Jamia Islamia Obaidia Nanupur-জামিয়া ইসলামিয়া ওবাইদিয়া নানুপুর

  • Home
  • Bangladesh
  • Fatikchari
  • Jamia Islamia Obaidia Nanupur-জামিয়া ইসলামিয়া ওবাইদিয়া নানুপুর

Jamia Islamia Obaidia Nanupur-জামিয়া ইসলামিয়া ওবাইদিয়া নানুপুর Jamia Islamia Obaidia Official Page.

28/02/2021
সারাদিন লাশ দাফন আর কোভিড পজিটিভ রোগীদের শ্বাস নিতে হাসফাঁস।এসব দেখতে দেখতে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিধ্বস্ত আল মানাহিলের ম...
13/06/2020

সারাদিন লাশ দাফন আর কোভিড পজিটিভ রোগীদের শ্বাস নিতে হাসফাঁস।
এসব দেখতে দেখতে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিধ্বস্ত আল মানাহিলের মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা।
১৯২ টি লাশ দাফনের প্রত্যক্ষ সাক্ষী টিম মানাহিল। সাথে সাথে ২৫৫ জন কোভিড পজিটিভ রোগীকে এ্যাম্বুলেন্স সেবা। যে এ্যাম্বুলেন্সে করে অনেক রোগীকে আমরা হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছি,যে স্ট্রেচার করে রোগী বসে আমাদের সাথে কথা বলতে বলতে হাসপাতাল গিয়েছে, সেই স্ট্রেচারে করেই অনেকের অন্তিমযাত্রার শুরু করেছি আমরা।

জ্যান্ত মানুষ আমাদের সাথে হেঁটে হেঁটে হাসপাতালে ঢুকেছে। সেই মানুষই আবার লাশ হয়ে বের হয়েছে আমাদের স্ট্রেচারে শুয়ে।
স্বজনদের আর্তনাদ আর গুমরে গুমরে কান্নার শব্দ আমাদেরকে ঘুমের মধ্যেও তাড়া করে বেড়ায়।
আমাদের অনেকের জীবদ্দশায় আমরা এত কঠিন সময় পার করিনি, আলহামদুলিল্লাহ।
প্রতিদিনকার জীবন আমাদের একটি লুপের মধ্যে ঘুরছে। লাশ, দাফন, শ্বাস নেবার প্রচণ্ড চেষ্টা।
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের অতিসত্বর এই আজাব থেকে পরিত্রাণ দিক। সবুজ মায়াবী এই পৃথিবীতে আরও কয়েকটা দিন সুন্দর করে বাঁচার তৌফিক দিক, এই কামনায়।

আমাদের প্রতিদিন এখন গড়ে ৬০ টির মত পিপিই লাগে। আপনারা সকলে এগিয়ে আসুন যাতে আমাদের ভলান্টিয়ার ভাইরা অন্তত এই নিরাপত্তাটুকু নিয়ে আপনাদের সেবা করে যেতে পারে।

আপনারা পিপিই আমাদের অফিসে এসে প্রদান করতে পারেন
অথবা আমাদের স্থান বললে আমরা গিয়ে সংগ্রহ করে নিব।
#টিম_মানাহিল

সারাদিন লাশ দাফন আর কোভিড পজিটিভ রোগীদের শ্বাস নিতে হাসফাঁস।
এসব দেখতে দেখতে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিধ্বস্ত আল মানাহিলের মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা।
১৯২ টি লাশ দাফনের প্রত্যক্ষ সাক্ষী টিম মানাহিল। সাথে সাথে ২৫৫ জন কোভিড পজিটিভ রোগীকে এ্যাম্বুলেন্স সেবা। যে এ্যাম্বুলেন্সে করে অনেক রোগীকে আমরা হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছি,যে স্ট্রেচার করে রোগী বসে আমাদের সাথে কথা বলতে বলতে হাসপাতাল গিয়েছে, সেই স্ট্রেচারে করেই অনেকের অন্তিমযাত্রার শুরু করেছি আমরা।

জ্যান্ত মানুষ আমাদের সাথে হেঁটে হেঁটে হাসপাতালে ঢুকেছে। সেই মানুষই আবার লাশ হয়ে বের হয়েছে আমাদের স্ট্রেচারে শুয়ে।
স্বজনদের আর্তনাদ আর গুমরে গুমরে কান্নার শব্দ আমাদেরকে ঘুমের মধ্যেও তাড়া করে বেড়ায়।
আমাদের অনেকের জীবদ্দশায় আমরা এত কঠিন সময় পার করিনি, আলহামদুলিল্লাহ।
প্রতিদিনকার জীবন আমাদের একটি লুপের মধ্যে ঘুরছে। লাশ, দাফন, শ্বাস নেবার প্রচণ্ড চেষ্টা।
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের অতিসত্বর এই আজাব থেকে পরিত্রাণ দিক। সবুজ মায়াবী এই পৃথিবীতে আরও কয়েকটা দিন সুন্দর করে বাঁচার তৌফিক দিক, এই কামনায়।

আমাদের প্রতিদিন এখন গড়ে ৬০ টির মত পিপিই লাগে। আপনারা সকলে এগিয়ে আসুন যাতে আমাদের ভলান্টিয়ার ভাইরা অন্তত এই নিরাপত্তাটুকু নিয়ে আপনাদের সেবা করে যেতে পারে।

আপনারা পিপিই আমাদের অফিসে এসে প্রদান করতে পারেন
অথবা আমাদের স্থান বললে আমরা গিয়ে সংগ্রহ করে নিব।
#টিম_মানাহিল

https://chattalanews.net/2020/05/76/
07/05/2020

https://chattalanews.net/2020/05/76/

ফটিকছড়ি হতে মোঃ জুনাইদ, কওমী মাদরাসা ঈমান, তাকওয়া ও তাওয়াক্কুল আল্লাহ এর উপর প্রতিষ্ঠিত এবং আকাবিরে দেওবন্দের চি.....

বিশ রাকাত তারাবীহ সুন্নাত ৷ এ নিয়ে বিভ্রান্তির অবসান ৷শাইখুল হাদিস আল্লামা মুফতি কুতুবুদ্দীন দা,বা, ৷
20/04/2020

বিশ রাকাত তারাবীহ সুন্নাত ৷ এ নিয়ে বিভ্রান্তির অবসান ৷

শাইখুল হাদিস আল্লামা মুফতি কুতুবুদ্দীন দা,বা, ৷

করোনা নিয়ে জটিল মাসআলা সমূহের সঠিক সমাধানআল্লামা মুফতী কুতুবুদ্দীন নানুপুরী দা.বা.শায়খুল হাদীস নানুপুর মাদরাসা।৩য় পর্ব প...
18/04/2020

করোনা নিয়ে জটিল মাসআলা সমূহের সঠিক সমাধান
আল্লামা মুফতী কুতুবুদ্দীন নানুপুরী দা.বা.
শায়খুল হাদীস নানুপুর মাদরাসা।
৩য় পর্ব

প্রশ্নোত্তরে নামাজ তথা জুমা, জামাত, তারাবীহ ইত্যাদি বিষয়ে শরয়ী সমাধান
১. প্রশ্নঃ করোনা ভাইরাসের সংক্রমন থেকে বাঁচার লক্ষে কোন কোন আলিমের ফতওয়ার নিরিখে ঘোষণা আসছে যে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মধ্যে মসজিদে মাত্র পাঁচজন হাজির হয়ে জামাত আদায় করবে। আর বাকীরা ঘরে নামাজ আদায় করবে এবং জুমার ক্ষেত্রে মাত্র দশজন মসজিদে হাজির হয়ে জুমা আদায় করবে। বাকীরা ঘরে জোহরের নামাজ আদায় করবে, ইসলামী শরীয়া মতে তা কতটুকু সঠিক?
উত্তরঃ ইসলামে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জামাত ও জুমার অনেক গুরুত্ব রহিয়াছে সাবালিক পুরুষদের জন্য জামাতে নামাজ পড়া সুন্নাতে মুয়াক্কাদা, শরয়ী দৃষ্টিকোনে নির্ভর যোগ্য ওযর ব্যতিত মসজিদে জামাত ছাড়ার অনুমতি নেই। নবী করীম -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -ইরশাদ করেছেন, "مَنْ سَمِعَ النِّدَاءَ فَلَمْ يُجِبْ فَلَا صَلَاةَ لَهُ إلا من عذر "
অর্থঃ যে ব্যক্তি আযান শুনার পর তাতে সাড়া দিয়ে (মসজিদে আসল না) তার নামাজ গ্রহণ যোগ্য নয়, তবে যদি ওযরের কারণে হয় তা ভিন্ন। (তিরমিযী খঃ১ পৃঃ৪২২ হাঃ২১৭)
আরো ইরশাদ করেন,
্রلَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ آمُرَ بِالصَّلاَةِ فَتُقَامَ، ثُمَّ أُخَالِفَ إِلَى مَنَازِلِ قَوْمٍ لاَ يَشْهَدُونَ الصَّلاَةَ، فَأُحَرِّقَ عَلَيْهِمْগ্ধ
অর্থঃ রসূল -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- বলেন আমি ইচ্ছা পোষণ করছি নামাজের জামাত ক্বায়েম করার আদেশ করি এবং জামাত শুরু হয়ে যায়, অতঃপর যে সকল লোক জামাতে নামায পড়ার জন্য হাজির হচ্ছে না আমি উল্টো ফিরে তাদের ঘরের দিকে যাই। এবং তাদের ঘর জালিয়ে দিই। (বুখারী শরীফ, খঃ৩ পৃঃ১২২ হাঃ২৪২০)
নির্ভরযোগ্য ও বিখ্যাত ফতওয়ার কিতাব শামীতে উল্লেখ রয়েছে,
أَنَّ تَارِكَهَا بِلَا عُذْرٍ يُعَزَّرُ وَتُرَدُّ شَهَادَتُهُ، وَيَأْثَمُ الْجِيرَانُ بِالسُّكُوتِ عَنْهُ.
অর্থঃ ওজর বিহীন জামাত তরককারীকে ভর্ৎসনা করা হবে, ও তার সাক্ষি প্রত্যাখ্যান করা হবে, এবং জামাত তরককারী ব্যাক্তির ব্যপারে চুপ থাকলে পাড়া প্রতিবেশীগণ গুণাহগার হবে। (শামী ১/৫৫২ এইচ এম ছাইদ কোমপানি)
শরীয়ত ভিত্তিক শর্তের মানদন্ডে উপনিত স্বাবালিক পুরুষদের উপর জুমার নামায ফরযে আইন শরয়ী ওযর বিহীন তা ত্যাগ করা কবীরা গুণাহ ও হারাম।
আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন,
{إِذَا نُودِيَ لِلصَّلاَةِ مِن يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْاْ إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُواْ الْبَيْعَ}
অর্থঃ যখন জুমার দিন জুমার নামাজের জন্য আযান দেওয়া হয়, থখন আল্লাহ তা’য়ালার যিকির তথা নামাজের দিকে দৌড়ে আসো কেনা-কাটা (ব্যবসা-বানিজ্য) ছেড়ে দাও। (সুরা জুম’আ, আয়াতঃ ৯)
হযরত মুজাহিদ রহ. তিনি বলেন,
قَالَ مُجَاهِدٌ، وَسُئِلَ ابْنُ عَبَّاسٍ عَنْ رَجُلٍ يَصُومُ النَّهَارَ وَيَقُومُ اللَّيْلَ، لَا يَشْهَدُ جُمْعَةً وَلَا جَمَاعَةً؟ فَقَالَ: ্রهُوَ فِي النَّارِগ্ধ
অর্থঃ হযরত ইবনে আব্বাস রা. থেকে জনৈক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় যে দিনে রোজা রাখে, রাতে নফল ইবাদত করে, কিন্তু জুম’আ এবং জামাতে হাজির হয়না, উত্তরে তিনি বললেন সে জাহান্নামী। (তিরমিযী খঃ১ পৃঃ৪২৩ হাঃ২১৮)
বিখ্যাত ফতওয়ার কিতাব আদ্দুররুল মুখতারে উল্লেখ রয়েছে,
هِيَ فَرْضُ عَيْنٍ يَكْفُرُ جَاحِدُهَا وَهِيَ فَرْضٌ مُسْتَقِلٌّ آكَدُ مِنْ الظُّهْرِ.
অর্থঃ জুমার নামাজ ফরজে আইন তার অস্বীকার কারীকে কাফির গণ্য করা হবে, এবং সেটা একটি স্বতন্ত্র ফরজ, যা জোহর থেকে আরো গুরুত্বপূর্ণ। (শামী: ১/১৩৬ এইচ, এম, ছাঈদ কোমপানি)
পূর্বে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে যে, মানুষের সমাগমের কারণে করোনা ভাইরাসের সংক্রমনের সম্ভাবনাটি খুবই দুর্বল ও প্রমান বিহীন নিছক সম্ভাবনা এবং ৪ ও ৩ নং প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়েছে। এই সাম্ভাব্যপূর্ণ সংক্রমনের ভয়ে লক ডাউন, ইত্যাদী সতর্কতামুলক ফর্মূলা গ্রহণ করামাত্র মুস্তাহাব। আবশ্যকীয় হুকুম নয়। বিধায় এই সাম্ভাব্যপূর্ণ বিষয় ও একটি মুস্তাহাব বিধানের লক্ষে মসজিদে গিয়ে ফরজ নামাজের জামাত ও জুমা আদায় ছেড়ে দেওয়া বৈধ নয়। কারণ ফিক্বাহ শাস্ত্রেও কিতাবাদীতে জামাত ও জুমা ছাড়ার যে কারণগুলো উল্লেখ করা হয়েছে, ভাইরাস সংক্রমনের নিছক ভয় ও সম্ভাবনা তাতে পড়েনা বিধায়, মসজিদে জামাত পড়ার জন্য ৫জন যাবে অন্যরা ঘরে পড়বে এবং জুমার জন্য ১০ জন যাবে অন্যরা ঘরে জোহর আদায় করবে এ ঘোষনাটি শরীয়ত সম্মত নয়। অতএব সে ঘোষনার পরিপেক্ষিতে মসজিদের জামাত বা জুমা ছাড়া যাবেনা।
তাছাড়া সেই ঘোষণার উপর প্রশ্ন উত্তাপিত হয় যে, ৫জন বা ১০ জন লোকের সমাগমে করোনার সংক্রমন হবেনা, এর চেয়ে বেশী লোকের সমাগমে করোনার সংক্রমন হবে এর কোন নিশ্চয়তা বা প্রমান আছে? আর যদি নিশ্চয়তা থাকে তাহলে বাজারে হাজারো লোকের সমাগম, ব্যাংকে লাইনে দাড়ানো শত শত লোকের হিড়িক প্রতিদিন পরিলক্ষিত হচ্ছে তাতে কোন সংক্রমন নেই কেন? আর হাট-বাজার ও ব্যাংকের জন্য কোন নিষেধাজ্ঞা নেই, শুধু মসজিদের জন্য কেন নিষেধাজ্ঞা?

২. প্রশ্নঃ মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় খানা-পিনা আসবাব সামগ্রী কেনা-কাটা করার জন্য বাজারে যাওয়া অতীব প্রয়োজন, অনুরূপ হাজত পুরোনের জন্য ব্যাংক থেকে টাকা উঠানোর খুবই প্রয়োজন। নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা ও জুমা ক্বায়েম করার সে রকম প্রয়োজন আছে কি?
উত্তরঃ হাট বাজার ও ব্যাংকের থেকে টাকা উঠানো যেমন পার্থিব জরুরত, তেমনি নামাজের জামাত ও জুমা আদায় করা, এবং নামাজের যথাযত হেফাজত করা উখরাবী জরুরত। আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন,
{حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطَى وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ}
অর্থঃ হে ঈমানদারগণ তোমরা নামাজের হিফাজত করো বিশেষ করে মধ্যবর্তী নামাজের। (সুরা: বাক্বারা. ২৩৮)
শুধু পার্থিব জরুরতের দিকে লক্ষ্য রাখা এবং তার প্রতি গুরুত্বারোপ করা একজন মুসলমানের জন্য শ্রেয় নয়, বরং পার্থিব জরুরতের পাশা-পাশি উখরাবী জরুরতের প্রতি গুরুত্বারোপ করা মুসলমানের কর্তব্য। তাছাড়া নামাজের হেফাজত ও জামাত ও জুমার প্রতি গুরুত্বারোপ করা উখরাবী জরুরত হওয়ার পাশা-পাশি পার্থিব জরুরতও বটে। কারণ নামাজের যথাযথ হেফাজত নিজের ঘর ও সমাজকে অশ্লিল ও গর্হিত কাজ থেকে মুক্ত রাখার উপকরণ, আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন,
{وَأَقِمِ الصَّلَاةَ إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ}
অর্থঃ নামাজ ক্বায়েম কর নিশ্চয় নামাজ অশ্লিল ও গর্হিত কাজ থেকে বিরত রাখে। (সূরা আনকাবুত, আয়াতঃ৪৫)
এবং সে নামাজের হেফাজতের মাধ্যমে আল্লাহ পাক বান্দার জন্য শান্তি ও স্বাচ্ছন্দময় জীবনের রিযিকের ব্যবস্থা করেন তিনি ইরশাদ করেন,
{وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصَّلاةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا لا نَسْأَلُكَ رِزْقًا نَحْنُ نَرْزُقُكَ وَالْعَاقِبَةُ لِلتَّقْوَى} [طه
অর্থঃ হে নবী আপনি পরিবার-পরিজন আত্মীয় স্বজনকে নামাজের আদেশ করুন, নিজেও তার উপর অটল থাকুন, আমি আপনার নিকট, রিযিকের ব্যপারে জিজ্ঞাসাবাদ করতেছিা, আমিই তো আপনাকে রিযিক প্রদান করব, এবং আখিরাতের সাফল্যতা তাকওয়ার মাধ্যমেই হাছিল হয়। (সূরা ত্বোহা, আয়াতঃ১৩২)
তদোপরী নামাজের যথাযথ হিফাজত এই প্রাণঘাতি করোনা ও আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা পাওয়ার সক্রিয় মাধ্যম। আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন,
{وَاسْتَعِينُواْ بِالصَّبْرِ وَالصَّلاَةِ وَإِنَّهَا لَكَبِيرَةٌ إِلاَّ عَلَى الْخَاشِعِينَ}
অর্থঃ হে আমার বান্দাগণ তোমরা যে কোন মুছীবত সম্মুখ অবস্থায়, ধৈর্য ও নামাযের মাধ্যমে আমার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করো, আর নামাজ আল্লাহ পাকের শ্রদ্ধাবনত বান্দা ব্যতিত অন্যদের জন্য ভারী বোঝা। (সূরা বাক্বারা, আয়াতঃ৪৫)
হাদীসে বর্ণিত আছে,
كان النبي –صلى الله عليه وسلم- إذا حزبه أمر فزع إلى الصلاة.
অর্থঃ নবী করীম -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- যখন কোন গুরুতর অবস্থায় সম্মুখিন হতেন তখন নামাজের শঙ্কিত হয়ে নামাজের দিকে উপড়ে পড়তেন। (তাবরানী শরীফ)
অতএব বুঝা গেল নামাজের জামাত ও জুমা ক্বায়েম রাখা, হাট-বাজার ও ব্যংকে টাকা আদান-প্রদান থেকে ও বেশী গুরুত্বপূর্ন, বিধায় সমাগম স্থলে করোনা ভাইরাসের সাম্ভাব্যপূর্ণ সংক্রমনের ভয়ে, জামাত ও জুমা ছাড়া যাবে না।

৩. প্রশ্নঃ মসজিদে জামাত বা জুমা ক্বায়েম করতে গেলে যদি সরাসরী প্রশাসনিক বাধার সম্মুখিন হতে হয় তাহলে করণিয় কি?
(ক) মসজিদে নামাজের জামাতে সরাসরী বাধা আসলে ঘরে বা মহল্লাতে জামাতের সাথে নামাজ আদায় করবে। এতে মসজিদে জামাত আদায় করার ছাওয়াব পাবে।
হাদীসে আসছে,
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَقْبَلَ مِنْ بَعْضِ نَوَاحِيَ الْمَدِينَةِ يُرِيدُ الصَّلَاةَ، فَوَجَدَ النَّاسَ قَدْ صَلَّوْا، فَذَهَبَ إِلَى مَنْزِلِهِ، فَجَمَعَ أَهْلَهُ، ثُمَّ صَلَّى بِهِمْ
অর্থঃ রসূল -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- নামাজের উদ্দেশ্যে কোন একপ্রান্ত থেকে আসলেন, তখন দেখতে পেলেন লোকজন নামাজ আদায় করে ফেলেছে তাই তিনি বাড়িতে ফিরে এসে পরিবার পরিজনকে একত্রিত করে তাদের নিয়ে নামাজ আদায় করলেন। (তাবরানী: ৫/১৩২ হা: ৬৮২০)
ফাতওয়ায়ে শামীতে উল্লেখ আছে,
يجمع بأهله ويصلي بهم يعني وينال ثواب الجماعة.
অর্থঃ কোন কারণে মসজিদের জামাত ছুটে গেলে পরিবার পরিজন পাড়া, প্রতিবেশীদেরকে একত্রিত করে জামাত আদায় করবে, এতে জামাতের ছাওয়াব পেয়ে যাবে। (ফাতওয়ায়ে শামী ১/৫৫৫ এইচ, এম, ছাঈদ কোমপানী)
(খ) জুমাতে সরাসরী প্রশাসনিক বাধা আসলে তখন যে সকল এলাকা বাসির উপর পূর্ব থেকে জুমা ফরজ হয়ে আছে তারা নিম্নোক্ত শর্তাবলী পাওয়া গেলে, যে কোন স্থানে জুম্মা আদায় করে নিতে হবে। কারণ, উক্ত বাধা জুমা ফরজ হওয়ার আবশ্যকীয়তাকে বাতিল করেনা। শর্তাবলী নিম্নরূপ:
১/ ইমামতির উপযুক্ত ব্যক্তি উপস্থিত থাকতে হবে।
২/ ইমাম ছাড়া তিনজন সাবালিক পুরুষ মুক্তাদী উপস্থিত থাকতে হবে।
৩/ যে স্থানে জুমা পড়া হবে সে স্থানকে সকলের জন্য উম্মুক্ত রাখতে হবে অর্থ্যাৎ আশে পাশে এ’লান করে দিবে যাতে কেউ জুমা‘তে অংশ গ্রহণ করতে চাইলে পারে।
বিখ্যাত ফতওয়া গ্রন্থ শামীতে রয়েছে,
لو منع السلطان أهل مصر أن يجمعوا إضرارا أو تعنّتا فلهم أن يجمعوا على رجل يصلى بهم الجمعة.
অর্থঃ যদি সরকার কোন শহরবাসীকে কষ্ট দেওয়া বা কঠোরতার লক্ষে জুমা আদায় করতে নিষেধ করে। তখন তাদের প্রযোজ্য হল জুমার ইমামতির উপযুক্ত ব্যক্তি নিয়ে জুমা আদায় করে ফেলা। (শামী: ২/১৪৩)
অন্যত্র আছে , وأقلها ثلاثة رجال سوى الإمام
অর্থঃ জুমা আদায়ের জন্য কমপক্ষ্যে ইমাম ব্যতিত স্বাবালক তিনজন পূরুষ থাকতে হবে। (প্রগুত্ত: ২/১৫১)
অন্যত্র আছে,
أَنْ يَأْذَنَ لِلنَّاسِ إذْنًا عَامًّا بِأَنْ لَا يَمْنَعَ أَحَدًا مِمَّنْ تَصِحُّ مِنْهُ الْجُمُعَةُ عَنْ دُخُولِ الْمَوْضِعِ الَّذِي تُصَلَّى فِيهِ.
অর্থঃ জুমা ছহীহ হওয়ার একটি শর্ত হল মানুষের জন্য ব্যপক অনুমতি দেওয়া অর্থাৎ যে স্থানে জুমা আদায় করা হবে সেখানে প্রবেশ করতে কাউকে বাধা না দেওয়া। (শামী: ২/১৫১)
উপরোক্ত শর্ত থেকে কোন এক শর্ত বিলুপ্ত হলে তখন একাকী জোহরের নামাজ আদায় করবে। জামাত করতে পারবেনা।

৪. প্রশ্নঃ যেহেতু বিজ্ঞ ডাক্তারগণ পরামর্শ দিচ্ছেন যে মানুষের সমাগম ও হিড়িক স্থলে করোনা সংক্রমনের শঙ্কা রয়েছে বিধায় তার উপর ভিত্তি করে নামাজের কাতারে ফাঁকা করে দাঁড়ানোর অনুমতি আছে কী?
উত্তরঃ সমাগম স্থলে করোনা সংক্রমনের শঙ্কার বিষয়টা যদিও বিজ্ঞ ডাক্তারগণের পরামর্শ কিন্তু তারা সমাগম স্থলে করোনা সংক্রমনের বিষয়টা নিশ্চিত বা প্রবল সম্ভাবনা বলে বিবেচনা করেননি বরং নিছক সম্ভাবনা বলে বিবেচনা করেছেন, পূর্বেও স্পষ্ট করা হয়েছে যে তা নিছক সম্ভাবনা, হাট বাজারে ও বিভিন্ন স্থলে করোনার সংক্রমন না হওয়া তার জলন্ত প্রমাণ, আর এ ধরণের নিছক সম্ভাবনা পূর্ণ বিষয় থেকে বাঁচার জন্য সতর্কি মালা গ্রহণ করা মুস্তাহাব মাত্র যা পূর্বে স্পষ্ট করা হয়েছে।
এদিকে নামাজের কাতারে ফাঁকা রাখা মাকরুহে তাহরীমী ও জঘন্য গুণাহ, যারা নামাজের কাতারে ফাঁকা রাখে তাদের জন্য রসূল -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- কঠিন ভিতী প্রদর্শন করেছেন।
হযরত ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত, রসূল -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- ইরশাদ করেন,
"أقيموا الصُفوفَ، وحاذُوا بين المناكِبِ، وسُدُّوا الخَلَلَ، ولينُوا بأيدي إخوانِكم، ولا تَذَروا فُرُجاتِ للشَّيطان، ومَن وصلَ صفاً وصلَه اللهُ، ومَن قطعَ صفاً قطعَه الله"
অর্থঃ তোমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাতার সোজা করো এবং কাতারের ফাঁকা বন্ধ করো, তোমাদের ভাইদের হাতের পার্শে সিথিল হয়ে যাও, এবং শয়তানের জন্য কাতারে ছিদ্র ছেড়োনা, আর যে ব্যক্তি কাতার সংযুক্ত করবে আল্লাহ পাক তাকে রহমতের সঙ্গে সংযুক্ত করবে। আর যে কাতারে ছিন্ন করবে আল্লাহ পাক তাকে রহমত থেকে ছিন্ন করবে। (আবু দাউদ, খঃ২ পৃঃ৮ হাঃ৬৬৬)

বিখ্যাত ফাতওয়াগ্রন্থ আদ্দুররুল মুখতার কিতাবে উল্লেখ আছে,
ولو صلى على رفوف المسجد إن وجد في صحنه مكانا كره كقيامه في صف خلف صف فيه فرجة
অর্থঃ যদি কেউ মসজিদের বারান্দাতে জায়গা থাকা সত্বেও মসজিদের তাকে নামাজ পড়ে মাকরুহ হবে যেমন সামনের কাতারে ফাঁকা রেখে পিছনের কাতারে দাড়ানো মাকরুহ। তথা মাকরুহে তাহরীমী। (আদ্দুরুল মা’আশ শামিয়া ১/৫৭০ এইচ, এম, ছাঈদ কোমপানী)
করোনা ভইরাস থেকে বাঁচার লক্ষে সতির্ক মালাগ্রহণ করা একটি মুস্তাহাব বিধান, অতএব তার জন্য নামাজের কাতারে ফাঁকা রেখে দাড়ানো বৈধ হবেনা কারণ তা মাকরুহে তাহরীমী।
বিখ্যাত ফক্বীহ আল্লামা শামী রহ. বলেন,
أن ترك المكروه أولى من إدراك الفضيلة
কোন মর্যাদা পূর্ণ কাজে উপনিত হওয়া থেকে মাকরুহ কাজ ছেড়ে দেওয়ার গুরুত্ব বেশী। (প্রাগুক্ত)
তিনি অন্যত্র বলেন,
أن ترك المكروه أولى من فعل المندوب
অর্থঃ মুস্তাহাব কাজ করার চেয়ে মাকরুহ কাজকে প্রত্যখ্যান করার গুরুত্ব বেশী (প্রগুত্ত¡ পৃ: ১৩১)

৫. প্রশ্নঃ করোনা সংক্রমনের শঙ্কাতে মাস্ক পরে নামাজপড়া বৈধ হবে কি?
উত্তরঃ শরী’য়াতের বিধান মতে নাক-মূখ ঢেকে নামাজ পড়া অবৈধ ও মাকরুহে তাহরীমী। হাদীসে আসছে হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত,
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنِ السَّدْلِ فِي الصَّلَاةِ وَأَنْ يُغَطِّيَ الرَّجُلُ فَاهُ
অর্থঃ নিশ্চয় রসূল -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- নামাজরত অবস্থায় কাপড় ঝুলিয়ে দিতে, নিষেধ করেছেন এবং মুছল্লী ব্যক্তি মূখ ঢেকে রাখতে নিষেধ করেছেন। (আবু দাউদ, খঃ১ পৃঃ১৭৪ হাঃ৬৪৩ )
বিখ্যাত ফক্বীহ আল্লামা শামী বলেন,
يكره ... التلثم ... وهو تغطية الأنف والفم في الصلاة لأنه يشبه فعل المجوس حال عبادتهم النيران ونقل.... أنها تحريمية.
অর্থঃ তালাছছুম তথা নামাজের মধ্যে নাক মূখ ঢাকা মাকরুহ, কারণ তা অগ্নিপুজকদের কাজের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ যখন তারা আগুন পুজা করে। এবং বর্ণিত আছে যে তা মাকরুহে তাহরীমী। (শামী ১/৬৫২ এইচ, এম, ছাঈদ কোমপানী)
অতএব নিছক সাম্ভাব্যপূর্ণ করোনা সংক্রমনের ভয়ে মাস্কের মাধ্যমে নাক-মূখ ঢেকে নামাজ পড়া বৈধ হবেনা। বরং তা মাকরুহে তাহরীমী।

৬. প্রশ্নঃ করোনা সংক্রমনের ভয়ে মহল্লাবাসী মসজিদে তারাবীর জামাত ছেড়ে ঘরে তারাবীহ আদায় করা কতটুকু বৈধ? এবং সৌদী সরকার তারাবী ঘরে পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন সেটা আমাদের জন্য কতটুকু অনুকরণিয়?
উত্তরঃ তারাবীর নামাজ মসজিদে গিয়ে জামাতে আদায় করা মহল্লাবাসীর জন্য সুন্নাতে মুয়াক্কাদায়ে কেফায়া কোন নির্ভরযোগ্য উযর বিহীন মহল্লাবাসী মসজিদে তারাবীর জামাত ছেড়ে দিলে গুণাহগার হবেন এবং তা মাকরুহে তাহরীমী হবে। বিধায় নিছক করোনা সংক্রমনের ভয়ে তারাবীর জামাত ছেড়ে দেওয়া মাকরুহে তাহরীমী।
বিখ্যাত ফক্বীহ আল্লামা আলাউদ্দীন হাছক্বাফী বলেন,
والجماعة فيها سنة على الكفاية فلوتركها أهل المسجد أثموا
অর্থঃ মসজিদে তারাবীর জামাত সুন্নাতে কেফায়া সুতরাং যদি মসজিদের মহল্লাবাসী তা ছেড়ে দেয়, সকলেই গুনাহগার হবে। (আদ্দুর মা’আশ শামিয়া ২/৪৫)
বিখ্যাত ফক্বীহ আল্লামা শামী বলেন,
حتى لو ترك أهل محلة كلّهم الجماعة فقد تركوا السنة وأساءوا
অর্থঃ এমনকি যদি সকল মহল্লাবাসী তারাবীহর জামাত ছেড়ে দেয়, তখন তারা সুন্নাত তরককারী বলে গণ্য হবে এবং সবাই গুণাহগার হবে। (শামী: ২/৪৫)
তিনি আরো বলেন,
وان صلى أحد في البيت بالجماعة لم ينالوا فضل جماعة المسجد
অর্থঃ যদি কেউ ঘরের মধ্যে তারাবীর জামাত আদায় করে তাহলে মসজিদের জামাতের ফযীলত পাবে না। (শামী: ২/৪৫)
তবে যদি সরাসরী প্রশাসনী বাধার সম্মুখিন হতে হয়, তখন ঘওে আদায় করবে। সৌদি সরকারের ঘরে তারাবী পড়ার নির্দেশ আমাদের জন্য অনুকরণীয় নয়। আমাদের জন্য অনুকরণীয় ‘কুরআন-সুন্নাহ’। রাসূল সা. ইরশাদ করেন।
تَرَكْتُ فِيكُمْ أَمْرَيْنِ لَنْ تَضِلُّوا مَا تَمَسَّكْتُمْ بِهِمَا: كِتَابَ اللهِ وَسُنَّةَ نَبِيِّهِ
অর্থ: তোমাদের মধ্যে আমি দুটি বস্তু রেখে যাচ্ছি (কুরআন-সুন্নাহ), যতক্ষণ তা দৃড়ভাবে আকড়ে ধরবে পথভ্রষ্ট হবেনা।) মুআত্তা মালেক (হাদীস ২৬১৭)

৭. প্রশ্নঃ বর্তমান করোনা ভইরাস সংক্রমনের ভয়ে আতঙ্কিত অবস্থাতে তারাবীর জামাত সংক্ষিপ্ত করার লক্ষ্যে খতম তারাবীহ বাদ দিয়ে সূরা তারাবীহ পড়া যাবে কি না?
উত্তরঃ উলামায়ে কেরামের নির্ভরযোগ্য মতানুসারে যদিও তারাবীর মধ্যে কুরআন খতম করা সুন্নাত, কিন্তু কারণে অকারণে মুসল্লিদের মধ্যে বিরক্তির ভাব আসলে, এবং জামাত সম্পূর্ণ রূপে ছেড়ে দেয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলে, তারাবীতে কুরআন খতম ছেড়ে দেয়ার অনুমতি রয়েছে বিধায় বর্তমান করোনা আতঙ্কিত পরিস্থিতিতে খতমে তারাবীহ ছেড়ে, সূরা তারাবীহ পড়ার অনুমতি রয়েছে। বিখ্যাত ফক্বীহ আল্লামা শামী বলেন,
فالحاصل أن المصحح في المذهب أن الختم سنة لكن لا يلزم منه عدم تركه إذا لزم منه تنفير القوم وتعطيل كثير من المساجد خصوصا في زماننا.
অর্থঃ মুদ্দা কথাঃ মাযহাবের বিশুদ্ধ মত হলো যে, তারাবীতে খতমে কুরআন সুন্নাত কিন্তু তার অর্থ এ নয় যে যখন তাতে মুসল্লিগনের আতঙ্কিকরা ও বিপূল সংখ্যক মসজিদের জামাত বন্ধ করনের বধ্যকতা দেখা দেয় তাও সে খতম বন্ধ করা যাবেনা। (বরং তখন খতম বন্ধ করা যেতে পারে) (শামী: ২/৪৭)

করোনা নিয়ে জটিল মাসআলা সমূহের সঠিক সমাধানআল্লামা মুফতী কুতুবুদ্দীন নানুপুরী দা.বা.শায়খুল হাদীস নানুপুর মাদরাসা।২য় পর্বপ্...
18/04/2020

করোনা নিয়ে জটিল মাসআলা সমূহের সঠিক সমাধান
আল্লামা মুফতী কুতুবুদ্দীন নানুপুরী দা.বা.
শায়খুল হাদীস নানুপুর মাদরাসা।
২য় পর্ব

প্রশ্নোত্তরে করোনা ও ইসলামী আক্বীদা-বিশ্বাস
১. প্রশ্নঃ করোনার ব্যপারে আমাদের আক্বীদা-বিশ্বাস কেমন হওয়া চাই?
উত্তরঃ করোনার ব্যপারে আমাদের এ বিশ্বাস রাখা চাই যে, ইহা একমাত্র আল্লাহ তা’য়ালারই সৃষ্ট এবং তাঁর হুকুমেই সংক্রমিত হয়েছে, হচ্ছে, এবং যতদিন, যেখানে, যেভাবে যাদের উপর তাঁর ইচ্ছা সংক্রমিত হবে। এতে কারো রক্ষার ক্ষমতা নেই, আর যখন তিনি তা স্তমিত করে দিবেন তা সংক্রমিত করার কারো ক্ষমতা নেই এবং স্বয়ং করোনাও সংক্রমিত হওয়ার ক্ষমতা রাখেনা, আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, {أَلا لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ تَبارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعالَمِينَ}
অর্থঃ জেনে রেখো সবধরণের সৃষ্টি এবং সকল হুকুম তাঁর পক্ষ থেকেই, আল্লাহ রব্বুল আলামীন বরকতময় সত্ত্বা । (সূরা আ‘রাফ, আয়াতঃ৫৪)
তিনি আরও এরশাদ করেন, {قُلْ لَنْ يُصِيبَنَا إِلَّا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَنَا}
অর্থঃ হে নবী বলে দিন কখনো কোন অশুভনিয় বিষয় আমাদের নিকট পৌছবেনা, কিন্তু আল্লাহ পাক যা নির্ধারণ করে রেখেছেন তাই পৌছবে। (সূরা তাওবা, আয়াতঃ ৫১)
আরো ইরশাদ করেন, {قُلْ كُلٌّ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ} [النساء: ৭৮]
অর্থঃ হে নবী বলে দিন ভাল-খারাপ সবই আল্লাহ তা’য়ালার পক্ষ থেকে।
(সুরা নিসাঃ আয়াত, ৭৮)
রসূল -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- ইরশাদ করেন, لاَ عَدْوَى...
অর্থঃ আল্লাহ তা’য়ালার হুকুম ব্যতিত কোন রোগ নিজে নিজে সংক্রমিত হওয়ার ক্ষমতা রাখে না। (বুখারী শরীফ, খঃ৭, পৃঃ১৩৫, হা৫৭৫৩)

২. প্রশ্নঃ (ক) ইসলামে কোন “ছোঁয়াছে রোগ” আছে কি না?
(খ) করোনা ভাইরাসকে ছোঁয়াছে মনে করা হলে তা ইসলামী আক্বীদার পরিপন্থি হবে কি না?
উত্তরঃ (ক) ছোঁয়াছে বলতে তার দু’টি সংজ্ঞা:
১) ছোঁয়াছে বলতে কিছু রোগ এমন রহিয়াছে যা নিজে নিজে সংক্রমিত হতে পারে, এবং কোন প্রতিকার-প্রতিরোধ প্রতিবন্ধক না হলে তার নাগালের ভিতরে যাকে পাবে আক্রমন করে বসবে। এবং সংক্রমিত হবে।
২) ছোঁয়াছে বলতে কিছু রোগ এমন রহিয়াছে যা আল্লাহ তা’য়ালার হুকুমে এক প্রাণী থেকে অন্য প্রাণীর মধ্যে সংক্রমিত হয়। যখন আল্লাহ তা’য়ালার হুকুম হয় রোগাক্রান্ত প্রাণী থেকে দূরে থাকলেও তা সংক্রমিত হয়, যেমন নিকটে থাকলে সংক্রমিত হয়, সেই রোগের নাগালের বাহিরে থাকলেও সংক্রমিত হয়। যেমন নাগালের ভিতরে থাকলে সংক্রমিত হয়। সেই রোগের প্রতিকার প্রতিরোধক থাকলেও সংক্রমিত হয় যেমন না থাকলে সংক্রমিত হয়।
দ্বিতীয় সংজ্ঞা ভিত্তিক ইসলামে ছোঁয়াছে রোগ আছে। প্রথম সংজ্ঞা ভিত্তিক নাই, কারণ আল্লাহ তা’য়ালা ইরশাদ করেন,
وَما هُمْ بِضارِّينَ بِهِ مِنْ أَحَدٍ إِلاَّ بِإِذْنِ اللَّهِ
অর্থ: তারা (লোকসকল) কোন কিছুতেই ও কারো মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ও আক্রান্ত হতে পারেনা আল্লাহ তা’য়ালার হুকুম ব্যতীত। (সুরা বাক্বারা: আয়াত: ১০২)
এবং রসূল -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- ইরশাদ করেন, لاَ عَدْوَى... অর্থাৎ আল্লাহ পাকের হুকুম ব্যতিত কোন রোগ নিজে নিজে সংক্রমিত হতে পারেনা। (বুখারী শরীফ, খঃ৭, পৃঃ১৩৫, হা৫৭৫৩)
বাস্তবতা ও প্রমান করে যে প্রথম সংজ্ঞা ভিত্তিক কোন ছোঁয়াছে রোগ নেই, কারণ মহামারীর এ কাল ইতিহাস আজকের নয়। ইসলামের পূর্বে বনী ইসরাইল গোত্রে মহামারী হয়েছিল, ইসলাম আগমনের পর ছাহাবা যুগে ১৮ হি: সালে শাম দেশে মহামারী হয়ে ছিল এর পরেও যুগে যুগে অনেক ধংসাত্মক মহামারী পৃথিবীতে সংক্রমিত হয়ে ছিল।
ইতিহাস সাক্ষী দেয় সে সকল মহামারী সংক্রমিত হওয়ার সময় অনেকে মহামারী থেকে বাঁচার জন্য সতর্কতা মূলক শক্তিশালী প্রতিরোধক গ্রহণ করেছিল এবং মহামারীতে আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে অনেক দূরে পালিয়ে গিয়েছিল তবুও বাঁচতে পারেনি, বিশেষ ভাবে সময়ের রেকর্ড ভঙ্গকারী “করোনা” মহামারী জলন্ত প্রমান বহন করে যে প্রথম সংজ্ঞা ভিত্তিক ছোঁয়াছে রোগ তথা কোন রোগ আল্লাহ তা’য়ালার হুকুম ছাড়া সংক্রমিত হতে পারেনা।
কারণ এ করোনা ভাইরাস সংক্রমিত প্রথম দেশ চীন, ও ইতালী, আমেরিকা, বৃটেন, ফ্রান্স সহ বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে অগ্রগামী, চিকিৎসা পদ্ধতীতে উন্নত, ও সার্বিক শক্তিধর দেশ গুলোতে, সতর্কতা ও চিকিৎসার কমতি নেই তারপর ও হাজারো লোক করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। অনেক দেশে তেমন সতর্কতা নেই, চিকিৎসার তেমন ব্যবস্থাও নেই, কিন্তু সেখানে করোনার কোন সংক্রমন নেই। অবলোকন করা হচ্ছে অনেক দেশে ভাইরাসের সংক্রমন না হওয়ার জন্য বিমান-হেলিকাপ্টার যোগে মেডিসিন ছিটানো হয়েছে তার পরও দেখা যায় সেখানে ভাইরাস সংক্রমিত, আর অনেক দেশে তা করা হয়নি তারপরও সংক্রমিত নয়। আবার দেখা যাচ্ছে একই জায়গাতে শত শত মানুষ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে আবার তার পাশের্^ শত শত লোক আক্রান্তু হয়নি বরং সুস্থ-সবলে আছে।
অতএব বাস্তবতার নিরিখে স্পষ্ট হয়ে গেল ছোঁয়াছে রোগের প্রথম সংজ্ঞা ভিত্তিক কোন ছোঁয়াছে নেই যেমন ইমলামের দৃষ্টিতে ও প্রথম সংজ্ঞা ভিত্তিক কোন ছোঁয়াছে নেই।
(খ) সময়ের বিশ্ব সংক্রমিত করোনা ভইরাসকে দ্বিতীয় সংজ্ঞা ভিত্তিক ছোঁয়াছে মনে করা হলে, তা ইসলামী আক্বীদা পরিপন্থী হবে না।

৩. প্রশ্নঃ যেহেতু সকল প্রকার রোগ ও ভাইরাস আল্লাহ তা’য়ালার হুকুমেই সংক্রমিত হয় ও তাঁর হুকুমেই স্থমিত হয়। অতএব করোনা ভইরাসের সংক্রমন থেকে বাচার জন্য সতর্কতা অবলম্বন করার প্রয়োজন কি?
উত্তরঃ মোটামুটি ভাবে দুটি কারণে ভাইরাসের সংক্রমন থেকে বাচার জন্য সতর্কতা অবলম্বন করার প্রয়োজন পরিলক্ষিত হয়।
(ক) এক দিকে যদিও এটা ইসলামের মৌলিক বিধান যে সব কিছু আল্লাহ পাকের হুকুমেই হয়, অপর দিকে দুনিয়াকে আল্লাহ পাক দারুল আসবাব বানিয়েছেন তথা আল্লাহ পাকের হুকুম কে আসবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছেন। নিশ্চিত হিসাবে বা সাম্ভাব্য হিসাবে। নিশ্চিত ভাবে যেমন ক্ষুধা নিবারণকারী একমাত্র আল্লাহ কিন্তু তা সম্পৃক্ত করেছেন খানার সঙ্গে খানা খেলে ক্ষুধা নিবারণ হবে। সাম্ভাব্য হিসাবে যেমন অসুখ নিরাময়কারী একমাত্র আল্লাহ, তিনি ইরশাদ করেন,
وَإِذا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ (سورة الشعراء: الآية:৮০)
অর্থঃ আমি যখন অসুস্থ হই তখন তিনিই (আল্লাহই) শিফা দেন। কিন্তু তা সাম্ভাব্য হিসাবে সম্পৃক্ত করেছেন চিকিৎসা ও সতর্কতার উপর, অনেক সময় চিকিৎসা ও সতর্কতা ব্যতিত আল্লাহ পাক শিফা দেন, আবার অনেক সময় চিকিৎসা ও সতর্কতার মাধ্যমে আল্লাহ পাক শিফা দেন। সেদিকে ইঙ্গিত করেই রসূল -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- ইরশাদ করেন,
" مَا أَنْزَلَ اللهُ دَاءً، إِلَّا قَدْ أَنْزَلَ لَهُ شِفَاءً، عَلِمَهُ مَنْ عَلِمَهُ، وَجَهِلَهُ مَنْ جَهِلَهُ "
অর্থঃ আল্লাহ পাক কোন রোগ অবতরণ করেননি তবে তার জন্য নিরাময়ের ব্যবস্থা ও আল্লাহ পাক অবতরণ করেছেন, যার তাওফীক তা সম্মন্ধে জানতে পেরেছে, আর যার তাওফীক হয়নি সে তা সম্মন্ধে অজ্ঞ রয়েছে। (মুসনাদে আহমদ: খঃ৬ পৃঃ৫০ হাঃ৩৫৭৮)
তিনি আরো ইরশাদ করেন,
لِكُلِّ دَاءٍ دَوَاءٌ، فَإِذَا أُصِيبَ دَوَاءُ الدَّاءِ بَرَأَ بِإِذْنِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ
অর্থঃ প্রত্যেক রোগের ঔষধ রয়েছে অতএব যখন রোগ অনুযায়ী ঔষধ বা চিকিৎসা মিলে যায় আল্লাহ তা’য়ালার হুকুমে রোগ নিরাময় হয়। (মুসলিম শরীফ: খঃ৪ পৃঃ১৭২৯ হা: ২২০৪)
অতএব সতর্কতা ও যেহেতু অনেক সময় রোগ সংক্রমণ থেকে বাচার উপায় হয় সেজন্য সাম্ভাব্য হিসাবে তা গ্রহণ করা সমীচীন।
(খ) যদিও মুমিন মুসলমানের এটা বিশ্বাস যে ভাইরাসের সংক্রমন একমাত্র আল্লাহ তা’য়ালার হুকুমেই হয়। কিন্তু অধিকাংশ মুসলমান এই আক্বীদাতে দুর্বল, প্রকাশ্য আসবাবের উপর নির্ভরশীল। অতএব কেউ যদি সতর্কতা অবলম্বন না করার কারণে ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে মারা যায় তখন দুর্বল মুসলমানের দুর্বল ঈমানে আরো ঘাটতি আসবে এবং বলবে যে, সে সতর্কতা অবলম্বন না করার কারণেই সংক্রমিত হয়ে মারা গেছে, অতএব সংক্রমন থেকে বাঁচতে হলে সতর্কতা অবলম্বন করতেই হবে। এই দুর্বল মুসলমানের দুর্বল ঈমানের হেফাজতের জন্য রসূল -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- আদেশ দিয়েছেন, وَفِرَّ مِنَ المَجْذُومِ كَمَا تَفِرُّ مِنَ الأَسَدِ.
অর্থঃ কুষ্ট রোগী থেকে ভাগ যেমন তুমি হিংস্র বাঘ থেকে ভাগ। (বুখারী শরীফ, খঃ৭ পৃঃ১২৬ হা৫৭০৭)
এবং নির্দেশ দিয়েছেন,
لاَ يُورِدَنَّ مُمْرِضٌ عَلَى مُصِحٍّ
অর্থঃ মহামারী রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ ব্যক্তির ধারে যাবে না। (বুখারী শরীফ খঃ৭ পৃঃ১৩৮ হাঃ৫৭৭০ )
এই আদেশ ও নির্দেশ একমাত্র দুর্বল ঈমানদ্বারের ঈমানের হেফাজতের জন্য।
ইমাম আবু ওবাইদা রহ. বলেন,
لِأَنَّ الصِّحَاحَ لَوْ مَرِضَتْ بِتَقْدِيرِ اللَّهِ تَعَالَى رُبَّمَا وَقَعَ فِي نَفْسِ صَاحِبِهَا أَنَّ ذَلِكَ مِنَ الْعَدْوَى فَيُفْتَتَنُ وَيَتَشَكَّكُ فِي ذَلِكَ.
অর্থঃ রসূলের নির্দেশ এই কারণেই যে, যদি সুস্থ ব্যক্তি আল্লাহ তা’য়ালার হুকুমেই অসুস্থ হয়ে পড়ে তখন তার সাথী মনে করবে যে. অসতর্কতার কারণে রোগের সংক্রমন ঘটেছে তখন ফিৎনাতে পড়ে যাবে এবং ঈমানের ব্যাপারে সন্দিহান হয়ে যাবে। (ফতহুল বারী: খ: ১০ পৃ. ১৬১)

৪. প্রশ্ন: শরীয়তের দৃষ্টিতে এই সতর্কতার হুকুম কি?
উত্তরঃ এই সতর্কতার শরয়ী হুকুম হলো তা মুস্তাহাব।
বিখ্যাত হাদীস বিশারদ আল্লামা ক্বাজী ইয়াজ রহ. বলেন,
بَلْ يَجِبُ ...، وَحَمْلُ الْأَمْرِ بِاجْتِنَابِهِ وَالْفِرَارِ مِنْهُ عَلَى الِاسْتِحْبَابِ وَالِاحْتِيَاطِ.
অর্থঃ বরং মহামারী আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দুরে থাকা ও সরে থাকার হুকুমকে মুস্তাহাব ও সতর্কতার উপর আরোপ করা উচিত। (ফতহুল বারী: ১০/১৫৯)

৫. প্রশ্নঃ সরকারী ভাবে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে করোনার সংক্রমন থেকে হিফাজতের জন্য যে ফর্মূলা ও বিধি-নিষেধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে (যথা লক ডাউন, মুখে মাস্ক পরে চলা-ফেরা করা, হাছী আসলে মুখে রুমাল ইত্যাদী ব্যবহার করা, হাত ধোয়া ব্যতিত চোখে ও নাকে হাত না দেওয়া, বাহির থেকে ঘরে ঢোকার পূর্বে ভাল করে দুনো হাত ধুয়ে নেওয়া ইত্যাদী) তা গ্রহণ করা আমাদের জন্য কতটুকু বাঞ্চনীয়?
উত্তরঃ প্রথমে এ কথা জানা থাকা চাই উপরোক্ত ফর্মূলা ও বিধি-নিষেধ গুলো করোনা সংক্রমন থেকে হেফজতের লক্ষে সাম্ভাব্যপূর্ণ বিষয়, নিশ্চিত নয়, দৈনিক হাজারো লোক সে বিধি-নিষেধ উপেক্ষা করে ঘুরা-ফেরা করা, বাজারে আনাগোনা করা, ব্যাংকে সমাগম করা সত্তে¡ও কোন ধরনের সংক্রমন না হওয়া তার জলন্ত প্রমান যা সবার নিকট দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট। অতএব দুইটি শর্তকে সামনে রেখে উক্ত ফর্মূলা গ্রহণ করা উচিত।
১. এটা বিশ্বাস রাখতে হবে যে, সংক্রমন হওয়া না হওয়া, রোগাক্রান্ত হওয়া না হওয়া সব আল্লাহ তা’য়ালার হাতে, এই সতর্কতা অবলম্বন শুধু মাত্র দুনিয়া দারুল আসবাব হিসাবে।
বিখ্যাত ফক্বীহ আল্লামা আলাউদ্দীন হাছকফী বলেন,
وإذا خرج من بلدة بها الطاعون: فإن علم أن كل شئ بقدر الله تعالى فلا بأس بأن يخرج ويدخل، وإن كان عنده أنه لو خرج نجا ولو دخل ابتلي به كره له ذلك) فلا يدخل ولا يخرج صيانة لاعتقاده.
অর্থঃ যখন কোন ব্যক্তি মহামারী সংক্রমিত এলাকা থেকে বাহির হয়ে পড়ে এবং তার এ বিশ^াস থাকে যে সব কিছু আল্লাহ তা’য়ালার হুকুমেই হয়, তখন সতর্কতামূলক সেখান থেকে বাহির হওয়া বা প্রবেশ করার মধ্যে কোন অসুবিধা নেই। আর যদি তার বিশ্বাস এমনি হয় যে, সেখান থেকে বের হয়ে গেলে রোগ থেকে সম্পূর্ণ নাজাত পাবে। আর প্রবেশ করলে আক্রান্ত হয়ে যাবে তাহলে তার জন্য তা মাকরুহ হবে অতএব প্রবেশও করবে না ও বাহিরও হবেনা। (আদ্দুররুল মুখতার মা’আশ শামিয়া ৬/৭৫৭)
২. সরকারী পক্ষের ঘোষিত সেই ফর্মূলা ও বিধি-নিষেধ পালনে ও অবলম্বনে শরীয়তের আবশ্যকীয় কোন মৌলিক বিধানের সংঙ্গে সাংঘর্ষিক না হতে হবে, এবং তাতে গুণাহ ও আল্লাহ তা’য়ালার নাফরমানীতে লিপ্ত হওয়ার শঙ্কা না থাকতে হবে। কারণ, রসূল -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- ইরশাদ করেন, "لَا طَاعَةَ لِمَخْلُوقٍ فِي مَعْصِيَةِ الْخَالِقِ"
অর্থঃ সৃষ্টি কর্তার (আল্লাহ তা’য়ালার) না ফরমানীতে কোন মাখলুকের অনুগত্য নেই। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ, খঃ৬ পৃঃ৫৪৫ হাঃ৩৩৭১৭)
উপমা স্বরূপ, ইসলামী শরীয়তে রোগীর সেবা করা মুসলমানের হক, ও আবশ্যকীয় বিধান তেমনি মুসলিম মায়্যিতের জানাযা পড়া কাফন-দাফন করা মুসলমানের হক্ব ও আবশ্যকীয় বিধান, এবং সে হক্বগুলো খুন্ন করা, নষ্ট করা কবীরা গুণাহ, অতএব এখন লক ডাউন মানার দ্বারা যদি সে হক্বগুলো নষ্ট হয়, রোগীর ভোগান্তী হচ্ছে সেবাকারী কেউ নেই, মায়্যিতের লাশ পড়ে আছে জানাযা পড়নে ওয়ালা ও কাফন-দাফনকারী কেউ নেই তখন আমার জন্য লক ডাউন মেনে বসে থাকার অনুমতি নেই। অনুরূপ জু’মা ও নামাজের জামাত আবশ্যকীয় বিধান কোন উযর বিহীন জুমা ও জামাত ছেড়ে দেওয়া কবীরা গুণাহ, অতএব লক-ডাউন পালন করাতে যদি জুমা ও জামাত ছাড়তে হয়, তখন তা মানা যাবেনা।

৬. প্রশ্নঃ আমরা জানি যে এক মুসলমান অপর মুসলমানের সাথে মুসাফাহা করার বিধানটি একটি মুস্তাহাব বিধান, আবশ্যকীয় নয়। ওদিকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমন থেকে বাঁচার জন্য সরকারী ভাবে মুছাফাহা না করার প্রতি তাগীদ দিয়েছেন, এখন আমাদের করণীয় কি? কোন কোন আলিম ফতওয়া দিয়েছেন, মুছাফাহা না করা উত্তম হবে, দলীল হিসেবে পেশ করেছে যে মুসলিম শরীফে বর্ণিত আছে,
عَنْ الشَّرِيدِ، قَالَ: كَانَ فِي وَفْدِ ثَقِيفٍ رَجُلٌ مَجْذُومٌ، فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّا قَدْ بَايَعْنَاكَ فَارْجِعْ
অর্থঃ আশ্-শারীদ ছাক্বাফী রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন যে “ছক্বীফ গোত্রের প্রতিনিধি দলের মধ্যে এক কুষ্ট রোগী ব্যক্তি ছিল, অতঃপর রসূল -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর নিকট খবর পৌছাইলেন যে, আমি তোমাকে হাত স্পর্শকরা ব্যতিত বাইয়াত করে নিলাম। অতএব তুমি আপন গোত্রে ফিরে যাও। (মুসলিম শরীফ, খঃ৪ পৃঃ১৭৫২ হাঃ২২৩১)
এতে স্পষ্ট যে রসূল কুষ্টরোগ সংক্রমন থেকে হেফাজতে থাকার লক্ষে হাত স্পর্শ করে সরাসরী বাইয়াত করান নি। অতএব সংক্রমন থেকে হেফাজতের জন্য মুছাফাহা ও না করা চাই এবং রসূলের অনুসরণে তাই উত্তম।
উত্তরঃ এক মুসলমান অপর মুসলমানের সঙ্গে মুছাফাহা করার দ্বারা করোনা সংক্রমনের শঙ্কার বিষয়টি নিছক ধারণা মাত্র, তার কোন প্রমান ও নেই, চিহ্ন ও নেই। মুছাফাহা করার কারণে সংক্রমন হয়েছে সেরকম সু-নিশ্চিত ঘটনা পাওয়া যায়নি, বরং সংক্রমন না হওয়ার পক্ষে হাজারো সাক্ষি ও প্রমান রয়েছে, কারণ সমাজে শতশত লোক একে অপরের সঙ্গে মুছাফাহা করে চলছে, উঠা-বসা ও লেনদেনে একে অপরের হাত বা শরীরের স্পর্শ হচ্ছে। এতে কোন ধরণের সংক্রমনের ঘটনা পরিলক্ষিত নয়।
অতএব বুঝা গেল মুছাফাহা করার দরুন করোনা সংক্রমনের শ^ংকার বিষয়টি ভিত্তিহীন নিছক ধারণা মাত্র, ইসলাম নিছক ধারণার কোন তোয়াক্কা করে না।
আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, {وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ}
অর্থঃ (হে নবী) যে বিষয়ে আপনার নিশ্চিত জ্ঞান বা প্রবল ধারণা নেই তার পিছে পড়বেন না। (সূরা ঈসরা, আয়াতঃ ৩৬)
অতএব একটি নিছক ধারণার উপর ভিত্তি করে মুছাফাহার মত একটি ফজীলত পূর্ণ কাজকে বাদ দেওয়া ঠিক হবে না বরং মুছাফাহা করাটাই উত্তম হবে।
রসূল -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- ইরশাদ করেন,
إِذَا الْتَقَى الْمُسْلِمَانِ فَتَصَافَحَا، وَحَمِدَا اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ، وَاسْتَغْفَرَاهُ غُفِرَ لَهُمَا
অর্থঃ যখন দুজন মুসলিম পরস্পর সাক্ষাত করে মুছাফাহা করে , এবং আল্লাহ তা’য়ালার প্রসংশা করে ও তাঁর নিকট গুণাহ মাপ চায় তখন আল্লাহ পাক উভয়ের গুণাহ মাফ করে দেন। (আবু দাউদ শরীফ: ৫/২৪৩ হা. ৫২১১)
মুসলিম শরীফে বর্ণিত ছাক্বীফ গোত্রের প্রতিনিধি দলের মধ্যে জনৈক কুষ্ট রোগীর হাত স্পর্শ না করে বাইয়াত গ্রহণ করার ঘটনাকে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে মুছাফাহা ছেড়ে দেওয়া উত্তম হওয়ার পক্ষ্যে দলীল হিসাবে পেশ করা অনুচিত। কারণ আলোচিত ঘটনায় জনৈক ব্যক্তিটি নিশ্চিত কুষ্টরোগে আক্রান্ত ছিল, তার থেকে রোগ সংক্রমন হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতে মুসলমান পরস্পর মুছাফাহা করার মধ্যে করোনা সংক্রমনের সে রকম সম্ভাবনা নেই। তবে নিদৃষ্ট করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে মুছাফাহা না করার ব্যাপারে আমরাও বলি তা উত্তম হবে। যেহেতু তখন সংক্রমনের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

Address

Fatikchori
Fatikchari
1234

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Jamia Islamia Obaidia Nanupur-জামিয়া ইসলামিয়া ওবাইদিয়া নানুপুর posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The University

Send a message to Jamia Islamia Obaidia Nanupur-জামিয়া ইসলামিয়া ওবাইদিয়া নানুপুর:

Share