05/12/2025
আমাদের দেশে লাখো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকা সত্ত্বেও কেনো Global Institute of Ethics & Islam (GIEI) অপরিহার্য
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
সম্মানিত শিক্ষাবিদ, নীতি-নির্ধারক, গবেষক, সমাজসেবক এবং প্রিয় সহকর্মীবৃন্দ— আজ আমি একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা নিয়ে আলোচনা করতে চাই। বিষয়টি হলো: বাংলাদেশে ইতোমধ্যেই লক্ষ লক্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, কিন্তু কেনো আমাদের নতুনভাবে Global Institute of Ethics & Islam (GIEI)-এর শিক্ষা কার্যক্রম প্রয়োজন? এটি নিছক একটি নতুন প্রতিষ্ঠানের প্রশ্ন নয়; বরং এটি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, আমাদের সমাজ, আমাদের রাষ্ট্র এবং বৈশ্বিক অবস্থানের প্রশ্ন।
১. আমাদের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র
বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১,৫০,০০০ প্রাথমিক বিদ্যালয় , ২৫,০০০ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২,৫০০ কলেজ, ৫৩টিরও বেশি পাবলিক ও প্রায় ১২০টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রায় ২০,০০০ মাদরাসা রয়েছে। সংখ্যায় কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু সমস্যা হলো— শিক্ষা মানসম্মত হলেও চরিত্রবান মানুষ তৈরি করতে পারছে না। নকল, জিপিএ নির্ভরতা, সনদমুখী মানসিকতা শিক্ষাকে একটি যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পরিণত করেছে। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী তৈরি হচ্ছে, কিন্তু সৎ, ন্যায্য, নৈতিক নেতা তৈরি হচ্ছে না। গবেষণার তথ্য বলছে: বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া প্রায় ৬০% শিক্ষার্থী জীবনের উদ্দেশ্য নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছে; তারা জানে না তারা কেনো পড়ছে এবং সমাজের জন্য তাদের ভূমিকা কী। অন্যদিকে, ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থার অনেক প্রতিষ্ঠান আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারছে না। ফলে একদিকে আমরা পাচ্ছি ধর্মবিমুখ আধুনিক জ্ঞানী, অন্যদিকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন ধার্মিক যুবক।
২. সমাজের নৈতিক সংকট ও শিক্ষা ঘাটতি
আজ আমাদের চারপাশে তাকালে- দুর্নীতি, অনৈতিক ব্যবসা, রাজনৈতিক সহিংসতা, ক্ষমতার অপব্যবহার। পারিবারিক ভাঙন, মাদক, আত্মহত্যা, মানসিক সংকট। সামাজিক অবক্ষয়, অমানবিকতা ও সহমর্মিতার অভাব। এসব কিছুর মূল কারণ নৈতিক শিক্ষার অভাব। জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা বলছে—দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের জন্য নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধকে শিক্ষার মূল স্রোতে আনা ছাড়া কোনো জাতি টেকসই উন্নতি করতে পারে না।
৩. GIEI-এর অনন্য অবদান
এখন প্রশ্ন: এত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকার পরও কেনো আমাদের Global Institute of Ethics & Islam (GIEI) দরকার? কারণ— Global Institute of Ethics & Islam (GIEI) সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে এসেছে।
(ক) নৈতিকতা ও আধুনিকতার সমন্বয়
• Global Institute of Ethics & Islam (GIEI) শিক্ষা ব্যবস্থায় ইসলামি মূল্যবোধ ও আধুনিক জ্ঞানকে একীভূত করছে।
• আমরা চাই না শুধুমাত্র তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ হোক; আমরা চাই প্রযুক্তিবিদ হোক সৎ ও জবাবদিহিমূলক।
• আমরা চাই না শুধু ডাক্তার তৈরি হোক; আমরা চাই ডাক্তার হোক মানবিক, নৈতিক ও করুণাশীল।
(খ) হাইব্রিড কারিকুলাম মডেল
• কোর কন্টেন্ট: নৈতিকতা, ইসলামি দর্শন, আধ্যাত্মিকতা
• আধুনিক জ্ঞান: বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক
• জীবনমুখী শিক্ষা: নেতৃত্ব, পরিবার ব্যবস্থাপনা, সমাজসেবা, উদ্যোক্তা দক্ষতা
• বহুভাষিক শিক্ষা: বাংলা, ইংরেজি ও আরবি—যাতে শিক্ষার্থীরা স্থানীয় ও বৈশ্বিক পরিসরে সক্ষম হয়।
(গ) গবেষণা ও নেতৃত্ব Global Institute of Ethics & Islam (GIEI) শুধু পাঠদান করবে না, বরং গবেষণা, নীতি-উদ্ভাবন, নেতৃত্ব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সমাজের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন ঘটাবে।
৪. বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে Global Institute of Ethics & Islam (GIEI) -এর প্রাসঙ্গিকতা
আজকের বিশ্বে মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় সংকট হলো নৈতিক নেতৃত্বের অভাব। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর শিক্ষা ব্যবস্থায় বিভাজন তৈরি করেছে—একদিকে সেক্যুলার এলিট, অন্যদিকে বিচ্ছিন্ন ধার্মিক সমাজ। GIEI এই ফাঁক ভরাট করবে, যাতে বাংলাদেশ বিশ্বে একটি নৈতিক নেতৃত্বের মডেল উপহার দিতে পারে।
৫. কেনো এখনই Global Institute of Ethics & Islam (GIEI) প্রয়োজন?
কারণ সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই। প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী এমন শিক্ষা পাচ্ছে যা হয়তো তাদের কর্মসংস্থান দিবে, কিন্তু আদর্শ মানুষ বানাবে না। যদি আমরা এখনই এই শূন্যস্থান পূরণ না করি, তবে সমাজে আরও দুর্নীতি, সহিংসতা, নৈতিক অবক্ষয় বাড়বে। Global Institute of Ethics & Islam (GIEI) হলো সেই আশার আলো, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জ্ঞান, নীতি, দক্ষতা ও মানবিকতার সমন্বিত শিক্ষা দিতে সক্ষম।
কেস স্টাডি–১: সনদপ্রাপ্ত কিন্তু বেকার যুবক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ পাশ করেছে রাশেদ। তার ফলাফল ভালো—প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ, কম্পিউটার দক্ষতাও রয়েছে। পরিবার ও সমাজের কাছে সে এক “সফল শিক্ষার্থী” হিসেবে পরিচিত। কিন্তু চাকরির ইন্টারভিউতে গেলে বারবার ব্যর্থ হয়।
প্রশ্ন করা হয়: “যদি তোমাকে ঘুষ নিতে চাপ দেওয়া হয়, তুমি কী করবে?” “কোনো ক্লায়েন্ট যদি অনৈতিক সুবিধা দাবি করে, তুমি কীভাবে তা মোকাবিলা করবে?” রাশেদ উত্তর দিতে পারে না। কারণ তার শিক্ষা তাকে নৈতিক দ্বন্দ্ব মোকাবিলার মানসিক প্রস্তুতি ও নীতিগত দিকনির্দেশনা দেয়নি। গবেষণা তথ্য: বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ২৫ লাখ তরুণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হয়, এর মধ্যে ৩৯% সরাসরি বেকার বা আন্ডার-এমপ্লয়েড। এর প্রধান কারণ শুধু চাকরির সংকট নয়, বরং সফট স্কিল ও নৈতিক প্রস্তুতির অভাব। এই শূন্যস্থান পূরণ করতে পারে Global Institute of Ethics & Islam (GIEI) -এর শিক্ষা কার্যক্রম, যেখানে বইয়ের জ্ঞান শুধু নয়, বরং বাস্তব জীবনের নৈতিক প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে।
কেস স্টাডি–২: উচ্চশিক্ষিত কিন্তু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা
চট্টগ্রামের একটি সরকারি দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বিদেশ থেকে মাস্টার্স ও ট্রেনিং করে দেশে ফিরেছিলেন। তাকে প্রথমে সাফল্যের প্রতীক বলা হতো। কিন্তু পরে দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। টেন্ডারবাজি, ঘুষ, অবৈধ অনুমোদন—এসব কাজে তার নাম জড়িয়ে পড়ে। সমাজে তিনি “অর্থবান” হলেও, নৈতিক দিক থেকে ব্যর্থ।
বাস্তব তথ্য: ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (TIB)-এর ২০২৩ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৮৯% সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে ঘুষ দিতে হয়। অথচ বেশিরভাগ কর্মকর্তাই দেশ-বিদেশের উচ্চশিক্ষিত। এ ঘটনা প্রমাণ করে—শিক্ষা মানেই নৈতিকতা নয়। শিক্ষা যদি নৈতিকতা ছাড়া হয়, তবে তা সমাজের জন্য ধ্বংস ডেকে আনে।
Global Institute of Ethics & Islam (GIEI)-এর লক্ষ্য হলো জ্ঞান + নৈতিকতা মিলিয়ে দায়িত্বশীল নেতৃত্ব তৈরি করা।
কেস স্টাডি–৩: মাদরাসা শিক্ষিত কিন্তু বেকার যুবক
সিলেটের একটি কওমি মাদরাসা থেকে দাওরা হাদিস শেষ করেছে ইমরান। তার ধর্মীয় জ্ঞান গভীর, কোরআন-হাদিস মুখস্থ, ফিকহে পারদর্শী। সমাজে সে একজন সম্মানিত তরুণ। কিন্তু বাস্তবতায় দেখা গেল— ইংরেজি জানে না। প্রযুক্তি ব্যবহার (কম্পিউটার, ইন্টারনেট, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম) তার কাছে কঠিন। বাজারে চাকরি বা ব্যবসার জন্য যে দক্ষতা দরকার, তা তার নেই। ফলে সে কর্মসংস্থানে পিছিয়ে যায়।
বাস্তব তথ্য: বাংলাদেশে প্রায় ২০,০০০ কওমি ও আলিয়া মাদরাসায় লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। এর মধ্যে অনেকে ধর্মীয় দিক থেকে সমৃদ্ধ হলেও আধুনিক দক্ষতার ঘাটতির কারণে সমাজে অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবদান রাখতে সীমাবদ্ধ। এখানে বোঝা যায়, ধর্মীয় জ্ঞান যেমন অপরিহার্য, তেমনি আধুনিক দক্ষতাও অপরিহার্য। Global Institute of Ethics & Islam (GIEI) এই দুই শিক্ষার ফাঁক ভরাটের দায়িত্ব নিচ্ছে।
কেস স্টাডি–৪: বিদেশি উদাহরণ – মালয়েশিয়া
মালয়েশিয়া স্বাধীনতার পর থেকে তাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় ইসলামি মূল্যবোধ ও আধুনিক জ্ঞানকে একত্র করেছে। International Islamic University Malaysia (IIUM) হলো সেই মডেলের সেরা উদাহরণ। সেখানে ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিসিন, আইন, অর্থনীতি পড়ানো হয়, কিন্তু প্রতিটি বিষয়ে ইসলামি এথিক্স ও নৈতিকতা যুক্ত করা হয়। তাদের স্লোগান: “The Garden of Knowledge and Virtue” ফলে আজ মালয়েশিয়া শুধু অর্থনৈতিকভাবে নয়, নৈতিকভাবে একটি সমন্বিত উন্নয়নের উদাহরণ।
বাস্তব ফলাফল: ২০২২ সালে মালয়েশিয়া শিক্ষা খাতে বিশ্ব র্যাংকিংয়ে শীর্ষ ২০ দেশের মধ্যে এসেছে এবং তারা “Ethical Leadership Model” হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বাংলাদেশেও যদি Global Institute of Ethics & Islam (GIEI) প্রতিষ্ঠিত হয়, আমরা একইভাবে নৈতিকতা + উন্নয়ন একসাথে অর্জন করতে পারবো।
কেস স্টাডি–৫: অগ্নিকাণ্ডে নৈতিকতার অভাব
সম্প্রতি ঢাকার একটি মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে, শত কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হয়।
পরবর্তীতে তদন্তে বের হয়— ভবন তৈরির সময় নিরাপত্তা আইন মানা হয়নি। দমকল বিভাগের অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল ঘুষ দিয়ে। অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল অকার্যকর। ফলে সামান্য অগ্নিকাণ্ড ভয়াবহ বিপর্যয়ে পরিণত হয়।
বাস্তব তথ্য: ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ বছরে ঢাকায় ঘটে যাওয়া বড় অগ্নিকাণ্ডের ৭৫% ক্ষেত্রে মূল কারণ ছিল “আইন না মানা” ও “ঘুষ দিয়ে অনুমোদন নেওয়া।” এটি কোনো প্রযুক্তিগত ব্যর্থতা নয়, বরং নৈতিকতার ব্যর্থতা। যদি শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈতিকতার প্রতি জোর দেওয়া হতো, তবে এ ধরনের বিপর্যয় অনেকাংশে রোধ করা যেত। ২০২৫ সালের QS World University Rankings: Asia অনুযায়ী বাংলাদেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান অনেক পেছনে। বাংলাদেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা ২০২৫
১. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়: ১,৪২২তম ২. বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট): ১,৪৭৪তম ৩. ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়: ১,৭৭০তম ৪. নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়: ১,৭৮৩তম ৫. ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি: ১,৮১৮তম ৬. শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি): ১,৯৪২তম ৭. জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়: ১,৯৭০তম ৮. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: ১,৯৯৫তম ৯. বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: ২,২৮৭তম ১০. চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: ২,৩৬৭তম
মূল কারণ: গবেষণা ও উদ্ভাবনে দুর্বলতা। নৈতিক শিক্ষা ও ক্যারিয়ার স্কিলের অভাব। আন্তর্জাতিক মানের পাঠ্যক্রমে সংযোগ নেই। “মাননীয় উপস্থিতি, আমি কিছু বাস্তব কেস শেয়ার করছি। রাশেদ নামের একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিত যুবক ডিগ্রি পেয়েও ব্যর্থ হলো, কারণ নৈতিক শিক্ষা নেই। চট্টগ্রামের এক কর্মকর্তা বিদেশি ডিগ্রিধারী হয়েও দুর্নীতির জালে জড়িয়ে পড়লেন, কারণ নৈতিকতার ভিত্তি নেই। অন্যদিকে, ইমরান নামের এক তরুণ মাদরাসা শিক্ষায় সমৃদ্ধ হলেও আধুনিক দক্ষতা না থাকায় পিছিয়ে গেল। মালয়েশিয়া প্রমাণ করেছে, ইসলামি মূল্যবোধ + আধুনিক শিক্ষা একসাথে দিলে দেশ উন্নতি করে। আর ঢাকার অগ্নিকাণ্ড প্রমাণ করেছে, শিক্ষা যদি নৈতিকতার অভাব পূরণ না করে, তবে সমাজ ধ্বংস হয়। এই সব কেসই আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে— Global Institute of Ethics & Islam (GIEI) এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি।” GIEI (Global Institute of Ethics & Islam)-এর স্বাতন্ত্র্য ও যুগান্তকারী শিক্ষাদর্শ গড়ে তুলতে কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যা জাতীয় পর্যায়ে প্রথমবারের মতো প্রবর্তিত হবে এবং আন্তর্জাতিক মানে Global Institute of Ethics & Islam (GIEI) -কে একটি অনন্য উদাহরণে পরিণত করবে।
Global Institute of Ethics & Islam (GIEI) -এর প্রস্তাবিত সমাধান
Hybrid Curriculum Model; Ethics + Islam + Modern Skills. একাডেমিক + কারিগরি + গবেষণা + আধ্যাত্মিকতা
Key Features: নৈতিকতা ও ইসলামী মূল্যবোধকে বাধ্যতামূলক করা। আধুনিক প্রযুক্তি, উদ্যোক্তা দক্ষতা ও নেতৃত্ব শিক্ষা। বহুভাষিক শিক্ষা (বাংলা, ইংরেজি, আরবি)। বাস্তব জীবনের কেস স্টাডি ভিত্তিক শিক্ষা। গবেষণা ও উদ্ভাবনকে কেন্দ্রীয় গুরুত্ব।
আন্তর্জাতিক মডেল বিশ্বের সাদৃশ্যপূর্ণ প্রতিষ্ঠানসমূহ:
• IIUM (Malaysia), Al-Azhar (Egypt), Zaytuna (USA), IPSA (South Africa), Cambridge Muslim College (UK), Maarif Foundation (Turkey), IIC (Malaysia), Iqra (Pakistan), MIHE (UK), Islamic Foundation (USA). IIUI (International Islamic University Islamabad,Pakistan) শিক্ষা যদি নৈতিকতা ও আধুনিক জ্ঞানের সমন্বয় ঘটায়, তবে উন্নয়ন ও নৈতিকতার ভারসাম্য রক্ষা সম্ভব। Global Institute of Ethics & Islam (GIEI)-এর ৩টি স্তম্ভ অনুযায়ী বিষয়সমূহ:
১ম স্তম্ভ: ইথিক্যাল ইনটেলিজেন্স (নৈতিক বুদ্ধিমত্তা, নেতৃত্ব ও আবেগীয় দক্ষতা) এই স্তম্ভের অধীনে ৩টি বিষয়:
Ethics & Akhlaq (আখলাক ও নৈতিকতা শিক্ষা)
Leadership & Global Citizenship (নেতৃত্ব ও বিশ্বনাগরিকতা)
Emotional Intelligence & Family Etiquette (আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা ও পারিবারিক আদব-কায়দা)
২য় স্তম্ভ: লাইফ স্কিলস ও পাবলিক ওয়েলবিয়িং
(জীবনদক্ষতা, জনস্বাস্থ্য, ডিজিটাল সচেতনতা, দুর্যোগ প্রস্তুতি) এই স্তম্ভের অধীনে ৩টি বিষয়:
Public Health & Hygiene (জনস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা শিক্ষা)
Digital Literacy & Tech Ethics (ডিজিটাল জীবন ও প্রযুক্তিনৈতিকতা)
Disaster & Safety Education (দুর্যোগ ও নিরাপত্তা শিক্ষা)
৩য় স্তম্ভ: ভবিষ্যতমুখী জ্ঞানচর্চা (সমালোচনামূলক চিন্তা, উদ্ভাবন, পরিবেশ সচেতনতা) এই স্তম্ভের অধীনে ৩টি বিষয়:
Critical Thinking & Problem Solving (সমালোচনামূলক চিন্তা ও সমস্যা সমাধান)
Innovation & Future Skills (উদ্ভাবনী চিন্তা ও ভবিষ্যত দক্ষতা)
Environmental & Climate Awareness (পরিবেশ ও জলবায়ু সচেতনতা)
এর সঙ্গে যোগ হবে- Muslims’ Legacy (মুসলমানদের বিশ্বসভ্যতায় উত্তরাধিকার)
প্রিয় মহোদয়গণ,
আমাদের সামনে দুটি পথ খোলা:
১. পুরোনো ধারা ধরে রেখে দক্ষ কিন্তু নীতিহীন প্রজন্ম তৈরি করা। ২. অথবা, Global Institute of Ethics & Islam (GIEI)-এর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে একটি সচেতন, নৈতিক, দায়িত্বশীল ও বিশ্বনেতৃত্বের যোগ্য প্রজন্ম তৈরি করা।
আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—আমাদের দেশের উন্নয়ন, উম্মাহর ঐক্য, এবং বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য Global Institute of Ethics & Islam (GIEI) আজকের সময়ের অপরিহার্য বাস্তবতা। তাই আসুন, আমরা সকলে একসাথে কাজ করি—
Global Institute of Ethics & Islam (GIEI)-এর শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য হাত মিলাই।
আন্তরিক ধন্যবাদান্তে-
নাসিরুদ্দিন মুহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান
প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল ও এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর
০১৭১৮-৭৩৭০০৮