03/02/2026
আজ শবে বরাত নাকি "লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান"? আসুন একটু ঘেটে দেখা যাক।
ভারতীয় উপমহাদেশে ১৫ই শাবান শবে বরাত নামে সুপরিচিত হলেও হাদিস শরীফে এমন শব্দযুগলের দেখা মেলে না। হাদিস শরীফের ভাষা অনুযায়ী শাবান মাসের মধ্য রজনী তথা ১৪ই শাবানের দিবাগত রাত অর্থাৎ ১৫ই শাবানের রাতকে লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান বলা হয়। এদিকে প্রচলিত শবে বরাত শব্দদ্বয় দ্বারা ভাগ্য রজনী বুঝানো হয় যা কোনো সহিহ হাদিস থেকে নেয়া হয় নি। তাহলে এই রাতের তাৎপর্য কী?
ইবনে মাজাহতে উল্লেখিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ❝মহান আল্লাহ মধ্য শাবানের রাতে দুনিয়ার কাছাকাছি আকাশে অবতরণ করেন এবং কালব গোত্রের মেষপালের পশমের চাইতেও অধিক সংখ্যক লোকের গুনাহ মাফ করেন।❞
অর্থাৎ ১৫ই শাবানের এই রাত্রি আমাদের জন্য গুনাহ মাফের সুযোগ। পাশাপাশি এ রাতে দুআ কবুলের সম্ভাবনাও রয়েছে। ইবনে ওমর রাদিআল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ❝এমন পাঁচটি রাত রয়েছে, যেগুলোতে আল্লাহ তাআলা বান্দার দুআ ফিরিয়ে দেন না। সেই রাতগুলো হলো, জুমার রাত, রজবের প্রথম রাত, শাবানের ১৫ তারিখের রাত, দুই ঈদের রাত।❞ [সুনানে বায়হাকি: ৬০৮৭]
আরেকদিকে দুঃখজনক হলেও বাস্তব যে, এই রাতকে কেন্দ্র করে নানান কালচার গড়ে তোলা হয়েছে যার প্রমাণ কুরআন ও হাদিসে নেই। এই যেমন:
1️⃣ নির্দিষ্ট সালাত: শবে বরাতের আলাদা সালাত আছে মনে করা, যা কোনো সহিহ হাদিসে পাওয়া যায় নি।
2️⃣ নির্দিষ্ট সিয়াম: শাবান মাসে সিয়াম পালন করা নিশ্চয়ই উত্তম। এছাড়া ১৫ই শাবান আইয়ামে বীজের অন্তর্ভুক্ত। তাই এ দিনে সিয়াম পালনে বাড়তি সাওয়াব মিলবে ইনশা আল্লাহ। তবে এই সিয়ামকে শবে বরাতের বিশেষ আমল বা সুন্নাহ ভাবা হিতের বিপরীত। কারণ আমাদের নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমনটি করেন নি।
3️⃣ আতশবাজি, আলোকসজ্জা, মেলা: উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করা যার সাথে ইবাদতের কোনো সম্পর্ক নেই।
4️⃣ ভাগ্য রজনী মনে করা: এই রাতে ভাগ্য নির্ধারণ করা হয় ভেবে বিশেষ খাবার যেমন হালুয়া-রুটি বিতরণ করা, উত্তম পোশাক পড়া ইত্যাদি ভিত্তিহীন।
5️⃣ কবর জিয়ারতকে এই রাতে আবশ্যক মনে করা: অনেক এলাকায় দলবেঁধে কবর জিয়ারত করা এই রাতের একটি কালচার হিসাবে ধরা হয়। কুরআন ও হাদিসে এমন কোনো রেফারেন্স পাওয়া যায় নি।
মোদ্দাকথা ১৫ই শাবানের রাতকে হাদিসের ভাষায় বলা উচিত লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান। এ রাতে আল্লাহ রব্বুল আলামিন তাঁর অসংখ্য বান্দাদের গুনাহ মাফ করেন ফলে এটি কোনো সাধারণ রাত নয়। তাই কুরআন-হাদিসে নেই এমন বিষয়গুলো পরিহার করে ইখলাসের সহিত জিকির, সালাত ও তিলাওয়াতের মাধ্যমে এই রাতে আল্লাহর দরবারে মাফি চেয়ে দু'হাত তুলতে কার্পণ্য করবেন না!
📜 প্রচলিত ভুল থেকে বেরিয়ে আসতে পোস্টটি শেয়ারের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে পারেন ইনশা আল্লাহ।