07/01/2024
ইস্তাম্বুলের মোস্তাফা
অষ্টমপর্ব
না, খুব বেশি ইহুদি নেই তুরস্কে, তবে যারা আছে, তাদের ক্ষমতা আছে। ইহুদি সম্পর্কে আমি কী ভাবি? আমি মনে করি, খুবই বুদ্ধিমান একটা জাতি তারা এবং পৃথিবীটা মূলত ইহুদিরাই চালাচ্ছে। আমেরিকায় ইহুদি লবি খুবই শক্তিশালী।
প্যালেস্টাইনে মাস খানেকের মধ্যে কুড়ি হাজার লোক মেরে ফেললো, কেউ কিছু বলছে না, কারণ সব মিডিয়া, সব সরকার ইহুদিরাই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। আমি বলবো: আমেরিকা কাতিল, ইসরায়েল কাতিল। শ্রেফ খুন করছে তারা। গাজা আর পশ্চিম তীর তারা দখল করবেই তারা আগে পরে। তুরস্কেও এমন অনেকে আছে, যাদের চেহারা তুর্কিদের মতো হলেও তারা মূলত আমেরিকা আর ইসরায়েলের পক্ষের লোক।
‘এরদোয়ানের পরে কে?’ ‘জানি না, বয়সতো পঁচাত্তর চলছে।’ ‘ছেলেমেয়ে আছে?’ ‘আছে মানে, রীতিমত আছে। দুই ছেলে, দুই মেয়ে।’ ‘রাজনীতি করে?’ ‘না করে না।’ ‘ব্যবসাপাতি?’ হো হো করে হেসে মোস্তাফা বলে: ‘ও কাজটা দু্ ভাই একটু বেশিই করে!’
এয়ারপোর্টে নামিয়ে দেবার সময় মোস্তাফা বললো: ‘আতাতুর্ক একটা কাজ কিন্তু ভালো করেছিল। তুর্কি ভাষাকে আরবি বর্ণমালার কবল থেকে মুক্ত করেছিল। রোমান অক্ষরে তুর্কি ভাষাটা ভালো লেখা যায়। এই বর্ণমালার অন্য অনেক সুবিধাও আছে। যে যা ভালো করেছে, আমি কিন্তু স্বীকার করি।’
আমি বললাম: ‘আপনার এরদোয়ানও একটা কাজ ভালো করেছে, এই বিমানবন্দরটা দারুণ বানিয়েছে। এর নাম ‘এরদোয়ান বিমানবন্দর’ রাখা উচিত। মোস্তাফা একমত। ‘পুরনো বিমানবন্দর যদি আতাতুর্কের নামে হতে পারে, নতুনটা এরদোয়ানের নামে হলে সমস্যা কী?’
স-বকশিশ মোস্তফাকে বিদায় দিয়ে ঢুকে পড়লাম চমৎকার বিমানবন্দরে। বিকাল ৫টা থেকে রাত ৯টা চার ঘণ্টার ইস্তাম্বুল দর্শনের পর বিদায়কালটা দীর্ঘতর হতে পারতো, কিন্তু জলবিয়োগের এত বেশি চাপ পেয়েছিল যে আমাকে প্রায় দৌঁড়াতে হচ্ছিল। এয়ারপোর্টে ঢোকার মুখে আবার সিকিউরিটি চেক আছে, সেই চাপ মিটিয়ে তারপর নিজের স্ব-চাপ থেকে মুক্তি।
টয়লেটের পাশেই প্রার্থনার স্থান। দরজার উপর সব ধর্মের প্রতীক লাগানো। সব ধর্মের লোক এখানে প্রার্থনা করবে। এরদোয়ান একদিকে খ্রিস্টানদের ক্যাথেড্রাল আয়া সোফিয়াকে মসজিদ বানিয়েছে, অন্যদিকে নতুন বিমানবন্দরে মুসলমান-অমুসলমান নির্বিশেষে সবাইকে এক জায়গায় প্রার্থনা করার ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। আমি ছবি তুলতে গেলে সাফাইকমীর্ বললো: ‘কাজটা ঠিক হচ্ছে না।’ ‘কোন কাজটা, ছবি তোলাটা?’ ‘না জুতা পায়ে প্রার্থনাকক্ষে ঢোকাটা!’
হায় হায়! জুতা পায়ে গির্জায় ঢোকা যায়, মসজিদ-মন্দিরে যে যায় না, সেটা ভুলে গিয়েছিলাম। বুঝলাম, গির্জা-মন্দির-মসজিদ একত্রে মেশালে মেশালে, গির্জা হারিয়ে যায়। তেজপাতা, ধনেপাতা, কারিপাতা একই তরকারিতে ব্যবহার করলে কোনটির গন্ধ প্রাধান্য পাবে?
পড়েছি তুর্কির হাতে, জুতা খুলতে হবে হাতে। ঘাট মেনে জুতাজোড়া খুলে যেই ফ্লোরে পদার্পণ করেছি, অমনি টয়লেটের সামনে জমে থাকা পানিতে মোজাজোড়া ভিজে গেলো। ধর্ম এবং ঈশ্বরের আবিষ্কারকদের উপর মেজাজটা যে কিঞ্চিৎ খিঁচে গেলো, সেটা না বললে মিথ্যা বলা হবে, কিন্তু কী আর করা, ভুলটাতো আমারই ছিল। (ক্রমশঃ)