11/10/2026
নাম নেহা বোরা। বয়স এখনো ৩০ ছোঁয়নি। উত্তরাখণ্ডের খটিমার এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার মেয়ে। JNU-র স্কুল অব আর্টসের পিএইচডি গবেষক এবং অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি।
কিন্তু আজকের ভারতে তার আসল পরিচয় কী জানেন?
শাসকের মসনদে কাঁ'পন ধরিয়ে দেওয়া এক অপ্রতিরোধ্য ঝড়ের নাম!
বাপের পরিবার ক'ট্টর বিজেপিপন্থী। কিন্তু এই মেয়ে পরিবারের কমফোর্ট জোনে বসে চামচামি শেখেনি। পারিবারিক রাজনৈতিক মতাদর্শ-কে ১৮০ ডিগ্রি উল্টো দিকে ঘুরিয়ে দিয়ে যে মেয়ে নিজের লড়াইয়ের ময়দান নিজে বেছে নেয়- তাকে আপনারা আটকাবেন কী দিয়ে? লাঠির ভয়? পুলিশের প্রিজন ভ্যান? নাকি ট্রল আর্মির সাইবার বু'লিং?
ভুলে গেছেন গত জুনের NEET কেলেঙ্কারির কথা?
লাখো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন যখন প্রশ্নফাঁ'সের বাজারে বিক্রি হয়ে যাচ্ছিল, এই নেহা বোরা রাজপথে একটানা ২৩ দিন অনশন ধ'র্মঘট করে বসে ছিল।
যে মোদি সরকার দম্ভ করে বলতো, আমরা কোনোদিন পদত্যাগ করি না- সেই সরকারকেও ছাত্রদের পায়ের তলায় মাথা ঝুঁকিয়ে তাদের প্রভাবশালী শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করাতে বাধ্য করা হয়েছিল!
অহংকার চুরমার হয়ে রাজপথের ধুলোয় মিশেছিল সেদিনই।
এবার টার্গেট কে? সেই চরম বিতর্কিত প্রধান নির্বাচন কমিশনার!
ভোট চুরির প্রহসন রুখতে ছাত্ররা রাস্তায় নামতেই তার মুখে কালি মাখিয়ে দিলো পেটোয়া বাহিনী।
ভেবেছিল মেয়েটা বুঝি লজ্জা পেয়ে মুখ লুকিয়ে ঘরে পালাবে?
হায়রে নির্বোধের দল!
সেই কালি মাখানো মুখটাই এখন সারা ভারতে প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় গ্ল্যামার হয়ে কোটি কোটি তরুণের টাইমলাইনে কাঁপন ধরাচ্ছে!
আন্দোলন থেকে মোদির পুলিশ তাকে এরেস্ট করে নিয়ে গেল।
বাট কয় ঘণ্টা আটকাতে পারলেন?
জেল থেকে ছাড়া পেয়ে মেয়ে এক মুহূর্তও সময় নষ্ট করেনি- সোজা আবার রাজপথের মাইক হাতে নিয়ে স্লোগানে কেঁপে উঠেছে রাজপথ!
এর ওপর যখন জার্মানি থেকে টপ ইনফ্লুয়েন্সার ধ্রুব রাঠী 'ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রি' দিয়ে ময়দানে এসে যোগ দিলো, তখন বুঝতেই পারছেন- খেলা কিন্তু এখন আর লোকাল লেভেলে নেই, দিল্লি দরবারের সিংহাসনের স্ক্রু আলগা হওয়া শুরু হয়ে গেছে!
ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী মানুষের পক্ষে সংহতি জানানো থেকে শুরু করে কারাবন্দী উমর খালিদ আর শারজিলদের মুক্তির দাবিতে নেহার আপসহীন বক্তব্যগুলো শুনুন। পলিটিক্যাল ইন্টিগ্রিটি আর গটস কাকে বলে, হাড়ে হাড়ে টের পাবেন!
মতাদর্শ নিয়ে আপনাদের তর্ক থাকতে পারে, রাজনৈতিক মতপার্থক্যও থাকতে পারে। কিন্তু তার সাহসকে আপনি কোনোভাবেই উপেক্ষা করতে পারেন না! বাবার প্রিভিলেজ ছেড়ে, পরিবারের রাজনৈতিক সুবিধা ছুড়ে ফেলে যে মেয়ে স্বৈরাচারের চোখের দিকে চোখ রেখে হাসতে হাসতে স্লোগান তোলে- সে স্রেফ একজন নেত্রী নয়, সে এ যুগের জীবন্ত ইতিহাস!
রাজনীতিতে প্রতি প্রজন্মে এমন দু-একজন মুখ আসে, যারা ক্ষমতার দাসত্ব করে না; বরং সময়ের গতিপথ ঘুরিয়ে দেয়। নেহা বোরা সেই আ/গুন। যতবার কালি মাখাবেন, প্রতিরোধের শি/খা তত দ্বিগুণ হয়ে আপনাদের চোখে-মুখে জ্বলবে!
#রাজপথেরলড়াই #বিপ্লবীনারী #স্বৈরাচারনিপাতযাক
© Khalid