CGSA College Crushes & Confessions

CGSA College Crushes & Confessions A platform where you could express you words for someone!
ইনবক্সে পাঠিয়ে ?

একটি প্রেমের গল্প **********************প্রথমেই বাবা-মা বা অভিভাবকদেরকে বলব, আমার লেখাটা দেখে তোমরা মোটেও অবাক হবে না। ব...
26/10/2019

একটি প্রেমের গল্প
**********************
প্রথমেই বাবা-মা বা অভিভাবকদেরকে বলব, আমার লেখাটা দেখে তোমরা মোটেও অবাক হবে না। বরং আমি দোয়া করি তোমাদের ছেলে-মেয়েরা যেন শরীর আর মনের গোপন বিষয়গুলোর জ্ঞান দুষ্ট বন্ধুদের কাছ থেকে না পায়। ভয়ংকর ব্যাপার হচ্ছে, এই দুষ্ট বন্ধুরা থিওরি-প্রেকটিক্যাল দুটিই শিখানোর চেষ্টা করে।
***********************
আমি সাধারণত ভালবাসা বা প্রেম নিয়ে এখনকার ছেলে-মেয়েদের লেখা এড়িয়ে চলি। জাস্ট জেনারেশন গ্যাপের কারনে। কিন্তু সোস্যাল মিডিয়ায় হঠাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রীর লেখাতে কি করে যেন চোখ আটকে গেল। ওরা আমার খুব প্রিয় কয়েকজন। ওদের সাথে আমার ভালবাসার গল্পটি অতি সংক্ষিপ্তভাবে শেয়ার করেছিলাম; কিন্তু কে জানত একসপ্তাহ না জেতেই তা ফেসবুকে ভাইরাল হবে ! আবার অতি সংক্ষিপ্ত হওয়াতে ম্যাসেজগুলোও ঠিকমতন যায়নি। যাইহোক, আমার জীবনের ভালবাসার সংক্ষিপ্ত গল্পটাকে এখানে কিছুটা পূর্ণরূপ দেয়ার চেষ্টা করলাম।
***********************
আমার প্রথম ভালবাসা ছিল আমার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ক্লাসমেটের সাথে, নাম সুলতানা। এর পরের ভালবাসাগুলো আমার মেয়েদের সাথে। যা বলছিলাম, ভাইবা পরীক্ষারদিনই আমি সুলতানাকে দেখে মুগ্ধ। শুরুহল, ওকে ধিরে ধিরে বোঝা আর জানা। তারপর প্রথম বর্ষেই প্রস্তাব। কিন্তু আমাদের তথাকথিত ব্যবধানটা আকাশ-পাতাল! ও ছিল একমাত্র রাজকন্যা, আর আমি টিউশনি করে নিজের খরচ চালাই। তারপরও ওর শর্ত একটাই, "আমার বাবাকে রাজি করাতে হবে।" এরপর ওর সাহায্য নিয়ে কত রিহার্সেল দিয়েছিঃ কিভাবে ওর বাবাকে ম্যানেজ করব।
ভালবাসা কোন মধুর কিছু না, বরং এর প্রতিটি পরতে পরতে লুকিয়ে থাকে অনেক দায়িত্ববোধ, অনেক বেদনা। ঐ সময় আমাদেরও অনেক খারাপ সময় গেছে। নারায়ণগঞ্জ একটা ইন্ডাস্ট্রি এলাকা। আমার সাথের বন্ধুরা তখন অনেকেই ব্যবসায় হাতেখড়ি নিচ্ছে। তাই একবার দ্রুত টাকা কামানোর আশায় আমিও পড়াশোনা ছেড়ে দিলাম! ২মাস পরে "ভুল" বুঝতে পেরে আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিরে এসেছি। তারপর আমরা দুজনে নিজেদের মতো করে সুস্থ সুন্দর প্ল্যান সাজিয়ে নিয়েছি। ভালবাসার সম্পর্কে আমরা অনেক নোংরামিকে "না" করেছি। আমাদের না মানেঃ "না"। এরফলে দু'জনের মধ্যে সম্মান বৃদ্ধি পয়েছে; সম্পর্ক আরো টেকশই হয়েছে।
আমাদের সময়ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার মান ভাল ছিল না। ৯০% ছাত্র-ছাত্রী নীলক্ষেতের শীট নিয়ে পড়াশোনা করত। এই পড়াশোনা আমাকে টানত না। আমার বিশ্ববিদ্যালয়কালীন বেশিরভাগ সময় কেটেছে নারায়নগঞ্জের বিভিন্ন ক্লাবে, সেইসাথে বিশব্যাংক আর ইউনিসেফে, ভলান্টারি করে। আর অনেকটা কেটেছে নারায়ণগঞ্জের সূধিজন পাঠাগারে। অনেকেই জানে না যে, সূধীজন পাঠাগার বাংলাদেশে গর্ব করার মতন একটি মানসম্পন্ন প্রাইভেট পাঠাগার। এই পাঠাগারের শত শত ননফিকশন বই তখন আমার বিশ্ববিদ্যালয় দিনের সংগি।
ভলান্টারিতেও আমার অনেকটা সময়ই কেটেছে। এটাকে বন্ধুরা বলত "নিজেরটা খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো।" কিন্তু সুলতানা ছিল সবসময় সাপোর্টিভ। ওর উৎসাহে এই ভলান্টারি কাজ পরবর্তিতে বিশব্যাংকের সাথে আমার পেশাগত সম্পর্ক গড়ে দিয়েছিল। অন্ততঃ আমার চাকুরি জীবনের শুরুতে যখন "বিদেশে যাওয়া" স্বপ্নেও ভাবতে পারতাম না, তখন বিশ্বব্যাংক আমাকে ১৪ বার প্লেনে ওঠার সুযোগ করে দিয়েছিল। কিন্তু যতবারই বিদেশে গিয়েছি আমার দেশপ্রেম শতগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৩ সালে যখন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সেনজেন মাল্টিভিসা নিয়ে ফ্রান্স থেকে চলে আসছিলাম, আমার ফ্রান্সের কলিগ আর বন্ধুরা বারবার দেশে ফিরতে না করেছিল। কিন্তু আমার ভালবাসা আর দেশপ্রেমের কাছে ওরা হার মেনেছে।
ভালবাসার গল্পে ফিরা যাক। আমরা আরেকটি বিষয় কখনো করিনি; আমরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সময়কার সুখ-দুঃখ আমাদের ফ্রেন্ড, যারা আবার আমাদের ক্লাসমেট, ওদের সাথে কখনো শেয়ার করিনি। যেমন, ২য় বর্ষেই আমাদের বিয়ে পাকাপাকি হয়ে গেল এই শর্তে যে "মাস্টার্সের পর চাকরিতে ঢুকতে হবে, তারপর বিয়ে।" অবশ্যই একটা ভাল খবর, সুখবর। কিন্তু আমাদের ক্লাসমেট বন্ধুরা কখনোই তা জানতে পারেনি। আমরা জানাইনি "সমাজের ভয়ে"। সুলতানার ভয় ছিলঃ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের সমাজটা মেয়েদেরকে অন্যভাবে দেখে। তারা মনে করে "ভালবাসা পাপ"৷ আরেকটা কারনেও এটা হয়েছিলঃ আমরা দুজনেই প্রচন্ড সেক্রিফাইস করতাম। আর আমাদের কোন "ইগো প্রবলেম" ছিল না।
তারপরের ঘটনাঃ ১৯৯৪ সালে আমাদের সম্পর্কের নতুন রূপ পেল ২০০০ সালে বিয়ের মাধ্যমে। তারপর আমাদের ঘরে এল দুই মেয়ে। বড় মেয়ে ইনায়া এখন ক্লাস টেনে, আর ছোটটা ইরা, ক্লাস সিনিয়র কিন্ডারগার্টেন।
সম্পর্কের ব্যাপারে মারাত্মক কমিটম্যান্ট থাকতে হয়। সেই সাথে থাকতে হয় ভাল বোঝাপড়া। তবে একটা বড় প্রশ্নঃ যাকে পছন্দ করছ তার সাথে সারাটা জীবন কাটাতে পারবেতো ? আর এক্ষেত্রে ছেলেদেরকে স্বাভাবিকভাবেই বেশি দায়িত্ব নিতে হবে। এই দায়িত্বটাকে শুধু ভাল চাকুরি বা অর্থ দিয়ে সংজ্ঞায়েত করলে অনেক ছোট করা হবে। এটাকে কোনভাবেই বাক্স বন্দি করা যাবে না। দু'জনের চরিত্র যাচাই শুরু হয় দুই বাড়ির মানুষদেরকে সম্মান করার মধ্য দিয়ে; যদিও ভালবাসার বিয়েতে তারা সারাক্ষণ পিড়া দিবে। একটু ঝগড়া হলে বলবে, "নিজেদের পিছন্দের বিয়ে, এখন সমস্যা হয় কেন?"। আর বাবা-মার পছন্দে বিয়ে করলে বলবেঃ "দুইজন মানুষ একত্রে থাকলে একটু-আধটু এমন হবেই।" আমরা দু'জনেই সচেতন ছিলামঃ বাড়ির কেউ কখনো কোন অবস্থায়ই যেন পছন্দের মানুষটিকে খারাপ কিছু না বলে। এব্যাপারে একদম জিরো টোলারেন্স। কারণ এতে নিজের সম্মানটাই কমে। দু'দিন আগে আর পরে "আমাদের সংসার তো আমাদেরই গুছাতে হবে।"
আরেকটি কথা, যেদিন থেকে সম্পর্ক শুরু হয়েছে সেদিন থেকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাবা-মার কাছে হাত পাতা বন্ধ করতে হবে। এক টাকাও নিবে না; এমনকি বিয়ের অনুষ্ঠানের খরচও না। আমার ইনকাম তখন কম ছিল বলে ছোট্ট করে অনুষ্ঠান করেছিলাম; কিন্তু তারপরেও আমরা নিজেদের ভাললাগা কাজগুলো করতাম। যেমন, আমাদের বিয়ের কার্ডটি ছিল আমার আর সুলতানার ডিজাইন করা। কার্ডটি ডিজাইন করা হয়েছিল পল্টনের আজাদ প্রডাক্টসের বিল্ডিংএ। আমাদের নিজেদের ৪টি ছবি দিয়ে বিয়ের কার্ডটি ছাপানো হয়েছিল, আজ থেকে ২০ বছর আগে। ওটা আমাদের বড় একটা ভাললাগার স্মৃতি ধারন করে।
এখন সোস্যাল মিডিয়ার যুগে আমাদের দূরের বন্ধুরাও কাছে চলে আসছে; আর কাছের অনেক বন্ধু দূরে চলে গেছে। আবার প্রতি মুহূর্তে ওরা বাঁধভাঙা মন্তব্য করছে। সেইসাথে সবার হাতে আছে উচ্চ রেজুলেশনের ক্যামেরা যা দিয়ে যে কোন সময় তোমাদেরকে ফ্রেমে বন্দি করা যায়। কিন্তু আমাদের সময় ফোন, ইন্টারন্যাট, ক্যামেরা কিছুই ছিল না। সেকারনে বন্ধুত্বটাও ছিল একটু অন্যরকম। তবে আরেকটি জরুরী দিক হচ্ছেঃ তোমাদের কাছের কিংবা দূরের সব বন্ধুদেরকে কোনভাবেই "ভালবাসার গল্পে" প্রবেশ করতে দিবে না। একটু ঠাট্টার ছলে বলবঃ ওদেরকে "রাম ছাগল" বানিয়ে রাখবে। (দোস্তরা, তোরা রাগ করিস না)। বন্ধুদের সাথে ভালবাসার গল্প বা সম্পর্কের গল্প যত কম শেয়ার করবে ততই তোমাদের জন্য মঙ্গল। অবশ্য সম্পর্কটা যদি সিরিয়াস হয়ে থাকে।
আমি কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের সময়কার কথা বলেছি। ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজেও স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের সম্পর্ক কেন জানি মেনে নিতে পারি না। মনে হয় এটা ওদের বয়সের কারণে। অবশ্য সারা দুনিয়াতেই "১৮ বছরকে" সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার যোগ্যতার মাপকাঠি ধরা হয়। স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে বলবঃ এই বয়সেই কারোর সাথে কমিটমেন্টে না যেয়ে তোমার ১৮ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা কর; সিদ্ধান্তের পরিবর্তন হতে পারে। আর সব সময় সঠিক না হলেও এটা মেনে নিতেই হবে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেদের ব্যাপারে সচেতনভাবেই সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। আর সকল ক্ষেত্রে ছেলে-মেয়েরা বাবা-মা'র সাথে অবশ্যই আলোচনা করবে। অবশ্য বাবা-মা দু'জনকে অথবা অন্ততঃ একজনকে সেক্ষেত্রে বন্ধু হওয়া দরকার। বাবা-মাকেও মনে রাখতে হবে যে, ১৮+ ছেলেমেয়েদের আইনগত অধিকার রয়েছে নিজেদের ব্যাপারে একটি সুন্দর সিদ্ধান্ত নেয়া। তাই বাবা-মা'র উচিত সন্তানের সাথে বন্ধুর মতন আচরন করা। তাহলে সন্তানের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাটা অনেকখানি যুক্তিসম্মত হয়।
"হঠাৎকরে একজন এসে বলল "কবুল", আর আমাকে তার সাথে বাকি জীবনটা কাটাতে হবে" - আজকের দুনিয়ায় এটা একটা স্টুপিড আইডিয়া। কারণ মানুষ এখন অনেক বেশি খারাপ হয়ে গেছে। তবে ধোঁকাবাজি করে বিয়ে করানোর এটা একটা উত্তম পন্থাও বটে; বিশেষ করে যেসব বাবা-মা যৌতুক নিয়ে ছেলেকে বিয়ে করাতে চায়, অথবা যৌতুক দিয়ে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার জামাই কিনতে চায়। পেশাগত কারনে নারায়নগঞ্জের এক সুদর্শন ডাক্তারের সাথে আমার ভাল পরিচয় ছিল। একদিন উনার শ্বাশুড়ি, যিনি নিজেই একজন প্রথমসারির সরকারি সিনিয়র ডাক্তার, হঠাত করে এসে আমাকে তার জামাইয়ের ব্যাপারে প্রশ্ন করা শুরু করল। আমিতো অবাক! সেদিনের পর থেকে তার জামাইকে আর নারায়নগঞ্জে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরকম ঘটনা একটা না, আমার আশেপাশে কমপক্ষে অর্ধশত দম্পতি দেখাতে পারব যারা এখন সত্যিকার অর্থেই "অসুখি"। পুনর্জন্মের সুযোগ থাকলে তারা কখনোই একজন-আরেকজনকে জীবনসংগি হিসেবে মেনে নিবে না।
তবে, ভালবাসার গল্পেও অনেক বেদনার সুর থাকে। তাই আমি বলি, নিজেদের মধ্যে আগেই বোঝাপড়া করে নাও। একটা চিরন্তন সত্য কথা মনে রাখবেঃ তুমি পোষা প্রাণির চরিত্র বদলাতে পারবে, কিন্তু মানুষের চরিত্র বদলানোর আশা করো না। আকাশকুসুম কল্পনা করে বা স্বপ্নবিভোর হয়ে পরে নিজের জীবনটা নষ্ট করে দেয়ার কোন মানেই হয় না। বরং দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল অনেক ভাল।
প্রতিটি মানুষের জীবনই তার নিজের কাছে সবচেয়ে দামি।
তোমাদের সবার সুন্দর জীবন কামনা করছি।

- M Azhar Hossain - AJ

Address

College Road
Chowmohani
3821

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when CGSA College Crushes & Confessions posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The University

Send a message to CGSA College Crushes & Confessions:

Share