18/11/2024
আমি একবার ইরানের একটি এলাকায় গিয়ে ছিলাম। সেখানে দেখলাম কারোর ঘরে ফ্রিজ নেই। আমি যে ঘরে মেহমান হয়ে ছিলাম তাদের কে জিজ্ঞেস করলে তারা বললো, আমরা ঘরে ফ্রিজ থাকাকে গুনাহ মনে করি।
#জিজ্ঞেস_করলাম, কেনও...?
আমি কথাটি শুনে আশ্চর্য হয়ে গেলাম। অতঃপর আমাকে বলতে লাগলেন, শাহে ইরানের শাসনকালে রাষ্ট্র জনগণকে ফ্রিজ কিনতে উৎসাহ দিতেন। স্বল্পমূল্যে কিস্তিতে ফ্রিজ, টিভি, অনেক কিছু মিলতো। মানুষও ব্যাপকহারে ফ্রিজ কিনলো।
কিছুদিন পর আমরা বুঝতে পারলাম যে, আমাদের হৃদয় সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছে। অতিরিক্ত খাবারগুলো অনাহারীকে না বিলিয়ে #ফ্রিজে রেখে দিতে অভ্যস্ত হয়ে গেলাম। আগে অতিরিক্ত খাবার অভাবীদের মধ্যে দান করে দিতাম বা প্রতিবেশীর ঘরে পাঠিয়ে দিতাম, তারাও আমাদের ঘরে পাঠাতেন।
কিন্তু #ফ্রিজ ওই দান আর প্রীতির ধারাবাহিকতা বন্ধ করে দিলো। পরে একদিন আমাদের জামে মসজিদের ইমাম সাহেব পুরুষ-মহিলা সকলকে জুম্মার দিন হাজির হতে বললেন। এরপর তিনি সামাজিক বন্ধন ও প্রীতি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করে ফ্রিজকে হারাম ঘোষণা করলেন।
আমরা সমগ্র এলাকাবাসী ফ্রিজ বিক্রি করে ফেললাম।
#আলহামদুলিল্লাহ, আবার আমাদের সেই পরিবেশ ফিরে আসলো। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত আমাদের এলাকায় আর ফ্রিজ প্রবেশ করে নি...!!
আমি জিজ্ঞেস করলাম, এতে ফায়দা আর কি হলো...?
বললেন, সবচেয়ে বড় যে ফায়দাটা হয়েছে তা হলো, আমাদের এলাকায় কেউ এখন ক্ষুধার্ত থাকে না, অনাহারে কেউ রাত কাটায় না।
জনপ্রিয়_লেখক...
(মির্জা জাহানজাবের)
একটি আর্টিকেল থেকে সংগৃহিত।