নোয়াখালীর বাণিজ্যিক কেন্দ্র চৌমুহনীর সবুজ বেষ্টিত ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চৌমুহনী সরকারি এস এ কলেজ । ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটি প্রায় সত্তর বছর ধরে শিক্ষার অনির্বাণ আলো জ্বেলে রেখেছে এই অঞ্চলে মানুষের দিশারীরূপে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ তখন চলছে (১৯৩৯-১৯৪৫)। এরই মধ্যে তৎকালীন নাথ ব্যাংকের সাথে সম্পৃক্ত কয়েকজন উদ্যোগী মানুষ বাবু ক্ষেএনাথ দালাল এর নেতৃত্বে চৌমুহনীতে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ
গ্রহণ করেন । প্রাথমিক উদ্যোগ কিছুটা বাধাগ্রস্ত হলেও পরবর্তীতে বাবু প্রসন্নকুমার রায় চৌধুরী এবং তাঁর জ্ঞাতি ভ্রাতা বাবু হরকুমার সাহা ৩০ শতাংশ অর্থাৎ ১বিঘা জমি দান করলে ১৯৪৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় চৌমুহনী কলেজ । কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ বাবু রাধা গোবিন্দ নাথ চৌমুহনী কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পান । ১৯৪৬ সালে নোয়াখালীতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হলে কলেজের উদ্যোক্তা, অধ্যক্ষ, অধ্যাপকসহ অনেকে কলকাতায় চলে যান। কলেজ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় । ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর বাবু মুকুন্দ কিশোর চক্রবর্তী কিছুদিন অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন । এর পরেই টি. হোসাইন নামে খ্যাত অধ্যাপক তাফাজ্জাল হোসাইন প্রথমে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবং ১৯৫০ সালে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পান এবং একনাগাড়ে ৩১ বৎসর এ দায়িত্ব পালন করেন। এক বিঘা জায়গা নিয়ে যে কলেজের যাত্রা শুরু হয়েছিল অধ্যক্ষ টি হোসেইনের সময়েই খরিদসূত্রে এবং অধিগ্রহণের মাধ্যমে কলেজ বিশাল সম্পত্তির মালিক হয়। বর্তমানে চৌমুহনী কলেজের প্রায় ৩৫ একর জমি রয়েছে । ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে চৌমুহনী কলেজের কৃতি ছাত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা সালেহ্ আহমেদ রাজাকারদের সাথে এক সম্মুখযুদ্ধে শহিদ হন এবং তাঁর নাম অনুসারে কলেজটি চৌমুহনী এস এ কলেজ নাম ধারণ করে। ১ নভেম্বর ১৯৮৪ তারিখে কলেজটি জাতীয়করণ করা হয় এবং নামকরণ করা হয় চৌমুহনী সরকারি এস. এ. কলেজ। ২০০৪-২০০৫ শিক্ষাবর্ষে হিসাববিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, দর্শন, ইসলামি শিক্ষা,পদার্থ, উদ্ভিদবিদ্যা, প্রাণিবিদ্যা এবং গণিত-এ আট বিষয়ে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির মাধ্যমে এ কলেজে অনার্স কোর্সের যাত্রা শুরু হয় এবং ২০০৬-২০০৭ শিক্ষাবর্ষে বাংলা ও ২০০৯-২০১০ শিক্ষাবর্ষে রসায়ন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অনার্স প্রবর্তন করা হয় । তেরটি বিষয়ে বর্তমান অনার্স কোর্স চালু আছে । ইংরেজি ও ইসলামের ইতিহাস এ দুই বিষয়ে অনার্স কোর্স চালুর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে । ২০১৪ সাল থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে হিসাববিজ্ঞান ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্স (স্নাতকোত্তর) শ্রেণির কার্যক্রম শুরু হয়েছে । এছাড়া বাউবি'র এইচএসসি প্রোগ্রাম চালু আছে । শিক্ষক স্বল্পতা সরকারি কলেজগুলোর একটি সাধারণ সমস্যা । চৌমুহনী সরকারি এস এ কলেজেও এর ব্যতিক্রম ছিল না । কিন্তু ২০০৬ সালে এ কলেজে আটটি অধ্যাপকসহ ছাপ্পান্নটি পদ সৃষ্টি করা হয় । ১৯৪৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হবার পর থেকেই বৃহত্তর নোয়াখালীর আলোকবর্তিকা হিসেবে চৌমুহনী সরকারি সালেহ আহমেদ কলেজ তার ভূমিকা পালন করে চলেছে । এ কলেজের প্রাক্তন ছাত্ররা বর্তমানে দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত থেকে দেশ ও জাতির সেবা করে যাচ্ছেন।