09/05/2026
চাঁদ দেখা ও এক তারিখ নির্ধারণ
ইসলামে মাস গণনা ও রোজা-ঈদের তারিখ নির্ধারণের বিষয়ে দুটি মত দেখা যায়। একদল বলেন, চাঁদ দেখার প্রয়োজন নেই, হিসাব বা জ্যোতির্বিজ্ঞানের মাধ্যমে তারিখ নির্ধারণ করা যায়। আরেক দল বলেন, শরীয়তের মূল নির্দেশনা অনুযায়ী চাঁদ দেখা জরুরি।
যারা “এক চাঁদ এক তারিখ” মতটি গ্রহণ করেন, তারা বলেন—যদি সূর্য ও চাঁদের মিলন সূর্যাস্তের আগে হয় তাহলে সেই রাতকে নতুন মাসের প্রথম রাত ধরা হবে। আর যদি রাতের মধ্যে মিলন হয়, তাহলে পরের রাত থেকে মাস শুরু হবে। তাদের মতে হিলাল দেখা বাধ্যতামূলক নয়। তারা আরও যুক্তি দেন যে অমুসলিমরা যেমন একই দিনে উৎসব পালন করে, মুসলমানদেরও একই দিনে ঈদ পালন করা উচিত যাতে সবাই একসাথে আনন্দ করতে পারে। এছাড়া তারা বলেন, নামাজের সময় যেমন আধুনিক ঘড়ির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়, তেমনি চাঁদের তারিখও বৈজ্ঞানিক হিসাব দিয়ে নির্ধারণ করা উচিত।
অন্যদিকে অধিকাংশ আলেমের মত হলো, চাঁদ দেখা ছাড়া রমজান শুরু বা ঈদ নির্ধারণ করা যাবে না। তাদের দলিল হলো নবী করিম (সা.)-এর হাদিস, যেখানে বলা হয়েছে চাঁদ দেখে রোজা রাখো এবং চাঁদ দেখে ঈদ করো। কোরআনেও বলা হয়েছে যে চাঁদ মানুষের জন্য সময় নির্ধারণের মাধ্যম। তাই শরীয়তের মূল ভিত্তি হলো চাঁদ দেখা।
যারা হিসাবের পক্ষে কথা বলেন, তাদের যুক্তির জবাবে আলেমরা বলেন, মুসলমানদের ঈদ শুধুমাত্র সামাজিক উৎসব নয়, এটি একটি ইবাদত। তাই অন্য ধর্মীয় উৎসবের সাথে তুলনা করা ঠিক নয়। আবার দূর-দূরান্তের অঞ্চলে চাঁদ দেখার পার্থক্য থাকতে পারে, এটিও শরীয়তে স্বীকৃত। আর আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান নির্ভুল নিশ্চিত জ্ঞান নয়, তাই শুধু তার উপর নির্ভর করা ঠিক নয়।
সব মিলিয়ে, ইসলামী অধিকাংশ আলেমের মতে চাঁদ দেখা জরুরি এবং সেটাই শরীয়তসম্মত পদ্ধতি। শুধু বৈজ্ঞানিক হিসাবের উপর নির্ভর করে মাস শুরু করা গ্রহণযোগ্য নয়।