17/05/2026
প্রেস রিলিজ
কুবিতে আইকিউএসির ওরিয়েন্টেশন: ৯ম দিনে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা এবং আইন বিভাগের অংশগ্রহণ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর উদ্যোগে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যতিক্রমধর্মী ওরিয়েন্টেশন, একাডেমিক গাইডলাইন, কাউন্সিলিং ও মোটিভেশনভিত্তিক ১০ দিনব্যাপী কর্মসূচির ৯ম দিনে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা এবং আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।
আজ রবিবার (১৭ মে) সকাল সাড়ে ৯ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভার্চুয়াল ক্লাস রুমে ৯ম দিনের কর্মসূচির উদ্বোধন হয়।
আইকিউএসি'র পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নবনিযুক্ত মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. এম এম শরীফুল করীম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মোঃ বেলাল হোসাইন, আইন বিভাগের প্রধান সাদিয়া তাবাসসুম এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. নাহিদা বেগম। রিসোর্স পারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এআইএস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন এবং গণযোগাযোগ সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র উপদেষ্টা মশিউর রহমান।
অনুষ্ঠান মোট পাঁচটি সেশনে অনুষ্ঠিত হয়। সেগুলো ছিল -কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিতি ও নিয়মকানুন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা ও ওবিই সম্মত একাডেমিক প্রোগ্রামের কাঠামো, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও দায়িত্ব, শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট সাপোর্ট সার্ভিসেস এবং এআই যুগের উপযোগী কর্মসংস্থানযোগ্য ও উদ্ভাবনী গ্র্যাজুয়েট তৈরির লক্ষ্য ও দিকনির্দেশনা।
প্রধান অতিথি মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক এক্সিলেন্স নিশ্চিত করতে ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেল (IQAC) নিরলসভাবে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন বিভাগ ও প্রোগ্রামের অ্যাক্রেডিটেশন অর্জনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা, সৃজনশীলতা, পাঠদান পদ্ধতি এবং শিক্ষার মান আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করতে নির্ধারিত বিভিন্ন মানদণ্ড পূরণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রচলিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানের গণ্ডি থেকে বের হয়ে আইকিউএসি শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়ক একটি ব্যতিক্রমধর্মী ওরিয়েন্টেশন আয়োজন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার প্রথম দিন থেকেই শিক্ষার্থীদের নিজেদের লক্ষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্য এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন।
নবনিযুক্ত উপাচার্য হিসেবে তিনি “স্টুডেন্ট ফার্স্ট” নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, শিক্ষার্থীদের কল্যাণ, নিরাপদ আবাসন, আধুনিক শ্রেণিকক্ষ সুবিধা, মানসম্মত পাঠদান ও দক্ষতা উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে। ভাষাগত দক্ষতা উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আইকিউএসি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করবে বলেও জানান তিনি।
তিনি শিক্ষার্থীদের সুন্দর ও নিরাপদ শিক্ষাজীবন কামনা করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধান ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম বলেন, "আপনারা একটি প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরীক্ষার মাধ্যমে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। আপনারা মেধাবীদের থেকে মেধাবী, আপনাদেরকে অভিনন্দন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন সবে মাত্র শুরু করেছেন, তাই সব সময় গভীরভাবে লক্ষ্য রাখবেন বন্ধু নির্বাচনে। কারন একজন ভালো বন্ধুই আপনার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনকে প্রতিফলিত করবে। সব সময় মনে রাখবেন, এই চার বছরের যুদ্ধক্ষেত্রই নির্ধাবণ করবে আপনার পরবর্তী জীবনযাত্রা কেমন হবে। তাই এই চার বছর কীভাবে আপনার জীবনকে কাজে লাগাবেন সেই সিদ্ধান্ত আপনাকেই নিতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, বাবা-মায়ের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সচেতন থাকা জরুরি। একই সঙ্গে মাদকের মতো মারাত্মক ব্যাধি থেকে দূরে থাকতে হবে। এছাড়াও র্যাগিং একটি গুরুতর অপরাধ; গত বছর এ কারণে অনেক শিক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছে। তাই এসব অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হবে। সময়ের সদ্ব্যবহার করবেন এবং ভাল কাজ করবেন। আপনাদেরকে ভাল মানুষ হতে হবে কিন্তু ভালো মানুষ হওয়ার জন্য অনেক গুণ থাকতে হয়, সেটা আপনাকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশে অর্জন করতে হবে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি আইকিউএসি'র পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত পরিচয় গড়ে ওঠে তার শিক্ষার্থীদের সাফল্যের মাধ্যমে। নবনিযুক্ত মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীমের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি উন্নত একাডেমিক পরিবেশ গড়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের দক্ষ, নৈতিক ও কর্মসংস্থান উপযোগী গ্র্যাজুয়েট হিসেবে গড়ে তুলতে আইকিউএসি বিভিন্ন একাডেমিক, কো-কারিকুলার ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলেও জানান তিনি।
তিরি আরও বলেন, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে আইকিউএসি কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের হাতে দেওয়া ফোল্ডারে সাতটি গ্র্যাজুয়েট অ্যাট্রিবিউটস উল্লেখ করা হয়েছে, যেগুলো অর্জনের মাধ্যমে তারা ভবিষ্যতে গ্লোবাল সিটিজেন হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য নির্ধারণ, সময় ব্যবস্থাপনা ও সুশৃঙ্খল একাডেমিক চর্চার বিষয়ে সচেতন করতেই এই ওরিয়েন্টেশন আয়োজন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৩ মে থেকে ১০ দিনব্যাপী এই একাডেমিক ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান শুরু হয়।
মোহাম্মদ এমদাদুল হক
ডেপুটি রেজিস্ট্রার
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়