05/02/2026
'হাশেমিয়ান্স ডিবেটিং ক্লাব' কে
অভিনন্দন এবং
তোমরা জিতলেই আমরা জিতে যাই।
'হাশেমিয়ান্স ডিবেটিং ক্লাবের' বিতার্কিকদের জানাই উষ্ণ অভিনন্দন।
ওহ হ্যা, সবেধন নীলমনি বলতে আমার যা (মন ও মস্তিষ্ক) একটুখানি ছিলো সাম্প্রতিক নানা বিড়ম্বনায় সেটিরও যারপরনাই অবস্থা। ভগ্নদশায় কী আর শব্দের গাঁথুনি ঠিক রাখা যায়! তবুও ভগ্নচিত্তেই আজ লেখতে বসেছি, যা বর্ণ সাজানোর একটু প্রয়াস বৈকি।
এবার মোটকথায় আসি।
গত পহেলা ফেব্রুয়ারি 'মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর' কক্সবাজার পাবলিক হলে শিক্ষার্থীদের মাঝে মাদক বিরোধী সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে-
'মাদক বিরোধী বিতর্ক' প্রতিযোগিতা-২০২৬
এর সেমিফাইনাল ও ফাইনাল পর্ব আয়োজন করে। উক্ত আয়োজনে কক্সবাজার হাশেমিয়া কামিল মাদরাসা সেমিফাইনালিস্ট হিসেবে অংশগ্রহণ করে।
দ্বিতীয় ছবিতে, তারা প্রতিভাধর, পরিশ্রমীও বটে। কিন্তু পহেলা ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার পাবলিক হলে ভাগ্য তাদের সাহচর্যে হাঁটেনি।
তবে ছেলেরা অন্তপ্রাণ যে চেষ্টা করেছে এইতো সাফল্য। প্রতিযোগিতার নিয়মে একদলকে তো হারতে হতই।
শক্ত প্রতিপক্ষের সঙ্গে বাগ্মিতায় হারাও তো সম্মানের। দুই পক্ষের বাক লড়াইয়ে প্রাপ্ত নম্বর যথাক্রমে
বিজিত-১০৩.৫ --- ১০৪.৫ বিজয়ীর পার্থক্যই বলে দিচ্ছে প্রোগ্রামটি কতটা উপভোগ্য ছিল। হল রুমের দর্শকদের উচ্ছ্বাসও ছিলো দেখার মতো এবং তারাও হয়তো ফলাফলে হাশেমিয়ার ব্যথায় সমব্যথীত হয়েছে।
সঙ্গত কারণে আমি বিতর্ক কার্যক্রমটি সম্মুখ সারিতে বসেই উপভোগ করছিলাম এবং বুদ হয়ে শুনছিলাম আমার শিক্ষার্থীদের। অবাক বিস্ময়ে ওদের দিকে তাকিয়ে স্বগতোক্তিতে অস্ফুটস্বরে বারংবার আমার মনে উক্ত হয়েছে,
চমৎকার ও অসাধারণ পারফরম্যান্স।
প্রতিপক্ষ বক্তাদের সন্মান দিতেই হয় এজন্য যে, তাঁরা ওদের বিট করেছে। কেননা 'ম্যান অব দ্যা ম্যাচ' ছিলো আমাদের (সেরা বক্তা)। কিন্তু আমরা বিজিত দলে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনকই বটে কিংবা অদৃষ্টের বিড়ম্বনাও বলা যেতে পারে।
তবে মাদক বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৬ এ হাশেমিয়ার প্রাপ্তি অনেক। অপ্রাপ্তি বলতে এতটুকুই যে, ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে একটা আলতো হোঁচট খেয়েছে।
যদিও সান্ত্বনা স্বরুপ ছেলেদের বলেছি, হোঁচট না খেয়ে কে কবে মেরুদণ্ড সরল রেখে হাঁটতে শিখেছে?
এও বলেছি Life is a long race.
পথের কোন বাঁকে জীবন তোমাদের কোন উপহার দিবে তা বলা মুশকিল, ভাবনার অতীত তো বটেই।
তবে আমরা শিখছি। মেধা, শ্রম এবং অধ্যাবসায় এই তিনের সমন্বয়ে আমরা যখন হয়ে উঠবো যোগ্য,
তখন ভাগ্যও আমাদের তরে হবে সুপ্রসন্ন।
কেননা হুমায়ুন আহমেদ স্যারের একটা কথা আছে, "ভাগ্য সবসময়ই যোগ্যদের সাহচর্যে হাঁটে"।
এবং ধন্যবাদ স্যার,
হাশেমিয়ার দক্ষ কাপ্তান, জনাব Rahamat Salam
'হাশেমিয়ান্স ডিবেটিং ক্লাবের' পথযাত্রায় তিঁনি সজাগ দৃষ্টি নিবন্ধ করেছেন এবং করছেন এজন্যে। শুধু তাই নয়, 'হাশেমিয়া ডিবেটিং ক্লাবের' অংশীজন হতে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ প্রদান এবং জেলায় বিভিন্ন বিতর্ক প্রোগ্রামে অংশগ্রহণে ওনার পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব সত্যিই প্রশংসাযোগ্য।
শিক্ষার্থীদের বলছি, তোমরা একাডেমিক পড়ালেখার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্ব দিবে। কেননা ডিবেটিং এর নিমিত্তে শিক্ষার্থীর মেধার তীক্ষ্ণতা বৃদ্ধি এবং জ্ঞানের পরিধি বিস্তৃত হয়। বিতর্কের নির্ধারিত বিষয়ে সমবেত প্রচেষ্টা ও গবেষণা, বিভিন্ন সোর্স থেকে জ্ঞান অন্বেষণ, আহরণ করা জ্ঞানকে বিশ্লেষণ এবং উপস্থাপন একজন শিক্ষার্থীকে সুবক্তা তো বটেই বরং তার মেধাকে আরো ক্ষুরধার ও শাণিত করে তোলে।
উভয় পক্ষের যুক্তি খন্ডন উপরন্তু প্রতিপক্ষের তীর্যক প্রশ্নে প্রত্যুৎপন্নমতি সদুত্তরের সক্ষমতা তাকে করে তোলে উপস্থিত বুদ্ধি সমপন্ন।
বিতর্কের বিভিন্ন বিষয়ে সমবেত কাজ ও গবেষণা, আর্টিকেল অধ্যয়ন, পত্রিকা পাঠ সর্বোপরি জ্ঞান অর্জন সমেত বিষয়ের স্মার্ট সজ্ঞায়ন এবং যুক্তিতর্কে সুচারু উপস্থাপনের নিমিত্তে অনুশীলনে অনুশীলনে রপ্ত হয় অসাধারণ জ্ঞান ও দক্ষতা।
ফলস্বরুপ বাস্তব জীবনে বন্ধুর পথে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তিনি কিংকর্তব্যবিমুঢ় না হয়ে বরং তার মস্তিষ্ক থাকে গতিশীল ও প্রত্যুৎপন্নমতি।
শিল্পী যেমন নানান কসরতে নিজস্ব সত্তার সাথে প্রতিভার মিলনে শৈল্পিক সত্তাকে ফুটিয়ে তোলেন, একজন বিতার্কিক ঠিক তেমনি কথার শিল্পমালায় শব্দের সঠিক বুননে যুক্তি ও তথ্যের সমন্বয়ে তার বক্তব্যকে সুচারুভাবে উপস্থাপন করেন।
বিতর্ক হলো মেধা, মনন ও প্রতিভার চর্চা।
এই চর্চায় তো ছাত্র-ছাত্রীদের অনুসন্ধিৎসু মন, যুক্তি অনুধাবন, পরমতসহিষ্ণুতা ও অন্যের মতামতকে সন্মান প্রদর্শন করা শেখাবে।
যা একটি গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে, এটি হতে পারে অন্যতম সহায়ক।
আমার বুঝে আসে না!
দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই সংসদীয় বিতর্ক আয়োজন করলে ক্ষতি কী?
বরং লভ্যাংশ হলো আমাদের ভবিষ্যৎ সাংসদরা ছোটবেলা থেকেই অনুশীলনে অনুশীলনে সুন্দর শব্দ চয়ন আর সঠিক শব্দের বুননে সংসদ অধিবেশন করে তুললো আমাদের দুই কর্নের জন্যে শ্রুতিগ্রাহ্য ও প্রশান্তিময়।
আমেরিকার নির্বাচন নিয়েও সেখানে বিতর্ক চলে। আদিতে পার্টি পর্যায়ে, পরবর্তীতে জাতীয় পর্যায়ে।
নেতা নির্বাচনের নিমিত্তে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী দেশটি বিতর্ককে বেচে নিয়েছে টুলস হিসেবে। ভাবা যায়!
কথিত আছে, এই বিতর্কে যে জিতে, তারই নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে প্রবল।
তাহলে মোদ্দকথায় কী দাঁড়ালো?
পৃথিবীতে যারা মোড়লি করবে তাদের মোড়ল হবে একজন সেরা বিতার্কিক।
পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী দেশটি যদি বিতর্ককে নেতা নির্বাচনের টুলস হিসেবে ব্যবহার করতে পারে, আমরা করলে ক্ষতি কী??!
অন্য মানুষের চিন্তা ও দর্শন অপেক্ষা স্বীয় চিন্তা ও দর্শনকে গ্রহণযোগ্য মাত্রা দিতে বিতর্কই তো সবচেয়ে ভালো বিকল্প।
তাছাড়া সোস্যাল নেটওয়ার্ক তৈরিতে এরকম সহশিক্ষা কার্যক্রমের অবদান অসামান্য এবং অনস্বীকার্য।
এমনকি ছাত্রজীবন পরবর্তী আকর্ষণীয় ক্যারিয়ার গঠনেও ডিবেট খুবই সহায়ক।
আশা করি, শিক্ষার্থীরা নিজ উপকার ভোগের স্বার্থেই 'হাশেমিয়ান্স ডিবেটিং ক্লাবে' স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করবে।
আমরা হাশেমিয়ার শিক্ষকরা সতত চাই,
আমাদের শিক্ষার্থীদের জীবন আলো, আশা আর অর্জনে ভরপুর থাকুক।
তাঁরা হোক এমন আলোকিত মানুষ, যারা তমসা আছন্ন ও কণ্টকাকীর্ণ পথের চারিধারে ছড়াবে মায়াবী সৌরভ, ঐ আলোকিত মানুষ হয়েই।
আমরা নিজেদের বিলিয়ে দিতে চাই, তাদের ক্যারিয়ার গঠন এবং শিক্ষার্থীদের সুন্দর জীবন বিনির্মাণে।
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, তোমরাও নিজেকে পরিশ্রমী করে তোলো, নিজের ভাগ্য বিনির্মাণের লক্ষ্যে।
অধ্যবসায় ও পড়াশোনায় নিবেদিতপ্রাণ ও মনোযোগী হলেই তোমরা হবে সফল।
আর হ্যা, আমাদের সফলতা নির্ধারিত হয় আমাদের চিন্তার উপর ডিফেন্ড করে, মস্তিষ্কের উপর নয়।
আমরা হাশেমিয়ানরা সফলতার শিখরে পৌঁছাতে চাই, শেকড় শক্ত করেই।
তাই পড়াশোনা হোক আমাদের মূলমন্ত্র,
পড়াশোনা হোক আমাদের পথ চলার পাথেয়।
আমাদের সমন্বিত প্রয়াসে এই শিক্ষাঙ্গন হোক মেধাচাষের উর্বর ভূমি।
তোমাদের সফলতায় গর্বিত হবে হাশেমিয়ার প্রাণ, ভূমি এবং অনুরাগী।
এই আশাবাদ ব্যক্ত করি।
এবং আবারও ধন্যবাদ,,,
অধ্যক্ষ স্যার, জনাব Rahamat Salam
এবং উপাধ্যক্ষ স্যার, জনাব M Rahman Madani
'হাশেমিয়া ল্যাংগুয়েজ ক্লাব' গঠনেও তিঁনি /তাঁরা অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন এজন্যে। এই 'ল্যাংগুয়েজ ক্লাবের' মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মেধার বিকাশ হবে।
আশাকরি এখানেও শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্ত অংশ নিবে।
সাঙ্গ করতে চাই, প্রিয় শিক্ষার্থীদের একটি আহবান জানিয়ে,
এসো আমরা নিয়মিত পড়ি, শিখি আর মজবুত শেকড় গড়ি এবং তৃতীয় লাইনের সুরে আবারও বলি,
"তোমরা জিতলে আমরা জিতি"
লেখায়-
মো: হাসান আলী
প্রভাষক, ( I H & C )
কক্সবাজার হাশেমিয়া কামিল মাদরাসা