24/08/2013
সম্প্রতি বাংলা নিউজ 24 এর প্রযুক্তি বিষয়ক একটা খবর দেখে বেশ অবাক হলাম।
খবরটা কুয়েটের তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক্স বিভাগের একটি গ্রুপের ফাইনাল ইয়ারের প্রোজেক্ট সংক্রান্ত।কুয়েট ইইই-র শিক্ষার্থীরা একটি কোয়াড্রকপটার বানিয়েছে। সেটার বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রোজেক্ট গ্রুপের অন্যতম সদস্য দ্বীপের সাথে সাক্ষাৎকার ছেপেছে অনলাইন ঐ নিউজ পোর্টালটি।
নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রশংসার যোগ্য কুয়েটের কোয়াড্রকপটারটি। ফ্লাইটের সময় ইন্সপেক্টিং এরিয়াতে বিপজ্জঙ্ক গ্যাসের উপস্থিতি শনাক্তকরণ ফিচারটি এই আর্যিয়াল ভেহিক্যালটির অন্যতম উল্ল্যেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। প্রোজেক্টটিমকে এজন্যে অভিনন্দন। [নিউজ লিঙ্কঃ http://bit.ly/1d9ORFR]
কিন্তু বিপত্তি বাঁধল খবরের শেষের দিকে এসে, যেখানে কুয়েটের তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক্স বিভাগের প্রফেসর ড. মো. শাহজাহান স্যারের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর এ ধরনের ড্রোন কপ্টার সফলভাবে ওড়ানো এবং নামানোর ঘটনা এটাই নাকি প্রথম।
স্যারের প্রতি যথাযথ সন্মান রেখে তাঁর এই বিবৃতির ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করছি।
বাংলাদেশে প্রথমবারের মত এ ধরনের ড্রোন কপ্টার তৈরি ও সাক্সেসফুল ফ্লাইট রেকর্ডটির কৃতিত্ব AIUB-র শিক্ষার্থীদের। এ ব্যাপারে একটু বিস্তারিত আলোকপাতের প্রয়োজন।
♦ বাংলাদেশে সর্বপ্রথম সফল আন ম্যানড কোয়াড্রকপটার-ড্রোনটির নাম ছিল "কোয়াড্র ফ্যাল্কন রেস্কিউবট"। এটি তৈরি করেছিলো AIUB EEE- 08 ব্যাচের কিছু শিক্ষার্থী, তাদের ফাইনাল ইয়ার প্রোজেক্ট হিসাবে। প্রোজেক্ট সাবমিটের পর এই UAV টি জুরী বোর্ডে ব্যাপক প্রশংসিত হয়।
[নিউজ লিঙ্কঃhttp://www.quadrofalcon.co.nr/]
♦ কোয়াড্র ফ্যাল্কন রেস্কিউবট সর্বপ্রথম জন সমক্ষে আসে ২০১২ সালের ডিসেম্বর ৬-৮ তারিখে অনুষ্ঠিত Digital World-2012 শীর্ষক প্রযুক্তি বিষয়ক একটি জাতীয় প্রদর্শনীতে, যার আয়োজক ছিল বাংলাদেশ সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। [নিউজ লিঙ্কঃhttp://bit.ly/1dAsSWm]
♦ এরপর কোয়াড্র ফ্যাল্কন নামের AIUB-র ঐ কোয়াড্রকপটারটি অংশ নেয় ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১৩ তে ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রথম আন্তর্জাতিক রবোট প্রতিযোগিতা Global Robotic Competition- Techkriti'13-এর বাংলাদেশ রাউন্ডে। বাংলাদেশী প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের একমাত্র সংগঠন ইঞ্জিনিয়ারিং স্টুডেন্টস এ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ESAB) ছিল এর উদ্যোগতা।
[নিউজ লিঙ্কঃhttp://on.fb.me/15hKKlj]
♦ গত ১৭ ও ১৮ মে, ২০১৩ তে ঢাবির সিনেট হলে ESAB ও IEEE Bangladesh Section এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত IEEE 2nd Int. Conf. on Informatics, Electronics & Vision(ICIEV)-এর প্রোজেক্ট এক্সিবিশন রাউন্ডেও QuadroFalcon অংশগ্রহন করে।
[নিউজ লিঙ্কঃhttp://on.fb.me/1azGQZ0 ]
♦ এরই ধারাবাহিকতায় ১৩ জুন, ২০১৩-তে এটি IEEE-AIUB Student Branch কর্তৃক আয়োজিত AIUB-In house project contest'13 এও অংশগ্রহণ করে।
[নিউজ লিঙ্কঃhttp://bit.ly/18Pnivu]
কোন স্পন্সরশিপ ছাড়াই প্রোজেক্ট টীমের সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ৭৫ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই UAV টিকে বাংলাদেশে আনম্যানড ভেহিক্যাল নির্মাণের ইতিহাসে একটি মাইল ফলক বলা চলে।
এবার আসি বাংলা নিউজ 24 এর সংবাদ পরিবেশন প্রসঙ্গে। বাংলাভাষী এই অনলাইন সংবাদ মাধ্যমটি এর আগেও এধরনের তথ্যগত বিভ্রাট সৃষ্টি করেছে। তাদের এধরনের দায়িত্বহীন কর্মকাণ্ডের আরেকটি উদাহরণ হচ্ছে রুয়েটের বাংলা AI বেইসড রোবট সংক্রান্ত খবরটি। সেখানেও ঐ রোবটটিকে দেশের প্রথম বাংলা টকিং রোবট বলে প্রচার করা হলেও প্রকৃত অর্থে বুয়েটের "ই-বট" ছিল দেশের প্রথম বাংলা-বট, যাকে বাংলা কোন প্রশ্ন করা হলে সে বাংলায় উত্তর দিতে পারতো।
প্রযুক্তি বিষয়ক কোন খবর যাচাই-বাছাই ছাড়াই নিজেদের কাটতি বাড়ানোর জন্যে উক্ত মাধ্যমটির ভ্রান্তি-মিশ্রিত সংবাদ পরিবেশন সত্যিই হতাশা জনক। আরও বিস্ময়কর তথ্য হচ্ছে, কুয়েট ইইই-র ঐ প্রোজেক্ট টীমের সদস্য মামুন খান দ্বীপের সাথে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে জানান, বাংলা নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে নিজেদের কোয়াড্রকপটারের ব্যপারে এধরনের কোন দাবী তিনি করেননি। ডিপার্টমেন্ট ফ্যাকাল্টি প্রফেসর ড.মো.শাহজাহান এ ধরনের কিছু বলেছেন বলেও তার জানা নেই !
প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিষয়ক যে কোন প্রোজেক্টের পেছনে সংশ্লিষ্ট প্রোজেক্ট টীমের অসংখ্য নির্ঘুম রাত, সীমাহীন ত্যাগ আর অক্লান্ত পরিশ্রমের কথকতা জড়ানো থাকে। তাই এগুলোর উপর সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে বাংলা নিউজ-24 সহ অপরাপর গণমাধ্যমগুলোকে আরও দায়িত্বশীল হবার আহ্বান জানাচ্ছি।
মাশরূর এইচ. সুহৃদ,
ইইই, এ আই ইউ বি।