29/03/2025
জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর টেক পদ
পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর ১০ ম গ্রেডের শিক্ষক পদ।
পদটিতে নিয়োগ হয় নন- ক্যাডার ১০ ম গ্রেড
শিক্ষাগত যোগ্যতা ডিপ্লোমা ইন্জিনিয়ারিং ( সিভিল, যান্ত্রিক, ইলেকট্রিক্যাল) ইত্যাদি
বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে।
সম্প্রতি লক্ষ করলাম পলিটেকনিক এর ল্যাব সহকারী / ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর / টুল রুম খালাসী /
ল্যাব এটেন্ডেন্ট পদে
বিএসসি ইন্জিনিয়ারিং, পদার্থ, রসায়ন, ফুড ইন্জিনিয়ারিং, বিজ্ঞান প্রযুক্তি র বিভিন্ন সাবজেক্ট, বাংলা, ইতিহাস, কৃষি কৌশলের ছাত্র রা চাকুরী গ্রহণ করেছে।
পদটি এসএসসি বা এইচএসসি ভোকেশনাল ডিগ্রি গ্রেড ১৫।
পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শিক্ষক যখন ক্লাস নিবেন এরা যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও দেখাশোনা করবেন।
কিন্তু কূটকৌশল করে কিছু অসাধু কারিগরি আমলা রাতের আধারে নিয়োগবিধি পরিবর্তন করে ১৩ তম গ্রেডে নিয়োগ দেয়। অধিকাংশ টাকা ও স্বজনপ্রীতি মাধ্যমে। এতই তড়িঘড়ি যে রাত ৩ টায় রেজাল্ট প্রকাশ পরদিন জয়েনিং।
এসব ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর পলিটেকনিকে প্রবেশ করে পলিটেকনিক এর ল্যাবগুলো বিসিএস প্রস্তুতির কোচিং বানিয়ে ফেলেন। কোন যন্ত্রপাতি
ব্যবহার না জানায় তারা অথর্বের মত দাড়িয়ে থাকে। ছাত্ররা জ্ঞান শুন্য হতে থাকে।
এই ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর হাইকোর্টে রিট করে
এবং শিক্ষক পদে ৫০% কোটা চাই।
হাইকোর্ট ৩০% কোটা দিয়ে আদেশ জারি করে।
ব্লক পোস্ট বা মানবতার খাতির সবজায়গায় চলে না। শিক্ষা খাতে তো আরো আগেই হাইকোর্ট
না করে দিতে হতো।
পরদিন হতে আন্দোলন করে কারিগরি ছাত্র সমাজ
পিছনের দরজা দিয়ে প্রবেশ করা বাংলা, পদার্থ, রসায়ন হতে সিভিল ইন্জিনিয়ারিং শিক্ষক হিসাবে মেনে নিবে না।
শিক্ষক হতে হলে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে হতে হবে।
কারিগরি ছাত্র আন্দোলনের ফলে পলিটেকনিক হতে এসব অযোগ্য ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর পলায়ন করে এবং ষড়যন্ত্র করে।
তারা কৌশলে ১০ ম গ্রেড সিন্ডিকেট ইত্যাদি অপপ্রচার করতে শুরু করে।
চন্দবোকারা জানে না জেনারেল হতে
প্রশাসনিক কর্মকর্তা ১০ গ্রেড
ব্যাক্তিগত কর্মকর্তা ১০ ম গ্রেড
মাধ্যমিকের সহ :শিক্ষক ১০ ম গ্রেড
খাদ্য পরিদর্শক ১০ ম গ্রেড
অফিসার ক্যাশ ১০ ম গ্রেড
এস আই ১০ ম গ্রেড
এটিও ১০ ম গ্রেড
সমাজসেবা ১০ ম গ্রেড
হিসাবরক্ষক ১০ ম গ্রেড
কর পরিদর্শক ১০ ম গ্রেড
আরো হাজার হাজার পদ আছে ১০ ম গ্রেডের ।
তাহলে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী শুধু ১০ গ্রেড নিয়ে আছে বিষয়টি এমন নয়।
টেকনিক্যাল লোক জেনারেল সেক্টরে চাকুরী করতে পারে
কিন্তু জেনারেল হতে টেকনিক্যাল সেক্টরে তারা অযোগ্য।
কিন্তু আমাদের দেশের সাধারণ জ্ঞান পড়ুয়ারা
বই মুখস্থ করে এসব পদে আসতে চাই।
বাংলাদেশ এর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর তুলনায় কর্মসংস্থান কম তাই বলে পদার্থ, বাংলা, ইংরেজি পড়া কর্মচারী সিভিল বা ইলেকট্রিক্যাল এর টিচার হবে। এটা কেমন কথা। কোন যুক্তিতে মেলে।
এদেশের মানুষ ইন্জিনিয়ারিং বা ডাঃ না হয়ে ও এদের শিক্ষক বা কর্তা হতে চাই।
ডিপ্লোমা ইন্জিনিয়ারিং একটি বিশেষায়িত ডিগ্রি
৪ বছর মেয়াদি । উপ সহকারী প্রকৌশলী ও জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর পদের জন্য উপযোগী করে সিলেবাস তৈরি করা হয়েছে। পদটি ১০ ম গ্রেড নন-ক্যাডার।
বাংলাদেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় বা বিভিন্ন কলেজ হতে স্নাতক পড়ে কর্মসংস্থান না হওয়ায় তারা পলিটেকনিকের শিক্ষক ও উপ সহকারী প্রকৌশলী হতে চাই। ১০ম গ্রেড শুধু ডিপ্লোমা ইন্জিনিয়ারিং কেন?
আসো খেলা হবে ইত্যাদি।
বাংলাদেশের নামকরা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা বিএসসি ইন্জিনিয়ারিং করে ১০ ম গ্রেডে আসতে চাই।
তাদের জন্য রয়েছে সহকারী প্রকৌশলী ৯ গ্রেড এবং বিসিএস। তাদের লেখাপড়া বা সিলেবাস উন্নত যা কখনো ডিপ্লোমা ইন্জিনিয়ারিং সাথে কম্পেয়ার করার মত নয়। তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা দেশ সেরা এটা সবাই জানে।
কর্মসংস্থানের অভাবে তারাও ১০ ম গ্রেডে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের সাথে পরীক্ষায় বসতে চাই।
কর্মসংস্থানের দোহায় দিয়ে পদাবনতি সম্মানজনক নয়। সে দোষটা ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের নয় সে দোষটা সরকার যারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে পারছে না।
বিএসসি ইন্জিনিয়ারিং করে ১০ ম গ্রেডে নিয়োগ চাওয়া মানে পড়ালেখার অবনতি, কর্সংস্থনে সে দক্ষ না , বিএসএস দিয়ে জব নেওয়ার ক্ষমতা নাই।
১০ম গ্রেডে যে তোমাকে এপ্লিকেশন করে জব নিতে হবে তাহলে তোমার বাবার টাকা খরচ করে বুয়েট, রুয়েট, চুয়েটে পড়ার দরকার কি?
জেলা শহর হতে ডিপ্লোমা ইন্জিনিয়ারিং করে নিলেই তো হয়।
বুয়েট, রুয়েট ও জেনারেল শিক্ষিত সমাজ
সারাজীবন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর দূর্নাম গায়, তারা অদক্ষ, এসএসসি করে ডিপ্লোমা করে ইত্যাদি ইত্যাদি
আবার তলে তলে এরা এদের পোস্টে জব করতে চাই, এদের শিক্ষক হতে চাই। তারা একমুখে বলে এরা টেকনিশিয়ান আবার তারা বলে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী দের সাথে আমাদের সুযোগ দিতে হবে।
এই কথার মাধ্যমে পরিস্কার তাদের লেখাপড়া দিয়ে তারা তাদের লেভেলে জব মেনেজ করতে পারছে না।
বাহ কি চমৎকার।
ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের পদ মধু ঐ কিরে রসমালাই হয়ে গেল নাকি?
ডিগ্রি যেমন গ্রেড তেমন
এর বাহিরে যাওয়ার সুযোগ নেই।
লেখক
সাবেক জনসংযোগ ও প্রচার সম্পাদক
সওজ ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতি কেনিক।