30/08/2024
আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০তম ব্যাচের একজন ছাত্র। আমরা ২০১৭ তে প্রথম বর্ষে যখন পড়তাম,তখন আমরা ডিবেট করতাম। সে সময় সাদিকুল সাগর স্যার আমাদের ডিপার্ট্মেন্টের ডিবেটের উপদেষ্টা ছিলেন। আমার ডিবেট পার্টনার ছিলো আমাদেরই এক মেয়ে ব্যাচমেট , যার নাম আমি এখানে উহ্য রাখছি।
সাদিকুল স্যার বেশ কয়েকবার আমাদের দুজনকে চায়ের দোকানে দেখেছে। স্যার একদিন আমাকে আর সেই মেয়েকে চ্যাম্বারে ডাকেন।স্যার বলেন, আমার ডিবেট ভালো হচ্ছে কিন্তু মেয়েটার নাকি ভালো হচ্ছেনা,তার গাইডলাইন প্রয়োজন। এরপর প্রায়ই সাদিকুল স্যার তাকে চেম্বারে ডাকতেন।
স্যারের কিছু চাটুকার ছিলো, আইন বিভাগের বাশার ভাই,লাবন ভাই আর অন্য এক ডিপার্ট্মেন্টের রুপম। এই রুপম আমাকে একদিন হবিবুর হলে ডেকে হুমকি ধামকি দিয়ে সেই মেয়ের আইডি আর ফোন নাম্বার নিয়ে নেয়, এবং এই কথা যেন কেউ না জানে তাও সতর্ক করে দিয়েছিলো।
কিছুদিন পর জানতে পারি সাদিকুল স্যার ফোন কলে,মেসেজে তাকে খুব বিরক্ত করে। বিভিন্ন বিষয়ে পারসোনালি চ্যাম্বারে ডাকে।
এক সন্ধ্যায় সাদিকুল স্যার তাকে জুবেরিতে ডাকে এই বলে যে,ডিবেটের একটা টুর্নামেন্ট হবে স্যার তাকে সেই টুর্নামেন্টে দেখতে চায় এবং ডিবেট বিষয়ে কিছু পরামর্শ দিবে।
সে জুবেরিতে যায় রাত ৮ টায়।
সে রাতে ১১ টার দিক সে আমাকে ফোন দিয়ে হাউমাউ করে কান্না শুরু করে দেয়। আমি বারবার জানতে চাচ্ছিলাম কি হয়েছে? কোথায় তুমি? সে আমাকে কাজলা গেটে আসতে বলে।
আমি এসে দেখি যাত্রিছাউনিতে বসে সে তখনও কাঁদছে। আমি সেদিন কোন প্রশ্ন জিজ্ঞেস না করে তাকে নুপুর হোস্টেলে পৌছে দেই।
পরের দিন সে এতোটাই ট্রমাটাইজড হয়ে গেছিলো যে কথা বলতে পারছিলোনা। একটা সময় সে স্বাভাবিক হয়ে আমাকে সব খুলে বলে-
ভিক্টিমের ভাষ্যমতে :
আমাকে সাদিকুল স্যার জুবেরিতে ডেকেছিলো এই বলে যে নেক্সট একটা ডিবেট টুর্নামেন্ট হবে সেখানে তোমার নাম দিচ্ছি,তুমি এসে সাইন করে যাও,বাকিরা এসেছে তুমিও জলদি আসো। আর কিছু পরামর্শ দিবো যাতে ডিবেটে তুমি ভালো করতে পারো। আমি ৮ টার দিকে জুবেরিতে যাই। তারপর সাদিকুল স্যারের রুমে গিয়ে দেখি সেখানে স্যার ছাড়া আর কেউ নেই। ইনিয়ে বিনিয়ে অনেক কথা বলে স্যার আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করে। আমি বারবার সরে যাচ্ছিলাম এবং বের হয়ে যেতে চাচ্ছিলাম। স্যারকে আমি বলি আপনাকে আমি ভালোমানুষ ভাবতাম,কিন্তু আপনি একটা নরপশু। আপনার নামে আমি মামলা করবো। এই কথা শুনে স্যার হেসে বলে আমি এএসপিদের ক্লাস করাই, ওরা আমার কিছু করতে পারবেনা। এই বলে স্যার আমার আরও কাছে এসে জড়িয়ে ধরে এবং বিভিন্ন স্থানে হাত দেয়। স্যারের মুখ থেকে মদের গন্ধ বের হচ্ছিলো।
তারপরের দিন স্যার তাকে আরও মানসিক চাপ দিতে শুরু করে, তিনি বলেন যদি গতকালের ঘটনা কাউকে বলো তাহল তোমাকে পাশ করতে দিবোনা, তোমার জীবন ধ্বংস করে দিবো। ক্যাম্পাসে মুখ দেখাতে পারবেনা। "
মেয়েটা অনেক, মেধাবী, পর্দানশীন ছিলো। তার সাথে এমন কিছু হবে সে সেটা স্বপ্নেও কল্পনা করেনি।
এই ঘটনা ২০১৭ সালের শেষের দিকের। প্রথম বর্ষের পরীক্ষা সে দিতে চাচ্ছিলো না, আমি বুঝিয়ে তাকে পরীক্ষায় বসার জন্য অনুপ্রেরণা দেই। সে সেই ট্রমার মধ্যে থেকেই প্রথম বর্ষের পরীক্ষা দিলো।তারপর ফার্স্ট ইয়ারের একটা ইম্প্রুভমেন্ট পরীক্ষা দিয়েছিলো। সেটাই তার আইন বিভাগের শেষ পরীক্ষা ছিলো। তারপর সে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চলে যায়। একটা মেধাবী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এভাবে একটা নরপশু নষ্ট করে দেয়।
বি.দ্র: আমি গতকাল এই পোস্ট রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারে দিয়েছিলাম। কিন্তু কিছু মানুষ আমাকে বিভিন্নভাবে ভয় দেখিয়ে পোস্ট টা ডিলিট করতে বাধ্য করে।
আমি এই পোস্ট আবার এখানে দিলাম শুধুমাত্র এই উদ্দেশ্য নিয়ে যে এই পোস্ট দেখে আরও কেউ যদি যৌন হয়রানির শিকার হয় তারা যেন তাদের অভিযোগ গুলো তুলে ধরার অনুপ্রেরণা পায়।
ধন্যবাদ।