22/10/2026
ইমতিয়াজ চৌধুরী সাহেবকে প্রথম দেখলে মনে হয়, তিনি ভুল করে এই পৃথিবীতে চলে এসেছেন। লম্বা, রোগা, গায়ে ধূসর রঙের পুরনো পাঞ্জাবি। বাঁ চোখটা ডান চোখের চেয়ে সামান্য ছোট। ফলে মনে হয়, তিনি একটা চোখ দিয়ে আপনাকে বিশ্বাস করছেন, আরেকটা দিয়ে করছেন না।
তিনি বুয়েটে শব্দবিজ্ঞান পড়াতেন। চাকরি ছেড়েছেন বছর দশেক আগে। কারণ জিজ্ঞেস করলে বলেন, "ছাত্ররা আমার কথা শুনতে শুনতে এত ক্লান্ত হয়ে পড়ত যে আমি নিজেই লজ্জা পেয়ে গেলাম।"
তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয় মিতুর কারণে। মিতু আমার ছোট বোন। একদিন সন্ধ্যায় সে ফোন করে বলল, "ভাইয়া, আমার বাসায় একটু আসবে? ভয় লাগছে।"
মিতু ভয় পাওয়ার মেয়ে না। ছোটবেলায় সে একটা মরা সাপ লাঠিতে ঝুলিয়ে স্কুলে নিয়ে গিয়েছিল। সেই মিতু ভয় পাচ্ছে শুনে আমি অবাক হলাম।
মিতুরা সদ্য ধানমন্ডির এক পুরনো দোতলা বাড়ির নিচতলায় উঠেছে। বাসায় পা দিয়ে মনে হলো, বাড়িটা ঘুমিয়ে ছিল, আমাদের আসায় একটু বিরক্ত হয়েছে। মিতু চা বানিয়ে আনল। কাপে চুমুক দিতে গিয়ে দেখি, তার হাত কাঁপছে।
"প্রতি রাতে ঠিক তিনটা দশে কেউ আমার শোবার ঘরের দেয়ালে টোকা দেয়। টক, টক... তারপর একটু থেমে... টক।"
আমি বললাম, "পাইপ-টাইপ হবে।"
"পাইপ কি ঘড়ি দেখে টোকা দেয়? কোনোদিন তিনটা, কোনোদিন তিনটা পনেরো? সবসময় তিনটা দশ। আমি টানা এগারো দিন ঘড়ি ধরে দেখেছি।"
এগারো দিন। কথাটা আমার ভালো লাগল না।
পরদিন ইমতিয়াজ সাহেবকে ধরে আনলাম। তিনি বাসায় ঢুকে কোনো ঘরে গেলেন না। দরজার কাছে দাঁড়িয়ে চোখ বন্ধ করে রইলেন প্রায় এক মিনিট।
মিতু ফিসফিস করে বলল, "উনি কী করছেন?"
ইমতিয়াজ সাহেব চোখ না খুলেই বললেন, "বাড়ি শুনছি মা। প্রতিটা বাড়ির একটা নিজের শব্দ থাকে। এই বাড়ির শব্দ শান্ত। শুধু একটা জায়গায় একটু অন্যরকম।"
তিনি শোবার ঘরে ঢুকে দেয়ালে কান লাগালেন। তারপর পকেট থেকে নোটবই বের করে একটা সংখ্যা লিখলেন: ৩।
"তিন কী?" জিজ্ঞেস করলাম।
"তিন নম্বর টোকা। প্রথম দুটার মধ্যে ফাঁক খুব কম। তৃতীয়টা আসে অনেক পরে। ব্যাপারটা আমার ভালো লাগছে না।"
"ভালো লাগছে না কেন?"
তিনি জবাব দিলেন না। ভদ্রলোকের একটা অভ্যাস আছে, কাউকে কিছু বলার আগে নিজেকে সময় দেন, যেন সত্যটাকে একটু ঠান্ডা হতে দিচ্ছেন।
সেই রাতে আমরা তিনজন মিতুর ঘরে বসে রইলাম। বাইরে বৃষ্টি পড়ছে। বৃষ্টির রাতে আমার সবসময় মনে হয়, পৃথিবীর কোথাও কেউ একজন খুব দুঃখী। কেন মনে হয় জানি না।
ইমতিয়াজ সাহেব বললেন, "ভূত বিশ্বাস করেন?"
"না।"
"আমিও করি না। অবিশ্বাসও করি না। বিজ্ঞান কখনো বলে না 'নেই'। সে বলে, 'এখনো প্রমাণ পাইনি'।"
ঘড়িতে তিনটা দশ।
টক। টক।
আমার গায়ের লোম দাঁড়িয়ে গেল। মিতু আমার হাত চেপে ধরল। কয়েক সেকেন্ড কিছু নেই। ঘরটা এমন নিস্তব্ধ, যেন কেউ কান পেতে আছে। তারপর:
টক।
ইমতিয়াজ সাহেব উঠে গিয়ে দেয়ালের একটা জায়গায় আঙুল রাখলেন। "এখানে।"
পরদিন রাজমিস্ত্রি ডেকে সেই জায়গাটা ভাঙা হলো। ভেতরে একটা পুরনো পানির পাইপ আর তার গায়ে আটকানো একটা সরু ধাতব ফিতা। ইমতিয়াজ সাহেব বললেন, "রাত তিনটার দিকে তাপমাত্রা সবচেয়ে কমে। ফিতা সংকুচিত হয়ে পাইপে বাড়ি খায়। সহজ ব্যাপার।"
মিতুর মুখে হাসি ফিরে এল। আমিও হাঁপ ছাড়লাম।
কিন্তু ফেরার পথে রিকশায় ইমতিয়াজ সাহেব অনেকক্ষণ চুপ করে থাকলেন। তারপর বললেন, "ওই পাইপ বহু বছর আগে বন্ধ করা। ওতে পানি নেই। আর ফিতাটা এমন জায়গায় আটকানো, যেখানে তাপমাত্রায় ওটা নড়ার কথা না।"
"তাহলে মিতুকে এসব বললেন কেন?"
"মানুষের ভয় একটু কমানো দরকার ছিল। সুন্দর ব্যাখ্যা আর সত্য ব্যাখ্যা সবসময় এক জিনিস না।"
সেই রাতে টোকা পড়ল না। কিন্তু ভোরে মিতু ফোন করল, গলা ভাঙা।
"ভাইয়া, কাল রাতে টোকা হয়নি। কিন্তু আমার ঘুম ভেঙে গিয়েছিল তিনটা দশে। দেখি, আমি বিছানায় নেই। আমি দেয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। কান দেয়ালে লাগানো। আর আমি..."
"আর তুমি?"
"আমি ফিসফিস করে বলছিলাম, 'জি, আমি শুনছি।' কাকে বলছিলাম, ভাইয়া?"
আমি এক ঘণ্টার মধ্যে ইমতিয়াজ সাহেবের বাসায় হাজির। তিনি আমার কথা শুনলেন, তারপর বললেন, "চলুন। আজ আমি বাড়ির মালিকের সঙ্গে কথা বলব।"
বাড়ির মালিক রহমান সাহেব ছোটখাটো মানুষ, বয়স সত্তরের ওপরে, চোখে মোটা কাচের চশমা। দোতলায় থাকেন একা। চা দিতে দিতে বললেন, "আগের ভাড়াটেরা? তিনজন ছিল তিন বছরে। কেউ তিন মাসের বেশি থাকেনি।"
"কেন ছেড়েছে?"
"বলত, রাতে ঘুম হয় না।" রহমান সাহেব হাসলেন, কিন্তু হাসিটা ঠোঁটের বাইরে গেল না। "পুরনো বাড়ি তো।"
ইমতিয়াজ সাহেব ধীরে ধীরে বললেন, "বাড়িটা কত সালে বানানো?"
"উনিশশো ঊনষাট।"
"একাত্তরে এখানে কারা থাকত?"
রহমান সাহেবের হাতের কাপ সামান্য নড়ে গেল। চা ছলকে পড়ল পিরিচে।
"আমার বাবা-মা, আমার ছোট ভাই। আমি তখন ঢাকার বাইরে।"
"তাঁরা এখন কোথায়?"
রহমান সাহেব অনেকক্ষণ জানালার দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর বললেন, "জুনের এক রাতে মিলিটারি এসেছিল। আমি ফিরে এসে বাড়িতে কাউকে পাইনি। শুধু দরজা খোলা ছিল। আর ভেতরে... সব এলোমেলো।"
"আপনার ভাইয়ের নাম?"
"ফারুক। তার বয়স তখন ষোলো।"
ইমতিয়াজ সাহেব আর কিছু জিজ্ঞেস করলেন না। শুধু উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, "আপনার কাছে বাড়ির নকশা আছে?"
নকশা দেখতে দেখতে ইমতিয়াজ সাহেবের ছোট চোখটা আরও ছোট হয়ে গেল। তারপর তিনি একটা মাপার ফিতা নিয়ে মিতুর শোবার ঘরে ঢুকলেন। দেয়াল মাপলেন, করিডর মাপলেন, বাইরে গিয়ে বাড়ির বাইরের দেয়াল মাপলেন। প্রায় এক ঘণ্টা লাগল। তারপর বললেন, "চার ফুট।"
"কী চার ফুট?"
"নকশায় এই ঘর আর পাশের গুদামঘরের মাঝখানে দেয়াল ন'ইঞ্চি। কিন্তু মাপলে দেখা যায় চার ফুট ন'ইঞ্চি। মাঝখানে চার ফুট জায়গা কোথাও যায়নি। সেটা আছে। দেয়ালের ভেতরে।"
মিতু ফ্যাকাশে মুখে বলল, "ভেতরে মানে?"
"একটা ছোট ঘর। কেউ বানিয়েছিল, কেউ লুকোতে চেয়েছিল।"
আমার গলা শুকিয়ে গেল। "আজই ভাঙুন।"
"না।" ইমতিয়াজ সাহেব মাথা নাড়লেন। "আজ রাতে আমি একটা জিনিস পরীক্ষা করতে চাই। টোকার ফাঁকটা। প্রথম দুই টোকার পর ঠিক দুই সেকেন্ড অপেক্ষা, তারপর তৃতীয়টা। আমি রাতভর ভেবেছি, কিসে এমন ফাঁক থাকে? ঝুলে থাকা কোনো জিনিসে না, ফিতায় না, পাইপে না। এই ফাঁক থাকে মানুষের মধ্যে। কেউ যখন দুবার টোকা দিয়ে উত্তরের অপেক্ষা করে।"
"উত্তর?"
"মানে একটা প্রশ্ন। টক টক হলো 'কেউ আছেন?' তারপর অপেক্ষা। উত্তর না পেলে তৃতীয় টোকা, অধৈর্য হয়ে।"
ঘরের বাতাস যেন ঘন হয়ে গেল। মিতু ধীরে ধীরে বলল, "কাল রাতে আমি বলেছিলাম, 'জি, আমি শুনছি'..."
"হ্যাঁ। এবং মনে হয় আপনাকে প্রথম কেউ উত্তর দিল। বহু বছর পর।"
সেই রাতে আমরা তিনজন আবার মিতুর ঘরে। ইমতিয়াজ সাহেব বললেন, "আজ আমি উত্তর দেব। আপনারা শুধু শুনবেন। যা-ই ঘটুক, কেউ ঘর থেকে বেরোবেন না।"
তিনটা নয়।
বাইরে বৃষ্টি নেই, বাতাস নেই। এত নিস্তব্ধ রাত আমি জীবনে দেখিনি। মনে হচ্ছিল, সারা শহর দম বন্ধ করে বসে আছে।
তিনটা দশ।
টক। টক।
আমার হৃৎপিণ্ড বুকের ভেতর লাফাচ্ছে। ইমতিয়াজ সাহেব ধীরে ধীরে উঠলেন। দেয়ালের সামনে গিয়ে নিজের আঙুলের গাঁট দিয়ে নরম গলায়, প্রায় আদরের মতো, দুবার টোকা দিলেন।
টক। টক।
আমি এক সেকেন্ড, দুই সেকেন্ড গুনতে লাগলাম। কিছু নেই। তারপর দেয়ালের ওপাশ থেকে এল একটা শব্দ, টোকা নয়। একটা দীর্ঘ, কাঁপা কাঁপা নিশ্বাস। যেন কেউ বহু বছর পর বুক ভরে বাতাস নিল।
মিতু আমার কাঁধে মুখ গুঁজে দিল।
ইমতিয়াজ সাহেবের গলা অদ্ভুত শান্ত। বললেন, "ফারুক? তুমি ফারুক?"
দেয়ালের ওপাশে কিছু নেই। তারপর এল একটা শব্দ, ধীরে, খুব ধীরে, নখ দিয়ে আঁচড় কাটার মতো। আঁচড় চলছে। ওপর থেকে নিচে, ওপর থেকে নিচে।
আর ঠিক তখনই আমার ঘাড়ের কাছে, ঘরের ভেতরে, কেউ একজন খুব আস্তে বলল, "ভাইয়া?"
আমি পাথর হয়ে গেলাম। কণ্ঠটা মিতুর না। মিতু আমার সামনে, চোখ বন্ধ। কণ্ঠটা কিশোর ছেলের, ভাঙা, ফিসফিসে। আর সেটা আসছে দেয়ালের ওপাশ থেকে নয়, ঘরের কোণ থেকে।
ইমতিয়াজ সাহেব ঘুরে দাঁড়ালেন। তাঁর মুখে আমি প্রথমবার ভয়ের ছায়া দেখলাম। তবু তিনি বললেন, "ফারুক, তুমি কি জানতে চাও মিলিটারি চলে গেছে?"
কোণের অন্ধকার থেকে ফিসফিস এল, "ভাইয়া বলেছিল তিনবার টোকা দিলে বেরোতে। আমি দুবার শুনেছি। তিনবার শুনিনি।"
আমার চোখ দিয়ে পানি গড়াতে লাগল, কেন জানি না।
ইমতিয়াজ সাহেব দেয়ালের কাছে ফিরে গেলেন। বাঁ হাত দেয়ালে রাখলেন, ডান হাত তুললেন। তারপর, যেন কোনো পবিত্র কাজ করছেন, ধীরে ধীরে তৃতীয় টোকাটা দিলেন।
টক।
কিছুক্ষণ কিছু হলো না। তারপর সারা বাড়ি যেন একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলল। বাতাস বইল, জানালার পর্দা দুলে উঠল। কোণের অন্ধকারটা হালকা হয়ে গেল, যেন ঘরের ভেতর থেকে কিছু একটা বেরিয়ে গেছে।
ঘড়িতে তিনটা এগারো।
পরদিন সকালে দেয়াল ভাঙা হলো।
ভেতরে চার ফুট চওড়া, আট ফুট লম্বা একটা সরু ঘর। তার মেঝেতে ধুলোর পুরু স্তর। এক কোণে একটা ছোট কাঠের টুল। টুলের পাশে মেঝেতে কঙ্কাল, কুঁকড়ে বসা, ডান কান দেয়ালে ঠেকানো। হাতের আঙুলের হাড়গুলো দেয়ালের দিকে বাড়ানো।
আর দেয়ালের গায়ে, নিচের দিকে, হাজার হাজার আঁচড়। তিনটা তিনটা করে গোছায় গোছায়। বছরের পর বছর ধরে কেউ গুনেছে, কিংবা অপেক্ষা করেছে।
রহমান সাহেব ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি কিছু বললেন না। শুধু হাঁটু ভেঙে মেঝেতে বসে পড়লেন। প্রথমে শব্দ ছিল না। তারপর আমি শুনলাম, সত্তর বছরের একজন মানুষ শিশুর মতো কাঁদছেন।
ইমতিয়াজ সাহেব আমার পাশে দাঁড়িয়ে বললেন, "তাঁর বাবা ছেলেকে লুকিয়ে রেখেছিলেন। বলেছিলেন, ভয় কেটে গেলে তিনবার টোকা দেব, তখন বেরোবে। কিন্তু সেই রাতেই তাঁকে..." তিনি বাক্যটা শেষ করলেন না।
"তাহলে ওই পাইপ, ফিতা?"
"ওগুলো আমার বানানো গল্প ছিল। ওই ফিতা আমি নিজে সকালে বাড়ি গিয়ে পাইপের গায়ে..." তিনি থেমে গেলেন, তারপর মাথা নাড়লেন। "না। আমি ওটা বসাইনি। ওটা আগে থেকেই ছিল। এই বাড়ি হয়তো আমাদের একটা ব্যাখ্যা দিতে চেয়েছিল, যাতে আমরা ভয় না পাই। আমি জানি না।"
আমি তাঁর দিকে তাকালাম। জীবনে প্রথমবার ইমতিয়াজ চৌধুরী সাহেবকে বলতে শুনলাম, "আমি জানি না।"
মিতুরা সপ্তাহখানেকের মধ্যে অন্য বাসায় চলে গেল। রহমান সাহেব ফারুকের জন্য মিলাদ দিলেন। বাড়িটা এখন খালি। শুনেছি, কেউ আর ভাড়া নিতে আসে না। দরকারও নেই, রহমান সাহেব বলেছেন, ওটা তিনি আর কাউকে দেবেন না।
আমি ঘটনাটা প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম। মানুষ সবকিছু ভুলে যায়।
গত শীতের এক রাতে আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ ঘুম ভাঙল। ঘড়ি দেখলাম, তিনটা বেজে নয় মিনিট।
কিছুক্ষণ চুপচাপ শুয়ে থাকলাম। ঘরটা অদ্ভুত শান্ত।
তিনটা দশ।
টক। টক।
আমার শরীর বরফ হয়ে গেল। এটা মিতুর বাসা না, ধানমন্ডির সেই বাড়িও না। এটা আমার নিজের শোবার ঘর, বসুন্ধরার একটা ফ্ল্যাটের ছয় তলায়।
আমি অপেক্ষা করলাম, এক সেকেন্ড, দুই সেকেন্ড। আর বুঝলাম, কেউ আমার উত্তরের জন্য অপেক্ষা করছে।
আমি ভয়ে ভয়ে, ফিসফিস করে বললাম, "ফারুক? তুমি?"
কোনো উত্তর এল না। তারপর দেয়ালের ওপাশ থেকে একটা খুব ছোট, খুব নরম টোকা এল। একটাই।
টক।
যেন কেউ বলছে, না, আমি ফারুক না। আমি আরেকজন। আমিও অপেক্ষা করছি।
আমি সারা রাত জেগে রইলাম। ভোরে ইমতিয়াজ সাহেবকে ফোন করলাম। তিনি অনেকক্ষণ চুপ করে থাকলেন। তারপর বললেন, "আজ আসছি। আর একটা কথা। এবার কিন্তু আপনার ফ্ল্যাটের নকশাটা আগে দেখব।"
আমি বললাম, "কেন?"
তিনি ধীরে ধীরে বললেন, "কারণ ওই চার ফুট জায়গাটা শুধু ওই একটা বাড়িতেই ছিল না, এটা আমি এখন আর নিশ্চিত না।"
পরবর্তী অংশ আসছে.....