17/09/2026
আগামি ৩০ বছরে ঘটতে যাওয়া ঘোরতর সম্ভ্যাব্য দুটি বিপদসংকেত দিচ্ছি।
১) আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স!
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একটি ব্যাংক মাত্র ৫ মিনিটের নোটিশে কাস্টোমার সার্ভিস ডিপার্টমেন্টের ৮০ জনকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছে!
দিস ইজ জাস্ট দ্যা বিগিনিং।
ট্রেডিশনাল বিবিএ, ইইই, সিএসইর মত সাব্জেক্ট গুলো নিয়ে যারা উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করছেন, সামনে খুব খারাপ দিন অপেক্ষা করছে।
বেকারত্বের হার মহামারী অব্দি চলে যাবে কারণ কোম্পানি গুলোর দৈনন্দিন কাজের জন্য বিভিন্ন সফটওয়ারের সাবস্ক্রিপশান কিনলেই হবে, হাজার হাজার টাকা দিয়ে ৫ জন স্টাফ রাখার কোনো প্রয়োজন পড়বেনা।
বর্তমান সভ্যতা এখনো আচ করতে পারছেনা যে AI এর ভয়াবহতা কোন পর্যায়ে পৌছাবে।
বেকারত্বের ফলে সামাজিক অবক্ষয় অলটাইম ক্রিটিক্যাল লেভেলে গিয়ে ঠেকবে।
বেশি না। ৩০ বছর হয়ত সর্বোচ্চ। হয়ত বেশি বলে ফেললাম।
উত্তরণের উপায় কি?
২০২৫ থেকে যাদের জম্ম, অর্থাৎ জেনারেশান বিটা থেকে, AI এর নির্ভরতা কম এমন সব সেক্টরের দিকে ঝুকে পড়ার টেন্ডেন্সি ক্রিয়েট করতে হবে। এর জন্য লংটার্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
শুরুতে বলেছি দুটি মহাবিপদ সংকেত। একটি বললাম AI, আরেকটি কি?
২) ভুমিকম্প!
বাংলাদেশ তিনটি গতিশীল টেকটোনিক প্লেটের (ইন্ডিয়ান, ইউরেশিয়ান এবং বার্মা প্লেট) সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় এখানে মাটির নিচে প্রচুর শক্তি জমা হয়ে আছে।
কারণ, গত ১০০ থেকে ১৫০ বছরে এই অঞ্চলে বড় কোনো এনার্জি রিলিজ বা বড় ভূমিকম্প না হওয়ায় মাটির নিচে ভয়াবহ চাপ জমা হয়ে রয়েছে, যা যেকোনো সময় বড় কম্পন সৃষ্টি করতে পারে।
দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘন ঘন মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হওয়াকে বিশেষজ্ঞরা একটি বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস বা ‘ফোরশক’ (Foreshock) হিসেবে দেখছেন।
বুয়েটের গবেষণা বলছে, ৭ মাত্রার বেশি যেকোনো ভূমিকম্পে রাজধানী ঢাকার প্রায় ৪০% থেকে ৫০% বহুতল ভবন মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে এবং একটি বড় ভূমিকম্পে প্রায় ৭২,০০০ ভবন ধসে পড়তে পারে!
৭২,০০০!
আশংকা রয়েছে, মাত্র কয়েক মিনিটের কম্পনেই ৩ থেকে ৪ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটবে!
৩-৪ লাখ!
প্রতকার কি?
একমাত্র উপায়: নতুন ভবন তৈরির সময় বাধ্যতামূলকভাবে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (BNBC) মেনে চলতে হবে।
আর সব থেকে বড় যে ব্যাপারটা দরকার পুরানো ও চরম ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো এবান্ডন এর ব্যবস্থা করা, অথবা 'রেট্রোফিটিং' (Retrofitting) এর মাধ্যমে শক্তিশালী করা।
আমার জানা মতে এসংক্রান্ত গবেষণার রিপোর্টগুলো শুধু সভা সেমিনারেই সীমাবদ্ধ থাকে।
এখনো হয়ত সময় আছে। দ্রুত এগুলো নিয়ে ন্যাশনাল টাস্কফোর্স গঠন করে কাজ শুরু করতে হবে।
- S M Sahad Bin Mahmud