্রথা এগুলো গুরুত্বপূর্ন। কিন্তু কোনটা ভুল আর কোনটা শুদ্ধ এটা পৃথিবীবাসীকে বাছতে হবে।
২। চায়নিজ অথোরিটি সার্সের পর ওয়াইল্ড লাইফ পালন আর বিক্রি নিষিদ্ধ করেছিলো। আবার দুইবছর পর তারা সেই ব্যান তুলে নেয়।
এবারও চায়না শুধু গবেষনা ছাড়া বুনো জন্তু পালন আর বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে। ওয়েট মার্কেট গুলো বন্ধ করা হয়েছে। কিন্তু ওয়েট মার্কেট অন্যান্য দেশে বন্ধ হয়নি। চায়নায় জন্তু পাচার হয় বিভিন্ন দেশ থেকে।
৩। এই পয়েন্টটা এই পোস্টের সবচে গুরুত্বপূর্ন পয়েন্ট। চায়নিজ ওয়াইল্ড লাইফ ফার্মিং ইন্ডাস্ট্রিং মাত্র ৭৪ বিলিয়ন ডলারের। চায়নার জিডিপি হচ্ছে ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের। তারপরো চায়না কেন বার বার এই ইন্ডাস্ট্রিকে ব্যান করতে বার নিয়ন্ত্রনে আনতে পারছে না?
কারন সেই পুরানোর রোগ, প্রাচীন টেক্সট, ঐতিহ্য আর কালচার, ধনী মানুষরা এর ভোক্তা, বলা যায় যারা নিয়ন্ত্রন করবে তারা নিজেরাই এর ভোক্তা।
৪। শুধু চায়না থেকে রোগের আউটব্রেক হয় এটা ভাবা ভুল। সোয়াইন ফ্লু যার কারনে ১২০০০ মানুষের প্রাণ গেছে সেটা উৎপত্তি কিন্তু আমেরিকাতেই হয়েছে। কেউ আমেরিকানদের শুয়র খেতে নিষেধ করে নাই।
৫। বুনো জন্তু ট্রাফিকিং এর মোট মূল্য ২৫৮ বিলিয়ন ডলার। বুনো জন্তু খাওয়া আর ট্রাফিকিং শুধু প্যানডেমিক শুরু করে না, প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করে।
যেখানে টাকা আছে সেখানে এই মার্কেট থামাবেই না। আর মানুষের লাশ তো কোন ব্যাপারই না। লোভী মানুষ লাখ লাখ মানুষের লাশ পেরিয়ে মিলিটারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেকসই থামাতে পারলো না।
আর এতো বুনো জন্তু।
তাই আমার মতে একটু কষে মানব সভ্যতার পাছায় লাথি দেয়ার জন্য মাঝে মাঝে করোনা ভাইরাস কভিড-১৯ না বরং আরো ডেডলি কিছুর দরকার আছে।
পোস্টটি সংগ্রহ করা হয়েছে ফেইসবুক থেকে।