07/02/2016
মুক্তচিন্তা সবখানে...
নারী বিষয়ক মুক্তচিন্তার অন্যতম দিকপাল- তসলিমা নাসরিন। তসলিমা নাসরিন এই ফেব্রুয়ারি মাসের দু তারিখে ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছেন। স্ট্যাটাসের কিছুটা তুলে দিচ্ছি। আমাকে গাল দিয়ে লাভ নেই, এই উদ্ধৃত অংশটুকুর কথাগুলো আমার নয়। তসলিমা আন্টির।
“ঋতুচক্রের রক্তটা এবার ঝরছে প্রচণ্ড... আট প্যাড... অনিয়মিত... ঠিক আঠাশ দিনের দিন উঁকি দিচ্ছে না... তবে কি বিদায়ের সাইরেন... থোড়াই কেয়ার করি... লুব্রিক্যান্ট ইউজ করলেই জমিয়ে সেক্স করা যাবে।”
স্ট্যাটাস পুরোটা দিলুম না। আগ্রহী পাঠকেরা তসলিমার প্রোফাইলে গিয়ে পড়ে দেখতে পারেন।
এই হচ্ছে মুক্তচিন্তার নমুনা।
কদিন আগে বলিউডের অভিনেত্রী, প্রিয়াংকা চোপড়া বলেছেন, “বাচ্চা পয়দা করা ছাড়া পুরুষের আর কোন দরকার নেই।”
চোরে চোরে যেমন মাসতুতো ভাই, তেমনি চুন্নিতে চুন্নিতে ফেসতুতো বোন। প্রিয়াংকার এই কথাকে আবার তসলিমা সাধুবাদ জানিয়েছে। প্রতিক্রিয়াতে প্রিয়াংকা আবার বলেছে তসলিমা সাহসী নারী। সে তার লেখার ভক্ত ইত্যাদি ইত্যাদি।
বাচ্চা পয়দা ছাড়া পুরুষের কোন দরকার নাই- কথাটা নারী স্বাধীনতা এবং মুক্তচিন্তার এক অনবদ্য নজির।
আজ দেখলাম এক মেয়ে ফেসবুকে এক ইভেন্ট শেয়ার করেছে। ইভেন্টের শিরোনাম বেশ চটকদার- ‘ভালোবাসা দিবসে পুলিশি পাহারায় প্রকাশ্যে চুমু খাবো।’
ইভেন্ট দেখে বলেছি, জয় হোক হে নারী!
এছাড়া, এখনকার নারীদের প্রায় স্ট্যাটাসেই পুরুষদের মুণ্ডুপাত চলছে তো চলছেই। মেলাতে গেছে? ঠেলা দিচ্ছি। বাসে উঠেছে? ঠেলা দিচ্ছি। ফেসবুকে ছবি দিয়েছে? গাল দিচ্ছি। মাঝে মাঝে ভাবি, এই ঠ্যালা গুঁতো দেওয়া ছাড়া কি পুরুষের আর কোন কাজ নেই?
হুম ঠ্যালা দেয় অনেকেই, গুঁতো দেয় অনেকেই। এজন্যে পুরুষ হয়েও এসব পুরুষদের বিরুদ্ধে পোস্ট লিখেছি। লজ্জিত হয়েছি। অনেক নারীরা সেসব পোস্টে লাইক দিয়েছেন, মনে মনে বলেছেন, আহারে কি ভদ্র পুলা।
উহু আমি ভদ্র পুলা না, ভীরে নারীদের শরীরে হাত দেই না ঠিকই, তবে এই তসলিমা, প্রিয়াংকা, নায়লা নাঈম, জ্যাকলিন মিথিলাদের ভালোও বলি না। রাস্তায় গালি না দিলেও বন্ধুদের আড্ডায় ঠিকই দুটো গালি দেই।
এখন নারীরা... এই সব নারীদের জন্যে, মানে যাদের জন্যে গোটা নারীকুল অসম্মানিত হচ্ছে... আপনারা বিন্দুমাত্র লজ্জিত বোধ করবেন কি? দেখা যাক।
মুক্তচিন্তার কথা যখন আসলোই, তখন এদেশে মুক্তচিন্তার আরেক দিকপাল, হুমায়ূন আজাদের দুটো উদ্ধৃতি উল্লেখ না করলেই নয়।
উদ্ধৃতি ১ –চোখের সামনে আমার মেয়ে বড় হচ্ছে। কিন্তু সামাজিক নিয়মের বেড়াজালে আমার হাত-পা বাঁধা।
উদ্ধৃতি ২ – বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েরা চুইংগামের মত। চাবাতে ইচ্ছা করে।
এখনো অনেকে দেখি হুমায়ূন আজাদকে স্যার স্যার বলে মুখে ফেনা তোলে। তাদের একটা কথা বলি, কথাটা স্বয়ং হুমায়ূন আজাদের কথা থেকেই বলি-আবর্জনাকে রবীন্দ্রনাথ প্রশংসা করলেও আবর্জনাই থাকে।
নারীস্বাধীনতা – এই শব্দের অর্থের অপব্যবহার করে, পুরুষেরা আজীবনই নারীকে কেবল ভোগ্যপণ্য হিশেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছে। এখন কি বুঝে যেন নারীরাও তাতে যোগ দিচ্ছে।
স্বাধীনতা মানে সম্মান নিয়ে বাঁচা, অসম্মান নিয়ে বাঁচা নয়। আর এই সম্মান নিয়ে বাঁচতে হলে “স্বাধীনতা” শব্দটাকেই এখন আগে বাঁচাতে উচিত। তারপর অন্য কিছু।
(Ahmed ishtiak).......baba tuje salammm....