পরিচালনা পর্ষদ
১.মাওলানা হিফজুর রহমান দা:বা:
মুহতামিম ও শাইখুল হাদীস
২.মুফতী মানসুরুল হক দা:বা:
শাইখুল হাদীস ও প্রধান মুফতী
৩.মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক দা:বা:
শাইখুল হাদীস ও নাজেমে দারুল ইকামা(হল সুপার)
৪.মুফতী ইবরাহীম হেলাল দা:বা:
সিনিয়র মুহাদ্দিস ও নায়েবে মুহতামিম
৫.মুফতী হেলালুদ্দীন দা:বা:
নাজেমে তালিমাত ও মুহাদ্দিস
৬.মুফতী সাঈদ আহমাদ
নায়েবে মুহতামিম ও সিনিয়র মুহাদ্দিস, নায়েবে মুফতী
প্রতিষ্
ঠাতা ও ইতিহাস:
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার খুবই ব্যস্ততম এলাকা মোহাম্মাদপুরের ঐতিহাসিক সাত মসজিদকে সাথে নিয়ে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসা।
দেওবন্দ মাদরাসার এক দীর্ঘ সময়ব্যাপি অধিষ্ঠিত শাইখুল হাদীস সাইয়্যিদ হুসাইন আহমাদ মাদানী রহ. এর বিশিষ্ট ছাত্র এবং তাঁর বিশিষ্ট খলীফা মাওলানা হাবীবুর রহমান শায়েখে রায়পুরী রহ. এর খলীফা হযরত মাওলানা নূরুদ্দিন গাওহারপুরী রহ.। মাওলানা নূরুদ্দিন গাওহারপুরী রহ. লম্বা সময় কওমী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত ছিলেন।
হযরত মাওলানা নূরুদ্দিন গাওহারপুরী রহ. এর নির্দেশে তাঁর প্রান প্রিয় মুরীদ জনাব মোহাম্মাদ আলী সাহেব এবং তার ভাই এই জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসা প্রতিষ্ঠার জন্য দুই ধাপে ১৬ কাঠা জায়গা (ওয়াকফ) দান করেন। এভাবেই ১৯৮৮ সালে জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। মূলতঃ এই মাদরাসার গোড়া পত্তন হয় মোহাম্মাদপুর (মোহাম্মাদী হাউসিং) থেকে ১৯৮৬ সালে।
মোহাম্মাদপুর (মোহাম্মাদী হাউসিং) থেকে চলে এসে তৎকালীন উচ্চপদস্থ মুহাদ্দিসীনদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসা পরিচালিত হয়ে আসছে। পরিচালকগণদের মধ্যে অন্যতম হলেন হযরত মুহিউস সুন্নাহ শাহ সাইয়্যিদ আবরারুল হক রহ. এর বিশিষ্ট খলীফা ও জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসার প্রধান মুফতী ও শাইখুল হাদীস হযরত মুফতী মনসূরুল হক দা.বা.।
কিন্তু পরিতাপের বিষয় গত ২০টি বছরের অধিক সময় ধরে মাদরাসাটি কিছু অসাধু লোকের জবরদখলে ছিল। মাদরাসার মোতাওয়াল্লি সহ মূল কমিটির সকলকে এমনকি হযরত মুফতী মনসূরুল হক দা.বা. সহ মাদরাসার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে শুরু করে এ যাবৎ যত উস্তাদ মাদরাসার কল্যাণে জান-তর মেহনত করেছেন এবং ছাত্রদের সকলকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। এদের এহেন জুলুমের কারণে জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা কমিটি ও এই মাদরাসার উস্তাদ-ছাত্রগণ দীন প্রতিষ্ঠার অন্যতম মাধ্যম মাদরাসার প্রতিষ্ঠার মেহনতকে থামিয়ে রাখেন নি। মজলুমের মতো একটি ভাড়া করা টিনের ঘরে চালিয়েছেন তাবলীগ, তা‘লিম আর তাযকিয়ার মতো দীনী মেহনত। আর এই অন্যায়ের বিচার চেয়ে আবেদন করা হয় আদালতে। প্রতিবারই আদালত দুষ্ট লোকের জবরদখলকে অন্যায় বলে ফায়সালা দিলেও আজ অবধি এই মাদরাসার মূল হকদারদের হাতে তুলে দিতে পারেনি। দীর্ঘ ২০ বছর যাবত মহান আল্লাহ রব্বুল ‘আলামীনের দরবারে বিশাল আশা নিয়ে জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসার আসল হকদারগণ দু‘আ করে যাচ্ছিলেন যেন তিনি এই মাদরাসাকে জবরদখলকারীদের হাত থেকে রক্ষা করে আসল হক্বদারদের নিকট ফিরিয়ে দেন।
প্রায় ২০ বছর পর আল্লাহর বিশেষ মেহেরবানীতে ৮ই যিলহজ্জ, ১৪৪২ হিজরী মুতাবিক ১৯শে জুলাই, ২০২১ ঈসায়ী তারিখ রোজ সোমবার এই জামি‘আর আসল হক্বদারগণ তাদের মাদরাসা বুঝে পান। অবশ্যই আল্লাহ ন্যায় বিচার করনেওয়ালা।
মজলুম থাকা অবস্থায় গত ২০ বছর ধরে আল্লাহ পাকের মেহেরবানী ও আপনাদের দু‘আ, সাহায্য-সহযোগিতায় মাদরাসার সকল কাজ ধারাবাহিক ভাবে চলে আসছে। প্রতি বছর প্রায় কোটি টাকার উপরে খরচ লেগে যায় মাদরাসার এতিম, গরীব অসহায় ছাত্রদের থাকা-খাওয়া সহ অন্যান্য সকল কাজের ব্যবস্থা করতে। এতদিন যেভাবে আপনারা এই মাদরাসায় জান-মাল-সময়-দু‘আ দিয়ে মাদরাসার সকল কাজ সুষ্ঠ ভাবে করার ব্যবস্থা করেছেন। আমরা দু‘আ করি আল্লাহ আপনাদের প্রত্যেককে সারা জীবন এভাবে মাদরাসার মেহনতে লেগে থাকার তৌফিক দান করেন।