31/12/2023
আর কিছুক্ষণ পরেই বিদায় নিতে যাচ্ছে ২০২৩ ঈসায়ী। ইসলামি ইমারাত দেশ পুনর্গঠনে কতটুকু এগুতে পেরেছে?
চলুন দেখে আসি ইসলামি ইমারাতের গত একবছরের অর্থনৈতিক সাফল্যের সংক্ষিপ্ত চিত্র।
ইসলামিক এমিরেট অফ আফগানিস্তান (IEA) সীমিত সম্পদ ও নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও দেশীয় রাজস্ব থেকে কয়েকটি বিশাল প্রকল্প সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছে।
এই বছর সমাপ্ত হওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলির মধ্যে কোশ টেপা খালের প্রথম অংশ এবং সলং টানেল ও তৎসংশ্লিষ্ট মহাসড়কের পুননির্মাণ অন্যতম।
সাতটি বৃহৎ খনিতে ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ পেয়েছে ইসলামি ইমারাত। খনি খাতে এটি অভূতপূর্ব সাফল্য। প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কের সম্প্রসারণ, বিদেশী মুদ্রার বিপরীতে আফগান মুদ্রা স্থিতিশীল থাকা, দেশ থেকে ডলার পাচার রোধ করা এবং প্রতিদিনের লেনদেনে বৈদেশিক মুদ্রার লেনদনে নিষিদ্ধ করা ২০২৩ সালে ইমারাতের ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কাবুল-কান্দাহার মহাসড়কের পুনর্নির্মাণের শুরু, সার-ই-পুল প্রদেশের কাশকারি কূপ থেকে তেল উত্তোলন এবং 500 কেভি জাউজজান-কাবুল লাইনের সম্প্রসারণের সূচনাও 2023 সালের প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে।
এছাড়া অন্যান্য দেশে আফগানিস্তানের রপ্তানিও বেড়েছে। ইসলামি ইমারাতের অর্থনীতি বিষয়ক উপ-প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দেওয়া পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে জানা যায়, এ বছরের রপ্তানি ১ দশমিক ৭১৭ বিলিয়ন ডলারে ছাড়িয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, বিদায়ী বছরের বিদায়ী মাসের রপ্তানি তথ্য এখনও প্রকাশিত হয়নি। উল্লিখিত রপ্তানি তথ্য এ বছরের গত ১১ মাসের পরিসংখ্যান থেকে নেওয়া।
আফগানিস্তানের রপ্তানি পণ্য ইরান, পাকিস্তান, ভারত, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, চীন, কাজাখস্তান ও আমেরিকায় রপ্তানি হয়েছে।
২০২৩ সালে বিদেশী মুদ্রার বিপরীতে আফগান মুদ্রার মান শুধু স্থিতিশীলই থাকেনি, বরং আফগান মুদ্রার মান উল্লেখযোগ্যহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইমারাতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিদেশী মুদ্রায় বাণিজ্যিক লেনদেন বন্ধ করে দেয়। পাশাপাশি ডলার আফগানিস্তানের বাইরে পাচার কঠোরভাবে রোধ করেছে।
এই বছর আফগানিস্তানের আমদানির ২১ শতাংশ ইরান থেকে, ১৮ শতাংশ আমদানি চীন থেকে, ১৮ শতাংশ পাকিস্তান থেকে এবং ১৪ শতাংশ আমদানি সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে হয়েছে।
এছাড়া উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান থেকে বিদ্যুৎ আমদানি হয়েছে। জলবিদ্যুতের জন্য ছোটবড় বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার হয়েছে। কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, চীন, তুরস্ক, ইরান, রাশিয়া, আরব আমিরাতের পাশাপাশি মধ্য এশিয়া ও মধ্য প্রাচ্যের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি পেয়েছে।
রেলপথ ও মহাসড়ক নির্মাণ ও সংস্কারের পাশাপাশি অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় অসামান্য অগ্রগতি, তেল উত্তোলন বৃদ্ধি, অবকাঠামো বিনির্মাণ, বন্ধ থাকা কারখানা পুনরায় চালু করা, নতুন শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠা সহ বিভিন্ন সেক্টরে গুরুত্বপূর্ণ উন্নতি হয়েছে।
তবে বছরের শেষে আশা জাগানিয়া সংবাদ হলো, ইসলামি ইমারাত প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পেতে যাচ্ছে। যা এখন আলোচনার টেবিলে। তাই নির্দ্বিধায় বলা যায়, ২০২৩ সালে আফগানিস্তানের ইসলামি ইমারাত সরকার অর্থনীতি খাতে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, আফগানিস্তানকে বর্তমান পরিস্থিতি থেকে আরও ভাল অবস্থায় নিয়ে যেতে ইমারাত সরকারের আরও প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।