17/05/2018
সফরে রোজা রাখা ও কসর নামাজ সম্পর্কে কোরআনে যা নির্দেশ আছে তার সাথে বাস্তবের মিল কতটা?-------ক) কসর নামাজ পড়ার শর্ত দুইটি: সফরে থাকা আর ভয় থাকা। সূরা নিসা-১০১ তে আল্লাহ বলেছেন সফর অবস্থায় নামাজ সংক্ষেপ করায় কোন দোষ নাই যদি ভয় থাকে যে কাফের অর্থাৎ সত্য অস্বীকারকারীরা অক্রমণ বা ক্ষতি করতে পারে। নিশ্চয়ই তারা প্রকাশ্য শত্রু।
>কিন্তু সফরে দূরত্ব ও সময় নিয়া নানা রকম হাদিস অনুযায়ী নানা জনে নানা ভাবে কসর পড়ে।
খ) সফরে রোজা রাখার বিষয়ে সূরা বাকার-১৮৫ তে আল্লাহ বলেছেন রমজানে যদি কেউ অসুস্থ বা সফরে থাকে তবে সে অন্য মাসে সম সংখ্যক রোজা রাখবে। রোজাকে আল্লাহ সহজ করেছেন, কঠিন করেন নি।
> কিন্তু বাস্তবে অনেক মানুষ সফরে রোজা রাখে।
এখন দেখা যাক আল্লাহ কোরআনে কি স্পষ্ট করেছেন।
১) সূরা আলে ইমরান-৭: আল্লাহ কোরআনে দুই ধরনের আয়াত নাজিল করেছেন; প্রথমত: মুহকামাত বা সুস্পষ্ট আয়াত যাহা কিতাবের আসল অংশ, দ্বিতীয়ত: মুতাশাবেহাত যা রূপক আয়াত। যাদের অন্তরে কুটিলতা রয়েছে, তারা রূপকগুলোর পিছনে দৌড়ায় আর নিজেদের ভুল ব্যাখ্যাকে চূড়ান্ত মনে করে। সেগুলোর চূড়ান্ত অর্থতো একমাত্র আল্লাহই জানেন। আর যারা জ্ঞানে সুগভীর, তারা বলেনঃ আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছি। এই সবই পালনকর্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। আসলে সহজাত বিচারবুদ্ধি প্রয়োগকারীরাই প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।
২) সূরা বাকার-৪২: তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশিও না। জেনেশুনে সত্য গোপন করো না।
৩) সূরা বাকার-৪৪: তোমরা অন্যকে সৎ কাজ করতে বলো, কিন্তু নিজে তা করতে ভুলে যাও। অথচ তোমরা আল্লাহর কোরআন পাঠ করো। তোমর কি সহজাত বিচারবুদ্ধিও প্রয়োগ করবে না?
৪) সূরা বাকার-১৮৭: আল্লাহ তাঁর বিধিমালা সহজ করে বয়ান করেছেন যাতে মানুষ আল্লাহ সচেতন থাকতে পারে।
৫) সূরা বাকার-২২১: আল্লাহ সুস্পষ্ট বাণী দিয়াছেন নিয়ামত হিসাবে; যারা ইহা বিকৃত করে আল্লাহ তাদের শাস্তি দানে কঠোর।
৬) সূরা বাকার-২২১: আল্লাহ তার বিধিবিধান স্পষ্ট করে বয়ান করেছেন যাতে মানুষ সহজাত বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করতে পারে।
৭) সূরা বাকার-২৬৬: আল্লাহ তার বিধান সুস্পষ্ট ভাবে বয়ান করেছেন যাতে মানুষ সহজেই তা অনুধাবন করতে পারে।
৮) সূরা আলে ইমরান ১১৮: আল্লাহ সত্যকে সহজভাবে বয়ান করেছেন যাতে মানুষ সহজাত বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করতে পারে।
৯) সূরা নিসা-৮২: আল্লাহ কোরআনকে অনুধাবনের জন্য গভীর ধ্যানে মগ্ন হতে বলেছেন। ইহা যদি আল্লাহর কালাম ছাড়া অন্য কিছু হতো তবে এতে অনেক অসংগতি থাকতো।
১০) সূরা আনআম-৪৬: আল্লাহ কত সহজ ও বিস্তারিত ভাবে জীবনের সত্যগুলো বর্ণনা করেছেন। তারপরও মানুষের বোধোদয় হচ্ছে না।
১১) সূরা আনআম-৯৬: আল্লাহ নিদর্শন সমূহ সুস্পষ্ট ভাবেই বর্ণনা করেছেন।
১২) সূরা নূর-৪৬: আল্লাহ সুস্পষ্ট ভাবে সত্যের বর্ণনা দিয়ে কোরআনের বাণীসমূহ নাজিল করেছেন। আল্লাহ সত্যপথ তাকেই দেখান যে তাহা খুজে।
১৩) সূরা হা-মিম সেজদা ২-৪: আল্লাহ আরবী ভাষায় কোরআনের আয়াত সমূহ সুস্পষ্ট ও প্রাঞ্জল ভাবে বর্ণনা করেছেন যাহা বিচারবুদ্ধি প্রয়োগকারীদের জন্য সুসংবাদবাহী ও সতর্ককারী। কিন্তু অধিকাংশই মুখ ফিরিয়ে চলে যায়, ফলে তারা শোনে না।
১৪) সূরা রুম -২৮: আল্লাহ বিচারবুদ্ধি পয়োগকারীদের জন্য তার বাণী সহজভাবেই বয়ান করেছেন।
এখন উপরের লেখা যদি কোরআনের বাণীর সঠিক বাংলা অর্থ হয় তবে নীচের বিষয়গুলি ভেবে দেখা যায় কি?
ক) সফরে কসর ও রোজা রাখার বিষয়টি কোরানের আলোকেই প্র্যাকটিস করা। কারন এই সম্পর্কে আয়াতগুলি মুহকামাত বা সুস্পষ্ট। আল্লাহ বার বার বলেছেন তিনি এধরনের আয়াত সহজ ও স্পষ্ট ভাবে বর্ণনা করেছেন। তাই বর্তমানে ভুল সংশোধন হচ্ছে।
খ) বয়ান / মজলিসে কোন বিষয় সম্পর্কে প্রথমে কোরআানে কি বলা আছে তাহা বলে পরে হাদিসের আলোকে বিস্তারিত বলা। কারণ, হাদিস অনেক, কোরআন একটিই। কাজেই কোরআনের সাথে সাংঘর্সিক হাদিস বিভেদ বাড়াতে পারে।