Department of Accounting, University of Dhaka

Department of Accounting, University of Dhaka Home of AISians

12/08/2022
আমার বাবা একজন সরকারি কর্মচারি ছিলেন। ৬৭ সালে চাকরি শুরু। ৮০ এর দশকের শুরুর দিক, তখন উনার কর্মস্থল ছিল যশোর ক্যান্টনমেন্...
24/09/2021

আমার বাবা একজন সরকারি কর্মচারি ছিলেন। ৬৭ সালে চাকরি শুরু। ৮০ এর দশকের শুরুর দিক, তখন উনার কর্মস্থল ছিল যশোর ক্যান্টনমেন্ট।

বাবা অডিটর ছিলেন। চাকরি সশস্ত্র বাহিনীর ছিল না। সিজিডিএফ এর অধীনে ছিলেন। বিশাল আর্থিক অনিয়ম দেখতে পেয়ে সেটার বিরুদ্ধে ফাইলে লেখার পরে অনেক অফার/আদেশ/অনুরোধেও বাবা অনড় ছিলেন। ফলাফল দ্রুত বগুড়া ক্যান্টনমেন্টে বদলি।

কয়েক মাস যেতে না যেতেই, সেখানেও প্রায় একই অবস্থা। বাবাকে ট্রান্সফার করা হল চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্টে। আমার বাবা লিখলেন বদলি আদেশের বিরুদ্ধে। তিন বছর পার হবার আগেই বদলি রীতি বিরুদ্ধ। বাবা চট্টগ্রামে বদলি আদেশ মেনে নিলেন না। সেখনে জয়েন করবেন না, জানিয়ে দিলেন।

এর পর একই আদেশ এল। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে জানানো হল, আপনি জয়েন না করলে চাকরিচ্যুত করা হবে। বাবা জবাবে লিখলেন অবৈধ আদেশ না মানলে চাকরিচ্যুত করা যায় না।

কিন্তু চাকরিচ্যুতির চিঠি এল। আমার বাবা গেলেন প্রশাসনিক ট্রাইবুনালে। মামলার খরচ অনেক। এদিকে কয়েকমাস বেতন নেই। অল্প অল্প করে জমানো টাকা দিয়ে কেনা জমি বেঁচে এল উকিলের টাকা।

স্কুল শিক্ষিকা আম্মার অল্প বেতনেই চলছে সংসার। আব্বা শুধু ঢাকা রংপুর ছুটে চলেন। উকিলের টাকা দেন। অন্যদের আহারে করছেন কি এর জবাবে বলেন। রাইট অর রঙ! মামলার ডেট হয়। নতুন ডেট হয়। উকিলের খরচ বাড়তেই থাকে। আব্বা মামলাটায় হেরে যান।

আব্বা ট্রাইবুনালে আপিল করেন। আরও জমি বিক্রি হয়। আপিলেও হেরে যায় অসহায় সৎ একজন কর্মচারী।

আব্বা এবার যান হাইকোর্টে। আশা উচ্চ আদালত অন্তত ঠিক বিচার করবে। জমির পর জমি বেঁচে যোগাড় হয় উকিলের খরচ। কিন্তু আম্মার অল্প বেতনে সংসার যেন আর চলে না। আমাদের দেখে মানুষ হাসে। ঈদে আমাদের নতুন জামা নেই। হঠাৎ কেউ একজন পেয়ে যাই। আমাদের ইংলিশ হাফপ্যান্ট এর চেইন নষ্ট হয়ে যায়। হুক খুলে যায়। বোনেরা সেফটিপিন দিয়ে আটকে দেয়। পাশের বাসার বয়সে অনেক বড় সেলি আপুরা চেক করে দেখে প্যান্ট ছেড়া আছে কি না। দুষ্টামি করে গুনা তার দিয়ে প্যান্ট বেঁধে দিয়ে হাসে। আমরা বুঝি না, ছোট। বোনেরা কষ্ট পায়।

অভাব ঘুচাতে আব্বা হুইল সাবান, ডিটারজেন্ট, তাজা চা এর ডিলারশীপ এর চেষ্টা করেন। জিনিস এনে দোকানে দোকানে দেয়, আমরা বুঝি এবার কিছু টাকা পয়সা আসছে। কিন্তু আব্বার মন ঢাকায়। এটা শুধু মামলা না, চাকরি না। এটা রাইট অর রঙ এর প্রশ্ন। স্বাধীন বাংলাদেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এর প্রশ্ন। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রশ্ন। ডিলারশীপের ব্যবসায় মন কম, তাই লস হয়।

আমরা ভাই বোনেরা বড় হচ্ছি। আমাদের স্কুল খরচ আছে। পুষ্টির প্রয়োজন আছে। পাশের বাসার (দিশা আপুর বাবা মা)চাচা চাচী এগিয়ে আসেন! গরুর দুধ বেশি হয়েছে আজ, বলে প্রায়ই আমাদের বাসায় পাঠিয়ে দেন।

চাচা আব্বাকে এসে বলেন, ভাই আজ মাছ খাবো। চলেনতো জাল নিয়ে পুকুরে যাই। দিশা আপুদের পুকুরে অনেক মাছ। সপ্তাহে একাধিক দিন সেই মাছ ধরা হয়। নিজেদের খাওয়ার জন্য রেখে চাচা এখানে সেখানে পাঠিয়ে দেন। বেশিরভাগটা আসে আমাদের বাসায়। আর টাকা ধার তো আছেই।

আব্বা হাইকোর্টেও মামলাটায় হেরে যান। কিন্তু আব্বা দমে যান না। জমি বিক্রির তলানির টাকা কুড়িয়ে আব্বা ঢাকায় আসেন। আপিল বিভাগে যাবেন। তখন আপিল বিভাগে এনলিস্টেড আইনজীবী খুব কম। আব্বার পছন্দ ড. কামাল হোসেন, বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রী, সংবিধানের প্রণেতা। আব্বা দেখা করেন, নিজের লড়াইয়ে গল্প খুলে বলেন। আব্বা ভেবেছিলেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বঙ্গবন্ধুর এই সাগরেদ তাঁকে জিতিয়ে আনবেন। কিন্তু আইনজীবী হিসেবে মামলা চালাতে কয়েক লাখ টাকা চাইলেন ড. সাহেব। আব্বার চোখ মুখ শুকিয়ে গেল। আমাদের শেষ সম্বল জমি আর ভিটে বেঁচতে হবে, তাহলে। তারপরেও যদি হেরে যান! ছেলে মেয়েদের মুখের দিকে তাকিয়ে আব্বা ভিটে বেঁচতে পারলেন না। কম পয়সায় আপিল বিভগের আইনজীবী পাওয়া গেল না।

আব্বার লড়াইয়ে গল্প তখন হাইকোর্টের চিপায় চাপায় আলোচনা হয়। অনেকেই জানেন। সেই সময়ের হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার আব্বাকে একদিন ডেকে নেন। বলেন, আপিল বিভাগে মামলা আব্বা নিজেই লড়লে, তিনি পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করবেন। বাদী হিসেবে আব্বা নিজেই হিয়ারিং এর অনুমতি পান।

আইনের বই ঘাটতে ঘাটতে আব্বা অনুভব করেন, এই মামলায় প্রশাসনিক ট্রাইবুনালে বা হাইকোর্টে তাঁর আইনজীবীরা বিট্রেয়ার ছিলেন। হয়তো থ্রেট বা বিক্রি। আব্বা নিজেই আপিল বিভাগে হিয়ারিং করবেন, সুপ্রিমকোর্টে আইনজীবীরা অনেকেই সেই আলোচনায় ব্যস্ত। আব্বার গল্প অনেকেরই জানা তখন। এতদিনে এরশাদ সরকারের পতন হয়েছে, জামায়াতের ১৮ সিটের সমর্থন নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। আমি স্কুলে ভর্তি হয়েছি।

রাতে ভাত খাবার পর আমরা হাঁটতে বের হই। আব্বা কলা/সিভিট কিনে দেন।৷ আসার সময় দিশা আপুদের বাসা থেকে অই দিনের পেপার নিয়ে আসি। আমরা নিজেরাও পেপার নেই তখনো, অই দুর্দিনেও। কিন্তু একাধিক পেপার না পড়লে আমাদের বাসার কারো দিনের ভাত হজম হত না।

হাঁটতে নিয়ে আব্বা প্রতিদিনই নতুন উদাহরণ দিয়ে একই রকম গল্প করেন, ''তোর অমুক চাচা ঘুষ খেয়ে এত টাকা করল, ছেলেটা পাগল, কোনো লাভ হল বল? এই যে তোর বাপ গরীব, কিন্তু তোরা সবাই কত ব্রেনি, কোনটা ভাল বল''?

আমরা আব্বার কথায় সায় দেই। মনে মনে কষ্ট থেকে যায়। রংপুর শহরের প্রাণ কেন্দ্রে বাসা আমাদের। পাশে রিকশা ওয়লাদের বাসায় কারেন্ট আছে, আমরা হ্যারিকেন-এর আলোয় পড়ি।

জিলা স্কুলে ভর্তির রেজাল্ট দিল। আমি টিকলাম, কিন্তু সিরিয়াল পেছনে। আমার মন খারাপ। আব্বা বললেন, 'তোর বাপ ভাঙা বাইসাইকেলে তোকে নিয়ে আসছে, তুই টিকছিস, এই তো বেশি। অই যে গাড়ি নিয়ে আসছে, টেকে নাই। আমি সান্ত্বনা পাওয়া শুরু করলাম। ১৯৯৩ সাল, আমি ক্লাশ থ্রিতে রংপুর জিলা স্কুলে ভর্তি হলাম। এর কিছুদিন পর শুনলামঃ আব্বা মামলা জিতছে! সুপ্রিমকোর্ট এর আপিল বিভাগে কোনো আইনজীবী না দিয়ে, নিজে জীবনে প্রথম হেয়ারিং করে আব্বা মামলা জিতে গেছেন! আপিল বিভাগ, আব্বাকে চাকরি ফেরত দিতে বললো। এতদিন চকরি করলে যে বেতন, টাইম স্কেল পেতেন সবসহ।

আব্বার রি-জয়েনিং লেটার আসলো। উনাকে সেই চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্টেই জয়েন করতে বলা হল। চিঠিতে এও বলা হল, উনি ডিপার্টমেন্টের নীতি বিরুদ্ধ আচরণ করায় উনাকে এক র‍্যাংক ডিমোশন দিয়ে, জুনিয়র অডিটর করা হয়েছে!

এক যুগেরও বেশি সময় মামলা চলার পর সুপ্রিম কোর্টের রায়ে আব্বা চাকরি ফেরত পেলেন। কিন্তু উনাকে এক পোস্ট ডিমোশন দিয়ে সেই চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্টেই জয়েন করতে বলা হল।

রি জয়েনিং লেটারে আচমকা এই ধাক্কায় মামলা জেতার অসাধারণ আনন্দ নিমিষেই ফিকে হয়ে এল। আব্বা কি করবেন ভেবে পাচ্ছেন না। দেখা করতে গেলেন হাইকোর্ট বিভাগের সেই শুভকাঙখী রেজিস্ট্রার এর সাথে।

সেই ভদ্রলোক বললেন, চাকরি ফেরত পেতেই আপনার লাগলো ১২ বছর। আবার মামলা করলে আরো ১২ বছর লাগবে। আপনি আগে জয়েন করেন।

আব্বা চাকরিতে জয়েন করলেন চট্টগ্রামে। আমরা রংপুর শহরে থেকে গেলাম। কিন্তু চাকরিতে জয়েন করলেও মাস শেষে আব্বার বেতন হল না। খোঁজ নিলেন। পে সেকশন বললঃ আপনার বেতন কত হবে, সেটার গণনা চলছে।

সেই গণনা চলতেই লাগলো। ১২ বছরের পাওনা পরিশোধ করা দূরের কথা, রানিং বেতনও আব্বাকে দিচ্ছিল না তাঁরা।

আমাদের টাকা পাঠানো দূরের কথা, নিজের চলার টাকাই নাই বাবার। তখনো পার্বত্য শান্তি চুক্তি হয়নি। বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়িতে শান্তি বাহিনীর ব্যাপক প্রতাপ। সেনা বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্কিত কাউকে পেলে শান্তি বাহিনী কিডন্যাপ করে। মুক্তিপন নেয় বা মেরে ফেলে। পাহাড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থাও খুব খারাপ। জীবনের রিস্ক নিয়ে পাহাড় ডিঙিয়ে অডিটে যেতে হয়। তাই পার্বত্য অঞ্চলে অডিটের টিএ ডিএ বেশ ভাল। টাকাটাও নগদ। আব্বা নির্ভরশীল হলেন অই অল্প কিছু টাকার বিনিময়ে অডিট এর ওপর। আব্বা ছুটি পেলে রংপুরে আসেন। আমরা বগালেকের গল্প শুনি, আলী কদমের গল্প শুনি, বিলাইছড়ির গল্প শুনি। পাহাড়ের গল্প শুনি। শান্তি বাহিনীর হাতে ধরা পড়ার গল্প শুনি।

আব্বা আসার সময় পুরাতন পত্রিকাগুলা ব্যাগ ভরে আনতেন। ৯৩ সালেই তাই আমি হাতে পাই চট্টগ্রামের আঞ্চলিক পত্রিকা পূর্বকোন। এছাড়া সুগন্ধা, যায় যায় দিন এরকম বেশ কিছু সাপ্তাহিক পত্রিকা থাকতো আব্বার ব্যাগে। আমাদের আর কিছু চাইনা। মাঝে মধ্যে আসার পথে ঢাকার গুলিস্তান থেকে সস্তার কিছু কাপড়। আমরা তাতেই খুশি। অন্তত আব্বা চাকরি ফেরত পেয়েছে তো।

এভাবে তিন বছর কেটে যায়। আব্বার ওপর সেই মাফিয়া গোষ্ঠীর রাগ পরে না। আব্বা চাকরি করে যান, বেতন পান না। তাঁর ব্যাচমেট অনেকেই তখন উপপরিচালক। তাঁরা আশ্বাস দেয়, কিছুই হয়না। বাসা রংপুর, আমরা রংপুরে পড়ি, আম্মার চাকরি রংপুর... এসব দেখিয়ে ১৯৯৬ সালে আব্বা রংপুর ক্যান্টনমেন্টে ট্রান্সফার নিতে সক্ষম হন।

এর মধ্যে দেশে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। জাসদের আসম রব ঐক্যমতের সরকারে সমর্থন দিয়ে পশুমন্ত্রী। জাতীয় পার্টির আনোয়ার হোসেন যোগাযোগ। দীর্ঘ দিন পর বাতিল কুখ্যাত ইনডেমনিটি। আব্বা আশাবাদী হন। এবার বঙ্গবন্ধুর দল ক্ষমতায়, এবার অন্তত প্রশাসনের হারামি লোকগুলো সাইজ হয়ে যাবে। কিন্তু না। কিছুই হয়না! বছরের পর বছর যায়, আব্বার বেতন নির্ধারণ শেষ হয়না।

আমার বাবা আবার ঢাকায় যান অফিসের বিরুদ্ধে মামলা করতে। সুপ্রিমকোর্টের রায় বাস্তবায়ন না করার মামলা। প্রশাসনিক ট্রাইবুনালে এই মামলায় আব্বা আর উকিল দিলেন না (আগের অভিজ্ঞতা -উকিলরা ভয় বা টাকার কাছে বিক্রি হয়ে যেতে পারেন)…।

শুনানি শুরু হল। আব্বা নিজেই নিজের মামলা লড়ছেন। জজসাহেব আব্বার সার্ভিস রেকর্ডের সব কপি (১৯৬৭ সাল থেকে ১৯৯৯) চেয়ে বসলেন! এই কাগজগুলো সংগ্রহ সোজা ছিল না। আব্বা বললেন, এটা বাস্তবায়ন মামলা; এখানে পুরাতন কাগজের দরকার নেই। সুপ্রিম কোর্টের রায় বাস্তবায়ন হয়েছে কি না এটুকু দেখলেই হবে। কোর্ট বলল, পুরাতন সব কাগজ না হলে শুনানি করবেন না। আব্বা ভেবে বসলেন, তাহলে আদালতও কি নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।

পুরা ডিপার্টমেন্টে গোপন শত্রু/প্রকাশ্য শত্রু। এই কাগজগুলো যোগাড় কঠিন হলেও, সম্ভব হল। তবে সময় গেল অনেক। কোর্ট সব কাগজ নিল, শুনানির কয়েক ডেট পরে, কোর্ট একদিন আব্বাকে বললঃ আপনি উকিল নিয়োগ করেন।

আব্বা আদালতে বললেন, তাঁর উকিল নিয়োগের মত আর্থিক অবস্থা নেই। এবং অতীতের অভিজ্ঞতা আইনজীবীদের কিনে ফেলে ব্যুরোক্র্যাটরা, তাই কোনো ভাবেই আব্বা অন্য আইনজীবী দিতে চাচ্ছিলেন না। জজ সাহেব গোঁয়ারের মত বলে বসলেন, আইনজীবী নিয়োগ না করলে আব্বার কাছ থেকে শুনবেন না।

আব্বা বাধ্য হয়ে একজন আইনজীবী নিলেন। এরপর কার্যদিবসে খুব শর্ট হিয়ারিং হল। আইনজীবী শুধু বললেন, এই কেস.. অমুক অমুক নম্বর কেসের মতো। কোর্ট যেন সদয় বিবেচনা করেন।

আব্বা বুঝলেন না কিছুই। রায়ের তারিখ হয়ে গেল। অই আদলত এই এক লাইনের শর্ট হেয়ারিং এর ওপর ভিত্তি করে যে রায় দিয়েছিলেন, সেটা কয়েকশ পৃষ্ঠার! আমি ততদিনে কলেজে পড়ি।

কোর্টের রায় উল্টিয়ে পড়ে বোঝার চেষ্টা করি। বিশাল রায়ে কোর্ট বলেছেনঃ আব্বা কবে কিভাবে চকরিতে ঢুকলেন। কিভাবে কোনো অজানা কারণে আব্বাকে বার বার বদলি করা হল হঠাৎ। দুর্নীতি এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে লড়াই করলে সৎ সরকারি কর্মচারীদের জীবনে কি হেনস্তা হয়, আমার আব্বা সেটার জলন্ত উদাহরণ। এই মামলা খুবই সরল৷ সুপ্রিমকোর্টের রায় মানতে ডিপার্টমেন্ট বাধ্য। বেতন নির্ধারণে কয়েক মিনিট সময় লাগবে। এটা নিয়ে ফাজলামোর সুযোগ নেই। এবং আব্বাকে ডিমোশন দেবার কোনো সুযোগ নেই।

আব্বা রায় পেয়ে হতভম্ব হয়ে গেলেন। বুঝলেন জজ সাহেব কেন সব কাগজ দেবার জন্য জেদ করেছিলেন। আসলে অই এক রায়ে আব্বার লড়াই সংগ্রাম, চাকরির সব, এবং তাঁর প্রতি অবিচার এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে আব্বা লড়াই সব এসেছে অই বিশাল রায়ে। এবং উকিল দিতে জোর করেছিলেন জজ সাহেব, কারণ আব্বা হেয়ারিং এ অনেক কথা বলেছেন, যেগুলো টু দি পয়েন্ট ছিল না। এই কেসে জাস্ট অই রেফারেন্স হলেই চলে।

আব্বাকে ঠেকাতে রায়ের ফাইল নিয়ে কুত্তা পাগল দশায় তখন ব্যুরোক্র্যাট মাফিয়ারা। তাঁদের কাছে তখন এটা হয়ে উঠেছে প্রেস্টিজ ইস্যু। ততদিনে, বিএনপি-জামায়াতের জোট ক্ষমতায়। নিজামী তখন মন্ত্রী।

আইন মন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ নিজেই অই ফাইলের ওপর লিখলেন, নো স্কোপ টু আপিল। অই বদরাগী সদয় জজ সাহেব এমনভাবে রায় লিখেছেন, অটার বিরুদ্ধে আপিলের কোনো সুযোগ খুঁজে পেলেন না তিনিও।

ডিপার্টমেন্ট এবার অন্য খেলা শুরু করল। আব্বাকে চিঠি দিল, যে এত তারিখে আপনি রংপুর ক্যান্টনমেন্টের এল ও অফিসের সুপারভাইজারকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি ছিনতাই করেছেন। কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। আব্বা চিঠির জবাবে লিখলেনঃ কি বিষয়ক কগজ ছিনতাই করেছি, জানালে তারপর এই কারণ দর্শাও এর জবাব দেবেন।

আমি আব্বাকে জিজ্ঞেস করলাম, ঘটনা কি? আব্বা বললেন, ঘটনা সত্য। তোর অমুক চাচাকে ধাক্কা মেরে আমি কিছু কাগজ আনছি।
-কিসের কাগজ?
-একবছরের ঘুষের হিসেব। এরা খুব শৃংখলিত। কোন প্রজেক্টের কত টাকা মারা হচ্ছে। কোন র‍্যাংকের কার কাছে কত ঘুষ যাচ্ছে, তার একটা গোপন লিখিত হিসেব থাকে। আমি সেরকমই একটা গোপন কাগজ ছিনতাই করেছি! এটা সরকারি কাগজ না। তাই আমার চিঠির জবাব ওরা দেবে না। হলোও তাই। ডিপাডিপার্টমেন্ট আর কথা বাড়ায়নি, অই কাগজ নিয়ে। আব্বাকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি এই কাগজ দিয়ে কি করবেন? আব্বা বলল, এটা আমার জীবন বীমা। মামলা হেরে যাওয়াটা ওরা মানতে পারবে না। কোনোভাবেই যেহেতু পারেনি, এরপর ওরা আমাকে মেরে ফেলবে। কিন্তু এখন ওরা জানে, আমি মারা গেলে, ঘুষের এই দাপ্তরিক হিসেব সব খানে চলে যাবে। তাই আমাকে মেনে নিতে না পারলেও ফিজিক্যালি মেরে ফেলবে না।

কোর্টের রায়ের পর আব্বা বেতন পেতে শুরু করলেন দুই যুগ পর। পুরাতন পাওনার হিসেব চলছে তখনো। আব্বা নিজের দুই যুগ আগের ডেজিগনেশন ফেরত পেয়েছেন। যদিও তার ব্যাচমেট সবাই অনেক কয়বার পদোন্নতি পেয়েছেন। সবাই রিটায়ার্ড করবেন বা করছেন। আব্বারও চাকরি আছে আর এক/দুই বছর। আমি ততদিনে রংপুর ছেড়ে ঢাকায়।

এরকম সময় আব্বাকে বদলি করা হল সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট এ। করা হল পেনশন সেকশনের ইনচার্জ। আব্বা জয়েন করলেন। এবং সেইদিনই ছুটির দরখাস্ত দিলেন মেডিকেল সার্টিফিকেটসহ।

আব্বার প্রেশার তখন থাকতো ২২০/১৪০, কখনো ২৪০/১৬০ এরকম। চিকিৎসকরা ফুল বেড রেস্ট বললেও আমার অদম্য বাপকে আমরা থামাতে পারতাম না। সেই দুই চকার মান্ধাতার আমলের বাই সাইকেল চালিয়ে তখনো আব্বা গ্রামের বাসা কুড়িগ্রামে যান প্রায়। সেই লোক মেডিকেল লিভ নিল? কেন?

আব্বাকে জিজ্ঞেস করলাম কেন? আব্বার উত্তরঃ
সারাজীবন লড়াই করলাম দুর্নীতির বিরুদ্ধে। কোনোভাবেই এত বাঘা বাঘা শক্তি পেরে উঠল না। এবার তাঁরা শেষ কামড় দেবে, এজন্যই আমাকে পেনশন সেকশনের ইনচার্জ করছে। এই সেকশনে সবার সার্ভিস ফাইল থাকে। কিছু ফাইল গায়েব হবে, এবং দোষ পড়বে আমার বাবার ওপর। বলবে ঘুষের জন্য ফাইল গায়েব। সারা জীবনের ফাইটারের গায়ে কাঁদা ছোড়া হবে।

- তাহলে?
আব্বা জানালেন তিনি অবসরের জন্য চিঠি দিয়েছেন। আব্বার অগুনতি দিন ছুটি পাওনা আছে। তাই একমাসের ছুটি দিতে তাঁরা বাধ্য। তারমধ্যে, সত্যিকারের মেডিকেল সার্টিফিকেট। অনস্পট প্রেশার মাপলেও, ডাক্তার বলবেন শুইয়া পড়েন এখুনি। আর এই একমাসের মধ্যে অবসরের চিঠি অটো কার্যকর হয়ে যাবে, নিয়মানুযায়ী।

একমাস পর সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট থেকে আব্বা অবসরে গেলেন ২০০৫ এ। তখনো পুরাতন পাওনা সব পাননি। সে সবের জন্য আব্বাকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে আসতে হয়। আমি ইউনিভার্সিটি হল থেকে আব্বার সঙ্গী হই। পে সেকশন, লগ এরিয়া, আর সেগুনবাগিচায় ১২ তলা প্রায়ই যাই। সব খানেই আব্বা একটা মিথ। কোনো সেকশনে আব্বা ঢুকলে সবাই উঠে দাঁড়ায়। র‍্যাংকের কারণে না, শ্রদ্ধায়। আমকে কতজন চুপ করে ডেকে নেয়, গায়ে মথায় হাত বুলায়। আদর করে। ফিসফিস করে বলেন, '' তোমার আব্বার মতো হতে পারবো না আমরা। কিন্তু এরকম একজন মানুষকে দেখেছি এই আমাদের সার্থকতা।''

আমি চুপচাপ শুনি। আনন্দে আমার চোখে পানি আসে কি না সেটা বিষয় না। বরং আব্বাকে বলি, ধুরো বাকি টাকাটা লাগবে না। অনেক হইছে। আব্বা বলেন, এটা শুধু আমার পাওনা না, এটা ওদের পরাজয়।

নোটঃ আমার আব্বা মোঃ আব্দুর রব এখনো ভাবেন দেশে আইনের শাসন আছে। তবে সেটার সার্ভিস অনেক ধৈর্য্য ধরে ত্যাগ তিতিক্ষা করে পেতে হয়।

©আশিকুর রহমান অপু

31/07/2021

আমি একজন বিধবা মহিলা আমার বয়স এখন ৬০ বছর। আমি স্কুল শিক্ষিকা ছিলাম।
আমার একটা-ই ছেলে যার বয়স এখন ৩৬ বছর। ওর নাম আশিক আদনান দিপ ও থাকে অষ্ট্রেলিয়া। আমার হাজবেন্ড যখন মারা যায় তখন আমার বয়স ৪০ বছর। আর আমার ছেলে আশিক আদনান দিপ যাকে আমি দিপ বলে ডাকি ওর বয়স তখন ১৬ বছর।

ছেলে কে আমি একা একা বড় করেছি। নিজে কষ্ট করেছি, কখনো ছেলেকে কোন কিছুর অভাব বুঝতে দেই নাই। সব সময় চেয়েছি ওর সব চাহিদা মেটাতে। কখনো যেন না ভাবে - আমার বাবা থাকলে এ-ই চাহিদাটা পূরণ হতো। বাবা নাই বলে এটা পাচ্ছি না। ছেলে কে দেশের সব চাইতে ভালো স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়িয়েছি। তারপর ছেলে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়ে চলে গেলো অষ্ট্রেলিয়া । সব খরচ একা হাতে সামলিয়েছি। নিজের দিকে একদম খেয়াল করিনি। সব সময় দেখতে চেয়েছি আমার সন্তানের সফলতা ! তার ভবিষ্যৎ উজ্জল করাই ছিলো আমার জীবনের লক্ষ।আমাকে সবাই সফল মা বলেন।এই নিয়ে আমারও একধরনের চাপা গর্ব আছে।

গত সপ্তাহে আমার এক পুরাতন বান্ধবীর সাথে দেখা হলো ওর নাম লিপি। ওর ছেলে আমার ছেলে দিপের সাথে এক'ই স্কুলে পড়তো। ওর ছেলের সাথে অবশ্য দিপের খুব ভালো বন্ধুত্ব ছিলো না। এর কারণ হয়তো আমি বা আমার ছেলে দিপ।

আমি সব সময় চাইতাম দিপ শুধু মাত্র ভালো স্টুডেন্ট যারা আর সব সময় পড়ালেখা নিয়ে কমপিটিশন করে তাদের সাথে মিশবে। তাতে করে ওর ভেতরে পড়ালেখার প্রতি আরো বেশি প্রতিযোগিতার মনোভাব থাকবে।

সব সময় লিপি বলতো -দেখ আমরা দু'জন কত ভালো বন্ধু। আর আমাদের ছেলেরাও এক'ই স্কুলে পড়ে, তার পরেও ওদের মধ্যে বন্ধুত্ব হলো না।
লিপির ছেলে আরিফ সব ক্লাসে টেনেটুনে পাশ করে যেতো। তবে সব সময়ই স্কুলের খেলাধুলা অন্যান্য কার্যক্রম গুলোতে অংশগ্রহণ করতো। স্কুলের ওয়াল ম্যাগাজিনে ওর লেখা থাকতো, ছবি আঁকতো, এগুলো নিয়েই লিপি খুশি থাকতো।

লিপির কথা,- আমার ছেলে'তো আর ফেল করে না! পাশ করে গেলেই হলো। সবার ছেলেতো ফাস্ট হবে না। আমার ছেলেটা পড়ালেখায় তেমন ভালো না কিন্তু ওর অন্য কাজ গুলো কত সুন্দর!
আমার কাছে লিপির এই কথা গুলো অসহ্য লাগতো। মনে হতো,ছেলের মাথায় তো গোবর আছে। তার চাইতে বেশি গোবর মায়ের মাথায়। তা না হলে যে ছেলে পড়ালেখায় এত পেছনে পরে আছে। তাকে কোন মা স্কুলের এক্সটা কার্যক্রম নিয়ে সময় নষ্ট করতে দেয়!
দিপ কলেজে উঠে নটরডেম কলেজে ভর্তি হলো আর আরিফ খুবই সাধারণ একটা কলেজে ভর্তি হলো। তার পর ওদের সাথে আর যোগাযোগ ছিলো না।

গত সপ্তাহে শপিং মলে ওদের সাথে দেখা হলো। তাও আমি ওদের দেখি নাই। আমাকে লিপির ছেলে আরিফ দেখতে পেয়ে আমার কাছে এসে বলে
-আন্টি আমাকে চিনতে পেরেছেন? আমি আরিফ।
আমি আরিফকে আসলেই চিনতে পারছিলাম না। আরিফ কে যখন শেষ দেখি তখন মাত্র স্কুল ছেড়ে কলেজে যাবে। ছেলে মানুষি এখনো চোখে মুখে। আর এখন রীতি মতো ভদ্রলোক। তার পর আরিফ আমাকে লিপির কাছে নিয়ে যায়। লিপি একটা দোকানে বসা ছিলো। লিপিকে নিয়ে ওর ছেলে শপিং এ এসেছে। তাও আবার লিপির জন্য তার ছেলে পছন্দ করে কি সব রংচঙে থ্রী-পিছ কিনছে।

আমি আর লিপি সব সময় শাড়ি পরতাম, তাই আমি একটু অবাক হলাম। লিপি আমার কাছে বার বার জানতে চাইছিলো।
-তুই বল আমি কোনটা কিনবো আমাকে কোনটায় মানাবে?
-তখনই আরিফ হঠাৎ করে বলে বসে আন্টি আপনি যেটা পছন্দ করবেন আম্মা সেটাই কিনবে।তার পর আমি একটা থ্রী- পিস পছন্দ করি আরিফ সেই একই থ্রী- পিস দুইটা কিনে আমি তা খেয়াল করি।
আমি আর লিপি গল্প করছিলাম কেনাকাটার ফাঁকে ফাঁকে ।
তারপর আরো কিছু টুকিটাকি কেনাকাটা করে ওরা। ওদের কেনাকাটা দেখে মনে হচ্ছিল ওরা কোথাও বেড়াতে যাবে।
আমি আরিফ কে খেয়াল করছিলাম ও লিপির সাথে কেমন সহজ স্বাভাবিক ভাবে কথা বলে। মনে হয় আরিফ ওর মাকে নয় মেয়ে কে নিয়ে বের হয়েছে শপিং করতে। তার পর আমাদের নিয়ে একটা রেস্টুরেন্টে যায়।আরিফ টুকটাক খাবার অর্ডার করে শেষে আরিফ বলে -
আম্মা কফি খাবে নাকি কোন আইসক্রিম।
লিপি বলল আগে কফি খাব তারপর কোন আইসক্রিম খেতে খেতে বাসায় যাব।
আমি বললাম- আমি শুধু কফি।
লিপি সঙ্গে সঙ্গে বলল -তা হলে আইসক্রিম খাওয়া বাদ।
খেতে খেতে শুনলাম ওরা বেড়াতে যাচ্ছে কক্সবাজারে সেখান থেকে সেন্ট মার্টিন। সাথে লিপি কে নিয়ে যাবে। যদিও সেটা আরিফের অফিসিয়াল টুর।আরিফ একটা বায়িং হাউস এ আছে। বুঝতে পারলাম ভালো দায়িত্বে আছে। আমাদের সাথে বসা অবস্থায় কতবার যে মেইল চেক করলো। আর টুকটাক অফিসিয়াল কল রিসিভ করলো। তার মানে শত ব্যস্ততার মধ্যেও মা'কে শপিং করতে নিয়ে এসেছে। ইতিমধ্যে আরো জানা হয়ে গেলো আরিফের বউ-এর কথা আরিফের বউ একটা মাল্টি ন্যাশনাল কম্পানিতে আছে। তাদের এক সন্তান সে এখন তার নানি বাড়িতে আছে। শপিং শেষ হলে আরিফ তার মেয়ে কে তার শ্বশুর বাড়ি থেকে তুলে নিবে।

আমি একটা বিছানার চাদর আর আমার জন্য টুকটাক বাজার করতে এসেছিলাম। আমি কিছুই কিনি নাই সেদিন। আমার কিছু কিনতে ইচ্ছে হচ্ছে না আর।আমি শুধু আরিফ কে দেখছিলাম। আরিফ কি ভাবে ওর মা'কে এত যত্ন করছে।স্যান্ডেলের দোকানে নিজে তার মায়ের পায়ে স্যান্ডেল পরিয়ে দিলো।লিপি এত দাম দিয়ে স্যান্ডেল কিনবে না। আরিফ তখন বলল আম্মা তুমি মূল্য দেখো কেন? তুমি দেখবে আরাম পাও কিনা?
আরিফের কত খেয়াল তার মায়ের জন্য। সব শেষে সানগ্লাস কিনলো মায়ের জন্য। লিপি সানগ্লাস কিনবে না।তখন আরিফ বলল,
- মা সানগ্লাস কিনতে হবে কারন তুমি যখন সমুদ্রের ধারে হাটবে তখন তোমার চোখে রোদ লাগবে।
ওদের মা - ছেলেকে দেখে আমার এমন লাগছে কেন? আমি আরিফ কে দেখছি, লিপিকে দেখছি। আর আমার ভেতরে কেমন হীনমন্যতা ঢুকে যাচ্ছে। বার বার মনে হচ্ছে আমি হেরে গেছি জীবনের কাছে। আমি একজন ব্যর্থ মা। যে তার ছেলেকে সব চাইতে সফল আর বড় বানাতে গিয়ে এত বড় বানিয়ে ফেলেছি যে, সেই ছেলের নাগাল আমি আর কখনো পাবো না!

এর মধ্যে কয়েকবার আরিফ দিপের কথা জানতে চেয়েছে।দিপের সাথে যোগাযোগের নম্বর চেয়েছে, আমি দেই নাই। বলেছি বাসায় আছে, নোট বইয়ে লেখা। আর দিপ আমাকে কল দেয় সব সময়। আমি তো দেই না তাই মনে নাই। আসলে দিপের অনুমতি না নিয়ে ওর নম্বর কাউকে দিলে ও রাগ করবে। আমাকেই বলে
- মা আমি অনেক বিজি থাকি, যখন তখন কল দিবে না। এতে করে আমার ডিসটার্ব হয়। তুমি এখনো অষ্ট্রেলিয়া আর বাংলাদেশের সময়ে এডজাস্ট করতে পারো না কেন?
আরিফ আমাকে আমাদের বাসায় নামিয়ে দেওয়ার সময় আমার হাতে একটা শপিং ব্যাগ দিয়ে বলল এটা আপনার জন্য। আমি দেখি ঠিক মিনার মতো আমার জন্যও একটা থ্রী-পিস কিনেছে আরিফ। আন্টি এটা আপনার জন্য।আপনারা দুই বান্ধবী এক সময় এক রকম জামা পরে বেড়াতে বের হবেন।
আমার চোখে পানি চলে আসার অবস্থা হয়েছিলো তখন।
আরিফ আরো বলল আন্টি আমার মোবাইল নং তো সেভ করে দিয়েছি আপনার যখন খুশি কল দিবেন, আমি এসে আপনাকে বাসায় নিয়ে যাবো। আমি তখন বললাম -
তুমিও তো বিজি থাকো। তখন আরিফ বলল,
- আন্টি আপনার জন্য আমি সব সময়ই ফ্রি আছি।
তারপর আরো বলল,
-আন্টি আপনি তো একা থাকেন আপনিও চলেন না আমাদের সাথে কক্স বাজার। আম্মা'র একজন সঙ্গী হবে। আম্মার আরো বেশি ভালো লাগবে।
আমি মনে মনে কতক্ষন থেকে বলছি - লিপি আমাকে নিবি তোদের সাথে কক্স বাজার? আমি সমুদ্র দেখবো না। আমি শুধু দেখবো একজন ছেলে তার মা'কে কত আদর যত্ন করে তা।

আমি আরিফ কে বললাম,
- আরিফ আসলেই ঠিক বলেছো।লিপির সাথে কতদিন পর দেখা আমার। আমারও ভালো লাগবে তোমাদের সাথে বেড়াতে গেলে। কিন্তু দিপকে তো বলতে হবে।আমি আজ দিপের সাথে কথা বলে তোমাকে জানাবো।
লিপি মনে হয় আমার কথায় অবাক হলো। আমি এত সহজে ওদের সাথে যেতে রাজি হবো এটা লিপি ভাবতেও পারে নাই। লিপি। আমার হাত জড়িয়ে ধরে বলল,
- শাহী প্লীজ চল, আমার অনেক ভালো লাগবে।
তার পর ওরা চলে গেলো। আমি আমার আলো-হীন ঘরে ঢুকে, আজ আরো বেশি অন্ধকার দেখতে পেলাম। গতকাল রাতের বেলা দিপের সাথে হওয়া কথা গুলো ভাবতে লাগলাম।
দিপের বিয়ে দিপ একা-একা করলো অষ্ট্রেলিয়া, নিজে মেয়ে পছন্দ করলো আর যেহেতু মেয়েরা অষ্ট্রেলিয়া বহু বছর থেকে আছে। তাই বাংলাদেশে এসে বিয়ের করার প্রশ্নই আসে না। আমি টেলিফোনে ওদের আশির্বাদ করলাম। তার পর দেশে আসবে বলে আসলো না। তখন দিপের বউ-এর পড়ালেখা শেষ হয় নাই এর মধ্যে আসা যাবে না দিপের ছেলে হলো এখন ছেলে ছোট তাই বাংলাদেশের আবহাওয়া বাচ্চা'র সহ্য হবে না তা-ই আসা যাবে না। এবছর আমাকে অষ্ট্রেলিয়া যাওয়ার জন্য সব কাগজ ঠিক করার কথা। গতকাল কল দিয়ে বলল, এবার ছুটিতে ওদের সবাই কে নিয়ে দিপের শ্বশুর শাশুড়ী সহ আমেরিকা যাবে। দিপ আমাকে কল দিয়ে বলল মা আমরা সবাই চেষ্টা করবো আগামী বছর দেশে আসার তুমি মন খারাপ করো না।

না আমি মন খারাপ করি নাই। আমি আজ আরিফ কে দেখে বুঝতে পেরেছি, শুধু ভালো ছাত্র আর সব সময় ফাস্ট হওয়া ছেলেরাই সেরা সন্তান হয় না। একজন সন্তান কে মানুষ করার ক্ষেত্রে আমি শুধু আমার ছেলেকে সেরাটা দিয়েছি। আর তাকে শিখিয়েছি ফাস্ট হতে হবে পরীক্ষার খাতায় আর চাকরির বাজারে।
সেরা মানুষ হতে হবে এটা আমি কখনো শেখাই নাই।আমি ওকে কখনো শেখাই নাই তোমার বন্ধুদের সহযোগিতা করবে। আমি শিখিয়েছি শুধু প্রতিযোগিতা।.

ওর কিসে ভালো হবে ওকে শিখিয়েছি। কিন্তু সবাইকে নিয়ে ভাবাটা শিখাতে পারি নাই।
আমি সব সময় দিপ কে ভালো জিনিস কিনে দিয়েছি। ওর চাহিদা পূরণ করেছি। কিন্তু আমি কখনো আমার কোন চাহিদা আছে বা থাকতে পারে তা ওকে দেখাই নাই।
আমি দিপকে কল দিবো না কক্স বাজার যাওয়া নিয়ে। এটা আরিফ কে বলার জন্য বলা। আজ লিপিদের সাথে দেখা হওয়ায় ভালো হলো। এখন থেকে আমি আমার ভালো লাগা মন্দ লাগা নিয়ে ভাববো। ছেলেকে নিয়ে আমার ভাবনা শেষ।
ছেলে কে তার ভালো থাকার জন্য সব করে দিয়েছি। ছেলের আর আমার কাছ থেকে পাওয়ার কিছু নাই।
ছেলে আমাকে তার কাছে অষ্ট্রেলিয়া বেড়াতে নিয়ে যাবে বলে, গত দুই বছর থেকে আমার চলার টাকা থেকে একটু একটু করে যথেষ্ট টাকা জমিয়েছি। ওদের জন্য কত কিছু কিনবো তাই।
এবার থেকে আমি আমার জীবনের ছোট ছোট চাওয়া গুলো পূরণ করবো।বাঁচব আর কটা দিন। খুব শখ ছিলো হিমালয় দেখবো আর মিশরের পিরামিড দেখবো! একা একা কি এগুলো দেখা যাবে? তার চাইতে এবার লিপির সাথে কক্সবাজার আর সেন্ট মার্টিন ঘুরে আসি তারপর একটু নিজেকে নিয়ে ভাববো।

💌গল্প টা সত্য ঘটনা অবলম্বনে
#সংগৃহীত

18/03/2020
19/10/2017

বিসিএস নিয়ে অবসেশন এবং কিছু বাস্তবতা (বিসিএস ক্যাডার হয়েও যোগদান না করা বা জব ছেড়ে দেয়া প্রসঙ্গে!!!)
১। আমাদের সময় অর্থাৎ ২৮ তম বিসিএস এ পুলিশ ক্যাডারে ১ম হয়েছিলেন যিনি তিনি তখন ঢাকা ভার্সিটির আইবিএর প্রভাষক। আমাদের সাথে যোগদানও করলেন পুলিশ ক্যাডারে,আমি আর উনি একই সাথে পলওয়েল মার্কেটে ইউনিফর্ম বানাবারও অর্ডার দিলাম। পুলিশ ক্যাডার নাকি ওনার সবসময়ের স্বপ্ন ছিল, সেখানে আবার উনি হয়েছেন ১ম, স্বভাবতই খুবই উচ্ছ্বসিত ছিলেন উনি। সারদায় গিয়ে কী কী করব, সে নিয়ে গল্প করতাম আমরা! যাই হোক, আমরা যোগদান করলাম ১ ডিসেম্বর, সবাই মিলে ১ সপ্তাহ পুলিশ সদর দপ্তরে ওরিয়েন্টেশন ক্লাসও করলাম! কিন্তু সব শেষে সারদা যাবার প্রাক্কালে উনি রিজাইন দিলেন, যোগদান করলেন না পুলিশে, থেকে গেলেন আইবিএর প্রভাষক হিসেবে (যদিও পরবর্তীতে উনি ৩১ তমতে আবার বিসিএস ক্যাডার হয়েছেন)
২। একই সাথে আরও ৪ জন শেষ পর্যন্ত যোগদানই করলেন না, পুলিশ ক্যাডারে ৮ম যিনি বুয়েট থেকে মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করেছিলেন, বর্তমানে উনি মায়ানমার ভিত্তিক একটি ইংলিশ জার্নালের রিপোর্টার। পুলিশ ক্যাডারে ১০ম, তিনিও ঢাকা ভার্সিটির প্রভাষক ছিলেন, তিনিও থেকে গেলেন সেখানেই। আরও দুইজন ছিলেন সেই তালিকায়, একজন সম্ভবত সহকারি জজ ছিলেন, আরেকজন আপু ছিলেন নর্থ সাউথের।
৩। এবার অন্যান্য ক্যাডারের কথায় আসি। যদি ভুল না করি, আমাদের ব্যাচেই পররাষ্ট্রের ২ জন সম্ভবত জব ছেড়েছেন, পেশায় ডাক্তার ছিলেন, আবার ডাক্তারিতেই ফিরে গেছেন। ২৭ ব্যাচের একজনকে চিনি যিনি বুয়েট সিএসই থেকে পাশ করে পররাষ্ট্র ক্যাডারে যোগদান করে কয়েকমাসের মধ্যেই জব ছেড়ে তার প্রিভিয়াস কর্মস্থল তৎকালীন একটেল নামক টেলিকমে ব্যাক করেছিলেন।
৪। প্রশাসন ক্যাডারের ২৫ তম ব্যাচের এক আপুকে চিনতাম, উনি মাত্র ২ সপ্তাহ জব করে আবার তার প্রিভিয়াস পেশা ডাক্তারিতে চলে গিয়েছিলেন। আমার ব্যাচের ২ জন বাংলাদেশ ব্যাংকে জব করতেন, কিছুদিন প্রশাসনে জব করে পুনরায় সেখানে ব্যাক করেন। বুয়েটের একজন ছিলেন, ইউএসএ তে পিএইচডি করার সুযোগ পাওয়ায় প্রশাসনের বদলে সেটিকেই বেছে নেয়।
এরকম আরও অনেক এক্সাম্পেল দেয়া যাবে। যাদের কথা বললাম, তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে বিসিএস এর চেয়ে অন্য অপশনটিই অধিক গ্রহণযোগ্য ছিল। বর্তমানে বিসিএস নিয়ে যে ক্রেজ, বিশেষ করে জেনারেল ক্যাডারের প্রতি যে হারে আকর্ষণ বেড়েছে, তা একটি দেশের উন্নয়নের প্রেক্ষাপটে কতটা পরিপূরক তা হয়ত সময়ই বলে দেবে। যোগ্য ব্যাক্তিকে যোগ্য সম্মান না দিলে তার ইমপ্যাক্ট একসময় পড়বেই। যেমন, একটি কমন অসঙ্গতি লক্ষ্য করছি, একজন ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার বিসিএস দিয়ে তার জন্য প্রযোজ্য ক্যাডারে যোগ দিলেন,আর অন্যদিকে তারই ব্যাচমেট তার ব্যাকগ্রাউন্ড বদল করে চলে আসলেন কোন একটি জেনারেল ক্যাডারে। নিঃসন্দেহে বলা যায়, প্রথমটিই অধিক গ্রহণযোগ্য, অথচ হালের ক্রেজে এখন গ্রহণযোগ্য হচ্ছে উল্টোটা। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হচ্ছে- ৩০ তম বিসিএস এ সম্বলিত মেধা তালিকায় ২য় স্থান অধিকারী ব্যক্তিটি, যিনি ২য় হয়েও তার চয়েজ অনুযায়ী হেলথ ক্যাডারের জন্য সিলেক্টেড হয়। অথচ উনি ফরেন, প্রশাসন, পুলিশ বা ট্যাক্স যাই দিতেন না কেন, সেখানেই ১ম হতেন। তখন ওনাকে নিয়ে যে কী ক্রেজটা চলত তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না! আর এখন ওনার নামটাই কেউ হয়ত জানে না! অথচ স্বাভাবিক প্রেক্ষাপটে সি ইজ ১০০% কারেক্ট/নরমাল!!!
যাই হোক, দিন শেষে বিসিএস একটা জব!এর বেশি কিছুই না! বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে হয়ত এটা একটা ক্রেজে পরিণত হয়েছে, কিন্তু একটা দেশ যতই উন্নত রাষ্ট্রের কাতারে সামিল হতে থাকে, এই ধরণের জবের আকর্ষণ ততই কমতে থাকে। আমার স্বল্প সময়ের জবে সৌভাগ্যক্রমে কয়েকটি দেশে ট্রেনিং এর সুযোগ হয়েছে, এখনও আমি স্ক্লারশিপ নিয়ে জাপানের একটি ভার্সিটিতে মাস্টার্স করছি , তাই সুযোগ হয়েছে সে সব দেশের সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে মত-বিনিময় করার। যখন তাদের বলি যে আমাদের দেশে লোকজন ভার্সিটির জব ছেড়ে, ডাক্তারি-ইঞ্জিনিয়ারিং ছেড়ে, ব্যাংক জব ছেড়ে কিংবা কর্পোরেট জব ছেড়ে সরকারি জবে (জেনারেল ক্যাডারে) চলে আসে, তখন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের বিস্ময়ের মাত্রা থাকে না! শেষমেশ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের মতামত থাকে এই যে, উন্নয়নশীল দেশের প্রেক্ষাপটে হয়ত এটা বাস্তবতা, কিন্তু যতই উন্নত হবে দেশ, এসব জবের ক্রেজ ততই কমবে।
কাজেই, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, বিশেষ করে সামাজিক নিরাপত্তার বিবেচনায় বিসিএস একটি ভালো চয়েজ, বিসিএস ক্যাডার হওয়া একটা ভালো এচিভমেন্ট, কিন্তু কখনোই এটা বেস্ট বা লাইফের একমাত্র এচিভমেন্ট হতে পারে না!
আমাদের দেশের ইয়ং জেনারেশন তো অনেক ক্রিয়েটিভ! একটা মাত্র টার্গেট নিয়ে বসে থাকা কখনই কোন ক্রিয়েটিভ ব্যক্তির বৈশিষ্ট হতে পারে না!
-
লেখক: Nihad Adnan Taian
Additional SP, Bangladesh Police Headquarter,
Dhaka, Bangladesh.

18/07/2017

শিক্ষার উন্নয়নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এবার টেলিভিশন চ্যানেল চালু করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের সাততলায় একটি টিভি স্টুডিওর কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে স্টুডিও উদ্বোধন করা হবে। শিগগিরই এটি ডিউ টিভি নামে ইন্টারনেট প্রটোকল টেলিভিশন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি বিভাগের উদ্যোগে দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এটিই প্রথম টিভি চ্যানেল। বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এতে অর্থায়ন করেছে।
সংবাদ, ডকুমেন্টারি, বিনোদনসহ বিভিন্ন রকম অনুষ্ঠান প্রচার করবে চ্যানেলটি। তবে শিক্ষাবিষয়ক অনুষ্ঠানের প্রাধান্য থাকবে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে সারাবিশ্ব থেকে এটি দেখা যাবে। তবে এর প্রধান দর্শক হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ ছাড়া যে কেউ চাইলে এর অনুষ্ঠানগুলো দেখতে পারবে।
বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এটি একটি অত্যাধুনিক টেলিভিশন স্টুডিও হিসেবে সাজানো হয়েছে। এখানে প্যানেল কন্ট্রোল রুম বা পিসিআর, মাস্টার কন্ট্রোল রুম বা এমসিআর, ম্যাক আপ রুম, ক্যামেরা, লাইটসহ অন্যান্য স্টুডিও যন্ত্রপাতি রয়েছে। স্টুডিওটি দেখভালের দায়িত্বে টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি বিভাগ থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থীরাও এর কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবে।
মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় স্টুডিওটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন উপাচার্য আ.আ.ম.স আরেফিন সিদ্দিক। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি ড. মোখলেছুর রহমান উপস্থিত থাকবেন। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. শফিউল আলম ভূইয়া এতে সভাপতিত্ব করবেন।
বিভাগের শিক্ষক এস এম ইমরান হোসেন জানান, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের হাইয়ার এডুকেশন কোয়ালিটি এনহেন্সমেন্ট প্রোগ্রাম প্রকল্পের আওতায় এই স্টুডিও করা হয়েছে। পরিকল্পনা আছে বিশ্ববিদ্যালয় একটি আইপি টিভি করবে এবং স্টুডিওর নির্মিত প্রোগ্রাম সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিদিন দুটি বুলেটিন করার চিন্তাভাবনা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, 'গবেষণা, উদ্ভাবন ও মটিভেশনাল প্রোগ্রামও হতে পারে এখানে। আমাদের শিক্ষার্থীরা টেলিভিশন সাংবাদিকতা, অনুষ্ঠান নির্মাণসহ নানা কিছু শিখছে। এই স্টুডিওর মাধ্যমে পড়াশোনা অবস্থায় তাদের হাতেকলমে শেখার সুযোগ জোরদার হলো। নিত্যনতুন অনুষ্ঠান নির্মাণের ক্ষেত্রে এটি এক নতুন দ্বার উন্মোচন করবে।
উল্লেখ্য, আইপিটিভি ইন্টারনেটভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল টেরিস্ট্রিয়াল ও স্যালোইট টিভি স্টেশনের ক্ষেত্রে অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্য ভিডিও ট্রান্সমিটার অথবা স্যাটেলাইট ব্যবহার করা হয় কিন্তু আইপি টিভির ক্ষেত্রে সম্প্রচারের জন্য ব্যবহার করা হয় ইন্টারনেট সংযোগ। এ প্রক্রিয়ায় ভিডিও সিগন্যালকে রেডিও ফ্রিকুয়েন্সিতে পরিণত না করে বরং ইন্টারনেট প্রটোকল বা আইপির উপযুক্ত করে পাঠানো হয়। সূত্র: ক্যাম্পাস টাইমস।

Deadline: 8th July, 2017
05/07/2017

Deadline: 8th July, 2017

12/03/2017
Caps off to you, Graduates!Live life to the fullest and give it nothing but your best.
05/03/2017

Caps off to you, Graduates!
Live life to the fullest and give it nothing but your best.

17/07/2016

"কলকাতাকে টক্কর নেওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আজও চ্যালেঞ্জ ভালবাসে".........
পাঁচ বছরে একশোয় পা দেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। শতবর্ষের তোড়জোড় এখন থেকেই। ৯৫তম জন্মদিন গেল ১ জুলাই। বাংলাদেশের মাথায় কালো মেঘের আনাগোনায় সজাগ সতর্ক। কিন্তু একই সঙ্গে ভয়কে উড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি। শিক্ষক-ছাত্রদের আলোচনায় উঠে এল ‘সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ ও মানবিক চেতনা বিকাশে উচ্চশিক্ষা।’ মানবতার ঢেউ তুলে নাশকতাকে আক্রমণ। জঙ্গিদের রেহাই না দেওয়ার অঙ্গিকার। বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবীরা বরাবরই জাগিয়েছে বাঙালি জাতিকে। অন্ধকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাহস জুগিয়েছে। হতাশায় ভেঙে পড়তে দেয়নি কখনই।১৯৪৮’এর ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বাংলা ভাষাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি। না মানায় প্রতিবাদে গর্জে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা। পরোয়া করেনি পাকিস্তান সরকার। ১৯৫২’র ২৬ জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী রাজা নাজিমুদ্দিনের ঘোষণা ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু।’ ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে ছাত্রদের। আন্দোলন আছড়ে পড়ে ঢাকার রাস্তায়। ২১ ফেব্রুয়ারি পুলিশের গুলিতে শহিদ হন চারজন। রক্ত ছড়ায় রাজপথে। বিক্ষোভের আগুন জ্বলে শহরে। সেই আগুন নিভেছে ১৯৫৬’তে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর।
শিক্ষায় ঢাকার নির্ভরতা ছিল কলকাতার ওপর। সেটা কাটাতে ব্রিটিশ সরকারকে চিঠি লিখেছিলেন স্যার সলিমুল্লাহ। প্রথম পত্রের উত্তর না আসায় দ্বিতীয় পত্রাঘাত। এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাব মঞ্জুর। ১৯২১’এর ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্ম। একাধিপত্য হারানোর আশঙ্কায় ক্রুদ্ধ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ মুখোপাধ্যায়। ঢাকায় পড়াতে না যাওয়ার অলিখিত নির্দেশ শিক্ষকদের। নিষেধ না মেনেই নতুনের স্বাদ নিতে, বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু, ইতিহাসবিদ রমেশচন্দ্র মজুমদারের ঢাকার ডাকে সাড়া। বেতন কলকাতার দ্বিগুনেরও বেশি। বাড়তি সুযোগ বিদেশি শিক্ষকদের সঙ্গ লাভ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তখন বিদেশ থেকে আসা জ্ঞানী, গুণী পণ্ডিতদের ভিড়। কলাভবন, টিএসসি, কার্জন হলে ছাত্রদের কোলাহল। পরে তৈরি সায়েন্সের অ্যানেক্স ভবন। এতে হবে না। প্রয়োজন আরও বেশি। চাই বিজ্ঞান গবেষণার আরও সুযোগ। প্রাক্তন ছাত্ররা ১০০ কোটির তহবিল গড়তে ব্যস্ত।
দেশের নেতাদের রাজনৈতিক পাঠ এখানেই। ১০ লাখ লোকের সামনে মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’র সম্মান দেয় এখানকার ছাত্ররা। একাত্তরের মুক্তি যুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরেই স্লোগান ওঠে, ‘জাগো জাগো বাঙালি জাগো।’ ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা তোমার আমার ঠিকানা।’ কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ‘ডাকসু’র নির্বাচন হয়নি ২৬ বছর। বাহাত্তরে আইন করে সেনেটে ছাত্র প্রতিনিধি রাখার বিধান, কার্যকরী করা যাচ্ছে না। নেতা তৈরির আঁতুরঘর, নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। দেশের গণতান্ত্রিক ভিত ক্রমশ শক্ত। উন্নয়নে আকাশ ছোঁয়ার তৎপরতা। থামাতে চাইছে মৌলবাদী জঙ্গিরা। রানওয়ে দিয়ে দৌড়ে টেক-অফ করতে বাধা। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা, সব বাধা ভেঙে বাংলাদেশ এগোবেই। রোখার ক্ষমতা নেই কারও। প্রমাদ গুনছে পাকিস্তান। বাংলাদেশ এগোচ্ছে। তারা পিছিয়ে পড়ছে। জঙ্গি সহায়তায় আটকানো দরকার। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিষেধাজ্ঞা। তোলার আর্জি মানা হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ভয় পায় পাকিস্তান । তারা যে অন্ধকার সইতে পারে না। কথায় কথায় পাকিস্তানকে চ্যালেঞ্জ জানায়। ‘জাতির বাতিঘর’ নামেই যে তার পরিচয়।......

---------------------------
অমিত বসু
আনন্দবাজার পত্রিকা

Address

Faculty Of Business Studies, University Of Dhaka
Dhaka
1000

Opening Hours

Monday 08:30 - 21:00
Tuesday 08:30 - 21:00
Wednesday 08:30 - 21:00
Thursday 08:30 - 21:00
Saturday 08:30 - 21:00
Sunday 08:30 - 21:00

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Department of Accounting, University of Dhaka posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share