02/04/2022
#তারাবীহ_নামাজের_নিয়ম -
★ তারাবীহ নামাজের সময়ঃ
অধিকাংশ ফকিহদের মতে তারাবীহ নামাজের সময় হলো ইশার পরে বিতরের আগে।
আর তা ফজর পর্যন্ত পড়া যায়।
সাহাবাদের আমল দ্বারা তা প্রমানিত।
আর যদি কেও এশা ও বিতর পড়ে ফেলে তারপর তারাবীহ পড়ে তাইলে সহীহ মতানুসারে তা আদায় হয়ে যাবে।
(শামী ২/৪৩৯-৯৪,
মওসুয়াতুল ফিকহিয়্যা ২৭/১৪৭-৪৮)
★ তারাবীহ নামাজ দুই দুই রাকআত করে পড়তে হয়।
এক সালামে দুই রাকআত এভাবে ১০ সালামে ২০ রাকআত নামাজ পড়া সুন্নত।
(সুত্র- ইমাম নাওয়ায়ীর আল আযকার পৃ ৮৩,
ফাতওয়ায়ে দারুল উলুম খঃ১ পৃঃ ২৬৭)
★ নামাজে দাঁড়িয়ে প্রথমেই নিয়ত করা জরুরি।
আর তা অন্তর এর সাথে সম্পর্কিত
সুতরাং দুই রাকআত তারাবীহের সুন্নত সালাত আদায় করছি মনে মনে এরুপ নিয়ত করাই যথেষ্ট।
আর একবার এরুপ ভেবে নিয়ত করার পর বাকি সব রাকআত এর জন্য আবার এভাবে নিয়ত করারও জরুরত নেই।
দাঁড়িয়েই আল্লহু আকবার বলে নামাজ শুরু করলেই হবে।
(সুত্র- ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী)
★ যারা বাসায় নামাজ পড়েন এবং সুরা তারাবীহ পড়েন তারা প্রতি রাকআত এ সুরা ফাতিহার সাথে যেকোন সুরা মিলিয়ে পড়তে পারেন।
কোন সুরা নির্দিষ্ট না।
সুরা ফাতিহার পর সুরা আলাম তারা হতে সূরা নাস পর্যন্ত ছোট দশ সুরা হতে একটা সুরা মিলিয়ে পড়তে পারেন।
চাইলে দুই তিন টাও একসাথে পড়া যায়।
এ ক্ষেত্রে ছোট দুই সূরার মাঝে ব্যবধান রেখে পড়া।
(অর্থাৎ এক সুরা পড়ার পর পরেরটি বাদ দিয়ে তারপরের সুরা পড়া)
তারতীব রক্ষা করে না পড়া মাকরুহ না।
এসব ফরজ নামাজে মাকরুহ।
(সুত্র - বাহরুর রায়েক ২/৬৮-৬৯,মাসাইলে তারাবীহ,১৬)
★ তারাবীহ শব্দ টি তারবীহাতুন শব্দের বহু বচন
অর্থ ক্ষনিক বিশ্রাম।
রমজানের এই নামাজে প্রতি চার রাকআত পর পর বিশ্রাম বা আরাম গ্রহণ করা মুস্তাহাব।
তাই তাকে তারাবীহ বলে অভিহিত করা হয়।
চার রাকআত পর পর চার রাকআত পরিমান সময় বিশ্রাম নেওয়া উত্তম।
এই সময়ে যে কোন আমল করা ভালো
যেমন কুরআন তিলাওয়াত করা, জিকির করা, দরুদ পড়া।
কিংবা নফল নামাজ পড়া বা দোয়া করা।
এ সময়ে পড়ার কোন নির্দিষ্ট দোয়া হাদিসে বর্নিত না।
চাইলে যে কোন আরবি দোয়া পড়া যায়।
আর নিজ ভাষায় তো করা যায় ই।
(সুত্র-বাদায়ে ১/৬৪৮, দুররে মুখতার,শামী ২/৪৯৬-৯৭)
👍 শেষ করবো হাদিস নিয়ে -
#আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি রমাযানে ঈমানের সাথে সওয়াব লাভের আশায় তারাবীহর সালাতে দাঁড়াবে তার পূর্ববর্তী (সগীরা) গোনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হবে।
(বুখারী,নাসাঈ)
©️