19/03/2024
যারা বাংলায় ভর্তি হওয়ার কথা ভাবছেন তারা লেখাটি পড়ুন
বাংলা বিভাগের ফিউচার ও সীমাবদ্ধতা:
১৷ সাহিত্য প্রেম যদি না থাকে তাহলে বাংলায় আসবেন না।
২. প্রচুর পড়তে হবে কিন্তু সে অনুযায়ী সিজিপিএ পাবেন না।
৩৷ আপনার বন্ধুরা আগের রাতে পড়ে আপনার চেয়ে ভালো রেজাল্ট করবে( অন্য বিষয়) , হতাশ হওয়া যাবে না।
৪. ব্যাকরণ, ভাষা বিজ্ঞান, সাহিত্যের যুগ বিভাজন, ফোকলোর, বড় বড় উপন্যাস, কাব্য মহাকাব্য পড়ার মতো ইচ্ছা থাকতে হবে।
বিষয়টি কঠিন হওয়ায়,সমাজের এক শ্রেণির যাযাবর প্রপাগাণ্ডা ছড়িয়েছে এ বিষয় ভালো না। ভাইরে ভাই, যে বিষয় ছাড়া দেশের কোনো জবের পরীক্ষাই নেই, এডমিশন টেস্ট হয় না, সে বিষয় নিয়ে প্রশ্ন জাগে কীভাবে? এটা বাংলাদেশ ভাষা বাংলা.....! দেশের ভিতরে জব করতে চাইবেন কিন্তু বাংলা পড়বেন না?
এবার মুদ্রার অন্য পীঠ:
১. আপনার জন্য দেশের সকল প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করার সুযোগ উন্মুক্ত হলো। সেই সরকারি -বেসরকারি হাইস্কুল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় অবধি!
২. বিসিএস,ব্যাংক সহ সকল প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা আপনার জন্য উন্মুক্ত।
৩. আপনি কোনো প্রকার সন্দেহ ছাড়াই অন্য বিভাগের বন্ধুদের চেয়ে সকল পরীক্ষায় এগিয়ে থাকবেন। তারা নতুন করে যখন এসব পড়বে চাকুরির জন্য, আর আপনি আরামে অন্য প্রস্তুতি নিবেন।
৪. বিসিএসে বাংলা প্রিলি-৩৫, রিটেন-২০০ বাংলা বিভাগ থেকেই আসবে। এবার ভাবুন কতোটা এগিয়ে থাকবেন!
এখন আবেগের বয়স,এই বয়সে মনে হবে এডমিন ক্যাডার হব ব্লা ব্লা.....
কিন্তু সত্য হলো দিনদিন যে হারে প্রতিযোগিতা বাড়ছে তাতে করে বিসিএসও কঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছে,এমন অবস্থায় বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিভাগের ছেলে-মেয়েরা সকল নিবন্ধন পরীক্ষায় বেশি পদ পাবে। যেখানে অন্য সব বিষয় মিলে থাকে ১৫-২০ টা পদ,সেখানে শুধু বাংলারই ৬০-৭০ টা!
আর বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে বাংলার শিক্ষা ক্যাডারের পদ অনেক।যোগ্যতা থাকলে অন্য ক্যাডারেও যেতে পারবেন, প্রুফ রিডিং এর কাজ করতে পারবেন, সাহিত্য লিখে নিজের আয়ের পথ বের করতে পারবেন, দেশের বিভিন্ন কোচিং বা প্রাইভেট সেন্টারে বাংলা ক্লাস নিয়ে নিজের খরচ নিজে চালাতে পারবেন ছাত্রাবস্থায়।
সুতরাং, বাংলা বিভাগ নিয়ে আশা করি আর কোনো প্রশ্ন নেই। এ বিভাগ কতোটা সমৃদ্ধ তার প্রমাণ পাবেন একটু চোখ খোলা রাখলেই। পিএসসির চেয়ারম্যানও বাংলা বিভাগের।
একটা কথায় বলব, আপনি ভাগ্যবান বাংলা পেয়েছেন। এখন পরিশ্রম করার মানসিকতা নিয়ে পড়তে থাকুন ।