31/10/2026
ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, বাংলাদেশ ও GoPlane Limited-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর: একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন
আজ ৩১ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১১:০০ ঘটিকায় উচ্চশিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, গবেষণা ও উদ্ভাবন সম্প্রসারণ এবং শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকে অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ করার লক্ষ্যে ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, বাংলাদেশ এবং GoPlane Limited-এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। শনিবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘Academia–Industry Collaboration: MoU Signing Ceremony’ অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সম্মানিত সদস্য প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোক্তার আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন GoPlane Limited-এর পরিচালক জনাব মোঃ রাইসুল ইসলাম এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মির্যা আসিফ। এ ছাড়া Walton, Mojaru, Robotech Valley, Batterylow Interactive, BDRen, PeopleNTech, Felicity IDC, Duke of Edinburgh Award Foundation, Data Soft, BRACNet ও KPJ-সহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, আগামী ৫ বছরে জিডিপিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতের অবদান ১০ শতাংশে উন্নীত করা এবং বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত জ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আধুনিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গবেষণা ও উদ্ভাবনভিত্তিক শিক্ষার উপযোগী করে প্রস্তুত করা হচ্ছে। ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ডিজিটাল অর্থনীতি গঠনে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে দেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, রোবোটিকস, অটোমেশন, ডেটা সায়েন্স ও ন্যানোটেকনোলজির মতো আধুনিক ও যুগোপযোগী বিষয়ে বিভাগ চালু করা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শুধু পরিকল্পনা গ্রহণ কিংবা বক্তব্য প্রদানের মধ্যে নিজেদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না; বরং দৃশ্যমান ও বাস্তবমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তি শক্তিশালী করতে চায়। প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করাই সরকারের লক্ষ্য। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সরকারের ডিজিটাল রূপান্তর কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষার্থীদের শুধু চাকরিপ্রার্থী হিসেবে নয়, বরং দক্ষ উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। সরকারের ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে মোট ৮০০ কোটি টাকার উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০০ কোটি টাকা সরাসরি বরাদ্দের প্রস্তাব এবং আরও ৫০০ কোটি টাকা করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR) খাত থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উদ্যোগ তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তাকে বাস্তব ব্যবসায়িক উদ্যোগে রূপান্তর এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হতে পারে।
প্রযুক্তি খাতে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তুলে ধরে অধ্যাপক ড. মামুন বলেন, সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী প্রতিবছর তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিল্প খাতের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাঠ্যক্রম আধুনিকায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নশিপ, গবেষণা ও উদ্ভাবনী প্রকল্পে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়াতে হবে।
স্মার্ট এআই সিটি গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর নগর ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল অর্থনীতির দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশকেও এ পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। স্মার্ট এআই সিটির ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অব থিংস (IoT), বিগ ডেটা এবং আধুনিক ডিজিটাল অবকাঠামোর সমন্বয় প্রয়োজন। এর মাধ্যমে নগর ব্যবস্থাপনা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নাগরিক সেবাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও কার্যকর করা সম্ভব।
ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থা সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষকদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, স্মার্ট শ্রেণিকক্ষ প্রতিষ্ঠা এবং আধুনিক শিক্ষাসামগ্রীর ব্যবহার বাড়াতে হবে। শিক্ষকদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের বিবেচনাধীন ‘One Teacher, One Tab’ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষাদান পদ্ধতি আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও কার্যকর হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে ডিজিটাল শিক্ষাসামগ্রী তৈরি ও ব্যবহারে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোক্তার আলী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকে বাস্তবমুখী ও কর্মক্ষেত্রের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কার্যকর অংশীদারত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের পেশাগত দক্ষতা বিকাশ, গবেষণার বাস্তব প্রয়োগ এবং উদ্ভাবনী কার্যক্রম সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক উৎকর্ষ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতামূলক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে UFTB ও GoPlane Limited-এর মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান বিকাশে পারস্পরিক সহযোগিতার একটি প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরি হলো। এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিল্পখাত সম্পর্কে বাস্তব ধারণা অর্জন এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের প্রস্তুতির সুযোগ সম্প্রসারিত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় তৈরি ইউএফটিবি ডিরেকটরি আপ্লিকেশন (UFTB Directory App) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। প্রধান অতিথি ও উপাচার্য যৌথভাবে অ্যাপটির উদ্বোধন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সার্ভিস অফিসের তৈরি এই অ্যাপের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় তথ্য সহজে ও দ্রুত পাওয়া যাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব জনবল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে অ্যাপটি তৈরি করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজিটাল রূপান্তর কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে এ ধরনের অন্যান্য সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন তৈরির কাজও চলমান রয়েছে।
অনুষ্ঠানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্বে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থীরা তাঁদের প্রত্যাশা ও মতামত তুলে ধরার পাশাপাশি শিল্পখাতের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও দিকনির্দেশনা লাভের সুযোগ পান।
ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, বাংলাদেশের ন্যাশনাল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল কোলাবোরেশন সেল-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।