14/05/2026
সূরা আল-হাশরের শেষ ৩ আয়াত (আয়াত ২২-২৪) পবিত্র কুরআনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এতে আল্লাহ তা‘আলা নিজের অনেক সুন্দর গুণবাচক নাম (আসমাউল হুসনা) একসাথে উল্লেখ করেছেন। এই আয়াতগুলো নিয়মিত পাঠ করলে আল্লাহর স্মরণ বাড়ে, হৃদয় শান্ত হয় এবং বিশেষ ফজিলত লাভ হয়।
প্রথমে আয়াতগুলো আরবি, উচ্চারণ ও বাংলা অর্থসহ দেখে নিন:
✅ আয়াত ২২:
هُوَ اللّٰهُ الَّذِیۡ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ ۚ عٰلِمُ الۡغَیۡبِ وَ الشَّهَادَۃِ ۚ هُوَ الرَّحۡمٰنُ الرَّحِیۡمُ
উচ্চারণ: হুওয়াল্লা-হুল্লাজী লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়া, ‘আলিমুল গাইবি ওয়াশ শাহাদাতি, হুওয়ার রাহমা-নুর রাহীম।
অর্থ: তিনিই আল্লাহ, যিনি ছাড়া কোনো সত্যিকারের উপাস্য নেই। তিনি অদৃশ্য ও দৃশ্যমান সবকিছুর জ্ঞানী। তিনি পরম করুণাময়, অত্যন্ত দয়ালু।
✅ আয়াত ২৩:
هُوَ اللّٰهُ الَّذِیۡ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ ۙ الۡمَلِكُ الۡقُدُّوۡسُ السَّلٰمُ الۡمُؤۡمِنُ الۡمُهَیۡمِنُ الۡعَزِیۡزُ الۡجَبَّارُ الۡمُتَكَبِّرُ ۚ سُبۡحٰنَ اللّٰهِ عَمَّا یُشۡرِكُوۡنَ
উচ্চারণ: হুওয়াল্লা-হুল্লাজী লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল মালিকুল কুদ্দূসুস সালা-মুল মু’মিনুল মুহাইমিনুল ‘আজীজুল জাব্বা-রুল মুতাকাব্বির। সুবহা-নাল্লা-হি ‘আম্মা ইউশরিকূন।
অর্থ: তিনিই আল্লাহ, যিনি ছাড়া কোনো সত্যিকারের উপাস্য নেই। তিনি মালিক, পবিত্র, শান্তি দাতা, নিরাপত্তা দানকারী, রক্ষক, পরাক্রমশালী, প্রবল, অত্যন্ত মহান। আল্লাহ পবিত্র, মুশরিকরা যা শরীক করে তা থেকে।
✅ আয়াত ২৪:
هُوَ اللّٰهُ الۡخَالِقُ الۡبَارِئُ الۡمُصَوِّرُ ۖ لَهُ الۡاَسۡمَآءُ الۡحُسۡنٰى ۚ یُسَبِّحُ لَهٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضِ ۚ وَ هُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَكِیۡمُ
উচ্চারণ: হুওয়াল্লা-হুল খা-লিকুল বা-রিউল মুসাওয়ির। লাহুল আসমা-উল হুসনা। ইউসাব্বিহু লাহু মা ফিস সামা-ওয়াতি ওয়াল আরদ। ওয়া হুওয়াল ‘আজীজুল হাকীম।
অর্থ: তিনিই আল্লাহ, সৃষ্টিকর্তা, উদ্ভাবক, রূপদাতা। তাঁর জন্যই সুন্দরতম নামসমূহ। আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু আছে সবই তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে। তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
➡️ এই ৩ আয়াতের ৬টি বিশেষ ফজিলত (যা জানলে নিয়মিত পড়া ছাড়তে পারবেন না)
▪️ফজিলত ১: ৭০ হাজার ফেরেশতা আপনার জন্য দোয়া করবেন
রাসূল ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি সকালে এই আমল করে, আল্লাহ তার জন্য ৭০ হাজার ফেরেশতা নিয়োগ করেন। তারা সন্ধ্যা পর্যন্ত তার জন্য মাগফিরাত (গুনাহ মাফ) ও রহমতের দোয়া করতে থাকেন। সন্ধ্যায় পড়লে সকাল পর্যন্ত একই ফজিলত।
▪️ফজিলত ২: সকাল থেকে সন্ধ্যা (বা সন্ধ্যা থেকে সকাল) পর্যন্ত আল্লাহর পূর্ণ হিফাজত
এই আমলের মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলা আপনাকে সারাদিন বা সারারাত শয়তান, বিপদ-আপদ, দুর্ঘটনা ও অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেন।
▪️ফজিলত ৩: সেদিন মারা গেলে শাহাদাতের (শহীদের) মর্যাদা
যদি সকালে আমল করে সেদিন মৃত্যু হয়, অথবা সন্ধ্যায় আমল করে রাতে মৃত্যু হয়—তাহলে সে শহীদের মর্যাদা লাভ করে।
▪️ফজিলত ৪: শয়তান থেকে বিশেষ হিফাজত
আমল শুরুতে তিনবার “আউযুবিল্লাহিস সামীইল আলীমি মিনাশ শাইতানির রাজীম” পড়ার কারণে শয়তান আপনার কাছে আসতে পারে না। আল্লাহর দুটি নাম (সামী‘ ও আলীম) উল্লেখ করে শয়তানকে দূরে রাখা হয়।
▪️ফজিলত ৫: গুনাহ মাফ ও কবরের আজাব থেকে মুক্তি
নিয়মিত আমল করলে আল্লাহ গুনাহসমূহ ক্ষমা করেন এবং কবরের আজাব থেকে রক্ষা করেন। ফেরেশতারা কবরে সালাম দিয়ে জান্নাতের দরজা খুলে দেন।
▪️ফজিলত ৬: হৃদয়ে ঈমানের প্রশান্তি ও আল্লাহর নৈকট্য
এই আয়াতগুলোতে আল্লাহর গুণাবলি পড়ে হৃদয় শান্ত হয়, তাকওয়া বাড়ে এবং আল্লাহর সাথে সম্পর্ক মজবুত হয়। এটি ইসলামের মূল বিশ্বাস (তাওহীদ) আরও গভীর করে।
➡️ আমলের সহজ নিয়ম (প্রসিদ্ধ অনুসারে)
▪️সকালে: ঘুম থেকে উঠে তিন বার "আউযুবিল্লাহিস সামীইল আলীমি মিনাশ শাইতানির রাজীম” বলুন, তারপর এই ৩ আয়াত পড়ুন।
▪️সন্ধ্যায়: মাগরিবের পর একইভাবে পড়ুন।
▪️ফজর ও মাগরিবের নামাজের পরও পড়া যায়।
এই আয়াতগুলো পড়তে মাত্র ১-২ মিনিট লাগে, কিন্তু ফজিলত অপরিসীম। যারা নিয়মিত আমল করেন, তারা বলেন—হৃদয়ে এক অদ্ভুত শান্তি অনুভব হয়।
সতর্কতা: হাদিসের সনদ নিয়ে কিছু আলেমের মতভেদ আছে। তাই সতর্কতার সাথে আমল করুন এবং বিশ্বস্ত আলেমের সাথে পরামর্শ নিন। তবে আল্লাহর গুণাবলি স্মরণ করা তো সবসময়ই উত্তম আমল।