09/05/2026
কুরবানি ওয়াজিব কী না জেনে নেই। নেসাব, ঋণ, মৌলিক প্রয়োজন ইত্যাদি সংক্ষেপে—
#মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত (ঋণ বাদ দিয়ে) সাড়ে ৭ ভরি স্বর্ণ (৮৭.৪৫ গ্রাম), অথবা সাড়ে ৫২ ভরি রূপা (৬১২.১৫ গ্রাম), অথবা সমপরিমাণ নগদ অর্থ বা সম্পদ থাকলে কুরবানী ওয়াজিব হবে। ২১ ক্যারেট (মধ্যম মানের) রৌপ্যের হিসেবে নেসাবের পরিমাণ হলো- দুই লাখ একানব্বই হাজার টাকা। (বাজার দর হিসেবে সামান্য কম-বেশি হবে)
#যিলহজ মাসের ১০ তারিখ ফজর থেকে ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত তিনদিনের যে কোনো দিন উল্লিখিত পরিমাণ অর্থ\সম্পদ থাকলে কুরবানি ওয়াজিব হবে।
#মৌলিক প্রয়োজন বলতে বোঝানো হয়- নিজের বসবাসের বাড়ি। নিজের ব্যবহারের যানবাহন। নিজের উপার্জনের উপকরণ এবং ব্যবহারের কাপড়-চোপড় ইত্যাদি।
#প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্ক নারী ও পুরুষ উভয়ের উপর কুরবানী ওয়াজিব হয়। যদি তারা নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হোন।
#যিলহজ মাসের ১০ থেকে ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত যদি কেউ এতটুকু ঋণগ্রস্ত হন যে, ঋণ পরিশোধ করলে তার সম্পদ নেসাবের নিচে নেমে যায়, তাহলে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে না। তবে এটা শুধু তাদের জন্য প্রযোজ্য হবে যারা মৌলিক প্রয়োজন পূরণের জন্য ঋণ গ্রহণ করেছেন। যারা ব্যবসা ইত্যাদির প্রসারের জন্য ঋণ গ্রহণ করেন তারা এর অন্তর্ভুক্ত হবেন না।
#কুরবানি ও জাকাতের নিসাবের মধ্যে দু'টি মৌলিক পার্থক্য আছে-
১. জাকাত ফরজ হওয়ার জন্য নিসাব পরিমাণ সম্পদ পূর্ণ এক বছর থাকতে হয়। কিন্তু কুরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য জিলহজের ১০ তারিখ সূর্যোদয় থেকে থেকে জিলহজ্বের ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকাই যথেষ্ট।
২. জাকাত ফরজ হয় সাধারণত স্বর্ণ, রূপা, নগদ অর্থ ও ব্যবসায়িক পণ্যের ওপর। কিন্তু কুরবানি ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সব ধরনের সম্পদ হিসাবের অন্তর্ভুক্ত হয়। যেমন— অতিরিক্ত জমি। অতিরিক্ত বাড়ি। অতিরিক্ত গাড়ি। অতিরিক্ত পোশাক। সৌন্দর্য্যবর্ধক আসবাবপত্র ইত্যাদি।