18/05/2026
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন আদিবাসী শিক্ষার্থীদের পরিচিতিমূলক গেট টুগেদার অনুষ্ঠিত
অদ্য ১৮ মে ২০২৬ (সোমবার) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া নবীন আদিবাসী শিক্ষার্থীদের পরিচিতিমূলক গেট টুগেদার ক্যাম্পাসের জারুলতলায় দুপুর ৩ ঘটিকায় অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও অধ্যাপক ড. কাঞ্চন চাকমা, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. আনন্দ বিকাশ চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক রিবেক চাকমা, রঁদেভূ শিল্পীগোষ্ঠী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি জাল্লাং এনরিকো কুবি, বাংলাদেশ তঞ্চঙ্গ্যা স্টুডেন্ট ওয়েল ফেয়ার ফোরাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অঞ্চলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নয়ন তঞ্চঙ্গ্যা প্রমুখ।
নাট্যকলা বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী সুপন তঞ্চঙ্গ্যা ও আইন বিভাগের শিক্ষার্থী দেবশ্রী হাজং এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গেট-টুগেদার আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও পালি বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী রত্নজয় তঞ্চঙ্গ্যা। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন রুপল প্রিয় চাকমা এবং অনুভূতি প্রকাশ করেন রহিম চাকমা ও জয় বাবু ত্রিপুরা। নবীন শিক্ষার্থীদের পরিচিতি পর্ব দিয়ে আলোচনা সভা শুরু হয়।
ড. কাঞ্চন চাকমা বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত নানা জাতিগোষ্ঠীর আদিবাসী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরালো করতে হবে। আদিবাসী শিক্ষার্থীদের নইজ ডিপার্টমেন্টের শিক্ষক, সিনিয়র-জুনিয়রসহ সকলের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলা খুবই জরুরি। দেশ ও জাতির সামগ্রিক কল্যাণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ-সুবিধাগুলো কাজে লাগিয়ে নিজেকে সমৃদ্ধ করার দিকে মনোযোগী হতে হবে। বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষতিকর দিকগুলো পরিহার করে সেটাকে নিজেদের ইতিবাচক কাজে ব্যবহার করতে পারাটা সকলের জন্য কল্যাণকর। সবশেষে তিনি আদিবাসী শিক্ষার্থীদের গবেষণায় অত্যধিক মনযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।
ড. আনন্দ বিকাশ চাকমা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসা প্রত্যেক আদিবাসী শিক্ষার্থীকে নিজেকে গড়ার জন্য সর্বোচ্চটুকু দিয়ে লড়াই করে যেতে হবে। তাছাড়া আদিবাসী শিক্ষার্থীরা যেন যেকোন ধরনের নেশাদ্রব্য গ্রহণসহ নেতিবাচক কাজগুলো থেকে বিরত থাকেন। পাশাপাশি নিজেদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা আবশ্যক। বিশ্ববিদ্যালয়ের আদিবাসী শিক্ষার্থীরা পরিবার, সমাজ, দেশ ও জাতির জন্য সুনাম বয়ে আনবে এই প্রত্যাশা করি। এছাড়াও তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হওয়া নতুন একাডেমিক কারিকুলাম নিয়েও নির্দেশনা প্রদান করেন।
রিবেক চাকমা বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা বহু প্রতিবন্ধকতার গন্ডি পেড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় পা রাখে। আমাদের উঠে আসা প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষদের জন্য ভাবার ও কাজ করা প্রয়োজন। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা বহু জাতিগোষ্ঠী, বহু ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষ একে অপরের সাথে পরিচয় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছি। যারজন্য আমরা সকল জাতিগোষ্ঠীর মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও সহানুভূতিশীল হওয়ার সুযোগ পেয়ে থাকি। যে উদ্দেশ্য সাধনের লক্ষ্যে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা সেটাকে অবশ্যই গুরুত্ব প্রদান করে নিজেকে একজন সুন্দর চিন্তার মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবো এবং নিজেদের সমাজের অগ্রগতির জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
জাল্লাং এনরিকো কুবি বলেন, নবাগত শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সংগঠনের সাথে যুক্ত থেকে নিজের দক্ষতার আত্মোন্নয়ন করতে পারে। পাশাপাশি নিজেদের স্ব স্ব সমাজ, সংস্কৃতি ও অস্তিত্ব নিয়ে সকলকে সচেতন হওয়ার প্রয়োজনীয়তা আছে।
অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ তঞ্চঙ্গ্যা স্টুডেন্ট ওয়েল ফেয়ার ফোরাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রতিনিধি নয়ন তঞ্চঙ্গ্যা, ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মাংক্রাত ম্রো, উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী জর্জিয়া চাকমা, শিক্ষা ও গবেষণা ইনিস্টিউটের শিক্ষার্থী হয়সাং খুমী, সাইনুমং মারমা ও চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী অলড্রিন ত্রিপুরা প্রমুখ।
গেট-টুগেদার অনুষ্ঠানের সভাপতি রত্নজয় তঞ্চঙ্গ্যার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘটে। উল্লেখ্য যে, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সার্বিক সহযোগিতায় প্রতিবছর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া নবীন আদিবাসী শিক্ষার্থীদের পরিচিতিমূলক গেট টুগেদার অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়ে থাকে।