26/08/2025
লিখেছেন মুফতি Lutfor Rahman Faraezy
মাওলানা নজরুল ইসলাম কাসেমীকে নিয়ে আবার কেন কলম ধরলাম?
২০২২ সালে কলম ধরেছিলাম কেন?
জাল হাদীস কমবেশি অনেকেই মনের অজান্তে বলে ফেলেন। আমি নিজেও অসাবধানতাবশত: নিতান্ত দুর্বল বর্ণনা দুই এক জায়গায় বলেছি। পরবর্তীতে তাহকীকের পর বন্ধ করেছি। সেইসাথে সতর্কতা বলে দিয়েছি।
যারা বয়ান করেন। লেখালেখি করেন। তাদের থেকে এমন ভুল অজান্তে হয়ে যেতেই পারে। বেশিরভাগ এটা আগের কোন কিতাবে লিখিত হয়ে থাকে। এর মানে জাল বর্ণনা বয়ান করা হয় তাহকীকের অভাবে।
আমি ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশের একাধিক নামকরা, প্রথম সারির বক্তাকে তাদের বয়ানে বলা জাল বর্ণনা সম্পর্কে সতর্ক করেছি। আল্লাহর রহমাতে কেউ এতে রাগাম্বিত হননি। বরং শুধরে নিয়েছেন।
এর দ্বারা তারা কেউ ছোট হননি। বরং তারা আমাদের কাছে আরো আস্থার জায়গা পেয়েছেন।
কিন্তু মাওলানা নজরুল ইসলাম কাসেমীর ভয়ানক দিক হলো:
১
তিনি নিজেই অনেক সময় নিজের বানানো কথাগুলোকে আল্লাহ ও নবীর কথা নামে চালিয়ে দেন। এর মানে তিনি নিজেই জাল বানোয়াট বর্ণনার উদ্ভাবক।
২
অনেক সহীহ বর্ণনার সাথে এমন সব কথা আল্লাহ ও নবীর কথা নামে চালিয়ে দেন, যা উক্ত হাদীসে কিংবা হাদীসের ব্যাখ্যাগ্রন্থের কোথাও নেই।
৩
সেইসব বানোয়াট কথার মাধ্যমে অনেক সময়ই আল্লাহর সমকক্ষ নবীকে বানানো হয়ে থাকে। কখনো উম্মতে মুহাম্মদীর শ্রেষ্ঠত্ব বলতে গিয়ে আগের একাধিক জলীলুল ক্বদর নবীকে অপমান ও ছোট করা হয়।
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর মিথ্যারোপ করা জঘন্যতম গোনাহের কাজ। নিজের ঠিকানা জাহান্নাম বানিয়ে নেওয়া। অথচ তিনি বেধড়ক হাদীস জাল করে বেড়াচ্ছেন। বলে বেড়াচ্ছেন। লাখ লাখ মানুষ সেইসব জাল কথা, বানোয়াট কথা ইন্টারনেটের কল্যাণে শুনছে। অনেকে নকল করে মসজিদের মিম্বরে, তাবলীগের বয়ানে, কিংবা মাহফিলে বর্ণনাও করছে।
পরিস্কার এসব গোমরাহীর বিরুদ্ধে কাউকে টু শব্দ করতে না দেখে ২০২২ সালে সাহস করে প্রথম লিখলাম: মওযুআতের ডিপো মাওলানা নজরুল ইসলাম কাসেমীকে থামাবে কে?
এরপর মুফতী আলী হাসান উসামা, মুফতী আরীফ বিন হাবীব, মুফতী রিজওয়ান রফীকীসহ একাধিক আলেম এ বিষয়ে কথা বলা শুরু করলেন।
আমি একের পর সিরিজ লিখতে শুরু করলাম মাওলানা নজরুল ইসলাম কাসেমীর জাল ও বানোয়াট বর্ণনা নিয়ে। তিনি এসব শুনে শুধরে নিবেন তো দূরে থাক, বরং আমাদের ঠাট্টা করলেন আমরা কিতাব দেখি না বলে। সারাদিন ফেইসবুক নিয়ে পরে থাকি বলে।
অথচ তার প্রতিটি জাল হাদীসের উৎসসহ উল্লেখ করে তার বানোয়াট হওয়া প্রমাণ করা হয়েছে। এরপরও তিনি কিভাবে বললেন যে, কিতাব না দেখেই মন্তব্য করা হয়েছে?
বন্ধ করলাম কেন?
অনেক উলামায়ে কেরামের অনুরোধে তা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিলাম।
আবার শুরু করলাম কেন?
এ বছর তিনি আমার জন্মস্থান নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলায় দু’টি মাদরাসার মাহফিলে গিয়েছেন। এইতো গত মাসে। সেখানে তিনি যে বয়ান করেছেন একজন তা আমাকে পাঠালো। সেই বয়ান চালু করে দেখি ইন্নালিল্লাহ। তিনি খুতবা ছাড়া পুরো বয়ানে যা বলেছেন, তার পুরোটাই প্রায় জাল আর বানোয়াট।
একটা মানুষ কিভাবে ঘন্টার পর ঘন্টা আল্লাহ ও নবীর নামে মিথ্যা বলতে পারে? এটা মাওলানার সত্যিই একটা কারামাত। এমন জলজ্যান্ত মিথ্যা কথাগুলো তিনি কি সুন্দর উপস্থাপনায় আত্মবিশ্বাসের সাথে বলতে থাকেন। আর শ্রোতাদের মাঝে সুবহানাল্লাহ এর ঝড় শুরু হয়।
আমি আমার উপর দ্বীনী ফরীজা মরে করি যে, আল্লাহ ও নবীর নামে ছড়ানো এসব মিথ্যা বিষয়ে উম্মতকে সতর্ক করা। তাকে বলে কোন ফায়দা নেই। তিনি শুধরাবার নয়।
তার কাছের মানুষের বক্তব্য অনুপাতে তিনি বয়ানের সময় ছাড়া বাকি বেশিরভাগই ইন্টারনেটে পরে থাকেন। তাই ইন্টারনেটে ছড়ানো তার বিভ্রান্তির জবাব ইন্টারনেটে দেয়াই উপযুক্ত বলে মনে করেছি।
আমি জানি এর দ্বারা আমি অনেকের বিরাগভাজন হবো। অনেকের চোখে কালার হবো। কিন্তু আমি পরোয়া করি না।
আমার পরিস্কার কথা:
আমি পৃথিবীর সব কিছুর চেয়ে আমার নবীকে বেশি ভালোবাসি। আমি যা বলেনি, তা 'আমি বলেছি' বলে যদি কেউ মিথ্যাচার করে, তাহলে আমি যতটুকু রাগাম্বিত হবো, এর চেয়ে আমি বেশি রাগাম্বিত আমাদের প্রাণের চেয়ে প্রিয় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামে মিথ্যাচারকারীর প্রতি।
এ লোকের প্রতি আমার ব্যক্তিগত কোন বিদ্বেষ নেই। তবে এখনো অন্তরের দুআ আছে। যেন লোকটা নবীর নামে মিথ্যাচার থেকে তওবা করে। যদি তওবা করে, তাহলে তাকে আবার আমার মাথার তাজ বানাতে আমার কোন আপত্তি নেই।
কিন্তু এর আগে যতোই উপদেশ দেন না কেন, তিনি বড় মানুষ, তিনি বাবার বয়সী ইত্যাদি ইত্যাদি, এসব আবেগী কথা আমাকে গলাতে পারবে না। আমি তার চেয়ে আমার নবীকে বেশি ভালোবাসি। নবীর নামে মিথ্যাচার কোনভাবে সহ্য করা হবে না। আমি আমার সাধ্যানুপাতে এ মিথ্যাচার সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করেই যাবো।
৫ পর্ব প্রকাশ করেছি। সামনে আরো আসছে ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহ তাআলা আমাকে দ্বীনের সঠিক রাস্তায় কবুল করুন। সহীহ বুঝ দান করুন। খিদমাতগুলোকে নাজাতের উসীলা হিসেবে কবুল করুন। আমীন।
মওযূআতের ডিপোনামা!
পর্ব ১ https://www.facebook.com/watch/?v=946394460984500
পর্ব- ২ https://www.facebook.com/watch/?v=3448617061957481
পর্ব- ৩ https://www.facebook.com/watch/?v=1097143219227788
পর্ব-৪ https://www.facebook.com/watch/?v=1869596060641466
পর্ব-৫ https://www.facebook.com/watch/?v=654281053845198