02/07/2015
কলেজের ইতিহাস :
যে কোন মহৎ সৃষ্টির পেছনে লুকিয়ে থাকে নিরন্তর সাধনা আর ত্যাগ-তিতিক্ষার এক দীর্ঘ ইতিহাস। এ ইতিহাস কখনও চলে আসে আলোর সংস্পর্শে আবার কখনও তা থেকে যায় লোক চক্ষুর অন্তরালে। তবে যারা এ সকল সৃষ্টি-যজ্ঞে নিজেদের বিলিয়ে দেন অকাতরে- তাঁরা মূলত তা করেন সৃষ্টির আনন্দেই। আজকের লালমাটিয়া মহিলা মহাবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা ও বিকাশের পেছনেও রয়েছে এমনি উদার দৃষ্টিভঙ্গিসমপন্ন কতগুলো মানুষের নির্মোহ আত্ম-নিবেদন।
একটি আবাসিক প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১৯৫৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘লালমাটিয়া কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি’। প্রতিষ্ঠালগ্নেই এর সদস্যবৃন্দ এলাকার ছেলে-মেয়েদের শিক্ষার কথা ভেবে স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠায় মনোনিবেশ করেন। এখানে উল্লেখ্য যে, সে সময়ে লালমাটিয়া তথা আশ-পাশের এলাকায় কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল না। তাই নিজেদের সন্তানদের জন্য শিক্ষা প্রতষ্ঠান গড়ে তোলার লক্ষ্যে সোসাইটির পক্ষ থেকে জমি বন্দোবস্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। সরকার কর্তৃক জমি অধিগ্রহণ করার পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দকৃত জমির নির্ধারিত মূল্যের ৪০% শতাংশ স্থানীয় বাসিন্দারা পরিশোধ করেছিলেন। জমি বন্দোবস্ত হওয়ার পর ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দের ২৬ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠা করা হয় লালমাটিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এর অব্যবহিত পরেই ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে ছেলেদের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয় লালমাটিয়া হাউজিং সোসাইটি বয়েজ হাই স্কুল। এরই ধারাবাহিকতায় মেয়েদের উচ্চ শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে সোসাইটির তৎকালীন বোর্ড অব ডিরেক্টরদের অক্লান্ত পরিশ্রমে ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে ১ আগষ্ট প্রায় ১০ বিঘা জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হয় লালমাটিয়া মহিলা মহাবিদ্যালয়। এই বিদ্যায়তনটি প্রতিষ্ঠার পেছনে সে সময়ের হাউজিং সোসাইটির বোর্ড অব ডিরেক্টরস-এর যে সকল সদস্য ছিলেন, তাঁরা হলেন -
ক্রমিক নম্বর
নাম
পদবি
ক্রমিক নম্বর
নাম
পদবি
১
খান বাহাদুর এস.এ.ই.বি মুর্শেদী
চেয়ারম্যান
১৩
মি. জাহান নবী বিশ্বাস
সদস্য
২
মি. সাখাওয়ার হোসেন
ভাইস চেয়ারম্যান
১৪
মি. ওয়াজিল্লাহ
সদস্য
৩
মি. এম.টি. হোসেন
সাধারণ সম্পাদক
১৫
মি. ইউনুস খান
সদস্য
৪
মি. এম. আফজাল হোসেন
যুগ্ম সম্পাদক
১৬
মি. এসকে খাজা আহমেদ
সদস্য
৫
মি. ইসহাক তালুকদার
যুগ্ম সম্পাদক
১৭
মি. সৈয়দ আশরাফ আলী
সদস্য
৬
মি. এ.বি.এম. আব্দুর রব
যুগ্ম সম্পাদক
১৮
মি. নুরুল ইসলাম
সদস্য
৭
মি. আব্দুল কাশেম খান
কোষাধ্যক্ষ
১৯
মি. মো: আসাদুল্লাহ
সদস্য
৮
মি. আজিজুল ইসলাম (অ্যাডভোকেট)
সদস্য
২০
মি. ফজলুল্লাহ
সদস্য
৯
মৌলানা এ. আর বেখুদ
সদস্য
২১
মি. আবু জাফর
সদস্য
১০
মি. এম. মোসলেম
সদস্য
২২
মি. হাসমত উল্লাহ
সদস্য
১১
মি. মো: ইদ্রিস
সদস্য
২৩
মি. মজিদ মিয়া
সদস্য
১২
মি. হাবিল উদ্দীন জোয়ার্দার
সদস্য
সদস্য
১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে লালমাটিয়া কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি বোর্ড অব ডিরেক্টর-এর অবয়বে কিছুটা পরিবর্তন আসে। এ ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান ও সেক্রেটারির দায়িত্বে আসেন যথাক্রমে এ. ইসলাম এবং এম. আফজাল হোসেন। এ ছাড়া দুজন নতুন যুগ্ম-সম্পাদকও অন্তর্ভুক্ত হন। এরা হলেন জনাব ওয়ালী উল্লাহ এবং আব্দুল হাই। এই বোর্ড অব ডিরেক্টরস-এর সদস্যসহ আরও কয়েকজন শিক্ষানুরাগী নিয়ে মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি এড-হক কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির সম্মানিত সদস্য ছিলেন -
ক্রমিক নম্বর
নাম
পদবি
ক্রমিক নম্বর
নাম
পদবি
১
খান বাহাদুর এস.এ.ই.বি মুর্শেদী
চেয়ারম্যান
৫
আব্দুস সাত্তার
সদস্য
২
জনাব মো: তোবারক হোসেন
সেক্রেটারি
৬
মো: আসাদুল্লাহ
সদস্য
৩
মো: এ.বি.এম. আব্দুল মান্নান
সদস্য
৭
মো: বেলায়েত হোসেন চৌধুরী
(প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ)
সদস্য
৪
এম মোসলেম
সদস্য
প্রথম দিকে কেবলমাত্র উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেও সময়ের পরিক্রমায় এটি এখন দেশের অন্যতম অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ের নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বনামে খ্যাত। বর্তমানে মহাবিদ্যালয়ে উচ্চ মাধ্যমিক, ডিগ্রী (পাস)সহ ১৭টি বিষয়ে অনার্স এবং ১৪টি বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স চলমান রয়েছে। এ ছাড়াও ২০১৪-২০১৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে শুরু হচ্ছে বিবিএ প্রফেশনাল কোর্স এবং গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান বিষয়ে ডিপ্লোমা কোর্স। ঐতিহ্যবাহী এ কলেজটিকে ১৯৯১ সালে সমগ্র বাংলাদেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক সনদ প্রদান করা হয়। ২০১২ সালে প্রকাশিত ২০০৮ সালের অনার্স ফাইনাল পরীক্ষার ফলাফলে বাংলা ও অর্থনীতি বিষয়ের দুইজন ছাত্রী রেকর্ড পরিমাণ মার্কস পেয়ে ১ম শ্রেণীতে ১ম স্থান অধিকার করে। এ কৃতীত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। প্রায় প্রতিবছর অনার্স-মাস্টার্স পরীক্ষায় এ মহাবিদ্যালয়ের শতাধিক ছাত্রী মেধা তালিকায় স্থানসহ প্রথম শ্রেণী পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে থাকে। ২০১৫ সালে প্রকাশিত ২০১২ সালের অনার্স ফাইনাল পরীক্ষার ফলাফলে মেধা তালিকায় স্থানসহ মহাবিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয়ের ৮৬ জন শিক্ষার্থী প্রথম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়েছে এবং পাসের হার ৯৭%। একইভাবে ২০১৪ সালে প্রকাশিত ২০১১ সালের মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থানসহ মহাবিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয়ের ৬১ জন শিক্ষার্থী প্রথম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়েছে এবং পাসের হার ৯৭%। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি মহাবিদ্যালয়ের সকল শ্রেণী ও বর্ষের শিক্ষার্থীদের আইসিটি ও ইংরেজি বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কলেজ ক্যাম্পাসে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও মহাবিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রয়েছে অত্যাধুনিক আইসিটি ল্যাব, বিজ্ঞান গবেষণাগার, প্রসিদ্ধ লাইব্রেরী, অত্যাধুনিক অডিটোরিয়াম, স্বাস্থ্যসম্মত ক্যান্টিন, সুবিশাল খেলার মাঠ, নৈশকালীন পাঠকক্ষ, পরিচ্ছন্ন অভিভাবক সেডসহ ৯০০ আসন সমৃদ্ধ আবাসিক ছাত্রীনিবাস।